somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদ ও ঈদের দিনের করণীয়

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মুহম্মদ আলতাফ হোসেন :: এমন একটি শব্দ যার অর্থ হলো এমন কোনো কিছু যেটি নিয়মিত ঘটে থাকে। অন্য অর্থ হলো ফিরে আসা, পুনরায় ঘটা ইত্যাদি। সংক্ষেপে হলো একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আবার ঈদ শব্দটিকে একটি বিশেষ জায়গাকে বোছান যেতে পারে যেখানে মুসলমানরা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর মিলিত হয় এবং বিশেষ ধর্মীয় কার্য সম্পাদন করে থাকে।
অর্থাৎ ঈদ হলো এক ধরনে বিশেষ সমাবেশ। মুসলমানরা প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই সমাবেশে ফিরে আসে। সেই কারণে এটাকে ঈদ বলা হয়। এ ব্যাপারে ইবনুল আরাবী বলেছেন, এই বিশেষ সমাপবেশকে ঈদ বলা হয়, কারণ প্রতিবছর মুসলমানদের সমাবেশের ঘটনা ঘটে থাকে। অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ঈদ শব্দটি আরবি ‘আদাহ’ হতে এসেছে যার অর্থ-রীতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি। এছাড়া হাদীস অনুযায়ী ঈদের সংজ্ঞা পাওয়া যায়। যেমন বর্ণিত আছে যে, (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-১২০০৬) “কোনো একদিন মুহাম্মদ (সা) মদীনায় প্রবেশ করলেন এবং এর আগে জাহেলিয়াত যুগে সেখানে বছরে দুইটি দিনকে আনন্দ উল্লাসের সাথে পালন করা হতো। তাদের একটি হলো-নেহরাজ এবং অপরটি হলো ‘মাহরাজান’। বর্তমানে আল্লাহ ঐ দুটি দিনকে অন্য দুইটি দিন দ্বারা প্রতি স্থাপনকরে দিয়েছেন। যেটি পূর্বের তুলনায় অধিক উত্তম। একটি হলো নহরের দিন অর্থাৎ কুরবানির দিন এবং অপরটি ঈদুল ফিতরের দিন এবং এই দইটি দিন দ্বারা দুই ঈদের দিনকে বোঝান হয়েছে।” সুতরাং এই হাদীস থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, ঈদ অর্থ-আনন্দ, উল্লাস ইত্যাদি।

“আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ (সা:) বলেছেন, (মুসলিমম রোযা নং২৫৩৪) দুইটি দিনে রোযা রাখা নিষিদ্ধ। একটি হলো মতামত পরিলক্ষিত হয়। ইমাম শাফী, ঈমাম মালিকদের মতে ঈদের নামাজ উপর সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ; মুস্তাহাব। তারা এই মতামত দিয়েছেন নিম্মোক্ত হাদিসের উপর ভিত্তি করে। হাদীসটি হলো-(আল মুগনি, পৃ.২২৩) পাঁচ ওয়াক্ত নির্দেশিত নামাজের বাইরে আল্লাহ তা‘আলা আর কোনো নামাজ আমাদের জন্যে ফরজ করেননি।” সুতরাং দুই ঈদের নামাজ হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। ইমাম হাম্বলি বলেছেন, এটি ফরজে কিফায়া অর্থাৎ কোনো সম্প্রদায়ের কিছু লোক এই নামাজ আদায় করলেই যথেষ্ট। সকালের জন্যে বাধ্যতামূলক নয়। তৃতীয় মত হলো, ঈমাম আবূ হানিফঅ (রা) বরেন, এটি ফরজ এবং ইবনে তাইমিয়াও বলেছেন, ঈদের নামাজ ফরজ। তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেুন কুরআনের উপর ভিত্তি করে। (সূরপ কাউছার, আয়াতÑ২)

