somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিরে আসা (১ম পর্ব)

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফিরে আসা (১ম পর্ব)

(একটা উপন্যাস লেখার অপচেষ্টা এভাবেই শুরু করেছিলাম। কিন্তু লেখার আলসেমির কারণে আর এগুতে পারিনি। যতটুকু লিখেছি পাঠকদের সাথে সেটুকুই শেয়ার করছি। একটু কঠোর ও বাস্তবধর্মী মতামত/মন্তব্য আশা করছি।)

অতীত ইতিহাস বলে অঞ্জনের তেমন কিছু ছিলনা। পূবর্পুরুষের স্মৃতি তাকে কখনোই মোহগ্রস্থ করেনি। পুরোনো সবকিছুকে আঁকড়ে ধরে রাখার মতো বিলাসী খেয়াল অঞ্জনের কোনকালেই ছিলনা। মায়ের মৃত্যুর পর এই বাড়ীর বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে থাকা মূল্যবান তৈজসপত্র, বাবার সংগ্রহের তৈলচিত্র, কাঠের আলমিরায় গচ্ছিত দাদীর কিছু সোনাদানা, সব অনেক আগেই হাতছাড়া হয়ে গ্যাছে। শুধু মায়ের ঘরেই ওরা ঢুকতে পারেনি। তার অবর্তমানে দাদীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা অনেককিছুই নিজেদের দখলে নিয়ে গ্যাছে। দাদী বেঁচে থাকতে ছিঁটেফোটা তা’ও কিছু পড়ে ছিল। এখন আর সেসব নেই। একদিন হয়তো চার দেয়াল ছাড়া আর কিছুই থাকবেনা। সবই ওদের ভোগ দখলে চলে যাবে। অঞ্জন জানে সে’ও এখানে থাকবেনা। আবার ফিরে যাবে লন্ডনে। মায়ের কিছু রেখে যাওয়া জিনিষ নিয়ে যেতেই তার ফিরে আসা। অঞ্জনের মা শেষ দিকের কোন এক চিঠিতে লিখেছিলেন তার জন্য কিছু জিনিষ নাকি তিনি যত্ন করে তুলে রেখেছেন। ইচ্ছে ছিল নিজের হাতে সেগুলো অঞ্জনের হাতে তুলে দেবেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। কি সেই জিনিষ অঞ্জন আজো জানেনা। মা’ও বিস্তারিত কিছু লেখেননি। মাত্র কদিনের জন্যে আসা। এর মধ্যে কি সে খুঁজে পাবে মায়ের সেই গচ্ছিত জিনিষগুলো। কোথায় খুঁজবে সে? দাদী হয়তো জানতেন কোথায় কী আছে। তিনিওতো আজ বেঁচে নেই। অঞ্জনের বিশ্বাস সে খুঁজে পাবেই সেগুলো।

