যে স্বপ্ন আমরা এই নগরীকে নিয়ে দেখেছি তা বাস্তবায়নের জন্য যে প্রশাসনিক স্বীকৃতি প্রয়োজন ছিল তা সিটি করপোরেশন গেজেট ঘোষনা ও নির্বাচনের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি। তাই দেশের সবচেয়ে ছোট্ট ও নবীন এই সিটি করপোরেশনকে সাজাবার সুযোগ আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
আমরা যারা প্রতিনিয়ত এই নগরীর ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করি আর রাস্তায় বেড়িয়ে বেহাল দশায় যানজট, ভাঙ্গা রাস্তা আর নর্দমার ড্রেন- ডাস্টবিন পেরিয়ে সীমাহীন দূর্ভোগ নিয়ে বাড়ি ফিরি সময় এসেছে একজন যোগ্য মেয়র আর একদল দ কাউন্সিলর বাছাইয়ের যারা শুধু প্রত্যাশা পূরণের অতীত স্বপ্ন দেখাবেন না কার্যকর একটি মডেল সিটি গড়ে তুলতে নির্স্বার্থ শ্রম বিনিয়োগ করবেন।
নগর কারিগর নির্বাচন করতে আমরা যদি ভুল করি তাহলে আগামী দিনে যদি এই নগরীর দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায় তার দায় আমাদেরকেই নিতে হবে। তাই নিজের ভোটকে এই নগরীর উন্নয়নের অংশীদ্বার ভেবে এমন ব্যক্তির নির্বাচনেই দেয়া উচিত যার বিচণতা আর সুনিপুন নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের ছোয়া পাবে এই নগরী। যাকে খুশি তাকে দিব আর ২’শ বা ৫’শ টাকায় ভোট বিক্রি করবো এমন ভুল যেন না করি।
স্কুলে যখন পড়তাম তখন টিচাররা ভালো কাজের উপদেশ দিতেন আর আমাদের সুন্দর ব্যবহার ও আচরন শিখাতেন যা আজো আমাদের প্রেরণা যোগায়। অনেক ভুল কাজ করার সময় আমাদের সেই শপথগুলো ফিরিয়ে আনে সুন্দরের আহবানে। শিক একবার বলেছিলেন, মরুভূমির উপর দিয়ে অসংখ্য মানুষ চলাচল করতো। প্রচন্ড রোদে এপথের মুসাফিরদের খুব কষ্ট পেতে হতো। তুমি যদি তাদের কষ্ট উপলব্দি করে সেখানে একটা গাছ লাগাও তাহলে যত লোক এ পথে যাবে তারা যদি কান্ত দেহে এই গাছতলায় বিশ্রাম নেয় তার যে আনন্দ আর তৃপ্তি তার সবটুকুই তোমার। যদি এমন হয় যে একজন গাছ লাগালো তারপর অপর একজন এসে তার বেড়ে উঠার জন্য পানি ঢাললো, আবার আরো একজন এসে একটু আগাছা পরিস্কার করলো, কেউ দেখলো এটা বন্য পশু নষ্ট করে ফেলছে তাই পশুগুলো তাড়িয়ে গাছটিকে রা করলো। এখন এই গাছটি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠার পর এপথের মুসাফিররা যেন অবসন্ন দেহে কিছুটা জিরিয়ে নেয়ার সুযোগ পেল। এ ধরনের মহান কাজ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে অত্যন্ত মর্যাদার। ইসলাম এই ভালো কাজে জড়িতদের পুরস্কৃত করবে বলে ঘোষনা দেয়। এবং সদকায়ে জারিয়া হিসেবে এই গাছ থেকে যতদিন মানুষ উপকার পাবে তার সওয়াবটুকুও পেতে থাকবেন তিনি যিনি এই গাছটি লাগিয়েছিলেন মানুষের কল্যানের জন্য।
আবার ঠিক উল্টোভাবে যদি কেউ সমাজে প্রচলিত খারাপ কাজগুলোকে প্রশ্রয় দেয় এবং সমর্থন করে তাহলে ওই সকল খারাপ কাজগুলোর দায় তার নিজের উপরও বর্তাবে এবং তাদের জন্য ইসলাম কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমন মনে করুন একটি হোটেলে প্রকাশ্যে মদ বিক্রি হয়। আর এলাকার যুবসমাজ খুব সহজে সেখান থেকে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ঘুরাফেরা করছে। তারা প্রকাশ্যে নানারকম চাঁদাবাজি ও অসামাজিক কাজ করছে। এখন এই হোটেলটির যিনি মালিক আর যারা এই হোটেলটি বন্ধ না করে দিয়ে তা প্রশ্রয় দিচ্ছে শুধু মাসোহারার বিনিময়ে তারা সবাই ওই যুবকদের খারাপ কাজের অংশীদ্বার। এবং এই হোটেল সমাজে যত খারাপ কাজে যুবকদের উৎসাহিত করে তার প্রতিটি কাজের অংশীদারিত্বও তাদের যারা সুযোগ থেকেও এই খারাপ কাজটাকে প্রশ্রয় ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের ভোটারদের কানে শুধু এই কথাটুকুই পৌছাতে চাই। আগামী দিনে সিটির উন্নয়নে আপনার অংশীদারিত্ব কোন দিকে রাখবেন তা আপনি বিবেচনা করুন এখনই। পাড়া মহল্লায় ২শ, ৫শ বা