“আপনার পালন কর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন।” সুতরাং তারা বলেন যে, দুই ঈদের নামাজ আদায় করা ফরজ এবং অনেক হাদীস রয়েছে যেখানে মুহাম্মাদ (সা:) মুসলমানদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাদের উচিত ঈদের নামাজ আদায় করা এবং এটি শুধু সাধারণ মুসলিমদেরকেই বলা হয়ে নি বরং ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রেও এমনটি বলেছেন যে, তাদেরকেও ঈদের মাঠে যেতে হবে যদিও তারা নামাজ আদায় করতে পারবে না। মহানবী (সা:) বলেছেন, (বুখারী, সালাত, নং-৩৫১,৩২৪) “মহিলাদের কমপক্ষে ঈদের নামাজের স্থানে যাওয়া উচিত এবং শিশুদেরও ঈদে যাওয়া উচিত,,,,,,,,,,,,” সুতরাং হাদীসগুলোর উপর এবং ভিত্তি করে আবূ হানিফা এবং ইবনে তাইমিয়া ঈদের নামাজ ফরজ বলে মতামত দিয়েছেন। মহানবী এরশাদ করেন, (আবূ দাউদ, সালাত, ১০৬৮) আমাদের একই সাথে দুইটি ঈদ অতিবাহিত করছি। একটি হলো ঈদুল ফিতর এব!ং যুমআর সালাত। অত:পর ঈদের সালাত আদায় শেষে তিনি বললেন, যারা যুমআর নামাজ আদায় করেনি তারা ইচ্ছা করলে আর আদায় করার দরকার নেই।” এবং এটা নির্দেশ করে যে যেহুতু ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে, তাই যুমআর নামাজ আদায় না করলেও চলবে। যদিও যুমআর নামাজ নির্দেশিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং হাদীস থেকে এটা নির্দেশিত হয়ে যে, ঈদের নামাজ ফরজ এবং আমি নিজে এই মতের সাথে একমত। সকালে সূর্য যখন দিগন্ত থেকে প্রায় তিন মিটার উপরে থাকে এবং সেটি যখন মধ্যাহ্নে পৌছে, এই সময়ের ভিতরে যেকোন মহৃর্তে ঈদের সালাত আদায় করা যাবে। অধিকাংশ ইসলামি চিন্তাবিদ বলেন যে, ঈদের নামাজের সময় শুরু হয় সূর্যোদয় হতে এবং সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌছানোর আগ পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। হাদীসে এসেছে, (আবু দাউদ, সালাত, নং-১১৩১) কোন এক সময় আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর মুহাম্মদ (সা:) এর সাথে ছিলেন এবং তিনি সেখান থেকে ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আজহার সালাত আদায় করতে গেলেন এবং তিনি এটা পছন্দ করলেন না যে, ইমামের নামাজে দাঁড়াতে দেরি করা উচিত।” সুতরাং সকাল সকাল নামাজ আদায় করে নেওয়া উত্তম। ইবনে কুদামা তার বইতে লিখেছেন যে, (আল মুগনি, খন্ড ২, পৃ: ২২৪) পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের ক্ষেত্রে, যত তাড়াতাড়ি আদায় করা যায় ততই উত্তম এবং ঈদুল ফিতরের নামাজের ক্ষেত্রে একটু দেরি করা উচিত। কেননা ঈদুল ফিতরের দিনে লোকেরা সকালবেলা ফিতরা, দান খয়রাত ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকে। সুতরাং এগুলো হলো ঈদের নামজ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।

* কুরআন এবং হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার নামাজ অবশ্যই দুই রাকআত আদায় করতে হবে। একটি হাদীসে ওমর (রা:) বলেছেন, (সুনানে বায়হাকি, জুম‘আ, নং-৫৭১৯) “মুসাফিরের জন্যে নামাজ দুই রাকাত। ঈদের নামজ দুই রাকাআত এবং জুমার নামজ দুই রাকাআত এবং এগুলো মুহাম্মদ (সা:) ুএর নিকট থেকে এসেছে। সুতরাং ঈদের নামাজ দুই রাকাআত পড়তে হবে।

*ঈদের নামাজের জন্যে কোনো আযান এবং ইক্বামাতের দরকার নেই। সাহাবি যাবির ইবনে সামুরা বর্ণনা করেছেন, (মুসলিম, সালাত নং ১৯২৯) “ তিনি মুহাম্মদ (সা:)-এর সাথে এক কিংবা দুইবার উভয় ঈদ পালন করেছেন এবং সেই সালাতে কোনো আযান এবং ইক্বামাত ছিলো না।”

