Man has no wing but can fly higher

স্বর্ণ নির্মিত অস্কার: মূল্য ১ ডলার মাত্র

০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৪০

শেয়ার করুন:                   Facebook




বিশ্বের সবচেয়ে দামি চলচ্চিত্র পুরস্কার দি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড। ডাক নাম অস্কার। প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ- অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস এন্ড সায়েন্স। ১৯২৯ সালের ১৬ মে থেকে যাত্রা শুরু এই পুরস্কারের। হলিউডের রুজভেল্ট হোটেলে মাত্র ২৭০ জন দর্শকের উপস্থিতিতে ১৯২৭ ও ১৯২৮ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোকে বিভিন্ন বিভাগে প্রথম বারের মত প্রদান করা হয় এই সম্মানজনক পুরস্কারটি। তবে তখন এই পুরস্কারের নাম অস্কার ছিল না।
অস্কার মিডিয়া জগতের সবচেয়ে পুরনো পুরস্কার। প্রদান করা হয় চলচ্চিত্রের ৫টি শাখায়: সেরা অভিনেতা/অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক, লেখক ও টেকনিশিয়ানস। তবে শুধু অস্কারই নয়, মিডিয়া জগতে এ ধরণের আরো কিছু নামকরা পুরস্কারের প্রচলন রয়েছে। যেমন: সঙ্গিতের জন্য গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য এমি অ্যাওয়ার্ড এবং চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন উভয় মাধ্যম্যের জন্য গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড।

অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার পুরস্কার হিসেবে যে ক্ষুদে ভাস্কর্যটি প্রদান করা হয় তা একজন নাইট বা বীরযোদ্ধার প্রতিমূর্তি। তার হাতে উলম্বভাবে স্থাপিত আছে একজন ক্রুসেডারের তরবারি। এই প্রতিমূর্তিটির নকশা করেছিলেন চিত্র পরিচালক সেড্রিক গিবন। জানা যায়, এটির নকশা করতে উলঙ্গ মডেল প্রয়োজন হয়েছিল কিন্তু কেউই মডেল হতে রাজি হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রীর সহযোগিতায় বহু কষ্টে তিনি মেক্সিকান চিত্র পরিচালক এমিলো ফার্নান্দেজকে রাজি করান এবং প্রতিমূর্তিটির নকশা অঙ্কন সম্পন্ন করেন। অস্কারের বাইরের অংশটি স্বর্ণপাতে মোড়ানো ব্রিটেনিয়াম ধাতু দিয়ে নির্মিত। এর উচ্চতা ১৩.৫ ইঞ্চি এবং ওজন ৩.৮৫ কেজি।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই চলচ্চিত্র পুরস্কারের ডাকনাম নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। অভিনেত্রী বেটি ডেভিস দাবি করেছিলেন অস্কার নামটি তিনিই প্রথম ব্যবহার করেছিলেন এবং তার প্রথম স্বামী ব্যান্ড তারকা হারমন অস্কার নেলসন এর নাম অনুসারেই তিনি এই নামটি দিয়েছেন। বেটি অস্কারে ভূষিত হন ১৯৩৬ সালে। হলিউডের এক নির্বাহী মার্গারেট হ্যারিকও দাবি করেন, তিনিই এই নামটি দিয়েছেন তার চাচা অস্কারের নামানুসারে। আবার কেউ কেউ বলেন, হলিউডের নরওয়েজিয়ান-আমেরিকান নির্বাহী সচিব লুইস বি. মেয়ার ভাস্কর্যটিকে রাজা দ্বিতীয় অস্কারের সাথে তুলোনা করার পর থেকেই অস্কার নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। সে যাই হোক, দি অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড-এর বিকল্প নাম হিসেবে অস্কার নামটি স্বীকৃতি পায় ১৯৩৯ সাল থেকে।

