পাথরের পৃথিবী কাঁচের হৃদয়, ভেঙ্গে যায় যাক তার করিনা ভয়-
তোমার অনেক যত্নে বোনা কথার গাঁথুনী আমার প্রযত্নে এসে পৌঁছেছে সেই কবেই। তারপর গড়িয়ে গেল কত জল। মনে পড়লো- “তুমি আছো ধারে কাছে কোথাও- কি অপূর্ব সুখ, বাইরে ভুলের হাওয়া বইছে বহুক”। সেই ভুলগুলোকে সরিয়ে রেখে সুখের সিঞ্চনে সিক্ত হয়ে তোমাকে বলতে এলাম কিছু কথা। সুখ এই কারণে যে আমাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য।
আমাকে ছোট ভাবতে খারাপ লাগার কি আছে? আমি নিজেই জানি বয়সে না হোক মনের দিক থেকে আমি অনেক ছোট। তবে মজার ব্যাপার হলো আজ অবধি কেউ আমাকে সংকীর্ণমনা বলেনি। অথচ তুমি একান্ত বন্ধুর মতো আমাকে একথা মনে করিয়ে দিলে বলে ধন্যবাদ। সত্যি বলতে কি তোমার গোলাপ মনে কবে কাঁটা হয়ে গজিয়ে উঠেছিলাম সেটাইতো টের পাইনি। আজ যখন সেই কাঁটা সরিয়ে দিলে তখন কোন দুঃখবোধ নেই। “ইতিহাস তুমি কেঁদোনা, পরিবর্তন আসে- চির ক্লান্তির ভাবনা তোমাকেই ভালবাসে...”। এটা একটা কবিতার লাইন। শুনেছো কিংবা পড়েছো মনে হয়। মানুষ যতো মানুষের কাছাকাছি হয়, ততো প্রকাশিত হয় মানুষের ভুল-ত্রুটি, ভাল-মন্দের রূপ, বদলে যায় পূর্ব নির্ধারিত সকল ধারণা। যে ভাল কিছুর মোহে আবিষ্ট হয়ে একদিন পথচলা শুরু হয়, দিনের শেষে সেই মোহ কেটে গেলে বেঁচে থাকে শুধু বাস্তবতা। এটা তুমি যেমন জানো, আমিও জানি।
তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আর এই কৃতজ্ঞতা মন থেকেই এসেছে কারণ মানুষ হিসেবে মানুষকে বুঝে নেবার ও সম্মান দেবার স্বতঃস্ফূর্ত ভাবটা কখনো মেকি মনে হয়নি। ভালবাসা আদায় করে নেবার যে ব্যর্থতা তার গ্লানি শুধু আমাকেই বইতে হবে। অথচ আমার বিশ্বাস আমার মাঝে ভালবাসার স্বত্ত্বা এখনো সেভাবেই আছে, আগেও তা ছিল। এই ব্যর্থতার কথা একান্ত বন্ধুর মতো তোমার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম তবে এতে অন্য কারো লাভ হলো কিনা জানিনা - কিন্তু আমার কি হলো, আমি কি পেলাম তা সম্ভবত বুঝানো যাবেনা কোনদিনও। আর বুঝিয়েই বা কতটা লাভ বা ক্ষতি তার হিসেব আমরা কেউ কখনো করবোনা।
এবার বলো- কতটা বুঝেছো আমাকে? কতটা জেনেছো আমাকে? কতটা অনুভব করেছো আমাকে? আমি যদি বলি- আমার মনের একান্ত নিভৃতে যে আমি বাস করি তার ছায়ার একাংশের দেখাও তুমি পাওনি। কথাটা মোটেও মিথ্যে নয়। তোমার মেইলের বেশীরভাগ অংশ জুড়েই থাকতো প্রশংসা এবং সেই সাথে তোমার নানা ব্যথা-বেদনার কথা। যে কথাগুলো তুমি অকপটে আমাকে বলে গেছো। যে শব্দটা নিয়ে তোমার এতো কথা তার মানেটা কি তুমি জানো? “কালপ্রিট” কথাটার অর্থ কি বলবে? নাহ্, আমি এই কারণেই মানুষের সাথে ইংলিশে খুব একটা কথা বলিনা, কারণ আমি অনেককেই দেখেছি ইংলিশ শব্দের ভুল অর্থ ও ব্যাখ্যা করে ভালভাবে না জেনেই। আমি নিজেও করি হয়তো- তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সতর্ক হয়েই করি। অথচ তুমি মোটেও সতর্ক ছিলেনা। যা আমি আশা করিনি। বাঙলায় মেইল করার সুযোগ পেলে হয়তো “কালপ্রিট” শব্দটি ব্যবহার করতাম না।
“না’ই বুঝলে তুমি মোরে, চিরকাল চোখে চোখে নতুন নতুন আলোকে-
পথ করো রাত্রিদিন ধরে; বুঝা যায় আধো প্রেম, আধ-কান্না মন-
সমস্তকে বুঝেছিলে কখন”?
আমি কেন তোমাকে “কালপ্রিট” বলেছি তার সার-সংক্ষেপ হলো- তোমার কারণেই আজ আমি এতোটা এলোমেলো। তোমার কারণেই আমার ভাবনা আজ এতোটা অগোছালো। তোমার নীরব উপস্থিতি আমাকে উচ্ছাসে ডুবায়, অহর্নিশি ভাবায়। আমার যাপিত জীবনের অনেকটা জুড়েই তোমার অস্তিত্ব। আমার প্রতিটি ভাবনার পরতে পরতে তোমারই ছোঁয়া। আমার সকল অনুভবের আঙ্গিনায় তোমার অবাধ বিচরণ। আমার জাগ্রত সত্ত্বায় যেমন তুমি, আমার স্বপ্ন জুড়েও তুমি। একজন সাধারণ আমাকে যে ভালবাসায় মোহগ্রস্থ করে তোলে, একজন সাধারণ মানুষের জীবন যে বদলে দিতে পারে তাকে আমি “কালপ্রিট” ছাড়া আর কিইবা বলতে পারি? আমি জোড় গলা আবারো বলবো তুমি একটা “কালপ্রিট”।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



