হস্তরেখা ও ভাগ্য - ২ : ২য় পর্ব
(পূর্ব প্রকাশিত পোষ্ট)
শেফালী তার বিয়ের অনেকদিন পর পর্যন্ত জানতো আমি অনিন্দিতার “পাড়াতুতো ভাই”। কখনও টের পায়নি আমাদের দুজনের মধ্যে প্রেম আছে। শেফালীর সাথে সরাসরি আমার তেমন কথা হতো না। পড়াশুনার বিষয় নিয়েও না। এমন কি বিয়ের দীর্ঘকাল পর আমাদের সংসারে বেড়াতে এসেও টুকটাক ভালমন্দ জিজ্ঞেস করা ছাড়া তেমন একটা কথা হতো না। এর পেছনে একটা কারণ ছিল। শেফালীর হাত দেখে একসময় আমি কিছু মন্তব্য করেছিলাম। সেই সব মন্তব্যের বেশীরভাগই ছিল নেগেটিভ। সেই কারনেই সে হয়তো মনে মনে আমাকে অপছন্দ করতো।
সময়টা ছিল অনার্সের প্রথম বর্ষের শেষ দিক। অনিন্দিতা শেফালীকে বলেছিল আমি হাত দেখতে জানি। একদিন কৌতুহল বশত শেফালী অনিন্দিতাকে সাথে নিয়ে এলো আমাকে হাত দেখাতে। আমি ওর হাত দেখে অবাক হলাম। ভাবলাম সুন্দর মানুষের মাঝে কতরকম কষ্ট লুকিয়ে থাকতে পারে। কোন কিছুই তাকে বলবো না ভেবেছিলাম। ধারনা ছিল শেফালী আমার কোন কথাই বিশ্বাস করবে না। আর সব কথা শোনার পর সে হয়তো আমার সাথে তেমন স্বাভাবিক আচরণ করবে না। ব্যাপারটা তাই হয়েছিল। আমি তাতে মোটেও অবাক হইনি। আজও হয়তো সে আমার বলা কথাগুলো মনে রেখেছে। কারন ভুলে যাবার মতো কথা সেগুলো ছিল না।
মাষ্টারর্স পরীক্ষার আগে আমার পড়াশুনার প্রস্তুতি আশানুরূপ ভাল হলো না। নানা রকম মানসিক টানাপোড়েন লেগেই ছিল। নিজেরও কিছুটা গাফিলতি ছিল। এর মধ্যে নাজমার বিয়ের কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা আমার মনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল। তাই প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় তেমন সুবিধে হলো না। ৩৪ নম্বরের জন্য প্রথম শ্রেণী পেলাম না। বেশ কিছু স্যার আমার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। তবে মার্কসীট পাবার পর আমি নিশ্চিত হলাম “পপুলেশন জিওগ্রাফী” পেপারে আমার প্রাপ্ত নম্বরে কারচুপি হয়েছে। টেনে টুনে পাশ মার্ক পেয়েছি যা কিনা আমার কল্পনার অতীত। অথচ ওই পেপারে আমারই নোট পড়ে অন্যান্য সহপাঠিরা পেয়েছিল ৫৫-৬০% নম্বর।
কারণটা অবশ্য পরে ভালভাবেই আঁচ করতে পেরেছিলাম। জনাব শামসুল আলম (তাকে আমি স্যার বলতে পারিনি) পড়াতেন সেই পেপার। তিনি নিয়মিত ভার্সিটির বাসে যাতায়াত করতেন। অনিন্দিতা ও শেফালী সেই বাসের যাত্রী। আমাদের অর্থাত ছেলেদের বাস আলাদা। ওনার সাথে আমার খুব একটা হৃদ্যতা ছিল না। কিছুটা ইগোর ব্যাপার ছিল। মাষ্টার্স পরীক্ষার কদিন আগেই ঘটে গেল ভার্সিটিতে মেয়েদের বাস আলাদা করার আন্দোলন। সেই আন্দোলনের হোতা আমি ছিলাম। বিধায় ওনার কাছে আমি ছিলাম ব্লাক লিস্টেড। তিনি শহর থেকে একই বাসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। রাজশাহী ভার্সিটিতে একসময় শিক্ষক এবং ছাত্রীরা একই বাসে যাতায়াত করতো। সেই সফল আন্দোলনের পরে সবার জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা হয়। আন্দোলনের দিন তিনি অন্য সব শিক্ষকের সাথে বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। আর তার প্রতিশোধ হিসেবে আমার পরীক্ষার খাতায় কাঁচি চালান। আল্লাহ মাফ করুন। আমার দীর্ঘঃশ্বাস নয়, সবই খোদার ইচ্ছা। আজ তিনি রিটায়ার্ড না হতেই প্রায় অন্ধ। শ্বেতী রোগে আক্রান্ত। বাঙ্গালী অথচ দেখলে মনে হবে একজন শ্বেতাঙ্গ। বিভিন্ন সেমিনারে তাঁর সাথে আমার প্রায়ই দেখা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


