অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী transparency report
একজন বিদ্রোহী বলছি ঃ
যেখানে দেখিবে কোন অন্যায় অত্যাচার
সেইখানে পাইবে শুনিতে আমার হুংকার
সময় এসেছে সাথিরা সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে...
আর এস এস ফিড

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

জনপ্রিয় মন্তব্যসমূহ

আমার প্রিয় পোস্ট

বলছি গত দশকের তরুণদের চেতনা নিয়ন্ত্রণ করা তিন 'গডফাদার' (নেতা) এর গল্প!!!!!

২১ শে জানুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৪৩ |

শেয়ারঃ
0 2


এবি (আইয়ুব বাচ্চু) বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের কিংবদন্তী ও সেরা লীড গিটারিস্ট। চট্রগ্রামের ছেলে এবি'র যাত্রা শুরু মূলতঃ ততকালীন সময়ের জনপ্রিয় ধারার ব্যান্ড সোলস দিয়ে, যার উত্থান চট্রগ্রাম থেকে। বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ড্রাস্টীতে যদি একক ভাবে কোন ব্যান্ডকে সন্মাননা দেওয়া হয় তবে সেটা নির্ধিদ্বায় সোলসের ঝুড়িতে গিয়ে পড়বে। লুলু, নেওয়াজ, রনি, তাজুল ও সাজেদ যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে গড়ে তোলেন ব্যান্ড দল সোলস। এরপর একে একে জয়েন করেন নকীব খান, পিলু খান, আইয়ুব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী, নাসিম আলী খান এবং পার্থ বড়ুয়া। নকীব খান ও পিলু খান সোলস ছেড়ে গড়ে তোলেন বিকল্পধারার ব্যান্ড দল রেঁনেসা। তপন চৌধুরী (ভোকাল), কুমার বিশ্বজিৎ(ভোকাল) সোলস ছেড়ে গড়ে তোলেন সলো ক্যারিয়ার। কুমার বিশ্বজিৎ আজও ঠায় দাড়িয়ে আছেন এই বাংলা মিউজিকে। তপন চৌধুরী ততকালীন সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সলো আর্টিস্ট অনেক অভিমান নিয়ে পড়ে আছে বিদেশে। নাসিম আলী খান ও পার্থ বড়ুয়া আজও সোলসের হাল টেনে চলছে। সোলসের জনপ্রিয় গানের অভাব নেই। লিখতে গেলে পুরো একটা পোষ্ট লিখতে হবে এই সোলসকে নিয়ে। তবুও কিছু গানের কথা উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছিনা। মন শুধু মন ছুয়েছে, তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে, আইছ্যা পাগল মনরে, নদী এসে পথ, এই মুখরিত জীবনের, সুখ পাখি এলো উড়িয়া, সাগর বেলায়, একটি ঝিনুক মালা, ভালবাসি এই সবুজ মেলা, সাগরের ঐ প্রান্তরে, কুহেলী জানে কি, এই এমনও পরিচয়, কেউ নেই করিডোরে, আজ দিন কাটুক গানে, নীরবে, ব্যস্ততা, কেন এই নিঃস্বঙ্গতা, এরই মাঝে, আইয়্যোনা আইয়্যোনা, ঐ দূর নীলে, যেতে যেতে পরিচয় সহ এমন আরো অনেক অনেক অনেক গান। সদ্য সোলস ছেড়ে আসা এবি নতুন উদ্দ্যম নিয়ে গড়ে তোলে ব্যান্ড দল এল.আর.বি। প্রথম ব্যান্ড অ্যালবামেই জানিয়ে দেয় "ঝরে পড়ার জন্য আসেনি। এসেছি তারুণ্যের উন্মদনা নিয়ে।" ১৯৯২ সালে এল.আর.বি প্রকাশ করে তাদের ব্যান্ডের প্রথম ডাবল অ্যালবাম "হকার" ও "ঘুম ভাঙ্গা শহরে"। এল.আর.বি-ই বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ব্যান্ড যাদের ফার্স্ট অ্যালবাম ছিল ডাবল। এবং এল.আর.বি- ই প্রথম বাংলা ব্যান্ড যারা এ পর্যন্ত দুটি ডাবল অ্যালবাম প্রকাশ করে। দ্বিতীয় ডাবল অ্যালবামটি প্রকাশ পায় ১৯৯৮ সালে "আমাদের" ও "বিষ্ময়" শিরোনামে। "হকার" অ্যালবামের আড্ডা, হ্যাপি, হকার, স্মৃতি নিয়ে, পেনশান, রিটায়ার্ড ফাদার ও "ঘুম ভাঙ্গা শহরে" অ্যালবামে ঢাকার সন্ধ্যা, ফেরারী মন, ঘুম ভাঙ্গা শহরে, মাধবী, শেষ চিঠি সহ সর্বাধিক শ্রোতানন্দিত গান "সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে"। এক একটি গান শুধু গান নয়, শুধু বাদ্য যন্ত্রের যান্ত্রিকতা নয়, নয় চিৎকার করে চেঁচিয়া যাওয়া। একটি গান কথা, সুর ও সঙ্গীতায়োজনে ছিল অনন্য। প্রতিটি গানের কথায় আবেগ খেলা করে, প্রতিটি গানের সুর বুকের ভিতরে গিয়ে আঘাত করে, প্রতিটি ইন্সট্রুমেন্ট বিভোরতায় মুগ্ধকরে।। আর গায়কী ! ! ! সে আপনাদের বিবেচ্য।



এরপর একে একে নিয়ে আসে "সুখ(১৯৯৩)", "ঘুমন্ত শহরে(১৯৯৪)", "ফেরারী মন(১৯৯৬)", "স্ক্রু-ড্রাইভার(১৯৯৬) with Feelings","ক্যাপসুল-৫০০mg(১৯৯৬) with Feelings","স্বপ্ন(১৯৯৬)","আমাদের(Second Double-1998)","বিষ্ময়(Second Double-1998)","মন চাইলে মন পাবে(২০০১)","অচেনা জীবন(২০০৩)","মনে আছে নাকি নাই(২০০৫)","স্পর্শ(২০০৮)"। প্রতিটি অ্যালবাম এক একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বাংলা ব্যান্ড মিউজিকে। ময়না(১৯৮৬), কষ্ট(১৯৯৫), একা(১৯৯৯), সময়(১৯৯৯), প্রেম তুমি কি?(২০০০), দুটি মন(২০০২), কাফেলা(২০০২),প্রেম প্রেমের মত(২০০৩) সহ বেশ কিছু সলো অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন।


অন্যদিকে বাংলা ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবামের সূচনা লগ্ন থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ম্যাক্সিমাম ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবামের ফার্স্ট ট্র্যাক ছিল এবি'র করা। এমন মিক্সড অ্যালবামের সংখ্যা কম যেখানে এবি পারফর্ম করেনি। মিক্সড অ্যালবামে করা জনপ্রিয় গানগুলোর কিছু তুলে দিলামঃ "এখন অনেক রাত(অ্যালবাম-টুগেদার), তখনো জানতে বাকী(ঝড়), সারারাত তুমি(স্টার্স ২), ভাঙ্গা মন(ভাঙ্গা মন), সুখের পৃথিবী(সুখের পৃথিবী), কোথাও নেই আমি তুমিহীনা(তুমিহীনা