somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় বাংলাদেশ সরকার , ভারত কাঁনতেছে , ওদের ট্রানজিটটা দিয়েই দেন...... ট্রানজিট আগে নাকি বন্ধু (!!!) আগে...

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





"আমি সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক। আমি হয়তো আছি তাই বাংলাদেশ নিরাপদে আছে। আমার চোখ বন্ধ হলে কী হবে তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন।” - এই কথা বলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেকে দেশের এক নম্বর দেশপ্রেমিক রূপে ঘোষণা দিয়েছেন। আহা , আমাদের হাসিনা আপা যে কতবড় দেশপ্রেমিক সে আমরা সকলেই জানি । এখানে বলি রাখি যে লেখাটির শুরুতেই আমি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দিয়ে শুরু করলাম ।

এই লেখাটি মূলত আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের একটি লেখা থেকে এবং আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র (দুঃখিত , কিন্তু অজানা সূত্র) থেকে সংকলন করা হয়েছে

লেখাটির প্রারম্ভেই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উদাহারন দেয়া যাক ।

পাকিস্তান আমলে গঙ্গার জলপ্রবাহ আটকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং আজকের বাংলাদেশকে ক্রমশঃ মরুকরণ প্রক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য। ১৯৪৭ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানে আমদানি-রফতানির সুবিধার্থে ভারত সরকারের কাছে সাময়িকভাবে কলকাতা বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব করলে ত্ৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু অবজ্ঞাভরে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন,

"It is a strange demand from a peculiar country. A passage to go to their own country through a foreign country, it is unprecedented." (এটা এক অদ্ভুত রাষ্ট্রের আজব দাবি। একটি বিদেশি রাষ্ট্রের ভেতর দিয়ে তাদের দেশে যাওয়ার জন্য পথ, এটা নজিরবিহীন।)

আজ সেই পণ্ডিত নেহরুর বর্তমান প্রজন্ম বাংলাদেশের কাছে একাধিক চিরস্থায়ী করিডোর প্রাপ্তির আজবতর দাবি করতে এতটুকু লজ্জাবোধ করছে না, এটাই আশ্চর্য!



গত পরশু মানে ৬ই সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং তার দেশের মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রভাবশালী আমলাদের এক বিরাট দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। সেই সফরসঙ্গীদের মধ্যে বাংলাদেশসংলগ্ন রাজ্যগুলোসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও রয়েছেন।

শক্তিধর ও আগ্রাসী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকার প্রধানের এই সফর নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি মহলে অনেক দিন ধরেই সাজ সাজ রব চলছে। এ দেশের ভারতপ্রেমীরাও তাদের আরাধ্য দেবতাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ব্যাকুলচিত্তে অপেক্ষমাণ। এই সফরে বাংলাদেশ কী কী অর্জন করবে, তার বায়বীয় হিসাবও আগ বাড়িয়ে পরজীবী সুশীল (?)রা করে চলেছেন।

এই যে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিয়ে লেখার আগে সোজাসাপটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দিতে নয়, তিনি বাংলাদেশ থেকে নিতেই বাংলাদেশে এসেছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এক ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করা ছাড়া সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই পূর্ববঙ্গের জনগোষ্ঠীকে ওরা কখনও কিছু দেয়নি।

এবার ফিরে আসি ট্রানজিট বিষয়ক কিছু কথাবার্তায় ।

গত মাসের ২৫ তারিখে আওয়ামীপন্থী বিএফইউজে ও ডিইউজে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ট্রানজিট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দুটো মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন জিয়াউর রহমানের আমলেই নাকি ট্রানজিট কাঠামো তৈরি হয় এবং সেই দলিলে সই করেছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতের তত্কালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী ও প্রণব মুখার্জী। ট্রানজিট প্রদান প্রসঙ্গে তিনি একই অনুষ্ঠানে আরও বলেন, "এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, ট্রানজিট চুক্তি হবে না। কারণ, এখনও অবকাঠামো বা রাস্তাঘাট ঠিক হয়নি।"

