somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিতালীর গল্প - ৪

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিতালীর গল্প - ৪

এদিকে মিতালী ও বজলুর প্রেম চূড়ান্ত পর্যায়ে। বজলুর চাকরি আছে। কিন্তু কিছু সমস্যাও আছে। বজলুর বিধবা মায়ের ইচ্ছে ছোট দুটো বোনের অন্তত একটার বিয়ে দিয়ে বজলু যেন বিয়ে করে। তাই বিয়ের কোন কথা বজলু মায়ের কাছে মুখ ফুটে বলতে পারেনা। বজলু তার ছোট বোনদের কাছে মিতালীর ব্যাপারে সব খুলে বলেছে। বোনরা খুব খুশী। তাদের অভিমত যদি মিতালীর বাসা থেকে রাজী হয় তবে বজলু যেন তাদের কথা ভেবে বিয়েটা না আটকায়। বোনেরা মায়ের ইচ্ছার কথাও জানে। তারা বজলুকে বলে তুমি মাকে বুঝিয়ে বলো। আমরা লেখাপড়া করছি। আগে নিজের পায়ে দাঁড়াই তারপর বিয়ের কথা ভাববো। একদিন বজলু তার মায়ের কাছে মিতালীর কথা সব খুলে বললো। বজলুর বোনরাও সামনেই ছিল। তারাও তাদের মাকে বুঝালো। মায়ের সেই একই কথা। আমি মরার আগে তোদের দুই বোনের বিয়ে দেখে যেতে চাই। বজলু আর কথা বাড়ায়না। মাকে বলে- ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করে দেখছি কি করা যায়। তুমি সুমীকে বুঝাও, ও বিয়ে করতে রাজি আছে কিনা! আমি ছেলে দেখছি। সীমা এখনো ছোট। ওর কথা পরে ভাবা যাবে। কিন্তু এদের দুজনের কেউইতো এখন বিয়ে করতে রাজিনা। তুমি নিজেই ওদেরকে বুঝাও। মায়ের সাথে আর কথা বাড়ায়না বজলু। ভাবে মিতালীকে সে কি করে বুঝাবে? এদিকে মিতালীর পরীক্ষা প্রায় শেষের দিকে। হলের সিট ছেড়ে দিতে হবে। ওকে দেশে ফিরে যেতে হবে। আর দেশে গেলেই ওর বাবা-মা ওকে বিয়ে দেবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠবে। অথচ বজলুর কিছুই করার নেই।

বজলু একদিন আমাকে ধরে বসলো। দোস্ত, যে করেই হোক মাকে ম্যানেজ করতে হবে। মা কিছুতেই সীমার বিয়ের আগে আমাকে বিয়ে করতে দেবেনা। আর মিতালীর বাবা-মা’র কাছে আমিও সরাসরি প্রস্তাব নিয়ে যেতে পারবোনা। তোকে যে করেই হোক এসব ম্যানেজ করতে হবে। আমি বজলুকে আশ্বস্ত করি। আমার মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হোক। আমি তোকে নিয়ে খুলনা যাবো। মিতালীর মা-বাবার সাথে কথা বলবো। তোর মা’র হয়ে আমিই বিয়ের প্রস্তাব দেবো। তবে আমার কথার ওনারা কতটুকু গুরুত্ব দেবে কে জানে? তোর মা সাথে গেলে খুব ভাল হতো। দেখি আমার পরীক্ষা শেষ হোক। আমি খালাম্মার সাথে কথা বলবো। ওনাকে বুঝানোর চেষ্টা করবো। তবে তোর কথায় যা বুঝেছি ওনাকে বুঝাতে গেলে সীমার বিয়ের একটা সুরাহা করতেই হবে। দুজনে মিলে আগে সীমার জন্য একটা ছেলে দেখি। তারপর তোর বিয়ের কথা তুলবো। খালাম্মাকে রাজী করানোর দায়িত্ব আমার। মিতাকে বলবো এখন থেকে একটা চাকরি দেখতে। চাকরি একটা পেলে বিয়েটা কোনরকমে আটকে রাখা যাবে। তুইও দেখতে থাক। তোর ব্যাংকের কত ক্লায়েন্ট আছে, একজনকে বলে দেখ যদি মিতালীর জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারে। মিতালী নিজে স্বাবলম্বী হলে তার বাবা-মাকে ম্যানেজ করতে সুবিধে হবে। অন্তত সে যে সংসারে একটা বোঝা নয় সেটা সে বুঝাতে সক্ষম হবে।

মিতালীর মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ। পরীক্ষা ভালই হয়েছে জানলাম। কিছুদিনের মধ্যেই হলের সিট ছেড়ে দিতে হবে। রাজশাহী শহরে মেয়েদের থাকার মতো কোথাও কোন হোস্টেল নেই। এদিকে রোজ পত্রিকা দেখে বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন পাঠাচ্ছে। চাকরি হলেও কোথায় হবে, কোথায় থাকবে, কোন শহরে পোস্টিং হবে কিছুই জানেনা। আদৌ চাকরি কপালে জুটবে কিনা তাও জানেনা। আমি বজলুর মাকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে মিতালীর বাবা-মা’র সাথে দেখা করার কথা বললাম। উনি কিছুতেই রাজি হলেন না। এদিকে সীমার জন্য কোন ভাল পাত্র জোটানো গেলনা। সব মিলিয়ে বেশ অস্থির একটা পরিস্থিতি। মায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে বজলুর কিছুই করার নেই। আমি আমার মাকে পাঠালাম বজলুদের বাসায়। মিতালী সম্পর্কে আমার মায়ের ধারণা খুব উঁচু। তার ধারণা মিতালী একটা লক্ষ্মী মেয়ে। বরং বজলুর তুলনায় সে অনেক বেশী যোগ্য। তাই মা সানন্দে রাজি হলো বজলুর মায়ের সাথে কথা বলতে। কিন্তু আমার মা নিজেই হতাশ হলো বজলুর মায়ের সাথে কথা বলে। বজলুর মা কিছুতেই এখন বজলুর বিয়ে দিতে রাজি না। ঘুরে ফিরে সেই তার মেয়েদের কথা উঠলো। মেয়ের বিয়ে না দেখে ছেলের বিয়ে দিতে তিনি রাজী নন। পুরুষ মানুষ দেরীতে বিয়ে করলেই বা ক্ষতি কি? আগে নিজের বোনের বিয়ে হোক তারপর সে নিজে বিয়ে করুক। মা মন খারাপ করে ফিরে এলেন। আমিও হাল ছেড়ে দিলাম। এমন একগুয়ে আর একরোখা মহিলাকে কোন কিছু যুক্তি দিয়ে বুঝানো কঠিন।

চলবে...........
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×