সারাবেলা), ঈশারায় ডেকোনা(রাজকুমারী), রাজকুমারী(রাজকুমারী), সেই তারাভরা রাতে(তারা ভরা রাতে), পালাতে চাই(শক্তি),কার কাছে যাবো(ওরা ১১ জন), শেষ দেখা(শেষ দেখা), কতদিন দেখেনি দুচোখ(এখনো দু'চোখে বন্যা), বেলা শেষে(দাগ থেকে যায়), তুমি সেই মেয়ে(মিলেনিয়াম), মেয়ে(মেয়ে), ও আমার প্রেম(ও আমার প্রেম), কি করে বল্লে তুমি(বিতৃষ্ণা জীবন আমার), অভিমান নিয়ে(স্রোত), কোন অভিযোগ(আলোড়ন), ১২ মাস(১২ মাস), জানার কথা নয়(তারকা মেলা), তোমাকে ডেকে ডেকে(একটি গোলাপ), লোকজন কমে গেছে(ধুন), নীলাঞ্জনা(শুধু তোমারই কারণে), চিরদুঃখী(চিরদুঃখী), ফেরারী আমি তোমারই জন্য ফেরারী(চিরদুঃখী), হাসতে দেখ গাইতে দেখ(ক্যাপসুল ৫০০মিলিগ্রাম), নীল বেদনায়(ক্যাপসুল ৫০০মিলিগ্রাম), আহা ! জীবন(ক্যাপসুল ৫০০মিলিগ্রাম), জয়ন্ত(স্ক্রু-ড্রাইভার), নীরবে(স্ক্রু-ড্রাইভার), আমার ভালবাসা(স্ক্রু-ড্রাইভার), কিশোর কিশোরী(হারজিৎ), চোখের জলের কোন রং হয় না(মেহেদী রাঙ্গা হাত), আজ থেকে আর কখনো বলবো না ভালবাসি(দহন শুধু তোমার জন্য), বাড়ালে হাত বন্ধু সবাই হয় না(চিঠির উত্তর দিও), একা উদাসী মনে(একা উদাসী মনে), মন কেন যেতে চায় উড়ে(প্রেম), কেউ ভালবেসে কাছে টানে(টি & টি), সবুজ ঘর(টি & টি), একটায় মনে(অপরিচিতা), কিছু আশা ছিল(অপরিচিতা), অতশী(নীরবতা), যে রাতে রাত ছাড়া(ফিরে আয়), নীরবতা(নীরবতা), উদাসী মনে(নেই তুমি), দক্ষিণা বাতাস(দুঃখিনী মা), একটি নারী অবুঝ(একটি নারী অবুঝ) সহ এরকম শ-খানেক চরম শ্রোতানন্দিত গানের কথা বলা যাবে। এখানে উল্লেখ করা এক একটি গান এক একটি মাইলস্টোন। প্রতিটি গানের কথা নিয়ে আলাদা ভাবে গল্প তৈরী করা যাবে। এই গানগুলো যেমন ছিল। ঠিক তেমনই আছে। এই গানগুলোর স্থায়িত্ব কমে যায়নি। আবেদন কমে যায়নি। কমে যায়নি ভাললাগা। আমি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি এই গানগুলো আপনাকে সতেজ ভাললাগা দেবে। কোন কৃত্রিমতার ছোয়া নেই এই গানগুলোতে।।। প্রতিটি গানের কথা আপনাকে ভাবাবে।। প্রতিটি সুরে আপনি যত্ন ও আবেগের ছোয়া পাবেন। প্রতিটি গান আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে।। কিছু কিছু গান আপনার বুকের ভেতরে জমিয়ে রাখা অব্যাক্ত কথা গুলো বলে যাবে গানে গানে কানে কানে। কিছু গান হয়তো আপনাকে চোখের বর্ষায় ভাসাবে। হয়তো এই বর্ষার জন্য-ই আপনি অপেক্ষায় ছিলেন।।।