* ঈদের নামাজের আগে ও পরে কোনো নামাজ পড়তে হয় না। হাদীসে বর্ণিত আছে, (আবু দাউদ, সালাত নং ১১৫৫) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “মুহাম্মদ (সা:) ঈদুল ফিতরের দিন নামাজ আদায় করতেন এবং এই দুই রাকআতের আগে ও পরে কোনো নামাজ আদায় করতেন না।”

* ঈদের নামাজ আদায় করা শুরু করলে আদায়কারীকে প্রথমে ‘তাকবীর আল ইহরাম’ বলা উচিৎ অর্থাৎ আল্লাহ আকবার এবং প্রথম রাকাআতে এটি সাত বার অনুসরণ করতে হবে এবং দ্বিতীয় রাকাআতে ‘ছয় তাকবীর’ বলতে হবে। এগুলো আমরা সহীহ হাদীস থেকে জানতে পেরেছি। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, (আবু দাউদ, সালাত, নং -১১৪৫,১১৪৬) “মুহাম্মদ (সা:) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুর আযহার নামাজ আদায় করতেন এবং তিনি প্রথম রাকাআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাআতে পাঁচ তাকবীর বলতেন।” এরপর পড়তে হবে আউযুবিল্লাহ,,,,,,,,,,,,,রাহমানির রাহিম ্এবং তারপর সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। প্রথম রাকাআতে ফাতিহার পরে সূরা কা,ফ এবং দ্বিতীয় রাকাআতে ফাতিহার পরে সূরা কামার অথবা প্রথম রাকাআতে সূরা আলা’ এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা গাশিয়াহ’ পড়তে হবে এবং এই উভয়ই সহীহ হাদীস থেকে গৃহীত। কিন্তু এই দুটি ছাড়া অন্য সূরা দ্বারা নামাজ পড়লেও নামাজ গৃহীত হবে, সে ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই। তবে হাদীসে উল্লিখিত সূরা দ্বারা নামজ আদায় করা সুন্নাত।

* ঈদের সালাত আদায়ের পরে খুৎবা দিতে হবে। হাদীসে উল্লে খ আছে (বুখারী, ঈদ, নং ৯৬২) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “মুহাম্মদ (সা:) ওমর (রা.) আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। তাদের সকলেই প্রথমে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন তারপরে খুৎবা পাঠ করেছেন।” সহীহ হাদীস শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে যে, (আবু দাউদ, সালাত নং-১১৫১) “মুহাম্মদ (সা:) ঈদের সালাত আদায় করার পরে এবং খুৎবা পড়ার আগে বলতেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা খুৎবা শুনতে চাও, তারা শুনতে পারো। আর যারা শুনতে চাও না তারা যেতে পারো।” কিন্তু বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অধিকাংশ সময় ইমামরা বলেন যে, আপনারা কেউ উঠবেন না। এবং তিনি মুসল্লিদেরকে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন এবং এটাও বলেন যে, চলে যাওয়া হারাম। এগুলো খুবই অন্যায় কথা। তবে খুৎবা শ্রবণ করা উত্তম কিন্তু সেখানে ইচ্ছা অনিচ্ছার সুুযোগ রয়েছে। (হানাফী মাযহাব মতে খুতবা শোনা ওয়াজিবÑ অনুবাদক)

যেমনটি আছে (আবু দাউদ, সালাত, নং ১০৬৮) জুমার দিনে আগে ঈদের নামাজ আদায় করলে পরে জুমার নামাজ আদায় করা আর না করা ঐচ্ছিক ব্যাপার। সুতরাং এগুলোই ঈদের নামাজের পদ্ধতি। ঈদের নামাজ প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক, এমনকি শিশু ও নারীদের জন্যেও, যদিও হোক সে ঋতুমতী। হাদীসে বর্ণিত আছে, (বুখারী, সালাত,৩৫১) “উম্মে আতিয়া (রা.) বলেন, আমরা নির্দেশিত হয়েছিলাম যে প্রত্যেক নারীকে ঈদের নামাজের জন্যে যেতে হবে যদিও সে ঋতুমতী হয়। যদিও ঋতুমতী নারীরা ঈদের নামাজে যাবে কিন্তু তাদের সেখান থেকে দূরে থাকা উচিত।” মুছান্নাফ ইবনে শায়বা’র ৫৭৮৬ নং হাদীসে বলা হয়েছে যে, “ইবনে ওমর ঈদের দিনে তার পরিবারের সকলকে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে যেতেন।” সুতরাং ঋতুমতী হওয়া শত্ত্বেও নারীদের ঈদের মাঠে যাওয়া উচিত। (হানাফী মাযহাব মতে মহিলাদের ঈদের জামাতে যাওয়া নিষিদ্ধ- অনুবাদক)

