somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগীয় ফটোওয়াকঃ বলধা গার্ডেন

২৭ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগীয় ফটোওয়াকঃ বলধা গার্ডেন

আমি হুমায়ুন বাদশাহ্ বহু পূর্বেই শেরশাহ নামের এক অখ্যাত পাঠান যোদ্ধার কাছে দিল্লীর সিংহাসন হারিয়ে “কালপুরুষ” সেজে বেশকিছুদিন যাবৎ পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। অবশেষে একদিন ফেসবুক নামের এক গহীন অরণ্যে গা ঢাকা দিলাম। কিন্তু এখানেও শান্তি নেই। ফেসবুক অরণ্যে তখন এক স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপক দাপট। তিনি আমাকে আটক করার জন্য ফেসবুক অরণ্যের আনাচে কানাচে গুপ্তচর মোতায়েন করলেন, আরণ্যক ভাষায় যারা “ব্লগার” নামে পরিচিত।

অগত্যা একদিন এই অরণ্যের এক ঝর্ণার ধারে “লগিন” অর্থাৎ ঘুরে বেড়াতেই আমাকে আটক করা হলো। আমাকে রীতিমতো শূলে চড়ানোর ব্যবস্থা করা হলো। অতঃপর আমাকে বলা হলো এই অরণ্যের অদূরে এক ঐতিহাসিক গার্ডেন আছে যা “বলধা” নামে পরিচিত। শুনেছি সেখানে একসময় আদিম “বাইসন” দের দেখা পাওয়া যেত যারা আচরণে ছিল উগ্র, স্বভাবে উচ্ছৃংখল এবং বেপরোয়া। গাছের ছালের বদলে তারা গাছের আড়ালকেই নিজেদের পর্দার জন্য উপযুক্ত মনে করতো।

অরণ্যদেব তাদের কর্মকান্ডে ভীষণ অতীষ্ট ছিলেন এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে এব্যাপারে কোনরকম অভয়বাণী না পেয়ে তিনি সেই “বলধা গার্ডেন”কে তাদের জন্য “অভয়ারণ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। বর্তমানে সেই আদিম বাইসনদের উত্তরসূরী এবং আজকের ভদ্র সংস্করণের কিছু বলদ সেই জায়গা দখল করে আছে। রাষ্ট্রপ্রধান আমাকে নির্দেশ দিলেন, আপনি যদি কতিপয় রাখাল সাথে নিয়ে সেই বলদগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন বা একটা উপযুক্ত খোঁয়াড়-এর ব্যবস্থা করতে পারেন তবেই আপনার মুক্তি। আপনি আগামী শুক্রবার ২৬শে নভেম্বর দিনব্যাপী সেখানে এ্যাসাইনমেন্ট করার সুযেগ পাবেন। তবে কথা হচ্ছে আপনার সাথে যে সকল রাখাল যাবে তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে ভবিষ্যতের এক একটি “আ্যসেট” বা “ট্যালেন্টেড পারসন"।

তারা নিজেদের সাথে কিছু যুদ্ধাস্ত্র ও মোহন বাঁশী নিয়ে যাবে আর সেই অস্ত্র বা বাঁশীর ব্যবহারে যদি কোন “বলদ” বা “বান্দরনী” ঘায়েল হয় তবে তার দায়দায়িত্ব পুরোটাই আপনাকে বহন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে যদি কোন বলদ বা বান্দরনী “উন্নত জীবন ব্যবস্থা” মানে “সংসারী” হতে চায় তবে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় খরচে লোকালয়ে থাকার কথা বিবেচনা করা হবে। আর আপনি যদি এই কাজে সফল হয়ে ফিরে আসতে পারেন তবে আপনাকে সসম্মানে ছেড়ে দেয়া হবে। জীবন বাঁচানো ফরজ কাজ। তাই রাষ্ট্রপ্রধানের এমন প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হলাম। আপনারা এবার রাখালদের কর্মকান্ড দেখে বিবেচনা করুন- আমি ক্ষমার যোগ্য কিনা!

১। "বলদ" ও "বান্দরনী" আটকানোর প্রারম্ভিক আলোচনা।


২। যে যার "যুদ্ধাস্ত্র" ও "মোহন বাঁশী" পরীক্ষা করে নিচ্ছে।


৩। এবার যে যার মতো এ্যাসাইনমেন্টে নেমে পড়ার পালা।


৪। সাবজেক্ট পেতেই চললো শ্যুট করার প্রক্রিয়া- কে ঘায়েল হলো কে জানে?


৫। একি! রয়ে সয়ে!! নিজেরাই নিজেদের তাক করা মানেই বিপর্যয়ের সম্ভাবনা। সাবধান!


৬। পাইছিরে পাইছি! এইবার তোমারে পাইছি!! তরতাজা ফিঙ্গার প্রিন্ট! থুক্কু খুঁড়ের ছাপ। কারে ঠেক দিছিল আল্লাহ্ মালুম।


৭। আমিও একটা পাইছি। গাছের পাতায় রঙের ছোপ। সেই যুগে বান্দরনী কোন লিপস্টিক লাগাইতো বাইর করতে হইবো। নতুন এ্যাসাইনমেন্ট!


৮। ও মা!! দেখছো কি কান্ড!! একটা বলদ ভুলে তার মুখের টোনা ফেলে গেছে। যাক ওদের খাবার রুচি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।


৯। দূরে গাছের আড়ালে কি যেন নড়তেছে। চলেন ঐদিকে যাই- দেখে আসি।


১০। হা হা হা .... আমি কইছিলামনা, বাইসনরা ঘাস খাইতোনা, গাছের পাতা খাইতো। ওরা ফুল ভালবাসতো। হের লাইগাই গাছে একটাও ফুল নাই- সব বান্দরনীগো হাতে ধরায়া দিছে। এইডা আসলেই বলদগো গার্ডেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:০৫
৫৮টি মন্তব্য ৫০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×