বাংলা ব্যান্ড মিউজিকে অবদান রেখেছেন এমন অনেক ব্যান্ড, গীতিকার, সুরকার, যন্ত্রশিল্পী, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার এর কথা হয়ত একবারের জন্যও উঠে আসেনি। ব্যান্ড মিউজিক নিয়ে হাজার হাজার পৃষ্ঠা লিখেও ঐসব ব্যাক্তিদের অবদান বলে শেষ করা যাবেনা। এই মুহুর্তে কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের কথা স্মরণ করছি যাদের এই অস্থির সময়ে খুব খুব বেশি মিস করি (এই অংশের লেখক মুখলেসুর রহমান সজল)
আইয়ুব বাচ্চু আমাদের সঙ্গীত কে অনেক অনেক কিছু দিয়েছেন তাঁর কণ্ঠ দিয়ে তেমনি ভাবে দিয়েছেন তাঁর করা সুরে নিজের ও অন্য শিল্পীদের কণ্ঠের গানে । তাঁর কণ্ঠের কোন গান নিয়ে আমি কিছু বলবনা শুধু একটা কথাই বলবো “অসাধারণ সব গান দিয়ে তিনি বাংলা পপ ও ব্যান্ড সঙ্গীত এর ভাণ্ডার পড়িপূর্ণ করেছেন”। তিনি যে শুধু নিজের জন্য ভালো গান সুর করেন তা নয় বরং অন্যর জন্য তিনি যে সুর করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ ও অনন্য। দেখা গেছে তিনি এমন কিছু গানের সুর যে তিনি করেছেন তা শুনে অনেকেই হয়তো বিশ্বাস করবে না যদি না অ্যালবাম এর কভারে না লিখা থাকতো! তাঁর বড় একটি প্রমান হলো তাঁর করা বাংলা আধুনিক গানের জন্য গত ৯০ দশকের সেরা আবিস্কার ও বিস্ময় “জুয়েল (হাসান আবিদুর রেজা)” এর প্রথম ৫ টি একক অ্যালবাম এর গানগুলো। যেগুলো হচ্ছে- “কুয়াশা প্রহর’, “এক বিকেলে”, “আমার আছে অন্ধকার”, “একটা মানুষ” ও “দেখা হবে না” অ্যালবাম গুলোর ৬০ টি গান। যার প্রত্যেকটি গান এক কথায় অন্যরকম এক ভালো লাগায় ছুঁয়ে যায়। ঐ ৬০টি গানের মাঝে বেশিরভাগ গানই ছিল বিরহের গান। জুয়েল এর চমৎকার সুন্দর কণ্ঠ আর আইয়ুব বাচ্চুর অসাধারন সব সুর সেই গানগুলোকে দিয়েছে এক অদ্ভুত সুন্দর মাত্রা। যাদের কাছে ঐ ৫টি অ্যালবামই আছে তাঁরা কেউ ঐ ৫টি অ্যালবাম এর একটি অ্যালবাম ও বাদ দেয়া বা ফেলে দেয়ার তালিকায় রাখতে পারবেন না। কারন ঐ ৫টি অ্যালবামই একজন রাতজাগা মানুষের সেরা বন্ধু হওয়ার জন্য যথেষ্ট । বিশেষ করে “ কুয়াশা প্রহর”, “কোথায় রাখো আমাকে তুমি বলো না”, “সেদিনের এক বিকেলে” “আবার নতুন করে “, “রাজধানীর এক রেস্তোরায়” “এই গল্প তোমাকে”, “চোখ জোড়া”, “তুমি গেছো চলে”, “দিন কেটে যায়”, “নতুন পুরনো দুঃখ আমার”, “ফুলগুলো তোমারি থাক”, “কথাছিল তুমি আসবে”, “মধ্যরাতের চিঠি”, “পাতা ঝরা সে বিকেলে” গানগুলো আমার মত নিঃসঙ্গ মানুষ যারা একবার শুনেছে তাঁরা বারবার শুনতে চাইবে আর অবাক বিস্ময়ে নিজের মনে নিজেই প্রশ্ন করবে “এগুলো আসলেই কি আইয়ুব বাচ্চুর সুর করা?” আইয়ুব বাচ্চুর কারনেই আমরা তপন চৌধুরী,কুমার বিশ্বজিতের পরের প্রজন্মে জুয়েল এর মত অসাধারন এক শিল্পী আধুনিক গানের জন্য পেয়েছি। আমার মনে হয় গত দুই দশকে (৯০-২০১০) আধুনিক গানে জুয়েল এর মত এমন মান্সম্পপ্ন ও চমৎকার কণ্ঠের শিল্পী আর একটিও পাইনি যারা দুই দশক তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছে। জুয়েল এর শ্রোতা ও ভক্ত যারা তাঁরা আজো মনে মনে জুয়েল এর আইয়ুব বাচ্চুর সুরের নতুন একক অ্যালবাম এর অপেক্ষা করে। এজন্য আইয়ুব বাচ্চুর কাছে বাংলা আধুনিক গান ও গানের শ্রোতারা চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।