বাড়ীর পুরোনো বাসিন্দা যারা তাদের মুখেই অঞ্জন জেনেছিল বাড়ীর এই ঘরটাতে মা একাই থাকতেন। দাদী থাকতেন মায়ের পাশের ঘরে। মায়ের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় আয়েশা খালা মা আর দাদীর দেখাশুনা করতেন। আয়েশা খালাকে অঞ্জন মাত্র দুইবার দেখেছে। ছোটবেলায় একবার নানীর বাড়ীতে আর একবার মায়ের মৃত্যুর আগে যখন সে ছুটিতে এসেছিল। দাদী আর আয়েশা খালা ছাড়া তেমন কেউ মায়ের ঘরে ঢুকতো না। মা অন্য কারো তার ঘরে ঢোকা পছন্দ করতেন না। ঘরটা বাইরে থেকে তালা বদ্ধ ছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অঞ্জনের মা এই ঘরেই ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর সময় অঞ্জন বিদেশেই ছিল। তখন তার ফাইনাল এক্সাম চলছিল। মৃত্যুর খবরটা সে পেয়েছে অনেক দেরীতে। নিজের চুল ছেঁড়া ছাড়া তখন আর কিছুই করার ছিলনা। সবকিছু সামাল দিয়ে সময় মতো সে হয়তো আসতে পারতো না। মায়ের চল্লিশার সময় অঞ্জন যখন দেশে এসেছিল তখন তার দাদী মায়ের ঘরের চাবিটা সবার অলক্ষ্যে তার হাত সঁপে দিয়েছিলেন। আজ দ্বিতীয়বারের মতো অঞ্জন মায়ের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে। দাদীর ঘরটাও আজ বন্ধ। সেটাতেও তালা ঝুলছে। কেউ থাকেনা সেই ঘরে। মায়ের ঘরের দরজায় তার হাতে লাগিয়ে যাওয়া তালাটা আজও ঝুলছে। কেউ খোলেনি সেই ঘর। চাবিটা অঞ্জনের কাছেই। যাবার আগে নিজের হাতে তালাটা লাগিয়ে দিয়েছিল। ভেবেছিল চাবিটা কারো হাতে দিয়ে যাবে। কিন্তু পরে কী ভেবে তা সে করেনি। চাবিটা সাথে করেই নিয়ে গেছিল। আজ বহুবছর পর মায়ের ঘরে সে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সেই শিশুকালে এই ঘরেই তার বেড়ে ওঠা। বাবাকে তেমন মনে পড়েনা। পড়ার কথাও নয়। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা তাকে ও মাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। সেই থেকে মায়ের একমাত্র সঙ্গী অঞ্জন। মায়েরও শেষ অবলম্বন অঞ্জন। অঞ্জনকে ঘিরেই ছিল মায়ের যত স্বপ্ন।

দুপুর গড়ালেও বাইরে এখনো দিনের আলোর তীব্রতা কমেনি। ঘরের বারান্দার খানিকটা জুড়ে নিম গাছের ছায়া। ঘরের ভেতরে প্রবেশের একমাত্র পথ এই দরজা। আলো প্রবেশের পথও এই দরজা। ঘরের পূব ও দখিন দিকে দুটো জানালা আছে। জানালা দুটো দীর্ঘকাল বন্ধ। অঞ্জন চলে যাবার আগে জানালাগুলো ভাল করে বন্ধ করে গেছিল। আর সেই কারণেই বহুকাল এই ঘরে বাহিরের কোন আলো প্রবেশ করতে পারেনি। মায়ের ঘরে সন্ধ্যা প্রদীপও আর কখনো জ্বলেনি। এই ঘরে সব আলোই নিষিদ্ধ ছিল বহুকাল। তালা খুলতে একটু সময় লাগলো। পুরোনো তালাটায় মরচে ধরে গ্যাছে। চাবিটা বেশ কয়েকবার মোচড় দিতে তালাটা খুললো অবশেষে। দরজা খুলে ঘরের ভেতরে ঢুকলো অঞ্জন। বহুকাল পর তার মায়ের ঘরে অনুপ্রবেশ। ঘরে ঢুকতেই এক অন্যরকম অনুভূতি। মায়ের শরীরের গন্ধ পাচ্ছে সে। শাড়ীর গন্ধ, ন্যাপথলিনের গন্ধ। বেশ তরতাজা সতেজ গন্ধ। ঘরটা জুড়ে মাকড়সার ঝুল। মেঝে, খাট, টেবিল চেয়ার সবকিছুতেই ধূলোর ছাপ। দেয়ালে টাঙ্গানো মা ও বাবার ছবিতেও ধূলোর আস্তর। দরজা দিয়ে ঘরের মেঝেতে মামান্য আলো এসে পড়লো। তবে স্পষ্ট নয়। ঘরটা আগের চেয়েও যেন বেশী বড় মনে হলো। দিনের আলো থাকা সত্ত্বেও ঘরের ভেতরটা কেমন যেন অন্ধকার। অঞ্জনের চোখ কিছুটা ঝাপসা হয়ে এলো। চোখের সামনেই দেয়ালে মায়ের ছবি টাঙ্গানো। চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়াতে নাকি ধূলো পড়াতে মায়ের মুখটা তেমন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছেনা। পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখটা ভাল করে মুছে নিল অঞ্জন।

চলবে----
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪
১৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×