নিস্তব্ধতা
বলিনি কথা দাও, চেয়েছিলাম কথা হোক। আর এভাবেই কথায় কথায় মনের রাস্তা ধরে একসময় পৌঁছে যাবো গল্পকথার দেশে। আমরা কি জানি গল্পকথার দেশটা কোথায়? হয়তো জানি। সবুজ ঝাউবনে ঘেরা, বালি আর পাহাড়ের কোলজুড়ে সাগরের নির্জন কোন উপকূল। তোমার আমার কল্পলোকে এমন অনেক গল্পকথার দেশের সন্ধান পেয়েছি- নিভৃত কোন প্রহরের নিবিড় সান্নিধ্যে। দুজনে চোখ মেলে দেখেছি গাঢ় সবুজ ঝাউবন ওপারে ধূসর পাহাড় আর নীল সাগরের কোল ঘেঁষে মেঘ আর অস্তগামী সূর্যের অবাধ লুকোচুরি। কখনোবা কান পেতে শুনেছি পাখীদের মিষ্টি কলতান নয়তো ভ্রমরের প্রেমময় গুঞ্জন। আরো শুনেছি জলনূপুর পায়ে উচ্ছল ঝর্ণার বিমোহিত ছন্দের সুললিত ধ্বণি। ভাললাগায় ভেসে গেছি দুজনে, ভরে গেছে দুজনের মন। নীড়ফেরা পাখীদের দেখে মনে মনে নীড় বাঁধার স্বপ্ন দেখেছি- অথচ কেউ কাউকে কিছুই বলতে পারিনি। বলার কিছু ছিল কি? মন যেখানে সবকিছু বুঝে ফেলে সেখেন মুখের ভাষার কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রকাশের ভাষা প্রকারান্তরে নীরব থেকে নীরবতর হয়েছে। মৌনতায় আচ্ছন্ন হয়েছি দুজন। বিষন্ন প্রহরের ফাঁক গলে কখন যেন ভালবাসার স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে গেছে ঝাউবনের গভীরে। জোনাকিরা দূত হয়ে জানিয়ে গেল আজ জোছনায় প্লাবিত হবে চারিদিক। সাগরে ঢেউয়ের গর্জন। চাঁদের আলোর সাথে পাল্লা দিয়ে রূপালী ঢেউ এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় শূন্য বেলাভূমি। আমাদের মনেও জোয়ারের ঘনঘটা! নিস্তব্ধ রাতের সঙ্গী হয়ে তুমি আমি জেগে আছি। বসে আছি পাশাপাশি। আকাশে চাঁদ। সামনে রূপালী সাগর। কারো মুখে কোন কথা নেই। অথচ দুজনেই অতি আগ্রহে কান পেতে আছি। যদি কেউ কিছু বলি! হঠাৎ চমকে উঠি দুজনেই! জিজ্ঞেস করি-“তুমি কিছু বললে”?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


