আমার এক আত্মীয় থাকেন ঢাকা থেকে অনেক দূরের এক গ্রামপ্রতীম জেলা শহরে। আমার বাসায় বেড়াতে আসেন প্রায়ই। ঢাকা আসাযাওয়া করছেন ৩৫/৩৬ বছর যাবৎ।
তিনি হঠাৎ সেদিন বললেন, আপনারা ঢাকার মানুষরাতো নিজেরাই নিজেদের জেলে ঢুকিয়ে ফেলেছেন। প্রতিটা বাড়ীর দরজায় জেলখানার মতো তালা দেয়া। ঘরের দরজায় তালা। কাজ সেরে কোনমতে একবার সেই কারাগারে ঢুকলে আপনারা কেউ আর বের হতে চান না। সেই কারা প্রকোষ্ঠে ঘাপটি মেরে থাকেন। আর বড়ো বড়ো ভাব নিতে থাকেন।
তাঁর সাথে আমার যেহেতু সম্পর্কটা ঠাট্টার সম্পর্ক তাই আমি শুরুতে সেটাকে ঠাট্টা বলেই ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে ভাবতে গিয়ে দেখি ব্যাপারটা ঠিক উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। আসলেই তো আমরা স্বনির্মিত কারাগারেই ঢুকে বসে থাকি। মানুষে মানুষে ঠাসা এই শহরে রাস্তায় চলার সময় বা শপিং মলে বা কাঁচাবাজারে ঠেলাঠেলি করলেও খুব দ্রুত আমরা কারা-গৃহে ঢুকে বসে থাকি। যেখানে সহজ প্রবেশাধিকার নেই মানুষের। ঢোকার সময় সিকিউরিটি বা কেয়ারটেকারের একগাদা জেরা মোকাবেলা করে ঢুকতে হয়।
বাড়ীতে মেহমানের আনাগোনা বেশি হলে বাড়ীওয়ালা/বাড়ীওয়ালীরাও নাখোশ হন। তাদের বিরক্তির গুরুত্বও কম নয়।
আমরা যে সব অফিসে কাজ করি সেটাও আরেক কারাগার। পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমান করতে হয় সবসময়। কেউ দেখা করতে গেলে বা কাজে গেলে রিসিপশনে জেরার জবাব দিতে হয়, অপেক্ষা করতে হয়। রিসিপশনের মেকিরূপসী/রূপবানের মুখে বিরক্তির ছাপ হয়ে অপেক্ষা করতে হয় মাঝে মাঝে। অবশ্য আপনি কাস্টমার হলে অবশ্য ভিন্ন কথা।
সিএনজি অটোরিকসার চেহারাতো পাখির খাঁচাকেও হার মানায়।
এর পেছনেও অবশ্য ঢাকাবাসীর কঠিন কঠিন যুক্তি আছে। যুক্তির সংখ্যাও ঢাকার জনসংখ্যার চেয়ে কম হবে না।
আমিই ছোট বেলায় বা কিশোর বেলায় গ্রামের নিঝুম রাস্তায় চলার সময় বিশেষত: রাত বা ভর দূপুরে কোন লোককে রাস্তায় দেখলে সাহস পেতাম, নিশ্চিন্ত বোধ করতাম। এখন তেমন রাস্তায় কাউকে দেখলে ভয় পাই। ভাবতে থাকি ছিনতাকারী বা সন্ত্রাসী নয় তো !
সব কিছুর মূলে আছে ওই নিরাপত্তাহীনতা। কিন্তু কারন যাই থাক আমি যে কারাবন্দী এই সত্যটা এড়িয়ে যাবার উপায়ও যে দেখছি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