ট্রানজিট প্রসঙ্গে ইতিহাস বিকৃত করে জিয়াউর রহমানকে টেনে আনার ব্যাপারটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শেখ হাসিনা সম্ভবত উপলব্ধি করছেন যে, ভারতকে ট্রানজিট দেয়াটা জাতীয় স্বার্থবিরোধী হচ্ছে এবং সেই কারণেই এর দায়-দায়িত্ব তিনি মরহুম জিয়াউর রহমানের কাঁধে চাপানোর ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। তিনি যদি সত্যিই বিশ্বাস করতেন যে, ভারতকে ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের প্রকৃতই লাভ হবে, তাহলে সেই কৃতিত্ব অবশ্যই তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে দিতেন অথবা নিজে গ্রহণ করতেন।

দুর্ভাগ্যবশত তারই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী প্রধানমন্ত্রীর নতুন ইতিহাস আবিষ্কারের আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ডুবিয়ে ছেড়েছেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘‘নতুন কোনো চুক্তি ছাড়াই ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হবে। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতেই ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার কথা বলা আছে। আমরা এখন সেই চুক্তিই বাস্তবায়ন করব। নতুন কোনো চুক্তি বা প্রটোকল সইয়ের প্রয়োজন নেই।”

আর একটা কথা অবশ্যই এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে, ড. গওহর রিজভী জনপ্রতিনিধি নন, এমনকি তার প্রকৃত নাগরিকত্ব নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী চল্লিশ বছরের মধ্যে তিনি ক’দিন বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন, তাও এ দেশের জনগণ জানে না। তার পরিবার-পরিজন সম্পর্কেও জাতি সম্পূর্ণ অন্ধকারে। এমন এক রহস্যময় চরিত্র আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে আজ ছিনিমিনি খেলছেন এবং দেখতে পাচ্ছি, দেশের ষোল কোটি জনতা সেই অনধিকার চর্চা বিনা প্রতিবাদে আবার মেনেও নিচ্ছে! ড. গওহর রিজভীর ট্রানজিটবিষয়ক সর্বশেষ বক্তব্যের তিনদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঢাকায় এক কর্মশালায় বলেছেন, “ট্রানজিট দেয়ার আগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক হওয়ায় এগুলোর উন্নয়ন ছাড়া এখনই ট্রানজিট সম্ভব নয়।”

উপদেষ্টা কণ্টকিত বর্তমান সরকারের অপর এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান দিল্লি সফর শেষে ১৯ আগস্ট দেশে ফিরে বলেছিলেন, “মনমোহনের সফরের সময় ট্রানজিট নিয়ে কোনো চুক্তি হবে না। কারণ, ট্রানজিটের বিষয়ে দু’টি প্রটোকল ইতোমধ্যেই স্বাক্ষর হয়েছে।” এই মশিউর রহমানই এর আগে ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, ট্রানজিটের বিনিময়ে ফি দাবি করলে আমরা নাকি এক অসভ্য জাতিতে পরিণত হব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিজ দীপুমনি অপ্রত্যাশিত মন্ত্রিত্ব লাভের পর থেকে তোতা পাখির মতো কানেক্টিভিটির গল্প আউড়ে ট্রানজিটের পক্ষে ওকালতি করেই চলেছেন। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের এই জাতীয় বিভ্রান্তিকর, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, তারা জাতিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে দেশের স্বার্থ পুরোপুরি বিকিয়ে দিয়েই ভারতকে ট্রানজিট তথা করিডোর দিতে আগ্রহী। ১৯৭২ সালের বাণিজ্য চুক্তিতে ‘পারস্পরিক লাভালাভের’ যে বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তা থেকেও শেখ হাসিনা সরকার দৃশ্যত সরে এসেছেন। তাদের কাছে ব্যক্তিগত ও ভারতের লাভই বর্তমানে একমাত্র বিবেচ্য, বাংলাদেশের লাভের কোনো প্রয়োজন নেই।