এবার আসুন আইয়ুব বাচ্চুর সুরের কয়েকটা মিক্সড অ্যালবাম এর কথা জেনে নেই। ৯০ এর মাঝামাঝিতে বাংলাদেশের অডিও বাজারে যখন মিক্সড অ্যালবাম এর দুর্দান্ত দাপট ছিল তখন আইয়ুব বাচ্চু নিজের সুর ও সঙ্গীতে কয়েকটি মিক্সড অ্যালবাম বের করে সেখানেও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য মিক্সড অ্যালবাম এর মধ্যে “তারা ভরা রাত”, “ময়ূরী”, “রাজকুমারী” “তুমিহীনা সারাবেলা”, “আসবেই তুমি” উল্লেখযোগ্য। যার সবগুলোই ভালো ব্যবসা করে। তবে “তারা ভরা রাত, “ময়ূরী” ও “তুমিহীনা সারাবেলা” সুপার ডুপারহিট ব্যাবসা করে। সেই অ্যালবামগুলোতে পরিচিত আইয়ুব বাচ্চু নিজেও গান করেছেন। এছাড়া সে অ্যালবামগুলোতে পরিচিত শিল্পীরা ছাড়াও বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিভাবান নতুন শিল্পিদের তিনি সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের কে তুলে আনার জন্য আপ্রান চেষ্টা করেছেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সেখান থেকে শ্রোতারা ঝলক, আরিফ,রুপম দের পায়। তবে সেই সময় ঝলক (যিনি ছিলেন সিলেটের অখ্যাত শিল্পী) শ্রোতাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। এমনকি সিলেটের অনেকেই এর আগে জানতো না যে ঝলক নামে তাদের একজন চমৎকার গায়ক আছেন। পরবর্তীতে ঝলক কে আর সঙ্গীতে তেমন ভাবে দেখা যায়নি। ব্যস্ততার কারনে আসতে আসতে তিনি সঙ্গীত থেকে দূরে চলে যান। তারপরেও আইয়ুব বাচ্চুর ঐ অ্যালবাম গুলোর কারনে শ্রোতারা আজো ঝলকের ভালো ও চমৎকার কিছু গান শুনতে পায়।

জেমস-
যার পুরো নাম ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরেজীবি, সেই সুত্রে ছোট বেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেরিয়েছিলেন। তাঁর বাবা যখন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারমান ছিলেন তখন সেই চট্টগ্রাম থেকেই তাঁর সঙ্গীতের পাগলামি শুরু মানে সেখান থেকেই তারে সবাই চিনতে শুরু করে। ৯ম শ্রেণী পড়া অবস্থায় বাবা তাঁর বখে যাওয়া সন্তান টিকে একদিন ঘর থেকে বের করে দেয় পড়াশুনায় মনোযোগ না থাকায়। সেই সময় চট্টগ্রামের “আজিজ বোর্ডিং” হয় তাঁর গানের কারখানা । যে “আজিজ বোর্ডিং “ নিয়ে সম্পূর্ণ একটা গান তিনি পরে গেয়েছিলেন। “আজিজ বোর্ডিং” এর সব গুলো কথা তাঁর সৃতিময় সেই দিনগুলো থেকে নেয়া যা সব সত্যি ঘটনা। তাঁর উপর ক্ষুব্ধ থাকা তাঁর সেই স্বর্গীয় পিতা নিশ্চয় আজ স্বর্গ থেকে ছেলের সফলতা দেখে খুশী মনে আছেন! তিনি যাকে শিক্ষিত করে তাঁর মতো বড় কোন সরকারী কর্মকর্তা বানাতে চেয়েছিলেন আজ হয়তো তাঁর সেই দুঃখ নেই। কারন তাঁর ছেলে যে আজ বাংলাদেশের সঙ্গীতের অভিভাবক হয়ে বিদেশেও সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
১৯৮৭ সালে বের হয় জেমস এর প্রথম একক অ্যালবাম “অনন্যা”। যার সবগুলো গান ছিল আসলেই অনন্যা ও ব্যতিক্রম। আজ যদি কেউ সেই অ্যালবাম প্রথম শুনে তাহলে তারও বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে যে গানগুলো জেমস এর গাওয়া। এর মূল কারন সেই গানগুলোতে ছিল সদ্য টগবগে এক তরুনের মিষ্টি মধুর পরিশীলিত সুর। আজ জেমস এর মাঝে খুব কম গানে পাওয়া যায়। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় ব্যান্ড 'ফিলিংস' এ যোগ দেন। তখন কুমার বিশ্বজিৎ বিহীন 'ফিলিংস'এর ভোকাল ছিলেন আরেক অসাধারণ প্রতিভা ও কণ্ঠ পাবলো। সে সময় ঘর ছাড়া জেমস ও' ফিলিংস' ব্যান্ড যাদের অনুশীলন থেকে শুরু করে থাকা ,খাওয়া সব হতো সেই “আজিজ বোর্ডিং” এর এক কামরায়। সেই কামরায় তাঁদের কত বিনিদ্র রাত কেটেছে শুধু গান তৈরির নেশায়। ১৯৮৯ সালে বের হয় “ফিলিংস’ এর ১ম অ্যালবাম “স্টেশন রোড”। যেখানে সেই “অনন্যা জেমস” আবারো একইরকম অন্য কিছু ভালোলাগা নিয়ে হাজির হয়। সেই অ্যালবাম এর “ঝর্না থেকে নদী”, “স্টেশন রোড” “দুঃখ কেন কররে মন” “আমায় যেতে দাও” “রুপসাগরে ঝলক মারিয়া” “সত্যই সুন্দর” সহ সবগুলো গানই ছিল অপূর্ব। যেখানে জেমস এর নীরব হাহাকার, প্রেমের আকুতি,অন্যায়ের প্রতিবাদ সব কিছু ফুটে উঠেছে এক অদ্ভুত সুন্দর ভাবে। এরপর টানা ৯০-৯২ জেমস এবং ফিলিংস এর কোন নতুন খবর তাঁদের ভক্তরা পায়নি। এর মধ্যে ৯২ সালে জেমস ভালোবেসে বিয়ে করেন মডেল ও পরবর্তীতে অভিনেত্রী ও রথি কে (১৯৯২ সালে নায়ক আমিন খান এর সাথে জুটি হয়ে “অবুজ দুটি মন” ছবিতে অভিনয় করেন যা ছিল তাঁর একমাত্র ছবি ও সুপারহিট) বিয়ে করেন। যিনি পেশগত ভাবে একজন শিক্ষিকা ছিলেন। ১৯৯৩ সালে আবার চুপচাপ থাকা জেমস ও “ফিলিংস” শ্রোতাদের সামনে নিয়ে আসেন “জেল থেকে বলছি “ অ্যালবাম। মুলত এই অ্যালবাম দিয়ে নতুন দশকের শ্রোতাদের কাছে জেমস ও ফিলিংস এর পরিচয় ঘটে। তখন এই অ্যালবামটি কিছুদিন আগে বাজারে আসা এল.আর.বি এর প্রথম ২টা অ্যালবাম এর জনপ্রিয়তায় ভাগ বসায় এবং অডিও বাজারে একটা বড় ধরনের ঝাঁকুনি দেয়। যার ফলে ১ম অ্যালবাম দিয়ে চুপ করে থাকা “মাইলস” তাদের প্রত্যাশা অ্যালবাম প্রকাশ করে সেই ঝাঁকুনিটা আরও বাড়িয়ে দেয়। শ্রোতারা তখন একসাথে ৪ টি অ্যালবাম (হকার, ঘুম ভাঙা শহরে (এল.