চলতি সপ্তাহে দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোতে মিজানুর রহমান খানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বসুন্ধরাকে রক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্র মরিয়া-শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে সারা দেশে আলোচিত হয়। প্রতিবেদনের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার ঝড় উঠে। এর পরপরই বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে যুগান্তর, জনকণ্ঠ, ভোরের কাগজ, আমাদের সময়সহ প্রায় বেশিরভাগ জাতীয় দৈনিকে উক্ত প্রতিবেদনের বিপক্ষে এবং প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, তার ছেলে এবং ব্যবসায়ী লতিফুর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়। বক্তব্যটি বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ হলেও প্রচলিত নিয়ম মানা হয়নি অর্থাৎ বিজ্ঞাপনে কোন নম্বর নেই।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন ও বসুন্ধরা গ্রুপের বক্তব্য সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। কেননা মিডিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তারা জানেন যে, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলমের মালিকানাধীন পত্রিকা প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খান সম্পাদিত কালের কণ্ঠ অচিরেই বাজারে আসছে। এছাড়া, তাদের হাতে বর্তমানে রয়েছে বেলায়েত হোসেন সম্পাদিত দৈনিক ভোরের ডাক। ফলে লতিফুর রহমানের মালিকানাধীন এবং মতিউর রহমান সম্পাদিত ও প্রকাশিত পত্রিকা প্রথম আলোর সঙ্গে সৃষ্টি হবে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ হবে, তাতে সাংবাদিকতার নীতিমালা কতটুকু বহাল থাকবে, এই প্রশ্ন সচেতন পাঠকদের।
একদিকে প্রথম আলো বিল বোর্ডের মাধ্যমে সমাজ বদলানোর অঙ্গিকার, বদলে যাও বদলে দাও-শ্লোগান ব্যবহার করছে। এর বিপরীতে সালমান এফ রহমানের অর্থায়নে পরিচালিত বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম সবকিছু বদলাতে হয় না-এমন একটি আদর্শ নিয়ে আমরা সব কিছু বদলানোর পক্ষে নই-শ্লোগান ব্যবহার করছে। এমন দুটি শ্লোগান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মিডিয়া দুটি সুক্ষ্মভাবে একটি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত দি-এডিটরকে বলেন, মিডিয়া জনগণের জন্য কাজ করবে। কিন্তু দেখা গেছে, মিডিয়ার মালিকরাই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। সে কারণে ব্যক্তিগত এবং স্বার্থগত প্রভাব পড়ছে মিডিয়ার উপর। এ কারণে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মিডিয়াগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় পরিচালিত হওয়ায় এটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
এখানে উল্লেখ্য যে, লতিফুর রহমান এর মালিকানাধীন পত্রিকা প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম গত দুই বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকাররের রূপকার ছিলেন বলে ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান দোষারোপ করেছিলেন। অন্যদিকে, বর্তমান সরকারের সমর্থনেই বসুন্ধরা গ্রুপ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছে বলে প্রথম আলো তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। সাধারণ জনগণ প্রথম আলোকে প্রগতিশীল মানুষের মুখপত্র হিসেবে মনে করে, যা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে সমর্থন করে।
এক কথায় বলা যায়, শুরু হয়েছে মিডিয়ার মধ্যে যুদ্ধ। এই মিডিয়া যুদ্ধ দেশ ও জনগণ গভীর আগ্রহে পর্যবেক্ষণ করবে এবং মিডিয়া যুদ্ধের জয়-পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও মিডিয়া অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী নির্ধারিত হবে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে।
খবর - দি এডিটর ডট নেট
সূত্র- http://www.the-editor.net/details.php?cat=5
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