এবার আসি তিস্তার পানি চুক্তি বিষয়ক আলোচনায় ।



একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে তিস্তা নদীর পানি প্রায় সমান সমান (খবরে প্রকাশ ভারত ৫২ শতাংশ আর বাংলাদেশ ৪৮ শতাংশ) ভাগাভাগি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত একমত হয়েছে। দিল্লি থেকে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছিলেন। তিনি ও গওহর রিজভী তিন দিনের দিল্লি সফর শেষে গত মাসে দেশে ফিরে আসেন।

আবার ২রা সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কংগ্রেস দলীয় সংসদ সদস্য আবু হাশেম খান চৌধুরী জানিয়েছেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশ শতকরা ২৫ ভাগ পানি পাবে আর ভারত পাবে শতকরা ৭৫ ভাগ পানি।আবু হাশেম বলেন, এক বৈঠকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন তাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।বর্তমানে তারা মাত্র ৩৯ শতাংশ পানি পাচ্ছেন বলে দাবী করেছেন।

চুক্তি হবে একটি। পক্ষ দুটি। দুই পক্ষ থেকে দুই রকম কথা। কিন্তু তার মাঝেও রয়েছে আরও অনেক বড় ঘাপলা।

নদীর পানি নিয়ে টানাটানি আজ নতুন নয়। সেই ৭২ থেকে চলছে। অনেক আলোচনা-বৈঠক। ফলাফল শুন্য। তাই বুঝি এর রেশ টানতে চায় এবার দুই পক্ষ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদী ৫৪টি হলেও এ নদীগুলোর উপর আমাদের আরও শত শত নদী নির্ভর করে। তবে এখন পর্যন্ত অভিন্ন নদী গঙ্গা (বাংলাদেশ অংশে নাম ‘পদ্মা’) নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এরপর?? ভারত সরকার আমাদের সাথে করে গেছে প্রতিনিয়ত বেঈমানি। চুক্তি অনুযায়ী পাইনি পানি,বরঞ্চ বন্যার সময়ে বাঁধ খুলে দিয়ে অতিরিক্ত পানিতে আমাদের ডুবিয়েছে।

পদ্মাতে ফারাক্কা পয়েন্টে গত দু’মাসে বাংলাদেশ ৬৮ হাজার ৭০০ কিউসেক পানি কম পেয়ছি । মোট ছয়টি কিস্তিতে ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করে এই পরিমাণ পানি কম দিয়েছে। বাংলাদেশ ওই দু’মাসের প্রতি কিস্তিতে গড়ে সাড়ে ১০ হাজার কিউসেক পানি কম পেয়েছে। ফারাক্কার সার্বিক প্রভাবে নদীর পর নদী মরে যাচ্ছে। এখন গঙ্গা নিয়ে আমরা না পারছি কিছু বলতে না পারছি সইতে। শুধু দাবী জানাতে পারি আমাদের ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পানি দিতে।কিন্তু ভারত সরকার তখন বলে আমরা চুক্তির অনুযায়ী পানি দেই, কিন্তু পানি কম থাকায় তোমরা কম পানি পাও।আন্তর্জাতিক আদালতেও যাওয়া যাচ্ছে না ভয়ে,আনুগত্যের কারণে , জাতিসংঘের নদীর পানি চুক্তি আইনে ভারতের সাক্ষর না করা আর চুক্তির বিভিন্ন ফাক ফোকরের কারনে।

এবার ভারত সরকার নজর দিয়েছে তিস্তা, ফেনি,ইছামতির দিকে। বিগত সরকার বা তার ও আগে বাংলাদেশের নীতি ছিল তিস্তার পানি বণ্টনের চুক্তির পর ফেনি ও ইছামতির পানি বণ্টন চুক্তিতে হাত দেওয়া হবে। যেহেতু ওগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রনে। তিস্তার ন্যায্য পানি না পেলে ওগুলো আমরা দেবো না। কিন্তু গত ভারত সফরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ওগুলোর পানি বণ্টনের একটা ফয়সালা করে এসেছেন।একতরফা ভাবে ভারতকে ছাড় দিয়ে এসেছেন। তাই বাদ থাকলো তিস্তা।

