somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবীন্দ্রনাথ ও সাহিত্যে নোবেল: কিছু তথ্য

২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয় ১৯০১ সাল থেকে। সাহিত্য,শান্তি,পদার্থবিদ্যা,রসায়ন ও চিকিৎসা বিদ্যা এ ৫টি বিষয়ে দেয়া হতো। ১৯৬৬ সাল থেকে অর্থনীতিতেও নোবেল পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় আমাদের আগ্রহ বরাবরই সাহিত্য নিয়ে। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর আমাদের পত্রিকার পাতায় তাকালে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

১৯০১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ১০৫ জন। এর মধ্যে ১৯১৪, ১৯১৮, ১৯৩৫, ১৯৪০ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ৭ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়নি। চার বার দেয়া হয় যৌথভাবে।

১৯০১ সালে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান ফ্রান্সের কবি রেনে ফ্রাঁসোয়া আর্মাদ প্রুদহোম। তিনি সালি প্রুদহোম নামে পরিচিত। কবিতায় অবদানের জন্য তিনি এ পুরস্কার জেতেন।

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পেয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছিলেন। কারণ ১৯০১ থেকে ১৯১২ পর্যন্ত নোবেল সাহিত্য পুরস্কার যাঁরা জিতেছিলেন তাঁরা সবাই ছিলেন ইউরোপ মহাদেশের সাহিত্যিক। ইউরোপের বাইরে মানববসতিপূর্ণ ৫টি মহাদেশের (এশিয়া,উত্তর আমেরিকা,দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকা) সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ।
১৯৩০ সালে সিনক্লেয়ার লুইস প্রথম মার্কিন সাহিত্যিক (উপন্যাসে) হিসাবে নোবেল পুরস্কার পান। (উত্তর আমেরিকা মহাদেশ)

১৯৪৫ সালে চিলির গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রথম পুরস্কারটি জেতেন।

১৯৭৩ সালে প্যাট্রিক ভিক্টর মার্টিনেস হোয়াইট প্রথম অস্ট্রেলীয় নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক হবার গৌরব অর্জন করেন।

১৯৮৬ সালে নাইজেরিয়ার ড. ওলে সোয়িঙ্কা আফ্রিকা মহাদেশ থেকে এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসাবে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পান।

১৯০৪ সালে প্রথম যৌথভাবে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পান ফরাসী কবি ফ্রেডরিক মিস্ত্রাল ও স্পেনীশ নাট্যকার হোসে একিগারে। এরপর ১৯১৭, ১৯৬৬ ও ১৯৭৪ সালে যৌথভাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

১৯০৯ সালে সুইডেনের সালমা ল্যাগারলফ প্রথম মহিলা হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৮৮ সালে মিশরের নাগিব মাহফুজ প্রথম মুসলিম ও আরব হিসাবে এ পুরস্কার পান।

১৯৫৮ সালে বোরিস পাস্তারনাক তাঁর ড. জিভাগো উপন্যাসের জন্য প্রথম রুশ হিসাবে এ পুরস্কার পান। রাশিয়া নোবেল কমিটির কাছে বরাবরই ব্রাত্য বিবেচিত হয়ে আসছে। রাশিয়াও নোবেল পুরস্কারকে পাত্তা দেয়নি। পাস্তারনাককে সরকার সে পুরস্কার প্রহণের অনুমতি দেয়নি।

১৯১৮ সালে সুইডিশ লেখক এরিক আক্সেল কার্নফেল্ড নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু তিনি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। এটাই প্রথম প্রত্যাখ্যানের নজির। ১৯১৮ সালে পুরস্কারটি দেয়াই হয়নি আর।

১৯৩১ সালে সেই এরিক কার্নফেল্ডকেই প্রথম এবং এ পর্যন্ত একমাত্র মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। এর কারণ আজো অজ্ঞাত।

রহস্যময় বঞ্চনা
নোবেল কমিটি অনেক যোগ্য ব্যক্তিকে নোবেল পুরস্কার দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে; তেমনি অনেক অখ্যাত (অনেকের মতে অযোগ্য) সাহিত্যিককে পুরস্কৃত করে সমালোচিত হয়েছে। কিন্তু নোবেল কমিটি আজ পর্যন্ত বিপুল সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে অনেক কিংবদন্তীকে পুরস্কারটি থেকে বঞ্চিত করে। যদিও সবার হৃদয়ে বঞ্চিতদের জন্য অপরিমেয় শ্রদ্ধা আছে। সেসব বঞ্চিত কিংবদন্তীরা হলেন--
লিও টলস্টয়, এমিল জোলা, হেনরিক ইবসেন, প্রুস্ত, মার্ক টোয়েন, জোসেফ কনরাড, মাক্সিম গোর্কি, আন্তন চেখভ, আলেক্স হেলি, ল্যু সুন, স্ট্রিন্ডবার্গ, গ্রাহাম গ্রীন প্রমুখ।

এঁরা মৃত্যুর কারণে সব পুরস্কারের উর্ধ্বে চলে গেছেন।

কিন্তু এখনো বেঁচে আছেন এমন কিছু কিংবদন্তী সাহিত্যিক যাঁরা নোবেল কমিটির বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এরকম কয়েকটি সোনালি নাম-
চিনুয়া আচেবে, মিলান কুন্ডেরা, মারিও ভার্গাস য়োসা, কার্লোস ফুয়েন্তেস,ইসমাইল কাদার, ইয়েভগেনি ইয়েভতুশেঙ্কো।

তারপরও নোবেল পুরস্কারই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় পার্থিব পুরস্কার।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×