আজ ভোররাতে এক ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আগামী কাল থেকে আগষ্ট মাসের শুরু। আমার কাছে এই মাসটা সবসময়ই একটা বিপর্যয়ের মাস হিসেবে চিহ্নিত। সারা দেশব্যাপী বোমা হামলা এই মাসেই। আমি কুসংস্কার মানি না। তবুও কিছু কিছু ঘটনা কাকতালিওভাবে কেন জানি ঘটে যায়। তখন সত্যিই অবাক হই। নিজেরই বিশ্বাস হয় না।
স্বপ্নের কথা সবাইকে বললে নাকি সেই স্বপ্ন আর ফলে না। তাই স্বপ্নের কথাটা সবাইকে বলে ফেললাম যাতে স্বপ্নে দেখা বিপর্যয়টা কোনভাবেই আমাদের জীবনে না আসে। আমি ভয়বহ এক অগ্নিকান্ডের স্বপ্ন দেখেছি। এই অগ্নিকান্ডে বেশ কিছু মানুষকে জীবন্ত দগ্ধ হতে দেখেছি। সাথে প্রচন্ড বিষ্ফোরণ। সকাল থেকে মনটা হাহাকার করছে স্বপ্নটা দেখার পর। কিছুই ভাল লাগছে না। ভোর রাতে ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই বউকে স্বপ্নের কথাটা বললাম। দোয়া পড়ে বুকে ফুঁ দিলাম। সবার জন্য মঙ্গল কামনা করলাম। আল্লাহ্ কাছে মাফ চাইলাম।
স্বপ্ন প্রসঙ্গে পুরোনো একটা ঘটনা বলি। ১৯৮১ সালের ঘটনা। আমি তখন বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্স-এর পরিসিংখ্যান কর্মকর্তা। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কলীগ মোঃ নাসিমুজ্জামান ও আমি একই রুমে পাশাপাশি টেবিলে বসি। রাতে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। বউ তখন কাছে নেই, রাজশাহীতে। তাই স্বপ্নের কথাটা নাসিমের সাথে শেয়ার করলাম। স্বপ্নের কথাটা নাসিমকে বলেই ফেললাম। স্বপ্নে দেখেছিলাম, একটা চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগেছে। ট্রেনের বগি দাউ দাউ করে জ্বলছে আর বগির ভেতরের যাত্রীরা বাচাঁর জন্য প্রাণপণে চীত্কার করছে। নাসিম আমাকে এই নিয়ে ভাবতে মানা করলো। এও বললো স্বপ্নের কথা মানুষকে বললে সেটা ফলে না। অথচ আশ্চর্যের বিষয় তিন দিনের মাথায় হঠাত্ দেখি পত্রিকার প্রথম পাতায় বিরাট হেড লাইন। "সীমান্ত এক্সপ্রেসে অগ্নিকান্ড, অনেকেই জীবন্ত দগ্ধ। ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে শতাধিক হতাহত"। ঘটনার দিন যতদূর মনে পড়ে ১১ই আগষ্ট, ১৯৮১। খবরের কাগজটা হাতে নিয়ে নাসিম হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
আজ তেমনি এক স্বপ্ন দেখে মনটা আমার খারাপ হয়ে গেল। আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি তিনি আমাদের সকলকে বিপদমুক্ত রাখুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০০৭ সকাল ১০:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