তিস্তার ওপরে ভারতে নির্মিত হয়েছে একটি ব্যারাজ, দুইটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ আর বাংলাদেশে নির্মিত হয়েছে তিস্তা ব্যারাজ। জলডোবায় সেচ প্রকল্প ভারতে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত শেষ প্রকল্প; অর্থাৎ এর ভাটিতে ভারতে তিস্তা নদীর পানি ব্যবহারের কোনো অবকাশ নেই।এই সেচ প্রকল্পে গ্রীষ্ম মৌসুমে ভারত একতরফা ভাবে অমানবিক ভাবে পানি প্রত্যাহার করলে বাংলাদেশের বিশাল একটি অংশ পরিণত হয় মরুভুমিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প তিস্তা নদী বাংলাদেশে প্রবেশের পর পরই অবস্থিত এবং এর ভাটিতে তিস্তার পানির আরো প্রয়োজনীয়তা ও বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ভারত ও বাংলাদেশ ব্যারেজ প্রকল্পে হাত দিলেও ভারত ৮৪ তে আর বাংলাদেশ ৯০এ এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করে। ফলে এই তিস্তা ব্যারেজ থেকে আমরা পর্যাপ্ত সাফল্য পাই নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রমতে, সেচ প্রকল্পের পানিসহ তিস্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে ন্যূনতম ২০ হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন। সেখানে নিলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর অববাহিকায় গত এপ্রিলে ১৫ দিনের ব্যবধানে ৫ হাজার কিউসেক থেকে কমে পানি নেমে এসেছে ৯শ’ কিউসেকে। গত ৫ বছরে কখনও এত কম পানি পায়নি বাংলাদেশ। পানিস্বল্পতার কারণে তিস্তা প্রকল্পও মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

মূলত ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও খরস্রোতা তিস্তা নদী ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাট দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য ১শ’ ১২ কিলোমিটার। ফলে এটি শুধু স্বাধীন একটি নদীমাত্র নয়, তিস্তা বাংলাদেশেরও নদী এবং তা ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহেরও অন্যতম উত্স। তিস্তার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই ভাটিতে বাংলাদেশের তিস্তার অপমৃত্যু এবং সেইসঙ্গে ব্রহ্মপুত্র তথা যমুনার প্রবাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানেই ভাটিতে বাংলাদেশের তিস্তার অপমৃত্যু এবং সেইসঙ্গে ব্রহ্মপুত্র তথা যমুনার প্রবাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২১ সেপ্টেম্বার,২০১০ এ আবেদ খান কালের কণ্ঠে এক লেখায় উল্লেখ করেন, তিস্তার পানি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৮৩ শতাংশ রেখে বাংলাদেশের জন্য ১৭ শতাংশ ছাড় দেওয়ার জন্য তিস্তা পানি বণ্টন নিয়ে এক খসড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকার তৈরি করেছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় বিষয় তিনি লিখেছিলেন, -

"তবে দুই দেশের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের’ ইতিহাস টেনে রাজ্য সরকারের সেচ দফতরের মন্ত্রী সুভাশ নস্কর ওই খসড়া নোটে লিখেছেন, যেহেতু বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ, তাই শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানির ২৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দিলে রাজ্যের কোন ক্ষতি হবে না "

