সীতাকুণ্ড পাহাড়ের পাদদেশে সন্দ্বীপ চ্যানেল নামক বঙ্গোপসাগর তীরের দীর্ঘ বিস্তৃত জায়গায় জাহাজ ভাঙ্গার যে কাজকর্ম চলে তা এদেশের নির্মানশিল্পের লাইফলাইন। কিন্তু জাহাজ ভাঙ্গা নাকি শিল্প নয়। এই জাহাজ ভাঙ্গায় একটু ছেদ পড়লেই নির্মান শিল্পের প্রাণভোমরা ''রডের'' দাম আকাশ ছুঁয়ে ফেলে।
শিল্প নয় বলে এই ভাঙ্গাভাঙ্গির কাজে যে সব নিরীহ অসহায় শ্রমিক কাজ করেন তাদের কোন নিয়োগপত্র নেই, আরো বহু কিছু নেই। তারা শুধু শ্রমিক। পেটের দায়ে এই নির্মম কাজে নামে। শিল্প নয় বলে ভাঙ্গার কাজের কোন ব্যাকরণ নেই। নেই কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে দু'দিন পর পরই দুর্ঘটনা ঘটে। অনামা শ্রমিকরা মারা যায়। পেপারে ওঠে। তারপর সবাই ভুলে যায়। বছরের পর বছর এটা চলছে। আমাদের গা সহা হয়ে গেছে। আমাদের ভাব এমন- ''গরীবের মরায় কি আসে যায় !?''
গতকাল মাদামবিবির হাট সংলগ্ন রহিম শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙ্গার সময় তেলের ট্যাঙ্কার বিস্ফোরনে ৫ জন শ্রমিক মারা যায়, আহত হয় ২০ জন। বেশ কিছু কাগজে বড়ো করে সংবাদ ছাপা হয়েছে। কোন কোন কাগজ ইতিহাস টেনেও সংবাদ ছেপেছে। যেমন-সমকাল।
http://www.bangladesh.net/shamokal.html
আবার কেউ কেউ ছাপেনি। যেমন প্রথম আলোর অনলাইন এডিশনে সংবাদটি পাইনি। http://www.bangladesh.net/prothom-alo.html
কাল জাহাজ কাটার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরনে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে যায়। আগুন ও ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় সব। ফায়ার ব্রিগেড এসে নিহতদের দেহ উদ্ধার করে। আহতদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। নিহত চার জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজন পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় তার পরিচয় জানা যায়নি। ট্যাঙ্কের ভেতর বা কোন ইস্পাতের টুকরার নীচে আর কোন শ্রমিকের লাশ আটকে আছে কিনা ফায়ার ব্রিগেড তার সন্ধান করছিলো।
বেসরকারী সংস্থা ইপসার হিসাব মতে গত ১৫ বছরে প্রায় ১০০০ শ্রমিক নিহত এবং প্রায় ৩০০০ শ্রমিক আহত হয়েছে। হতাহত শ্রমিকের পরিবার সাধারণত কোন ক্ষতিপূরণ পায় না। আন্দোলনসংগ্রাম হলে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ মেলে। মাঝে মাঝে লাশ গুম করে ফেলার অভিযোগও আছে। যেহেতু কোন নিয়োগপত্র নাই কোন শ্রমিক তালিকাও নাই। ফলে প্রভাবশালী মালিকদের দাপটে যখন তখন নাই হয়ে যেতে পারে যে কোন শ্রমিক। ভাগ্য বদল বা নিরাপত্তার গ্রারান্টি না থাকলেও নাই হয়ে যাবার গ্রারান্টি বোধহয় দেয়াই যায়।
আহারে সীতাকুণ্ড, তুই দেখি হয়ে উঠেছিস এক মৃত্যু উপত্যকা !!!!!!!!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

