আবজর্নার বাক্ম
উচ্চশিক্ষিত এক সুদর্শন পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিল। খবর পাওয়া গেল পাশের ছোট্ট শহরের এক পুরোনো প্রাসাদে অতি সুন্দরী এক বিত্তশালী নারী বসবাস করে। সেই নারী কখনো প্রাসাদের বাইরে বের হয়না। কারো সাথে তেমন কথাও বলেনা। লোকে তাকে খুব অহংকারী ভাবে। শুনেছে তার আত্মীয়স্বজন বলতে তেমন কেউ নেই। সেই বাড়ীর ঠিকানায় প্রতিদিন নাকি “প্রিয়া”, “প্রেয়সী”, “প্রিয়তমা” “প্রিতমেষু” ইত্যাদি মধুর সম্বোধনে অনেক প্রেমপত্র আসে। কিন্ত কখনো কেউ সেই পত্রের জবাব পায়না বা কাউকে জবাব দেয়া হয়না।
কৌতুহলবশতঃ একদিন সেই সুদর্শন পুরুষ নিজেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সেই প্রাসাদে হাজির হলো। নিজের পরিচয় কাগজে লিখে দারোয়ানের হাতে পাঠাতেই একটুপর এক সুন্দরী নারী পর্দার আড়ালে এসে দাঁড়ালো। বিনীতভাবে সেই নারী পুরুষটির কাছে তার আগমনের হেতু জানতে চাইলো।
পুরুষটি কোন রকম সংকোচ না করেই বললো-
“একটা বিশেষ কাজে এসেছি। তবে তার আগে আপনার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই। আশা করি কিছু মনে করবেননা। ভেবে নিন আমি আপনার একজন হিতৈষী”।
সুন্দরী একটু লজ্জা পেল। সসংকোচে বললো-
“আপনার আসার কারণটা জানতে পারলে কথা বলতে বিশেষ সুবিধে হতো”।
পুরুষটি বললো-
“আমার আসার কারণ আপনি নিশ্চয়ই জানতে পারবেন। তবে আপাতত বন্ধু ভেবে যদি কথার জবাবগুলো দিতেন তবে আমাদের দুজনের জন্যই ভাল হতো”।
পুরুষটির কথায় সুন্দরী কিছুটা অবাক হলেও নিজেকে সামলে নিল। কারণ সামনের মানুষটিকে আর যাই হোক অভদ্র বা মতলববাজ মনে হলোনা।
তাই কিছুটা ইতস্তত হওয়া সত্ত্বেও বললো-
“ঠিক আছে, যা জানার আছে বলুন"”।
পুরুষটির মুখে প্রসন্নতার ছাপ ফুটে উঠলো। সুন্দরীকে যেমনটা ধারণা করেছিল ঠিক তেমনটা নয় বলেই মনে হলো। তাই দ্বিধা-সংকোচ কাটিয়ে প্রশ্ন করলো-
“আচ্ছা বলুনতো ভালবাসা কী”?
সেই সুন্দরী যথেষ্ট বিত্তশালী হলেও ছিল অক্ষরজ্ঞানহীন, সহজভাবে আমরা যাকে বলি অশিক্ষিত। কিন্তু তার মধ্যে কোন জড়তা ছিলনা। তাই সে সুদর্শন পুরুষের প্রশ্নের জবাবে বললো-
“ভালবাসা হলো আবর্জনা ফেলার বাক্স"।
সুদর্শন পুরুষটা এবার একটু অবাক হলো। পুনরায় জিজ্ঞেস করলো-
“এমনটা ভাবার কারণ কী, জানতে পারি কি”?
উত্তরে সেই সুন্দরী নারী বললো-
“প্রতিদিন কোন না কোন পুরুষ আমাকে প্রেমপত্র পাঠায়। আমি সেগুলো কখনো পড়ে দেখিনা। বরং ছুঁড়ে ফেলে দেই আবর্জনা ফেলার বাক্সে। আমার আশ্রিতা এক সেবাদাসী অল্পকিছু লেখাপড়া জানে। সে মাঝে মাঝে দু’একটা চিঠি আমাকে পড়ে শোনায়। সেই দাসী আবার লিখতে জানেনা। তাই আজ পর্যন্ত কোন চিঠির জবাব দেয়া হয়নি। ঐ পুরুষগুলোর দোষ কী বলুন? ওরাতো জানেনা যে আমি অশিক্ষিত, মূর্খ। তাই আমার আর ঐ আবর্জনার বাক্সের সাথে কোন তফাৎ নেই। যারা এতো কষ্ট করে, এতো কাব্য করে আমাকে প্রেমপত্র পাঠায় তারা জানেনা তারা এক আবর্জনার বাক্সে তাদের প্রেমপত্র পাঠাচ্ছে। তাই আমার কাছে “ভালবাসা” এক আবর্জনার বাক্স ছাড়া আর কিছুই নয়"”।
সুন্দরীর কথা শুনে সুদর্শন পুরুষটি উচ্চস্বরে হেসে উঠলো এবং বিনয়ের সাথে বললো-
“যদি কিছু মনে না করেন তবে, আমাকে সেই আবর্জনার বাক্সটি দান করবেন কী? আমি আজীবন সেই বাক্স থেকে আবর্জনা পরিস্কার করার সুযোগ পেতে চাই। আপনি রাজী থাকলে বলুন"।
সেই সুন্দরীর মুখে তখন মুগ্ধতার হাসি। মুখ ঘুরিয়ে নীচু গলায় বললো-
“যে আমার ঐশ্বর্য আর বিত্ত ছেড়ে শুধু আবর্জনার বাক্সটা পেতে চায় তাকে ফেরাই কি করে”?
পুরুষটি মুচকি হেসে তাৎক্ষণিকভাবে বিদায় নিল। যাবার সময় বললো-
“আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সব গুছিয়ে আসছি। খুব শীঘ্রই দেখা হবে”। অপেক্ষা করবেন আশা করি"।
অ:ট: আমার এক ভায়রা খুব ভাল শায়েরী করতেন। একদিন তাকে দেখানো জন্য আমারো শখ হলো একটা শায়েরী করার। সেই শায়েরীর অংশটুকুকে গল্পের আদলে নিয়ে আসার অপপ্রয়াশ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