আর.বি), জেল থেকে বলছি (ফিলিংস), প্রত্যাশা (মাইলস) নিয়ে দিশেহারা হয়ে যায়, কোনটা রেখে কোনটা শুনবে এই ভেবে। আর অডিও বাজারও তখন চরম সফলতার যুগে প্রবেশ করে। সেই “জেল থেকে বলছি’ এক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর করুন অনুভুতি ও আর্তনাদ নিয়ে জেমস তাঁর আসন পাকাপোক্ত করে নেন। তখন ব্যান্ড এর কন্সার্ট এ জেমস কে পাওয়া মানে শ্রোতাদের অন্যরকম উম্মাদনা। ১৯৯৫ সালে বের হয় জেমস এর ২য় একক অ্যালবাম “পালাবে কোথায়” যেটি ছিল এক প্রেমিকের প্রেমিকার প্রতি কঠিন প্রশ্ন ! যে তাঁর ভালোবাসার অস্রু ও সুখময় সৃতি দিয়ে তাঁর প্রেমিকাকে বেঁধে রাখতে চায়। এই অ্যালবাম টিও তখন শ্রোতা প্রিয়তা পায়। জেমস তখন হয়ে যায় “গুরু জেমস”। যেন নতুন যুগের এক কাণ্ডারি যে কিনা যেমন নাচাতে চায় শ্রোতারাও তেমনি নাচে। একই বছরে বের হয় প্রিন্স মাহমুদের প্রথম ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবাম “শক্তি” যেখানে জেমস এর গান ২টি ছিল শ্রোতাদের আকাশের চাঁদ হাত পাওয়ার মত। একই বছরে মিক্সড ও একক অ্যালবাম এর মাধ্যমে জেমস শ্রোতাদের কাছে এক উম্মাদ ঝড়ের নাম হয়ে উঠে। চারিদিকে তখন ২টা পক্ষ “জেমস এর ভক্ত” ও “জেমস এর বিরোধী” স্পষ্টত মুখোমুখি অবস্থান নেয়। হয়তো এই অনিবার্য সংঘাত এড়ানোর জন্যই সেই ফেলে আসা ৯৬ তে জেমস আরও একটি চমৎকার উপহার দেন ফিলিংস এর ৩য় অ্যালবাম “নগর বাউল” যেখানে “মান্নান মিয়ার তিতাস মলম” , “আমি এক নগর বাউল”, “আমি তারায় তারায় রটিয়ে দিবো”, “নাগ নাগিনির খেলা” “হুমায়রা নিঃশ্বাস চুরি হয়ে গেছে” গানগুলো । জেমস তাঁর বিরোধী শিবিরে যে আঘাত এনেছিলেন তাঁর শেষ আঘাত দিয়ে বিরোধী শিবির কে একেবারে নিশ্চিনহ করতে তিনি নিয়ে আসেন তাঁর একক অ্যালবাম “দুঃখিনী দুঃখ করোনা”। যা দিয়ে তিনি তাঁর বিরোধী শিবির কে একেবারে লণ্ডভণ্ড করে দেন। সেই অ্যালবাম এর সবগুলো গান এতোটাই জনপ্রিয় হয় যে তাঁর বিরোধী শিবির এর লোকেরাও সবাই তাঁর ভক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে “যদি কখনও ভুল হয়ে যায়” গানটি জেমস এর সর্বকালের সেরা একটি গানে পরিণত হয়। যে গানে জেমস এর আবেগ এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে কোন মানুষ এর চোখে জল আনতে বাধ্য করতো।