পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত:
سورة النحل
وَٱللَّهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ فِى ٱلرِّزْقِ ۚ فَمَا ٱلَّذِينَ فُضِّلُوا۟ بِرَآدِّى رِزْقِهِمْ عَلَىٰ مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُهُمْ فَهُمْ فِيهِ سَوَآءٌ ۚ أَفَبِنِعْمَةِ ٱللَّهِ يَجْحَدُونَ ﴿٧١
আল্লাহ্ জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীণস্থ দাস-দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহ্র নেয়ামত অস্বীকার করে? (সুরা নহালঃ৭১)।
ছোট একটা প্রেক্ষাপট তুলে ধরি :
আমার বন্ধু বিশ্বজিৎ আমার বাড়ী ফেরার সময়ে আমাকে বললেনঃ আট হাজার টাকা জনাব ইব্রাহীম আমার কাছে পাবেন। আপনি বাড়ী যাচ্ছেন। আপনার পক্ষে টাকাটি নিয়ে ইব্রাহীম সাহেবকে দেওয়া সম্ভব হলে আমি টাকাটি আনার কাছে পাঠাতে পারি।
আমি বিশ্বজিৎ সাহেবের কথায় রাজি হয়ে টাকাটা নিয়ে বাড়ী এলাম। দেশ কাল পাত্র নির্বিশেষে সার্বজনিন মত হলো আমি ঐ টাকাটা ইব্রাহীম সাহেক দিয়ে দিতে দায়দদ্ধ। সব দেশের সকল মতের (মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধু, খ্রীস্টান বা ধর্ম নিরপেক্ষ ব্যক্তি বা যে কোন দেশের আদালত) সকল সুস্থ লোকে এটাই বলবেন। আমি যদি ইব্রাহমি সাহেবকে ওই টাকাটা না দেই তা হলে আমার অন্যায় করা হবে।
এখন আয়াতের কথায় আসা যাক:
(ক) পবিত্র আয়াতে বলা হয়েছে মহান আল্লাহ পাক জীবনোপকরণে কাউকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশী দান করেছেন।
(খ) কাউকে কম দান করেছেন তিনি।
(গ) জীবনোপকরণ যাকে বেশী দেওয়া হয়েছে সে তার বাড়তি অংশ যার কম আছে তাকে দিয়ে সমান হয়ে যাবে।
(ঘ) যদি জীবনোপকরণ বেশী প্রাপ্ত ব্যক্তি এরূপ না করে তা হলে সে খোলাখুলী আল্লাহর নিয়ামতের কৃতঘ্নতা করছে। আর এ ঘোষণা মাহান আল্লাহ পাক দিচ্ছেন।
এখন কথা হলো যারা মুসলমান নন বা ইসলামে বিশ্বাস করেন না তারা অনেক রকম কথা বলতে পারেন। কারণ তারা তো এতে বিশ্বাস করেন না। এমন কি ইসলামের মর্মকথা বুঝে না এমন কোন কোন নামধারী মুসলমান বলে ফেলবে আল্লাহ এমন শ্রেণী বৈসম্য না করলেই তো পারতেন। যারা আল্লাহতে বিশ্বাস করে না তারা আল্লাহর কাজের দর্শণ বা মর্মবাণী বুঝবে না এটাই ঠিক।
আসুন আমরা যারা নিজেদেরকে মুসলমান মনে করি, আল্লাহতে বিশ্বাস আছে দাবী করি সেই আমরা এ আয়াত মোবারকখানি কি ভাবে পালন করছি একটু ভেবে দেখি। আমরা বলে থাকি মহা নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া আলেহি) এর মাধ্যমে প্রচারিত আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা মুসলমান হয়েছি। সেই আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে:
যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীণস্থ দাস-দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহ্র নেয়ামত অস্বীকার করে?
আমাদের সমাজে না খেয়ে খেয়ে দিনাতিপাত করবে অসংখ্য মানুষ। আর আমাদের থাকবে অঢেল সম্পত্তি। আল্লাহ বলছেন বাড়তি অংশ দরিদ্রদের দিয়ে তাদের সমান হয়ে যেতে। আমরা বলছি সমান হব কেন? আল্লাহই তো এমন করেছেন। আবার বলছি আমরা মুসলমান আছি। আমার ভাবতে কষ্ট হয় - এটা আমার কাছে দ্বিমুখীতা মনে হয়।
আসুন আমরা এ আয়াতের উপর সঠিকভাবে আমল করে আল্লাহর দরবারে আমাদের নাম তার নিয়ামতের শুকরকারীদের খাতায় অন্তরভূক্ত করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



