আমার প্রিয় পোস্ট

"পসার বিকিয়ে চলি জগৎ ফুটপাতে, সন্ধ্যাকালে ফিরে আসি প্রিয়ার মালা হাতে"

আকাশ মেঘ বৃষ্টি

১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫১

শেয়ারঃ
0 0 0

আকাশ মেঘ বৃষ্টি

[একটি আষাঢ়ে (রূপক) গল্প]

আকাশের বুকে সমূলে বিদ্ধ করেছো তোমার সুতীক্ষ্ণ খঞ্জর, হায় রঞ্জন! একি করলে তুমি! বড্ড ভুল করেছো! সূর্যের কথা বিশ্বাস করা মোটেও উচিৎ হয়নি তোমার। মেঘ যে আকাশকে প্রচন্ড ভালবাসে। সূর্যকে আড়াল করে তাই মেঘ চিরকাল ভাসতে চেয়েছিল সেই আকাশের বুকে। তুমি জানতে না। মেঘ তোমাকে এতোটুকু জানতে দেয়নি। মেঘ কিন্তু সূর্যকে কখনই ভালবাসেনি। অথচ সূর্য তোমার মতই মেঘের ভালবাসা চেয়েছিল। তুমি সেটাও জানতেনা। সূর্যের ভালবাসায় মেঘ কখনই গভীর কোন ছায়া দখতে পায়নি। তাই মেঘ ছিল সুর্যের প্রতি বিমুখ।

রঞ্জন, বৃষ্টি কিন্তু সত্যিই তোমাকে ভালবেসেছিল। তোমার প্রতি মেঘের ভাললাগা ছিল কিন্তু সে তোমাকে ভালবাসেনি। মেঘ আকাশকেই ভালবাসতো। তুমি কষ্ট পাবে ভেবে সেই ভালবাসার কথা মেঘ তোমাকে জানতে দেয়নি। অথচ তুমি জানতে মেঘ তোমাকেই ভালবাসে। তাই বৃষ্টির দিকে হাত বাড়াওনি। বৃষ্টি কিন্তু মনে মনে প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছিল। বৃষ্টি তোমাকে প্রচন্ড ভালবাসতো তুমি সেটা বুঝেও বুঝতেনা, কখনও তেমন করে বুঝতেও চাওনি। তোমার পূঞ্জীভূত ভালবাসার স্তরে স্তরে মেঘ কিন্তু বৃষ্টিকেই দেখতে চেয়েছিল। তাই বৃষ্টিকে তোমাকে হাতে সঁপে দিয়ে মেঘ একদিন আকাশের সীমা ছাড়িয়ে দূরে কোথাও চলে যাবে ভেবেছিল। অথচ সূর্যের কাছে যেদিন জানলে মেঘ আকাশকে ভালবাসে তখন তুমি চরম আক্রোশে দিশেহারা। এক উশৃঙ্খল ঝড় হয়ে উঠলে তুমি নিমিষে- কেমন যেন অপ্রকৃতস্থ, বেসামাল। চকিতে বিদ্যুৎ খেলে গেল তোমার দু’চোখে, নিজেকে পারলেনা রুখতে। হায় রঞ্জন, একি করলে তুমি! আকাশের বুকে এভাবে খঞ্জর বসিয়ে দিলে। এতোটা হিংষ্র তুমি হতে পারলে? একটিবার বৃষ্টির কথা ভাবলেনা? মেঘের কথা ভাবলে না? এই বুঝি তোমার ভালবাসা? আসলে তুমি প্রেমিক নও, তুমি উন্মাদ। তুমি হিংসুটে।

এইতো একটু আগেই বৃষ্টিকে যখন কান্না ভেজা কন্ঠে বললে দেখা করতে, বৃষ্টি ছুটে এলো তোমার কাছে। চোখে তোমার আগুনের ফুলকি, যদিও সেভাবে দাপিয়ে ওঠেনি। প্রচন্ড গম্ভীর মুখ দেখে বৃষ্টি হয়তো কিছু একটা টের পেয়েছিল। তাই উৎসুক নয়নে বার বার জিজ্ঞেস করছিল, “রঞ্জন তোমার কী হয়েছে”? মেঘ ও আকাশের সম্পর্ক নিয়ে তুমি বৃষ্টিকে অজস্র প্রশ্ন করেছিলে। বৃষ্টির কাছ থেকে তেমন কোন উত্তর খুঁজে পাওনি। প্রচন্ড রাগ হচ্ছিল তোমার। বৃষ্টিকে সন্দেহের চোখে দেখছিলে। বিশ্বাস হচ্ছিলনা কোন কথা। বৃষ্টিও তোমার ভেতরের ওলট পালট টের পাচ্ছিল। তোমার চোখ দেখে বুঝেছিল অন্যরকম একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তোমার আচরণে তেমনটাই আঁচ করেছিল বৃষ্টি।
বৃষ্টির সাথে সূর্যের নিয়মিত দেখা হতো। সূর্য একদিন বৃষ্টিকে বলেছিল সে মেঘকে ভালবাসে। বৃষ্টি চমকে উঠেছিল। কারন বৃষ্টি জানতো তুমিও মেঘকে ভালবাস। ঠিক কবে, কোথায়, কখন দেখা হয়েছিল বৃষ্টির মনে পড়েনা। বৃষ্টি সূর্যকে বলেছিল, মেঘ কখনই তোমার হবার নয়। মেঘ অন্য একজনকে ভালবাসে। সূর্য সেই মুহূর্তে কি ভেবেছিল কে জানে! বৃষ্টির কথা আদৌ বিশ্বাস হয়নি তার। এরপর সূর্য তোমার সাথে দেখা করেছিল। সূর্য তোমাকে সেদিন কি বলেছিল জানিনা। তবে সূর্যের সবকথা তোমার বিশ্বাস করা মোটেও উচিৎ হয়নি। সূর্য মনে মনে চেয়েছিল আকাশের জীবন থেকে মেঘ চিরতরে সরে যাক। তুমি সেটাই করে দেখালে। হায় রঞ্জন! বৃষ্টিকে একা ফেলে ওভাবে কেন ছুটে গেলে আকাশের খোঁজে? আকাশতো তোমার কোন ক্ষতি করেনি। আকাশ তোমার মতই একজনকে ভালবেসেছিল। আকাশের বুকে তথন একটাই মেঘ।

রঞ্জনের ভাবনায় এলোমেলো প্রশ্ন সব জট পাকায়। মেঘ কী সত্যিই আকাশকে ভালবাসতো? আকাশের বুক থেকে মেঘ একদিন সরে যাবে ভেবেই কী সূর্য সেদিন অমন করে হেসেছিল? সূর্যের কথা বিশ্বাস করেই তো আকাশের বুকে খঞ্জর চালিয়েছে সে। এই রঞ্জন এখন আর কারো প্রেমিক নয়, সে একজন খুনী। সে আকাশকে খুন করেছে। বৃষ্টিকে কাঁদিয়েছে। বৃষ্টি এখনও লুকিয়ে কাঁদে। মেঘের কোথাও কোন চিহ্ন নেই। সূর্য পলাতক।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৭
বৈকুনঠ বলেছেন: অই কে মাইনাস দেয় এত সুন্দর সাহিত্যকর্মে? কালপুরুষদা', আমার মাইনাসটা ভুলে পরে গেছে। দাদা কবে পাবো আপনার বই বাজারে?
১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৯

লেখক বলেছেন: আমিও ভুলে ব্লক করেছি আপনাকে। মনে কিছু নিয়েননা।

১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: বই বের করার মতো লেখক আমি নই, সে যোগত্যাও আমার নেই। বই বের করতে কোন এক টিমের পৃষ্ঠপোষকতা লাগে কিন্তু তারা আমার ব্লগে নিয়মিত পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে। তাই লেখক হিসেবে ফ্লপের খাতায় নাম লেখাতে চাইনা। বই মেলায় আমার বই এতিম হয়ে পড়ে থাকবে কেউ ছুঁয়েও দেখবেনা।

৩. ১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১১
মাইনাচ! বলেছেন: মহান মাইনাচ! বলেচেন: গপ্প বাল হইচে!

মাইনাচ X মাইনাচ!
১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। মাইনাচে মাইনাচে পেলাচ।

৪. ১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৬
বিহংগ বলেছেন: যথারীতি সুন্দর।অপূর্ব।
৫. ১৮ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৬
বৈকুনঠ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। এই অধম সত্যিই আপনার একজন ভক্ত। আপনার সর্বাংগীন মংগল কামনা করছি
৬. ১৮ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:০২
উত্তরাধিকার বলেছেন: কালপুরুষ দা,

কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।

এমনিতেই আকাশ-মেঘ-বৃষ্টি আমার প্রিয়।
সাথে জুড়ে দিলেন সূর্য আর রঞ্জন।

চমৎকার আঙ্গিকে যোগসুত্রতা ঘটিয়েছেন প্রকৃতির বিস্ময় গুলো কে।
মুগ্ধতায় ভরে উঠলো আমার সময়টুকু।

শুভেচ্ছান্তে-
১৮ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ @উত্তারাধিকার, সুন্দর ও মনকাড়া মন্তব্যের জন্য।

৮. ১৯ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:১৬
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: বৃষ্টি এখনও লুকিয়ে কাঁদে। মেঘের কোথাও কোন চিহ্ন নেই। সূর্য পলাতক............শেষের কথাটা অসাধারণ!!!!!!

মন ছুঁয়ে গেলো।

ভালো থাকুন।
৯. ১৯ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৪১
ফারহান দাউদ বলেছেন: চমৎকার,রিমঝিম শুনতে পাচ্ছি।
১০. ১৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:৩১
আবু সালেহ বলেছেন: বৃষ্টিকে কাৎদিয়েছে। বৃষ্টি এখনও লুকিয়ে কাঁদে। মেঘের কোথাও কোন চিহ্ন নেই। সূর্য পলাতক।

কালপুরুষদা দারুন লেগেছে শেষের কথাটা.....

আমার প্রিয় পোস্টে ...

+++++
১২. ১৯ শে মে, ২০০৮ রাত ৯:৩৭
আইরিন সুলতানা বলেছেন: মমমমম.....প‌্যাঁচ খেয়ে গেলাম তো....
১৪. ২২ শে মে, ২০০৮ সকাল ১০:২৪
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: ভালো লাগলো.........
অনেক শুভেচ্ছা ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৩৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জন্মঃ নারিন্দা, ঢাকা।

পেশাঃ নগর গবেষক।

শখঃ আড্ডা, বিতর্ক, লেখালেখি, ফটোগ্রাফী, রান্না, বই পড়া, গান শোনা ও ছবি আঁকা। এক সময় রাশিফল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই