somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

২৫ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। যদিও এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর ১৯৭১। এদিন সকাল ১১টায় ঢাকা সেনানিবাসের গলফ কোর্সে পাকিস্তানী অফিসাররা আক্ষরিক অর্থেই অস্ত্র সমর্পণ করে। এর আগ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী ও বাঙালীদের রোষ থেকে আত্মরক্ষার জন্য তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার অনুমতি দিয়েছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাশাপাশি পশ্চিম রণাঙ্গনেও যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আগে এক বেতার ভাষণে মেনে নেন জাতিসংঘ আরোপিত যুদ্ধবিরতি।

যদিও পূর্ব রণাঙ্গনে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো পাকিস্তান। তাই আটক পাকিস্তানী সেনাদের উপর বাংলাদেশের অধিকার ছিলো সমান। কিš—y জেনেভা কনভেনশন মেনে যুদ্ধবন্দীদের লালন পালনের মতো অবস্থানে ছিলো না সদ্য স্বাধীন এই দেশ। তাছাড়া স্বজন হারানো বাঙালী এসব খুbxদের খাইয়ে পড়িয়ে আরো তাজা বানাবে- এমন মহত্ব দেখানোর মানসিকতায় থাকার কথাও নয়। সুবাদেই দায়িত্বটা কাধে নেয় ভারত।

মূলত দু ধরbxর যুদ্ধাপরাধীর দায়িত্ব নিয়েছিলো তারা। পশ্চিম রণাঙ্গনে ৫৪৫জন আটক পাকিস্তানী সেনা ছিলো পুরোপুরি ভারতের অধিকারে। আর পূর্ব রণাঙ্গনে ১৫ মার্চ ১৯৭২ পর্যন্ত ৯২ হাজার ২০৮ জন যুদ্ধবন্দীর মধ্যে সেনা সদস্য ছাড়া ছিলো বেসামরিক লোকজনও। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৬৯২ জন ছিলো নিয়মিত সেনাবাহিনীর, ১ হাজার ৯২ জন নৌবাহিনীর, ৮৩৮ জন বিমান বাহিনীর, ১৬ হাজার ৩৫৪জন আধা-সামরিক বাহিনীর, ৫ হাজার ২৯৬ জন সিভিল পুলিশ, ৬ হাজার ৪০৩ জন নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা বেসামরিক ব্যক্তি, ১ হাজার ৯২২ জন যুদ্ধবন্দীদের স্ত্রী (সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে) ও ৪ হাজার ২০৭ জন ছিলো শিশু-কিশোর।

আগে বলা কথার প্রসঙ্গেই জানাচ্ছি ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় যার কাজ ছিলো কিভাবে জেনেভা কনভেনশন মেনে যুদ্ধবন্দীদের ব্যবস্থা করা হবে তার রূপরেখা দেয়া। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকিস্তানের নিয়মিত বাহিনী ও সহযোগী বাহিনীগুলোকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে সুপারিশ করা হয়। যদিও রাজাকার ও আল-বদররা যুদ্ধের কোনো নিয়ম কানুন মানেনি, তারা পাশবিকতার পাশাপাশি লুটতরাজেও লিপ্ত ছিলো। এবং জেনেভা কনভেনশনের ৪-এ (২) ও ৪-এ (৬)এর শর্তাবলীও তারা পূরণ করে না কivi d‡j যুদ্ধবন্দীর মর্যাদা পাওয়ার অধিকার তাদের ছিলো না। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আরো রক্তপাত ঠেকাতে এদেরও যুদ্ধবন্দীর মর্যাদা দেয়। তবে এটা স্পষ্ট করে বলে দেয় যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গYহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের জন্য কারো বিচারে তারা বাধা দেবে না।

এর পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ একটা বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা স্টেডিয়ামের খোলা ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্যে ৫ জন অপরাধীর মৃত্যুদন্ড বাস্তবায়ন টিভি ও পত্রিকার কল্যাণে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। এই ঘটনাকে নিজেদের অনুকুলে কাজে লাগায় পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ঘটনার হোতা কাদের সিদ্দিকী স্পষ্টই বলেছেন, যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছিলো দুজন অবাঙালী কিশোরীকে অপহরণ করার সময়। এবং মৃত্যুদন্ড পাওয়ারা কেউই অবাঙালী নয়।


এসব যুদ্ধাপরাধীকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তড়িত উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিয়াজী ও রাও ফরমান আলীর মতো মাথাগুলোকে ২১ ডিসেম্বর উড়িয়ে নেওয়া হয় কলকাতা। তিন সপ্তাহের এক বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৮০টি ট্রেন করে সমস্ত যুদ্ধবন্দীদের সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের জন্য ১৩টি স্থানে ৪৯টি বন্দিশিবির খোলা হয়। স্থানগুলো হচ্ছে- মিরাট, রুরকি, এলাহাবাদ, আগ্রা, ফৈজাবাদ, ফতেগড়, গায়া, রাচি, ধানা, রামগড়, বেরিলি, গোয়ালিয়র ও জবলপুর|
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×