somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাথরের পৃথিবী কাঁচের হৃদয়, ভেঙ্গে যায় যাক তার করিনা ভয়-

১৭ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাথরের পৃথিবী কাঁচের হৃদয়, ভেঙ্গে যায় যাক তার করিনা ভয়-

তোমার অনেক যত্নে বোনা কথার গাঁথুনী আমার প্রযত্নে এসে পৌঁছেছে সেই কবেই। তারপর গড়িয়ে গেল কত জল। মনে পড়লো- “তুমি আছো ধারে কাছে কোথাও- কি অপূর্ব সুখ, বাইরে ভুলের হাওয়া বইছে বহুক”। সেই ভুলগুলোকে সরিয়ে রেখে সুখের সিঞ্চনে সিক্ত হয়ে তোমাকে বলতে এলাম কিছু কথা। সুখ এই কারণে যে আমাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য।

আমাকে ছোট ভাবতে খারাপ লাগার কি আছে? আমি নিজেই জানি বয়সে না হোক মনের দিক থেকে আমি অনেক ছোট। তবে মজার ব্যাপার হলো আজ অবধি কেউ আমাকে সংকীর্ণমনা বলেনি। অথচ তুমি একান্ত বন্ধুর মতো আমাকে একথা মনে করিয়ে দিলে বলে ধন্যবাদ। সত্যি বলতে কি তোমার গোলাপ মনে কবে কাঁটা হয়ে গজিয়ে উঠেছিলাম সেটাইতো টের পাইনি। আজ যখন সেই কাঁটা সরিয়ে দিলে তখন কোন দুঃখবোধ নেই। “ইতিহাস তুমি কেঁদোনা, পরিবর্তন আসে- চির ক্লান্তির ভাবনা তোমাকেই ভালবাসে...”। এটা একটা কবিতার লাইন। শুনেছো কিংবা পড়েছো মনে হয়। মানুষ যতো মানুষের কাছাকাছি হয়, ততো প্রকাশিত হয় মানুষের ভুল-ত্রুটি, ভাল-মন্দের রূপ, বদলে যায় পূর্ব নির্ধারিত সকল ধারণা। যে ভাল কিছুর মোহে আবিষ্ট হয়ে একদিন পথচলা শুরু হয়, দিনের শেষে সেই মোহ কেটে গেলে বেঁচে থাকে শুধু বাস্তবতা। এটা তুমি যেমন জানো, আমিও জানি।

তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আর এই কৃতজ্ঞতা মন থেকেই এসেছে কারণ মানুষ হিসেবে মানুষকে বুঝে নেবার ও সম্মান দেবার স্বতঃস্ফূর্ত ভাবটা কখনো মেকি মনে হয়নি। ভালবাসা আদায় করে নেবার যে ব্যর্থতা তার গ্লানি শুধু আমাকেই বইতে হবে। অথচ আমার বিশ্বাস আমার মাঝে ভালবাসার স্বত্ত্বা এখনো সেভাবেই আছে, আগেও তা ছিল। এই ব্যর্থতার কথা একান্ত বন্ধুর মতো তোমার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম তবে এতে অন্য কারো লাভ হলো কিনা জানিনা - কিন্তু আমার কি হলো, আমি কি পেলাম তা সম্ভবত বুঝানো যাবেনা কোনদিনও। আর বুঝিয়েই বা কতটা লাভ বা ক্ষতি তার হিসেব আমরা কেউ কখনো করবোনা।

এবার বলো- কতটা বুঝেছো আমাকে? কতটা জেনেছো আমাকে? কতটা অনুভব করেছো আমাকে? আমি যদি বলি- আমার মনের একান্ত নিভৃতে যে আমি বাস করি তার ছায়ার একাংশের দেখাও তুমি পাওনি। কথাটা মোটেও মিথ্যে নয়। তোমার মেইলের বেশীরভাগ অংশ জুড়েই থাকতো প্রশংসা এবং সেই সাথে তোমার নানা ব্যথা-বেদনার কথা। যে কথাগুলো তুমি অকপটে আমাকে বলে গেছো। যে শব্দটা নিয়ে তোমার এতো কথা তার মানেটা কি তুমি জানো? “কালপ্রিট” কথাটার অর্থ কি বলবে? নাহ্, আমি এই কারণেই মানুষের সাথে ইংলিশে খুব একটা কথা বলিনা, কারণ আমি অনেককেই দেখেছি ইংলিশ শব্দের ভুল অর্থ ও ব্যাখ্যা করে ভালভাবে না জেনেই। আমি নিজেও করি হয়তো- তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সতর্ক হয়েই করি। অথচ তুমি মোটেও সতর্ক ছিলেনা। যা আমি আশা করিনি। বাঙলায় মেইল করার সুযোগ পেলে হয়তো “কালপ্রিট” শব্দটি ব্যবহার করতাম না।

“না’ই বুঝলে তুমি মোরে, চিরকাল চোখে চোখে নতুন নতুন আলোকে-
পথ করো রাত্রিদিন ধরে; বুঝা যায় আধো প্রেম, আধ-কান্না মন-
সমস্তকে বুঝেছিলে কখন”?

আমি কেন তোমাকে “কালপ্রিট” বলেছি তার সার-সংক্ষেপ হলো- তোমার কারণেই আজ আমি এতোটা এলোমেলো। তোমার কারণেই আমার ভাবনা আজ এতোটা অগোছালো। তোমার নীরব উপস্থিতি আমাকে উচ্ছাসে ডুবায়, অহর্নিশি ভাবায়। আমার যাপিত জীবনের অনেকটা জুড়েই তোমার অস্তিত্ব। আমার প্রতিটি ভাবনার পরতে পরতে তোমারই ছোঁয়া। আমার সকল অনুভবের আঙ্গিনায় তোমার অবাধ বিচরণ। আমার জাগ্রত সত্ত্বায় যেমন তুমি, আমার স্বপ্ন জুড়েও তুমি। একজন সাধারণ আমাকে যে ভালবাসায় মোহগ্রস্থ করে তোলে, একজন সাধারণ মানুষের জীবন যে বদলে দিতে পারে তাকে আমি “কালপ্রিট” ছাড়া আর কিইবা বলতে পারি? আমি জোড় গলা আবারো বলবো তুমি একটা “কালপ্রিট”।
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×