দেশের বৃহত্তম পাবলিক পরীক্ষা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল বের হয়েছে কাল। পাশের হার ৮৮.৮৪%। খুব ভালো সংবাদ। মাত্র ১১.১৬% ছেলে মেয়ে ফেল করেছে। কিন্তু এর ভেতর দিয়ে বেশ কিছু মজার রহস্য বের হয়েছে।
সেগুলো হলো-
ক. ফেলের হার এতো কম হওয়া সত্ত্বেও ১৯৩৭টি স্কুল থেকে কেউ পাশ করেনি ! এর মধ্যে ১০৩৬টিই আনন্দ স্কুল।( আনন্দের কি করুণ পরিণতি !)
২৯০টি রেজিস্টার্ড বেসরকারী, ১৫৯টি সরকারী, ১২০টি কমিউনিটি স্কুল, ৩৩টি ব্র্যাক স্কুল। বাকীগুলো অন্য ক্যাটগরির স্কুল।
খ. পাশের হারের ভিত্তিওত সেরা ১০ স্কুলের ৫টি ঢাকা মহানগরীর, ৩টি চট্টগ্রাম মহানগরীর, ১টি খুলনা মহানগরীর এবং ১টি কুমিল্লার।
শীর্ষ ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
১. ভিকারুননিসা নুন স্কুল(ঢাকা মেট্রো.) ২. মনিপুর স্কুল(ঢাকা মেট্রো.) ৩. আইডিয়াল স্কুল (ঢাকা মেট্রো.) ৪. ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল(ঢাকা মেট্রো.) ৫. নৌবাহিনী স্কুল(চট্ট.মেট্রো.) ৬. মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি(ঢাকা মেট্রো.) ৭. কুমিল্লা মডার্ন স্কুল ৮. বাওয়া স্কুল (চট্ট. মেট্রো.) ৯. ডা. খাস্তগীর স্কুল (চট্ট.মেট্রো.) ১০. খুলনা জিলা স্কুল ( খুলনা মেট্রো.)।
সেরা স্কুলের মধ্যে সব স্কুলই মহানগরীর। যে একটি মহানগরীর বাইরের (কুমিল্লা) সেটি মহানগরীর বাইরের বড়ো শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় এবং মহানগরীর বাইরের শহরের মধ্যে লেখাপড়ার উচ্চ মানের জন্য বিখ্যাত।
গ. মেধা শীর্ষে মফস্বলের মেয়েদের জয়জয়কার।
সারাদেশের শীর্ষ ১০ শিক্ষার্থী
১. সাদিয়া সিকদার-মনোহরদী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,নরসিংদী।
২. দীপান্বিতা তিথি-আড়পাড়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
৩. হাসিন তানভীর অন্তু-আর.কে. সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।
৪. সিলভিয়া মাহমুদ বৃষ্টি-বিন্দুবাসিনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।
৫. ফাহিম তাজোয়ার-বোয়ালিয়া গভ.ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, রাজশাহী।
৬. শেখ ফজলে রাব্বী-ছাব্বিশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভূয়াপুর, টাঙ্গাইল।
৭. মুন ইসলাম-মনোহরদী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নরসিংদী।
৮. মুসফিকা ভূঁইয়া-সামসুল হক খান স্কুল,ডেমরা,ঢাকা।
৯. সাদিয় আফরিন-ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার।
১০. নূরান তাসনুভা হৃদি-বিন্দুবাসিনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।
শীর্ষ ১০ শিক্ষার্থী প্রথম দুজনসহ সাতজনই মেয়ে। ডেমরার মুসফিকা ছাড়া বাকী ৬ জনই মফস্বলের স্কুলের ছাত্রী। টাঙ্গাইলের তানভীর তৃতীয় এবং ছেলেদের মধ্যে প্রথম। শীর্ষ ১০ জনের বাকী ৩ ছেলের সবাই মফস্বলের স্কুলের ছাত্র। মফস্বলের স্কুলগুলি শুধু মেধার জায়গা দখল করেই থামেনি। প্রতিষ্ঠান হিসাবেও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছে। মনোহরদী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০২ সাল থেকে নরসিংদী জেলার মধ্যে প্রথম হয়ে আসছে। এবার শুধু শতভাগ পাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি ১১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০৯ জন প্রথম বিভাগে পাশ করেছে এবং সারা দেশের মধ্যে মেধা তালিকায় প্রথম ও সপ্তম স্থানও দখল করেছে। টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মেধা তালিকায় ৪র্থ ও ১০ম স্থান দখল করেছে। ডেমরার স্কুলটি ছাড়া বাকী সব সরকারী প্রাথমিক/উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
মহানগরীর স্কুল গুলো বেশী সংখ্যায় শতভাগ পাশের ভিত্তিতেই শীর্ষ ১০ স্থানের ৯টি দখল করতে পেরেছে। কিন্তু মেধার জায়গাতে মফস্বলের জয় দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতার আগে এসএসসি/এইচএসসিতে মফস্বলের শিক্ষার্থীরাই প্রাধান্য বিস্তার করতো। স্বাধীনতার পরও সে ধারা বজায় ছিলো। ৯০ দশকের পর থেকে মফস্বলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। আবার সে দিনের আভাস কি শুরু হলো ? রহস্যটা কি ? মহানগর আর বেশি বেতনের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসল খবর কি ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

