somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনিন্দিতা'র চিঠি - ৩,৪

২৮ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিঠি-৩

আনন্দ,
তোমাকে ভুলে থাকা আমার জন্যে খুব কষ্টের ছিল। আমার শাশ্বত
ভাবনায় তোমার ছবিটা কেন জানি চিরকালই উজ্জ্বল। একবারের
জন্যেও মুছে ফেলতে পারিনি। সবসময় অবচেতন মনে সামনে এসে
দাঁড়াতে সেই হাসি হাসি মুখটা নিয়ে। তোমাকে চিনতে আমি হয়তো
ভুল করেছিলাম। সহজ সরল মানুষের ভেতরটা যে অমন দৃঢ়-কঠিন
হবে জানা ছিল না। তাই ভাবতে অবাক লাগে! তুমি বরাবরই এমন
একটা ভাব করতে যেন মানুষের অসাধ্য বলে কিছু নেই। তোমার
এই প্রত্যয়ী মনটাই আমার কাছে অচেনা ছিল। সামান্য একটা বিষয়ে
এমন সিরিয়াস হবে কখনো ভাবিনি। ভাবতে অবাক লাগে। বরাবর
যে ভাল ছাত্র- মেধাবী বলে যাকে সবাই মান্য করতো, ডিবেট, কবিতা
আর বক্তৃতায় যে ষ্টেজ মাতাতো- একটা সামান্য জেদের কারনে সেই
মানুষ কি করে জীবন থেকে অমন করে পালিয়ে গেল? প্রেমে পড়লে
মানুষ বোকা হয় সেই প্রথম জানলাম। সেটা তুমিই বুঝিয়ে দিলে ভাল
করে। নইলে কোনদিনও জানা হতো না। তুমি কখনও আমাকে আমার
মতো করে বুঝতে চাওনি। চূড়ান্ত রক্ষণশীল পরিবারের একটা মেয়ে
প্রেম করে বিয়ে করবে, এমনটা ভাবতে কেউ সাহস পেত না। অথচ
আমিই শুধু ব্যতিক্রম। কি করে যে তোমার প্রেমে পড়লাম একটুও
টের পাইনি। যখন বুঝলাম তখন শুধু নিজেকে সামলানোর যুদ্ধ।
কেউ যেন জানতে না পারে সেই যুদ্ধ। নিজেই শুধু রক্তাক্ত হয়েছি।
তোমাকে কিছুই বলতে পারিনি। আমি জানতাম তুমি আমার কোন
কথাই শুনবে না। তোমার জেদ আমার ভাল করেই জানা ছিল। শেষ
পরিণতির কথা ভেবে তোমাকে দু’হাতে আড়াল করেছি। বেশী আপন
করে পাবার জন্যই যতটা সম্ভব দূরে দূরে রেখেছি। অথচ এই তুমি
এতো বোকা যে এসবের কিছুই বুঝতে চাইলে না। তুমি একবারও
আমার দিকটা ভেবে দেখলে না। যাবার আগে কিছু বলেও গেলেনা।
- অনিন্দিতা

চিঠি - চার

আনন্দ,
মাকে যেদিন সব খুলে বললাম, অত ঠান্ডা মানুষ তবুও বলেছিল-
কেউ মেনে নেবে না, পালাতে পারবি সবার মুখে চুনকালি মাখিয়ে?
আমি শুধু ধৈর্য্য ধরে দিন গুনছিলাম। ভেবেছিলাম তুমি একদিন
ঠিক নিজের পায়ে দাঁড়াবে। মাথা উঁচু করে এসে চাইবে আমাকে।
সবাই হাসি মুখে মেনে নেবে। যোগ্যতা আর শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে কে
হারাবে তোমাকে? কত প্রস্তাব এসেছে, নানা অজুহাত দেখিয়ে বলেছি
আগে পড়া শেষ হোক, তারপর বিয়ে। তুমি জানোনা কত বাঁধার পাহাড়
ডিঙ্গিয়ে, কত অপমান সয়ে, কত যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া শেষ
করেছি। ভেবেছি একটা চাকরি নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাব। তারপর
একসময় তোমাকে কাছে ডেকে নেব। তুমি জানোনা, কিভাবে সময় বের
করে তোমাকে ওই চিরকুটগুলো দিয়েছি। ছোট ছোট এক একটা চিরকুট
এক একটা বিষাক্ত জীবনের খন্ড খন্ড মুহূর্ত। কত সন্তপর্নে যে ওগুলো
তোমাকে লিখতাম তুমি বুঝবে না। পরিবারের অনেকেই আঁচ করেছিল
তোমার সাথে আমার কিছু একটা সম্পর্ক আছে। তা প্রেম হলে রক্ষা নেই।
- অনিন্দিতা
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৫৫
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×