somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপহার (মিনিপ্যাক গল্প)

১৮ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মুখরিত সারা দেশ। সর্বস্তরের মানুষই লড়ছে ঘাড় থেকে এই জগদ্দল পাথর নামানোর জন্য। বরাবরের মতো তরুণরাই সব থেকে এগিয়ে। জনগণ এই নি:স্বার্থ তরণ তুর্কীদের কাছেই সবচেয়ে বেশী আশা করে। আমি এক ছাপোষা কেরাণী। সারাক্ষণ চাকরী যাবার ভয়ে তটস্থ। তরুণদের সংগ্রামের প্রতি আকর্ষণ যতোই থাক প্রকাশ্যে জ্বী হুজুরীর বিরাম নেই। অফিসে যাওয়া আসার পথে মিছিলের জন্য প্রায়ই ট্রাফিক জ্যামে আটকে যাই। আশেপাশের আটকেপড়া লোকদের নানা মন্তব্য কানে আসে। বেশীরভাগই মিছিলের ছেলেদের পক্ষে। বিভীষণ, মীরজাফরদের দু'চারটে বংশধরের দেখাও মিলে যায় মাঝেমধ্যে। স্বৈরাচারের প্রতি তাদের ঈমানের বয়ান বেশ জোরের সাথেই দেয় তারা। আমি মনে মনে বিরক্ত হই। প্রকাশ্যে ভয়ে কথা বলি না। মাঝে মাঝে ছাত্রপুলিশ মারামারির মধ্যে মধ্যে পড়ে বেহাল দশায়ও পড়ে যাই।

এক বিকেলে অফিস থেকে রাস্তায় নেমেই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পড়ে গেলাম। কাছের এক গলির ভেতর দিয়ে দৌড়ে আরেকটা রাস্তায় উঠলাম। সেখানেও সবাই প্রাণপনে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। শিশু আর মহিলাদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রাস্তা টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। দু'চোখ জ্বলছে। ছুটন্ত এক লোক পাশকাটাবার সময় জানালেন পুলিশ গুলীও ছুঁড়েছে।

বুকের ভেতর ধক করে উঠলো। কী করবো না করবো ঠিক করতে পারছিলাম না। এমন সময় এক তরুণ আমার কাছে এসে বললো, ''ভাই, একটু সাহায্য করুন, প্লিজ ! আমার প্যান্টের বাঁ পকেটে একটা রুমাল আছে। সেটা বের করে আমার কবজিতে বেঁধে দিন।''

দেখলাম ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতের কবজি ধরে আছে। আঙুলের ফাঁক দিয়ে রক্ত ঝরছে। আমি দ্রুত তার পকেট থেকে রুমাল বের করে তার কবজিতে বাঁধলাম। কিন্তু রক্ত থামানো গেলো না। তাড়াতাড়ি আমার রুমালটাও বের করে তার হাতে বাঁধলাম। বাঁধা শেষ হতেই সে আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে আবার রাস্তায় ছুটলো।

আমি পিছু ডাকলাম, ''এই যে শুনুন।'' সে থমকে জিজ্ঞেস করলো, ''কিছু বলবেন ?'' বললাম,''ওদিকে যাবেন না। এখন ওদিকে যাওয়া নিরাপদ না।''

''ও !'' এটুকু বলেই আমার আশঙ্কাটাকে বিন্দুমাত্র মূল্য না দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো সে।

মাসখানেক পর আমার এক অসুস্থ বন্ধুর সাথে দেখা করে পিজির গেট দিয়ে সবে বেরিয়ে এলাম। দেখি, বিরাট এক মিছিল চলেছে শাহবাগ থেকে বাংলামোটরের দিকে। অসংখ্য মানুষের স্লোগানে যেন সারা ঢাকা শহর কাঁপছে। মুগ্ধ হয়ে মিছিল দেখছিলাম। হঠাৎ একটা ছেলে মিছিল থেকে ছিটকে বেরিয়ে এলো। তার বাঁ হাতটা কনুইয়ের নীচ থেকে নেই। অবাক হয়ে দেখলাম সে আমার দিকেই ছুটে আসছে। কাছাকাছি আসতেই চিনতে পারলাম। সেই ছেলেটা। যার গুলীবিদ্ধ বাঁ কবজিতে আমি রুমাল বেঁধেছিলাম।

সে আমার কাছে এসে একটা রুমাল হাতে দিয়ে বললো,''এই নিন আপনার রুমাল। আপনাকে অনেক খুঁজেছি।'' এটুকু বলেই আবার মিছিলের দিকে ছুটলো।

আমি তাড়াতাড়ি বললাম,''শুনুন।''

সে থমকে দাঁড়িয়ে বললো,''বুঝেছি। এভাবে নিতে মন চাইছে না, এই তো ?''

আমি হাঁ সূচক মাথা নাড়লাম।

''আচ্ছা, তাহলে মনে করুন এটা আমার উপহার।'' একথা বলেই ছুটে গিযে আবার মিছিলের সঙ্গে মিশে গেলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৪১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×