আহারে বন্ধু!!! বন্ধুত্তের চমৎকার উদাহরন। আমরা কি তাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি?? আমরা আমাদের পাওনা চাচ্ছি। কিন্তু কে শুনে কার কথা?? এই দালালগুলো বন্ধু ডাক শুনেই বোগল বাজাতে শুরু করে। কিন্তু ভারত সরকার এর মাঝেও রেখে দিয়েছে অনেক ফাক ফোকর। বাংলাদেশ তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য ২০% পানি ছেড়ে দেওয়ার দাবী জানালেও ভারতীয়রা এতে কর্ণপাত করেনি। অবস্থা এমন করে রেখেছে, আরে তুই ছিল্লা রুম তো সাউন্ড প্রুফ। শেষে ভারত সরকার ১০% পানি ছাড়তে রাজি হলেও আবার বলে দেয় ভাটির দেশ হিসাবে পানিটা কিন্তু তোমরাই পাচ্ছো। কোন জিনিস দিয়ে আবার খোটা দেওয়ার নোয়াখাইল্লা অভ্যাস (আমার গ্রামের বাড়ি) ক্যামনে জানি ভারত সরকারও পাইয়া গেছে। কিন্তু সমস্যা হলো এই ১০% পানি তারা যে কখন কোনদিকে রাখে তা আল্লাহই ভালো জানে।

তবে এটা ভাবার কোন কারন নাই, ভারত সরকার আমাদের ছাড় দিবে আর মমতা আফাও এত কম জলের মাছ খায় না।তিস্তা চুক্তির কথা শুনেই গোস্বা করে কেন্দ্রে মনমোহনের কাছে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়ে দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পানি কম পেলে তা মানবে না। এরই প্রেক্ষিতে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কংগ্রেস দলীয় সংসদ সদস্য আবু হাশেম খান চৌধুরী এর সাথে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন এর গতকাল বৈঠক হয়। এবং জানা যায় ঐতিহাসিক(!!) ২৫% এর কথা। এবার মমতা আফা খুব খুশি।আগের থেকেও বেশী পানি পাবেন তিনি। আর বাংলাদেশিরাও কিছু বলতে পারবে না। চুক্তি তো হয়েই গেছে। পদ্মার মতো এবার তোদের তিস্তাও মারমু। এটা ভেবে হয়তো আফামনি এখন খুশিতে বাকবাকুম।

তিনি খুশি কারন আগে চুক্তি ছাড়া ৭৫% রাখলেও এখন চুক্তি করে ৭৫% এর বেশী রাখা যাবে।আর নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য ১০% তো বাংলাদেশের অংশে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশ পাচ্ছে মূলত ১৫% পানি। তাহলে ভারত বাংলাদেশ পানির পরিমান হবে ৭৫:১৫ বা ৮৩:১৭(পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার অনুযায়ী, এখানে ৮৩% এ স্বাভাবিক প্রবাহের ১০% সহ)। কিন্তু এটা এক রকম ৯৬ এর গঙ্গা চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল। অবাক হলেন!!? গঙ্গা চুক্তির অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী,”পক্ষপাতবিহীন ও সাম্যতাপ্রসুত এবং কোন পক্ষেরই ক্ষতি না করে দুই সরকারই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহমান অনন্য আন্তসীমান্ত নদীসমুহের চুক্তির ব্যাপারে একক সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়ার ব্যাপারে একমত”। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কি ভারতের ৭৫% বা ৮৩% কি যুক্তিযুক্ত?? আশা করি সুশীল সমাজ ও সমাজের বিজ্ঞ ব্যাক্তিরাও এ ব্যাপারে ভেবে দেখবেন।

ভারত সরকার বলছে, তিস্তা নদীর উপর নির্ভরশীল জমি ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে দু’দেশের মধ্যে পানি ভাগাভাগি করা হয়েছে। সে হিসাবেও আমরা কোন ভাবেই ১৫ শতাংশ পাই না।আমাদের দেশে নদীর ১/৩ ভাগ অংশ রয়েছে তাছাড়া আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশী। সে হিসাবে আমরা কম করে হলেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য ১০% ছাড়াই আরও ৩০% পানি পাবো। ভারতকে আমাদের বন্ধু দেশ ভাবলে এই ছাড় দিতেই পারে।আর বন্ধু দেশ না ভাবলেও আমরা কমপক্ষে ২৫% পানি পাবো(ওই ১০% ছাড়াই)। তাহলে চুক্তিতে অবশ্যই এর ব্যাপারে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য ১০% পানি ছেড়ে দিয়ে বাকি পানি ভারত ৭৫ শতাংশ আর বাংলাদেশ ২৫ শতাংশ পাবে। এর হেড় ফের হলে বাংলাদেশকে চরম কঠিন পরিনতি মেনে নিতে হবে।আর এর জন্য এ দেশের মানুষ কখনো আ.লীগ কে ক্ষমা করতে পারবে না। এক গঙ্গা চুক্তির রেশ এখনো দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে আমাদের হৃদয়ে। তার মাঝে আবার অন্যায্য তিস্তা চুক্তি “আমাদের মরার উপর খাড়ার ঘা” হয়ে যেন না আসে।