যদি কোনো ব্যক্তি ঈদের নামজে যোগ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তার উচিত যত দ্রুত সম্ভব আদায় কর। বুখারী শরীফের সালাত অধ্যায়ের ২৫ নং হাদীসে বর্ণিত আছে যে, “যদি কোনো ব্যক্তি ঈদের জামায়াতে যোগ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তার কী করা উচিত? উত্তরে বলা হলো, যতদ্রুত সম্ভব ঈদের নামাজ আদায় করে নেবে।” আরো বর্ণিত আছে, (আবু দাউদ, সালাত, ১১৫৩) “কিছু লোক মহানবী (সা:)-এর নিকট এসে বললো, আমরা গতকাল নতুন চাঁদ দেখেছি। তখন মুহাম্মদ (সা:) বললেন, রোযা ভঙ্গ করো এবং আগামী কাল ঈদের নামাজ আদায় করে নিবে। অর্থাৎ যদি কেউ যৌক্তিক কারণে ঈদের জামায়াত মিস করে তবে যতদ্রুত সম্ভব সেটি আদায় করে নেওয়া উচিত।

ঈদের দিনে অপরকে অভ্যর্থনা জানানোর সুন্নতি মাধ্যম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, (ফাতহুল বারি, অধ্যায়-২,পৃ. ৪৪৬) “ মুহাম্মদ (সা:) এর সাহাবিরা ঈদের দিন একে অপরকে অভ্যর্থনা জানাতে “তাকাব্বাল্লাহু মিন্নাহু মিনকুম” বাক্যটি ব্যবহার করতে।” যেহেতু রমজান মাসে রোযা রাখা, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ক্ষমা প্রার্থনা এবং দু’আ করা হয়। সেহেতু যখন রমযান মাস সমাপ্ত হয়ে যায় তখন একে অপরকে এই বলে অভ্যর্থনা করা হয় যে, “অল্লাহ তোমাদেরকে এবং আমাদের থেকে গ্রহণ করুন।” এটিই হলো ঈদের দিনে একে অপরকে অভ্যর্থনার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। ঈদ মুবারক শব্দটি বিশেষত উপমহাদেশের দেশগুলোতে ব্যবহৃত হয়। মুবারক শব্দটির অর্থ দয়া। সুতরাং ঈদ মুবারক শব্দের অর্থ হলো- দিনটি দয়াপূর্ণ হোক। এবং এটাকে তারা অভ্যর্থনা হিসেবে ব্যবহার করে। সুতরাং ঈদ মুবারক অভ্যর্থনা হিসাবে ব্যবহার করা সুন্নাত সম্মত নয়। কিন্তু এটি বলা হারাম কিংবা মাকরুহ নয় বরং এটি মুবাহ অর্থাৎ ঐচ্ছিক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তবে অভ্যর্থনা হিসাবে ঈদের দিনে যেটি ব্যবহার করা উচিত সেটি হলো- “তাকাব্বাল্লাহু মিনহু মিনকুম” এবং এটাই হলো সুন্নাত।

ঈদের দিনে যে সকল কাজ করতে হবে সগুলো হলো :

* গোসল করতে হবে। আল মুয়াত্তার ৪২৮ নম্বর হাদীসে উল্লেখ করুেত হবে সেগুলো “আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ্ঈদের নামাজের পূর্বে গোসল করতেন।” সুতরাং ঈদের নামাজের পূর্বে গোসল করা সুন্নাত।

* পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং উত্তম জামা কাপড় পরিধান করা সুন্নাত।

* মুহাম্মদ (সা:) ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় খেজুর খেতেন। হাদীসে বর্ণিত আছে, (বুখারী ঈদ, ৯৫৩) “মুহাম্মদ (সা:) ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে খেজুর খেতেন।”

* ঈদের নামজ ঈদগাহে পড়া উচিত। বুখারী শরীফে উল্লেখ আছে যে, (ঈদ নং ৯৫) “মুহাম্মদ (সা:্) ঈদের দিন নামাজ আদায় করার জন্যে ঈদগাহে যেতেন।” সুতরাং ঈদগাহে নামাজ আদায় করা সুন্নাত অন্যথায় এই নামাজ মসজিদে আদায় করতে হবে। আরেকটি হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, (বুখারী হারামাইন ১১৯০) “মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, মসজিদে নামাজ আদায় করার তুলনায় এক হাজার গুণ উত্তম। তথাপি তিনি ঈদের নামাজ আদায় করার জন্যে মসজিদ ত্যাগ করে ঈদগাহে যেতেন।” আরো উল্লেখ আছে যে, (বুখারী ঈদ অধ্যায় ৯৮৬) “মুহাম্মদ (সা:) ঈদগাহ থেকে বাড়ী ফেরার পথে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতেন অর্থাৎ যাওয়ার সময় এক রাস্তা ব্যবহার করতেন ফিরে আসার সময় আরেক রাস্তা ব্যবহার করতেন।”

* সকাল সকাল ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া উচিত।

* হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে, (বুখারী ঈদ, ৫৩০) “মুহাম্মদ (সা:) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতেন।” সুতরাং পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নাত। সিলসিলা আল নাহিয়ান গ্রন্থের ১৭১ নম্বর হাদীসে উল্লেখ আছে যে, “মুহাম্মদ (সা:) ঈদের দিন বাড়ী হতে বের হয়ে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর/ তালবিয়া পাঠ করতেন।” এবং সর্বোত্তম তালবিয়া হলো সেটি, যেটা ইবনে মাসউদ (রা.) পাঠ করতেন বলে হাদীসে উল্লেখ আছে। বর্ণিত আছে, (দার আল কুতনি এবং মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ৫৬৬০) “ ইবনে মাসউদ (রা.) নিম্নের তাকবীর পাঠ করতেন। তাহলো আল্লাহ আকবার, আল্লাহ আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।” সুতরাং আমাদেরও এটা পাঠ করা উচিত। অতএব এগুলোই হলো ঈদের দিনে পালনীয় কার্মসমূহ।

ইসলামী শরীয়তের সীমানার আওতায় এগুলো করার অনুমোদন আছে। কর্ষিদ আছে যে,(সুনানে নাসাঊ,ঈদ, অধ্যায় ১৫৫৭) “পূর্বে মদীনাবাসী দুইটি দিনে আনন্দ ফূর্তি উদযাপন করতো এবং আল্লাহ তায়ালা ঐ দুটি দিনকে পরে দুইটি ঈদে দ্বারা প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন।”

ঈদের দিনে গান বাদ্য করার ব্যাপারে হাদীসে উল্লেখ আছে যে, (বুখারী,ঈদ, অধ্যায় ৯৫০) “আয়েশা (রা.) বলেন, ঈদের দিনে লোকেরা খেলাধূলা করতো এবং গান গাইতো।” অর্থাৎ ঈদের দিনে এগুরো হতে পারে। আরেকটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে, (বুখারী, ঈদ, অধ্যায় ৯৫২) ঈদের দিনে দুটি আনসারি তরুণী গান গাচ্ছিল। এমতাবস্থায় আবূ বকর (রা.) সেখানে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, তোমরা গান গাচ্ছো তাও আবার মুহাম্মদ (সা:) এর বাড়ীতে? অত:পর পত তিনি তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দিলেন। কিন্তু মুহাম্মদ (সা:) বললেন, তাদেরকে গাইতে দাও। কারণ আজ ঈদের দিন।” সুতরাং সীমিত আকারে গান হতে পারে কিন্তু ইন্সট্রমেন্ট, বাদ্য ইত্যাদি বাজান হারাম এবং ইসলামী সংগীত গাইতে কোনো সমস্যা নেই। মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, (মুসলিম, ঈদ, নং -২৫৩৯ ও ২৫৪০) “আজ হলো ঈদের দিন। সুতরাং খাও এবং পান করো।” অতএব, সীমিত আকারে গান, আনন্দ-ফূর্তি করা যেতে পারে।

