কাল টিভিতে ব্রেকিং নিউজ হিসাবে জানলাম রাকিবুল হাসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। স্বীকার করা ভালো আমি রাকিবুলের ভক্ত নই। রাকিবুলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের জন্য কোচ সিডন্সেরও আমি একজন কড়া সমালোচক।
ইংল্যান্ডের সাথে সদ্যসমাপ্ত সিরিজে তিনি ছিলেন না। টেস্ট দলে ঢুকেছিলেন সামর্থ্যের টেস্ট দিয়ে। তিন দিনের ম্যাচে ১০৭* ও ৫১ রানের দুটি দুর্দান্ত ইনিংসের পুরস্কার হিসাবে। আমি তাঁকে পছন্দ না করলেও যোগ্যতাবলে দলে ঢোকায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কাল এই অবসরের ঘোষণায় অন্য সবার মতো আমিও অবাক হয়েছি।
পেছনের ঘটনা জানার জন্য সবাই উদগ্রীব। ক্রিকইনফো জানাচ্ছে বোর্ড নাকি বলেছে আশরাফুল আর রাকিবুলকে যেন দলে রাখা না হয়। বোর্ডের আপত্তি উপেক্ষা করে নির্বাচকরা ভালো খেলার জন্য তাকে দলে রাখেন। অন্যদিকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ৩০ জনের প্রাথমিক দলেও তিনি নেই।
টিমমেটরা, কোচ সিডন্স, তার বাবা-মা কারো অনুরোধই নাকি তিনি শোনেননি। ৭ টেস্টে ১৯.১৪ গড়ে ২৬৮ রান করেছেন। ৪১টি ওডিআই ম্যাচে ২৯.৩৪ গড়ে ১০২৭ রান করেছেন তিনি।
Click This Link
কিন্তু তিনি এই অভিমানের মাধ্যমে তার ক্রিকেট কেরিয়ারের সমাপ্তি ডেকে আনছেন কী ? অতীত অভিজ্ঞতায় এই আশঙ্কা করাই যায়। বাংলাদেশ যখন টেস্ট স্টেটাস পায় তখন আমাদের একজন প্রধান প্লেয়ার ছিলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। ২৭টি ওডিআই ম্যাচে ৪৫৩ (সর্বোচ্চ ৬৮*) আর ২৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ১৭০৯ (সর্বোচ্চ ২১০) রান করেছিলেন তিনি। অভিমান করায় তার টেস্ট খেলা হয়নি।
৩৩ টেস্টে ১০৫৯ (সর্বোচ্চ ১১১) রান ও ১০০ উইকেট (বেস্ট-৬/৭৭) আর ১২৫টি ওডিআই ম্যাচে ১১৯১ (সর্বোচ্চ ৭৭) রান ও ১২৫ উইকেট ( বেস্ট-৫/৪৭) -এই হচ্ছে মোহাম্মদ রফিকের পরিসংখ্যান। ধারাবাহিকতার প্রতিমূর্তি ছিলেন হাবীবুল বাশার। একপাশ আগলে লড়াই করতেন পাইলট। বুলবুল বাংলাদেশ এবং নিজের ডেব্যু টেস্টে করেছিলেন ১৪৫ রান। তারপরও অকালে ঝরে গেছেন আমাদের জাতীয় দল থেকে।
এদের কারো থেকেই উজ্জ্বল নয় রকিবুলের কেরিয়ার। ফলে এই অভিমানেই শেষ হয়ে যেতে পারে রাকিবুলের কেরিয়ার।
আমরা কি তবে বলতে পারি ''বিদায় রাকিবুল'' ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



