somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিতালীর গল্প - শেষ পর্ব

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিতালীর গল্প - শেষ পর্ব

আমি মিতালীকে সব কথা খুলে বললাম। আমি আরো বললাম বজলুকে বিয়ে করলে তুই সুখী হবিনা। কারণ বজলুর মা যতদিন বেঁচে থাকবে এবং আমার ধারণা উনি অনেকদিন বাঁচবেন, ততদিন তুই সুখী হবিনা। বজলুর ধারণা উনি অসুস্থ, আমারও ধারণা উনি অসুস্থ। তবে ওনার অসুস্থতা ঠিক শারীরিক নয় মানসিক। হয়তো স্বামীর মৃত্যুর কারণেই তিনি একরকম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। মানসিকভাবে অসুস্থ এক মানুষের সংসারে তুই কখনোই সুখী হবিনা। তোর জীবনটা নরক হয়ে যাবে। যে মা তার আদরের মেয়েদের নিয়ে এতো চিন্তিত সেই মেয়েরাই যখন তাদের মা'কে কত অনুনয়-বিনয় করেও বুঝাতে সক্ষম হয়নি যে তুইও একটা মেয়ে, তুই বয়সে ওদের চাইতে বড়, তোরও বিয়ের জন্য তোর বাবা-মা চিন্তা করে। এতোকিছু বুঝানোর পরও যখন ওনাকে রাজী করানো যায়নি তখন তোকে আমৃত্যু অপেক্ষা করতে হবে বজলুকে বিয়ে করার জন্য। কারণ বজলু তার মায়ের নির্দেশ ছাড়া কোন সিদ্ধান্তে যেতে পারবেনা। আর বাড়ীটাও বজলুর মায়ের নামে। বজলুকে ঐ বাসায় থাকতে হলে মায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চলতেই হবে। আর যদি তুই সেটা মেনে নিতে পারিস তবে অপেক্ষা কর। তিনি বেঁচে থাকা অব্দি মেয়েদের বিয়ে না হলে তোদের বিয়ে হবে কিনা সন্দেহ। তবে এর মধ্যে যদি বজলু যদি সুমীর একটা বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারে তবে তোর ভাগ্যে শিকা ছিঁড়লেও ছিঁড়তে পারে। এখন থেকে আমি আর তোদের বিয়ের কথাবার্তায় নেই। তুই আমার বন্ধু আছিস সেটাই ভাল। আমাকে যতই ভুল বুঝিস আমার আর কিছু করার নেই। আমি কোন মুখ নিয়ে তোর মা বাবার কাছে যেয়ে দাঁড়াবো বল? বজলুর হয়ে প্রস্তাব নিয়ে তাদের কাছে যাবো কোন ভরষায়? যেখানে বজলুর মা নিজেই এখন ছেলের বিয়ে দিতে রাজী নয় সেখানে আমার বা তোর বাবা-মা'র কি'ইবা করার আছে? তবে বজলু যদি তার মায়ের নির্দেশ না মেনে আমার সাথে যেতে চায় তবে আমাকে জানাস। আমার যেতে কোন আপত্তি নেই। তবে মায়ের অমতে কোথাও যাওয়া বা বিয়ে করার মতো সাহস বজলুর আছে কিনা সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এখন তুই ভাল করে ভেবে দেখ কি করবি।

আমার কথা শুনে মিতালী হতাশ হলো। একটা দীর্ঘঃশ্বাস বেরিয়ে এলো ওর মুখ থেকে। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলো তারপর আস্তে করে আমাকে বললো কালকেই বাড়ী ফিরে যাচ্ছি। আর কখনো ফিরে আসা হবে কিনা জানিনা। তুই আমার জন্য অনেক করেছিস। তোকে অনেক জ্বালিয়েছি, কিছু মনে করিনসনা। কালকে বজলুর সাথে অনেক কথা হলো। আমি ওকে বলেছি আমি অপেক্ষা করবো। তবে কতদিন অপেক্ষা করবো সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। আরো বলেছি, তোমার মা যেমন তার মেয়েদের নিয়ে ভাবেন আমার বাবা-মাও আমাকে নিয়ে ভাবেন। ভাল কোন প্রস্তাব এলে তারা বসে থাকবেনা না, আমার বিয়ে দিয়ে দেবেন। আর আমিও ভুলে যাবো বজলু নামের কেউ আমার জীবনে ছিল। আমি চাইনা তুমি তোমার মা'কে কষ্ট দিয়ে আমাকে বিয়ে করো। আর আমিও চাইনা আমার মা-বাবাকে কষ্ট দিয়ে কারো গলগ্রহ হয়ে জীবন কাটাই।

মিতালী আমার হাত ধরে বললো- তুই অনেক চেষ্টা করেছিস। তোকে আমার কিছু বলার নেই। তবে তুইও এমন কিছু করিসনা যাতে তোর ঐ পাড়াতুতো প্রেমিকা তোকে ছেড়ে চলে যায়। আমি জানি সে কোথাও যাবেনা। তুইও তাকে ছেড়ে দিবিনা। কাছাকাছি থাকার এই একটা সুবিধে। চোখে চোখে রাখা য়ায়। আমি কাউকে আমার চোখে চোখে রাখতে পারবোনা, সে ক্ষমতা আমার নেই। কারণ এই পোড়া চোখে রাখার মতো আর কেউ থাকলোনা। তবে মনে মনে আমি একজনকে রেখে দেবো ঠিকই। কাঙ্ক্ষিত সেই মানুষটা যদি সব ফেলে কখনো সামনে এসে দাঁড়ায় তবে একটা ভাঙাচোরা মন তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলবো- পারবে কি এটা জোড়া লাগাতে? যদি পারো তবে নিজের মতো করে জুড়ে নিও।

সেই প্রথম মিতালীর সাদা মনটা বিষন্ণতায় কালো হতে দেখলাম। একটা কালো মেয়ের সাদা মনে যে পবিত্র আলো ছিল সেটা বজলুর মতো অন্ধ বুঝতে পারেনি। আর অন্ধদের করুণা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আর আমি সব বুঝেও তার সদা বিকশিত সেই পবিত্র আলোটুকু নিতে পারিনি। আমি নিজেইতো একজনের কাছে দায়বদ্ধ। তাই সেদিন নিজেকে ভীষণ "ব্যাড বয়" মনে হচ্ছিল। মিতালীর জন্য আমার শুভ কামনা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনি। ভাল থাকার প্রার্থনা রইলো ওর জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×