এক্ষেত্রে অনেক ধররেন ভুল করে থাকে। এগুলো করা হয় যথার্থ জ্ঞানের অভাব কিংবা গুরুত্ব না দেয়ার কারণে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অনেকেই ঈদের জামায়াতে যোগ দেয় না। মেয়েদের সাথে বেশি মেলামেশা করে, ঈদের মাঠে গল্প গুজব করে, মেয়েরা সুগন্ধি মেখে ঈদের মাঠে আসে, হিযাব ব্যবহার করে না। গান বাদ্য করে, সিনেমা দেখে ইত্যাদি। হাদীসে বলা হয়েছে, (নাসাঈ, জিনাহ, অধ্যায় ৫১২৯) “যদি কোনো নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং তা যদি কোন ব্যক্তি ঘ্রান নেয় তবে তা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে।” সুতরাং নারীদেরকে এটা ত্যাগ করতে হবে। বুখারী শরীফের পানাহার অধ্যায়ের ৫৫৯০ নম্বর হাদীসে উল্লেখ আছে যে, “মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন,্ এমন একটি সময় আসবে যখন আমার উম্মতের কিছু লোক বলবে যে, অবৈধ যৌন সম্পর্ক, মদপান, রেশমী কাপড় পরিধান এবং উগ্র উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী বাদ্য শোনা হালাল।” সুতরাং আমরা যেন সেই দলের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

* ্অনেক লোক মনে করে যে, রমযান একটি বোঝা এবং এই মাসটি অতিবাহিত হয়ে গেলে তার খুব বেশি খুশি হয়। কিন্তু এ রকম ধারণা করা উচিত নয় বরং পুরো রমযান মাসটি অতিবাহিত হয়ে গেলে তারা খুব বেশি খুশি হয়। কিন্তু এ রকম ধারণা করা উচিত নয় বরং রমযান মাসটি সুস্থতার সাথে অতিবাহিত করতে পারার জন্যে আল্লাহর কাছে বেশি করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হ্েব। সুতরাং বর্ণিত ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

মুহাম্মদ (সা:) ঈদের নামাজ ঈদগাহে যেয়ে ্পড়ার জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, (বুখারী ঈদ, ৯৫৬) “মুহাম্মদ (সা:) ঈদগাহে যেতেন এবং ঈদের নামাজ আদায় করতেন; ইমাম আবু হানিফা, মালিক এবং ইমাম হাম্বল (রা.) বলেন, ঈদের নামাজ ঈদগাহে গিয়ে আদায় করা জরুরি। কিন্তু ইমাম শাফেয়ী (রা.) বলেন, ঈদের নামাজ ঈদগাহে গিয়ে আদায় করা জরুরি। এলাকার সকল মুসল্লিকে ধারণ করতে পারে তবে ঈদগাহের দরকার নেই। কিন্তু মুহাম্মদ (সা:) নিজের মসজিদ ছেড়ে ঈদের দিন তিনি ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে যেতেন, যেটি এই অধ্যায়ের প্রথম দিকের একটি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মসজিদে নববীর চেয়ে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করার উত্তম স্থান বলে পছন্দ করেছেন। সুতরাং ঈদগাহে নামাজ আদায় করা উত্তম। কিন্তু যদি কোনো যৌক্তিক অসুবিধা থাকে, তবে ঈদের নামাজ মসজিদে আদায় করা যেতে পারে। যেমনটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, (মুসতাদরাক আল হাকিম, সালাতুল ঈদ, ১০৯৪) “কোনো একবার বৃষ্টির কারণে মুহাম্মদ (সা:) মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।”

সুতরাং গুরুতর কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে কিন্তু ঈদগাহে গিয়ে আদায় করা অধিক উত্তম।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×