অস্কার ভাস্কর্যটি নিয়ে বেশ চমৎকার কিছু নিয়মও চালু আছে অ্যাকাডেমিতে। আর এই নিয়ম যথেষ্ট কড়াভাবেই আরোপ করা হয় বিজয়ীদের উপর। নিয়মটি হলো, ভাস্কর্যটি কোন বিজয়ী এবং এমনকি তার কোন উত্তরাধিকারীও বিক্রি করতে পারবেন না। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ যদি তা বিক্রি করতে চায় তবে মাত্র ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে বিক্রির প্রস্তাবটি প্রথমেই দিতে হবে অ্যাকাডেমিকে। অ্যাকাডেমি না কিনলে তা অন্যত্র বিক্রি করা যাবে। কোন অস্কার বিজয়ী যদি এই শর্তে রাজি না থাকেন তবে পুরস্কার নেবার আগেই তাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে এবং সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তার পুরস্কারটি নিজেদের কাছেই সংরক্ষণ করবে। অর্থাৎ বিজয়ী তার পুরস্কার বাড়িতে নিতে পারবেন না। এই নিয়মের বাস্তব প্রয়োগও দেখা গেছে। অস্কার বিজয়ী মাইকেল টড এর নাতি তার দাদার পুরস্কারটি একটি সংগ্রহশালার কাছে বিক্রি করে দিলে সাথে সাথেই অ্যাকাডেমি আইনের আশ্রয় নেয় এবং ভাস্কর্যটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে। আর ভাস্কর্যটি বিক্রির উপর আদালতও আরোপ করে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। তাছাড়া ২০১০ থেকে নিয়ম জারি করা হয়েছে, কোন পুরস্কার গ্রহীতাই ৪৫ সেকেন্ডের বেশি বক্তব্য দিতে পারবেন না।

অস্কার পুরস্কারের জন্য পাঁচটি ক্যাটেগরিতে যোগ্যদের নির্বাচিত করার জন্য রয়েছে ৫৫৩৫জন ভোটার। এদের বেশিরভাগই অভিনেতা/অভিনেত্রী, সংখ্যায় ১৩১১। এই ভোটারগণ একটি সভায় মিলিত হয়ে তাদের বিবেচনায় সেরাজনকে ভোট দেন এবং সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চুড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে ভোটারদের নামের তালিকা কখনোই প্রকাশ করা হয়না।
শুরুতে পুরস্কার জয়ীদের নাম ঘোষণা নিয়ে খুব কড়াকড়ি না থাকলেও একবার অনুষ্ঠানের আগেই নামের তালিকা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে গেলে সিল করা এনভিলপ প্রবর্তন করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর জানুয়ারির ১ তারিখ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিসেম্বর ৩১ তারিখ শেষ হবার আগ পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র এই ভোটের আওতার মধ্যে পড়বে। তবে চলচ্চিত্রটি অবশ্যই কমপক্ষে ৪৫ মিনিটের এবং ৩৫ কিংবা ৭০ মিলিমিটার ফিল্মে ধারণকৃত হতে হবে।

জাকজমকপূর্ণ এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি প্রথমদিকে সরাসরি সম্প্রচারিত হতো রেডিওতে। এরপর ১৯৫৩ সাল থেকে শুরু হয় সরাসরি টেলিভিশন স¤প্রচার। স্বত্ত্ব পায় এনবিসি। মাঝখানে এই স্বত্ত্ব লাভ করে এবিসি। তারপর আবার এনবিসি। সর্বশেষ ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্বত্ত্ব পেয়েছে এবিসি। তবে অনুষ্ঠানটি হাওয়াই ও আলাস্কা ব্যতিত সরাসরি স¤প্রচারিত হয় আমেরিকার বাকি অংশ, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে আর এর ভিত্তিতে বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে সারা বিশ্বে।


 

প্রকাশ করা হয়েছে:   বিভাগে ।

 

১. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:০৩
রাহা বলেছেন: তথ্যবহুল পোস্টের জন্য ধন্যবাদ
০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:০৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:২২

লেখক বলেছেন: জেনে ভাল লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কাঠের খাঁচা। অস্কারের প্রতিমূর্তিটি কখনো কাঠ দিয়ে বানানো হয়েছিল কিনা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম ভাই। ভাল লাগলো।

৫. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৪১
সায়েম মুন বলেছেন: জানতে পারলাম অনেক কিছু!
০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৪৬

লেখক বলেছেন: ভাল লাগলো জেনে।

৬. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০২
মুনতা বলেছেন: আসলেই ,ভালো উদ্যোগ বলতে হবে আপনার পোস্টটিকে।
++++++++
০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুনতা। খুশি হলাম।

৭. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৪
বড় বিলাই বলেছেন: জানা গেল অনেক কিছু।
০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৭

লেখক বলেছেন: মন্তব্যে খুশি হলাম।

৮. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০০
ব্যতিক্রমী বলেছেন: অনেক কিছুই জানলাম। ধন্যবাদ।
০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৯. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:০০
মুম রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ, সুন্দর লেখা। প্রিয়তে ঠাই দিলাম।
০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১১:০৯

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা সহ ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.১১৭৬ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
বিদ্যুত খোশনবীশ
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই