বৃষ্টি দিনের রান্না
রাত থেকেই তুমুল বৃষ্টি। আজ আর লেখালেখি করতে ইচ্ছে হলোনা। অফিস ফাঁকি দিলাম। বন্ধের দিনে আমার রান্না করার শখ। আজকেও লেগে পড়লাম রান্না করতে। আজ এমন বৃষ্টির দিনে মনের সুখে ইচ্ছেমতো রান্না করা যাবে। বউ বৃষ্টির কারণে কলেজে যেতে পারেনি। দারুন মজা! অনেক চেষ্টা করেও যেতে সফল হয়নি। সিএনজিওয়ালাদের ধন্যবাদ। দুই শ্যালিকার এক শ্যালিকা রাতে মা’কে (আমার শাশুড়ি) দেখতে এসে বাসায় ফিরতে পারেনি। অন্য এক শ্যালিকা কাছেই থাকে বলে সে’ও এসে হাজির। আজকে মজা হি মজা! তিন বোন মিলে মায়ের সাথে নানা গল্পে মশগুল। বৃষ্টিকালীন ওদের আড্ডায় আমি নেই। আমার অন্য কাজ আছে।
বাসায় আজ কাজের বুয়া নেই। শাশুড়ি’র জন্য একটা আয়া আছে তিনি আবার ওনার কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজ করবেনা না। অগত্যা আপনা হাত জগন্নাথ! নিজেই কর্মদক্ষতাই একমাত্র ভরষা। লেগে গেলাম রান্নার কাজে। বউ এক ফাঁকে এসে ইলিশ মাছ, মুরগী আর পেঁয়াজ কেটে দিয়ে গেল। ওর নিজেরই ঠান্ডা লেগে আছে তাই ওকে ছুটি দিয়ে দিলাম। এরপর নিজেই লেগে পড়লাম। রান্নাঘর আর গ্যাসের চুলা আজ আমার দখলে। দুই কাপ পোলাও চাল, দেড় কাপ মুগ ডাল (ভেজে নিলাম এক ফাঁকে), আধা কাপ মসুরের ডাল। সবকিছু ধুয়ে রেডি করলাম খিচুড়ির জন্য। আর বিস্তারিত কিছু বললাম না। চমৎকার একটা খিচুড়ি রান্না হয়ে গেল। চেখে দেখরাম দারুন মজা হয়েছে। শালীও চেখে বললো- মজা হয়েছে।
এরপর ইলিশ মাছ ও মাছের ডিম ভাল করে ধুয়ে হলুদ, মরিচ, লবন, সামান্য জিরা ও ধনিয়ার ফাঁকির সাথে একটু সর্ষের তেল ও লেবুর রস মাখিয়ে খিচুড়ি ওঠানোর আগেই ম্যারিনেড করে রেখেছিলাম। সেটা সয়াবিন ও সর্ষের তেল মিক্স করে ভাজলাম। একটা প্লেটে সেগুলো রেখে কড়াইয়ের সেই তেলে সামান্য পেঁয়াজ কুচি আর কাঁচামরিচ হালকা ভেঁজে লাল করে ভাজা মাছের উপর দিয়ে দিলাম। ওয়াও! দেখতে দারুন লাগছিল! লোভ সামলাতে না পেরে একটুকরো ইলিশ মাছের ডিম মুখে পুরে দিলাম।
এরপর মুরগীর টুকরোগুলো ভাল করে ধুয়ে ঝাল ফ্রাই করার জন্য রেডী হলাম। কড়াইয়ে তেল দিলাম। এর পর গরম মশলা ও তেজপাতা তেলে ছেড়ে দিলাম। তারপর একবাটি পেঁয়াজ কুচি, চা মাচের এক চামচ করে আদা ও রসুন বাটা। এরপর পরিমাণ মতো হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা (সবগুলোই এক চা চামচ হলুদ একটু বেশী) পানিতে গুলে কড়াইয়ে ঢেলে দিলাম। মশলা ভূনা হয়ে গেলে মুরগীর মাংশ দিয়ে দিলাম। এরপর কষানোর পালা। একটু একটু পানি আর কষানো চলতেই থাকলো। এ চা চামচ লবন ও এক চা চামচ চিনি দিয়ে দিলাম। এরপর আরো কষানো। তারপর এককাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিলাম। পানি শুকিয়ে এলে টমেটো/চিলি সস দিয়ে ভাল করে নেড়ে নামিয়ে নিলাম। এটাও দারুণ স্বাদ হয়েছে মনে হলো। এক টুকরো এরই ফাঁকে টেস্ট করা হয়ে গেল। এবার গোসল করে খাবার পালা। আমি উঠলাম। খাওয়া শেষে দেখা হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