পরিশেষ কিছু কথাবার্তা

এবার একটু আসি অন্য কথায়, কেন ভারতের কথার প্রতিবাদ আমরা করতে পারি না?? আ.লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের বলেন,”মনমোহন সিং যদি লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার একসঙ্গে বসতে অসুবিধা কোথায়?”

আমাদেরও প্রশ্ন অসুবিধা কোথায়? ইউরোপ আমেরিকা বা ইন্ডিয়াতেও যে কোন জাতিয় ইস্যুতে সরকারি দল- বিরোধীদল এক সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু খালেদা ক্ষমতায় থাকার সময় যেমন এর নজির দেখি নাই, এখন আবার হাসিনা যখন ক্ষমতায় নিচ্ছেন ট্রানজিট, নদী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর দীর্ঘমেয়াদি সব সিদ্ধান্ত তখনো দেখছিনা দুই দলের সম্মিলিত কোন সিদ্ধান্ত। মূলত রাজনৈতিক অনৈক্যকেই দাদাবাবুরা ব্যবহার করছেন। আর বিএনপি যেন বিরধিতার জন্যই বিরোধীতা করছে। জনগণকে কোন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বুঝাচ্ছেনা। তার উপর মনমোহনের এই সফরকে স্বাগত জানিয়েছে। তাহলে কি বিএনপি জাতিয় সার্থ থেকে পিছিয়ে এসেছে। আচ্ছা বাদ দিলাম বড় দুই রাজনৈতিক দলের কথা। তারা না হয় স্বার্থের পিছনে ছুটেন কিন্তু যে সব সুশীল সমাজের লোকজন নদী বাচাও, পরিবেশ বাচাও, দেশ বাচাও আন্দোলন করে তারা আজ কোথায়?তারা আজ বয়লারের মুরগির মতো ঝিমায় কেন? বাম দল গুলো নাকি কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে। কই দেখছি নাতো মেনন সাহেবদের কোন প্রতিবাদ। নাকি নৌকা মার্কায় এমপি হয়ে আদর্শটাকেও বিকিয়ে দিয়েছেন? আসলে বুঝলেন ভাই, একটা কথা আছে না, “প্রত্যেকে প্রত্যেকের হাতে সাড়ে ৩হাত”। সবাই নিজেদের বাঁচাতেই রাজনীতি করে। নিজেদের জন্যই করে। আমার আপনার বা দেশের কথা যারা ভাবে তারা রাজনীতি করতে পারে না। সোহেল তাজ তার বাস্তব উদাহরন।

তবে বাংলাদেশের জন্য আনন্দের খবর এই যে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে সাময়িকভাবে ট্রানজিট দিতে আপত্তি জানিয়েছে । তবে এই আপত্তি অবশ্যই আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর তিস্তা চুক্তি করতে আপত্তি জানানোর কারণেই সম্ভব হয়েছে । যদিও বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের সকল মানুষকে একটু হলেও অবাক করেছে । আবার সবার মনে এও প্রশ্ন আছে যে এটি নতুন কোন নাটক নয় তো ?




আমি ভাই সামান্য একজন মানুষ । এই দেশের একজন সামান্য নাগরিক । এত জ্ঞান আমার নেই যে সরকারের চাল বুঝতে পারবো । তবে ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে তা এখনও আমার কাছে রহস্য প্রায় । আপনারা যদি জেনে থাকেন তবে দয়া করে আমাকে একটু জানান ।









সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৩:০৯
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×