somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জীবনকথা(পর্ব ১ - স্কুল জীবন)

২৩ শে মে, ২০১০ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাই কত সুন্দর সুন্দর গল্প লিখে।কত হাসি,কত বেদনা......না বলা কত কথা।আমিও মাঝে মাঝে লিখি।তারচেয়ে বরং বলা ভালো যে লেখার চেষ্ঠা করি।খুজে ফিরি নানা ঘটনা।সেই খোজাটা জীবনভিত্তিক করতে চেষ্ঠা করি সবসময়।খুজতে গিয়ে দেখি নিজের জীবনটাকে।আরে আমার জীবনেও তো কত কথা,কত না বলা কাহিনী।হয়ত কারও কাছে বলি নি বা পাইনি কাউ কে।হয়ত বা বলতে চেয়েছি অনেক বার কেউ হয়ত শুনতে চায় নি।কিন্তু বলতে যে আমাকে হবেই।তাই হয়তো এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

ভুমিকাটা কেমন যেন হয়ে গেল।আমি আজ বলবো আমার স্কুল জীবনের কথা।নার্সারী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত আমি স্কুল পরির্বতন করেছি নয় বার।ঠিক দীপু নাম্বার ২ এর মত।ও ২ নাম্বার কারণ আমি যে ১ নাম্বার :) :)

নার্সারী

সেই ১৯৯০ সালে আমার স্কুল যাত্রা শুরু।মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে আমাকে ভর্তি করা হয় সেন্ট গ্রামার প্রাকটিস স্কুলে।স্কুলটা মগবাজার টি এন্ড টি আফিসের উলটো দিকে।আমার অবশ্য তেমন কিছুই মনে নেই :( ।আম্মুর কাছ থেকে শোনা।যেটুকু মনে পড়ে তা হলো আমার ক্লাশে এক ম্যাডাম ছিলো যার অনেক বড় চুল ছিল।ঠিক আমার আম্মুর মত।প্রথম দিন আমাকে ক্লাসে বসিয়ে আম্মু আমাকে প্রশ্ন করেছিলো আমি ভয় পাবো কিনা?আমি নাকি উত্তর দিয়েছিলাম কেন,ম্যাডামের কাছে তো তোমার চুল আছে।ভয় পেলে আমি তোমার চুল ধরে বসে থাকবো।ওই ম্যাডাম আমাদের খুব আদর করতেন।পড়া পারলে এমনকী না পারলেও তিনি সবাইকে চকলেট দিতেন।ছোট্টবেলায় সেই না চাইতে চকলেট পাবার কথা আজও খুব স্পষ্ট মনে আছে ।তবে এই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয় নাই।পরের বছর ই আমার স্কুল পরিবর্তন করা হয়।

ক্লাস ১(পার্ট ১)

এইবার ভর্তি হই বাংলাদেশ ব্যাংক হাই স্কুলে।সেই ৯১সালে এই স্কুলে ভর্তি হতে আমাকে রীতিমত কোচিং করতে হয়েছিলো।নামিদামী কোন কোচিং সেন্টারে নয়।ওই স্কুলের এক আপার কাছেই আমার কোচিং শুরু।তার নাম ছিলো ফেরদৌসী আপা।আমাদের বাসার খুব কাছেই তার বাসা ছিল।এক এলাকাতে বাড়ি থাকায় আমার বুবুর(দাদিকে আমি আদর করে বুবু ডাকতাম) সাথে তার সখ্যতা ছিলো।একদিন তিনি আপার বাসায় আমাকে নিয়ে পড়তে বসিয়ে দিলেন।আপার বাসাটা একতালা টিনের বাড়ি ছিলো।মাঝখানে খালি জায়গায় অনেক গাছ ছিলো।আপার বসার রুমটা লম্বা ছিলো আর আমরা সবাই গোল হয়ে বসতাম।
তখন বিকালে টিভিতে কার্টুন হতো।নাম টা আন্দাজ করেন দেখি?আরও বলি তখন কিন্তু বিটিভি ছাড়া কিছু ছিলো না।মনে হয় ধরতে পেরেছেন।জ্বী হা আমি ক্যাপ্টেন প্লানেটের কথা বলছি।আপার বাসায় পড়ার সবথেকে বড় মোটিভেশন ছিল এই কার্টুন।কেননা তিনি বিকালে আমাদের টিভি দেখতে দিতেন।তবে উনি কিন্তু ভয়ংকর কঠিন মানুষ ছিলেন।রেগুলার পড়া দিতেন এবং নিতেন।না পারলে বেতের হালকা বাড়ি দিতেন।আর হা তিনি অদ্ভুত আরও একটা শাস্তি দিতেন।দুই হাত মাথার উপরে দিয়ে দাড়িতে থাকা।কি খুব হালকা শাস্তি মনে হচ্ছে?ট্রাই করে দেখুন কত মজা লাগে?
তবে ভালো মন্দ যাই হোক স্কুলে ভর্তি হবার ২মাসের মাথায় আমরা স্বপরিবারে লিবিয়াতে চলে যাই।তাই ক্লাস ১ এর স্কুলের থেকে ওই কোচিং এর কথাই বেশি মনে পড়ে।তবে লিবিয়াতে আমরা মাত্র ৬মাস ছিলাম।কেননা তখন লিবিয়াতে কি যেন একটা গন্ডোগোল শুরু হয়।পড়ে জানতে পেরেছিলাম যে ইরাক কুয়েত যুদ্বে লিবিয়াও নাকি জড়িয়ে পড়েছিল।তাই আমরা ব্যাক টু বাংলাদেশ।সেই ৯১ সালেই আমার দাদু রংপুরে বদলি হয়।আমি আর আমার ছোট ভাই দাদা দাদির খুব ভক্ত ছিলাম।তাই আমারা দুভাই দাদু বুবুর সাথে রংপুর।ছোটজন তখনও বুকের দুধ খায়।সেখানে গিয়ে আমি কিন্তু আমার ক্লাস ১ এ ভর্তি হই।তাই পার্ট ১ ও ২।
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×