তারও চেয়ে বেশি টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রির যে জোয়ার বইছে আপনি সেই জোয়ারে গা ভাসাবেন না। স্রোতের উল্টোদিকে না চলতে পারলে আগামী দিনে যদি রাস্তায় বেরিয়ে দুর্গন্ধ পান, যদি ভাঙ্গা রাস্তায় হোচট খেয়ে পড়েন, যদি হাসপাতালে গিয়ে রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েন আর তখন জনপ্রতিনিধিদের কাজের সমালোচনা করেন তার জন্য নিজেই দায়ী থাকবেন। আপনি একজন ভোটার। একটু ভাবুন তো, এই নির্বাচনে আপনি হয়তো কিছু টাকা রোজগার করতে পারবেন। প্রার্থীরা যদি ভোট কিনতে বের হন তবে সবাই গড়ে এক বা ২হাজার টাকা করে পাবেন। এই এক বা দুই হাজার টাকা দিয়ে আপনার কতন চলবে। যারা আপনার হাতে টাকা দিয়ে ভোট কিনে নিচ্ছে তারা আপনাকে কিছু দেওয়ার জন্য নয়। আগামীদিনে মতায় গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করবে অনৈতিকভাবে। আর তখন রাস্তার বাজেট, ডিজাইন পাস, নানারকম দূর্ণীতি আর অনিয়মের বেড়াজালে জড়িয়ে পড়বেন ওই জনপ্রতিনিধি।
মতায় গিয়ে ওই জনপ্রতিনিধি যত খারাপ কাজ আর দূর্নীতি করবেন তার অংশীদারিত্বও আপনার ঘাড়েই বর্তাবে। কাউন্সিলর নির্বাচনের েেত্র দেখা যাচ্ছে অনেক এলাকায় একজন চিিহ্নত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে নিয়ে মেতে উঠেছে পুরো গ্রাম। তার এই জোয়ারের পিছনে কাজ করছে টাকা। একশ্রেনীর যুবকরা কাচা টাকা পেয়ে তাকে নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছে। কিন্তু পাশের গ্রামের যে ভদ্র মানুষটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন হয়তো তার টাকা কম আর তাই যুবকরাও তার সাথে গনসংযোগে বের হয়না, কিন্তু একশ্রেনীর মুরব্বী তার পাশে আছেন যারা সত্যিকার অর্থেই চান এই শিতি ভদ্র মানুষটি নির্বাচিত হন। এ লোকটি এমন যে অসুস্থ্য লোকদের খবর নেন, কেউ হাসপাতালে গেলে তাকে দেখতে যান, প্রতিটি জানাজায় আগে ছুটে যান খোজ খবর নেন তার কোন দায়িত্ব আছে কি না সেখানে, নানরকম সামাজিক কাজে জড়িত থাকলেও শুধু বিত্তবান না হওয়ায় ওই চিিহ্নত খারাপ মানুষটির সাথে নির্বাচনের পাল্লায় পেড়ে উঠছেন না। তাই আমরা যারা সাধারন ভোটার আমাদের ভাবতে হবে, যদি একজন খারাপ মানুষ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয় তাহলে তার সাথে থাকা উঠতি যুবকেরা যারা পড়ালেখা ছেড়ে টেন্ডার, চাঁদাবাজি আর ইভটিজিংয়ের সাথে জড়িত তাদের হাতে এলাকার মানুষ কতটুকু নিরাপদ থাকবে। আপনি তাকে নির্বাচিত করেন আর মতায় যাওয়ার পর তার কর্মীদের সাহস আরো বেড়ে যাবে তখন পাড়ায় যত বাড়ি উঠবে তা থেকে তাদের আপ্যায়নের পয়সা না দিলে ইটের গাথুনী শুরু হবে না। তাই সামান্য টাকায় আপনার বিবেক আর নাগরিকত্বের অস্তিত্বকে বিক্রি করে দেবেন না।
হয়তো এমন হতে পারে যারা নির্বাচন করছেন তাদের কাউকেই আপনার পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু তবুও এমন একজনকে ভোটটি দিন যিনি মন্দের ভালো। আবার এটাও খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার ভোট না দেওয়ার কারণে একজন খারাপ মানুষ নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। যদি সমাজের ৩ভাগের ১ভাগ পছন্দের প্রার্থী না পেয়ে ভোট থেকে বিরত থাকে তাহলে আর ২ভাগের মধ্যে লড়াই হবে। তখন আপনার ভোটের অভাবে হয়তো কোন যোগ্য লোক পাশ করবে না কিন্তু একজন অযোগ্য লোক মানুষকে প্রভাবিত করে ঠিকই বিজয় ছিনিয়ে নিবে। তাই নির্বাচনে আপনার অংশগ্রহণ হতে হবে সচেতন নাগরিক হিসেবে। দেশগড়ার এটাও একটা অংশীদারিত্ব। আসুন জেনে বুঝে একজন যোগ্য মানুষকে ভোট দিয়ে নগরীর উন্নয়ন আর সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলি। আর সচেতন হই যেন কোন খারাপ মানুষ জনপ্রতিনিধি হতে না পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