৯০ দশকে জেমস ও ফিলিংস নিয়ে আসে “লেইস ফিতা লেইস” অ্যালবামটি (যেটি ছিল ফিলিংস নাম নিয়ে সর্বশেষ অ্যালবাম) । যে অ্যালবাম এ “পথের বাপ” “বায়স্কোপ” “সিনায় সিনায়” “হাউজি” “পুবের হাওয়া” “দে দৌড়” “নিরান্নব্বই নামে তিনি” সহ সবগুলো গান চরম শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। যার ফলে “গুরু” নামটি জেমসের সাথে পাকাপোক্ত ভাবে বসে যায়। তখন জেমস ছিল অবাধ্য ও বিশৃঙ্খল তরুণদের শান্ত করার এক যাদুকর। জেমস কন্সার্টে আসা আগ পর্যন্ত যে তরুণরা তাকে দেখার অপেক্ষায় উদগ্রীব হয়ে থাকতো তাদের উদ্দেশে মঞ্চে উঠেই জেমস বলতেন” তোরা শান্ত হয়ে যা! আমি এসে গেছি!” ব্যস, সবাই সেই যাদুকরের কথায় শান্ত হয়ে যেত আর তাঁর গানগুলোতে ঠোঁট মিলিয়ে গাইত। “লেইস ফিতা লেইস “অ্যালবাম দিয়ে তাঁর আগে আরেকটি কথা না বললেই নয় তখনকার সমান জনপ্রিয় এল.আর.বি এর সাথে ফিলিংস এর পরপর ২ টি যৌথ অ্যালবাম “ক্যাপসুল ৫০০ এম.জি” এবং “স্ক্রু ড্রাইভার” নামক অ্যালবামগুলো। যা শ্রোতাদের কাছে আজো একটি লোভনীয় অ্যালবাম হিসেবে পরিচিত। গত দশকে এই গুরু জেমস কে আমরা যেভাবে পেয়েছিলাম এই দশকে তাঁর কোন ছিটেফোঁটাও আজো পাইনি। বিশেষ করে সেই দশকে জেমস এর ফিলিংস,নগরবাউল ও একক অ্যালবাম ছাড়াও প্রতিটি মিক্সড অ্যালবাম এ গাওয়া গানগুলো অসাধারণ! বিশেষ করে প্রিন্স মাহমুদের সুর ও সঙ্গীতের মিক্সড অ্যালবাম এর “ জানালা ভরা আকাশ”(শক্তি),”আমি ও আঁধার” (শক্তি),”শেষ দেখা “(শেষ দেখা),”মা”(এখনও দু চোখে বন্যা), “ফুল নিবে না অস্রু নিবে” (দেয়াল),”মন আমার পাথরের দেয়াল তো নয়” (দেয়াল),"কিছু ভুল ছিল তোমার" ( দাগ থেকে যায়)”নিশপাপ আমি” (স্রোত), জুয়েল বাবুর সুর ও সঙ্গীতে “ওরে দেখে যারে তুই” (মেয়ে),”পদ্ম পাতার জল” (ও আমার প্রেম), “আরও কিছুক্ষণ রবে কি বন্ধু” (নিরবতা),”তুমি বল বৃষ্টি পড়ছে” /সাদা কালো (নীরবতা), “কিছুটা আশা তুমি রেখো” (নীরবতা), “বর্ষা আমার চোখের প্রিয় ঋতু /বর্ষা” (সন্ধি), ‘’যত দূরে যাও বন্ধু আমার” (তারকা মেলা),লাকি আখন্দ এর সুর ও সঙ্গীতে “লিখতে পারি না কোন গান “ (বিতৃষ্ণা জীবনে আমার),”ভালবেসে চলে যেও না”(বিতৃষ্ণা জীবনে আমার) সহ আরও অনেক অনবদ্য অসাধারণ সব গান আজো সে যুগের এবং এ যুগের শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরে। প্রিন্স মাহমুদ ও জুয়েল-বাবু তাঁরা সব সময় তাদের মিক্সড অ্যালবাম এর গানগুলোতে জেমস কে তাঁর সেরাটা বের করে আনতেন যা জেমস নিজেও খুব উপভোগ করতেন। তখনকার সেরা সব গীতিকার যারা ছিলেন তাঁর মধ্যে লতিফুল ইসলাম শিবলি,বাপ্পি খান,দেহলভি, আনন্দ,তরুন,মারজুক রাসেল, গোলাম মোরশেদ, প্রিন্স মাহমুদ ও জুয়েল-বাবু জেমস এর জন্য আলাদা ভাবে গান লিখতেন। যে গানের কথাগুলো ছিল একটার চেয়ে আরেকটা অসাধারণ সব কথায় ভরপুর যা একবার শুনে মন ভরতো না। শ্রোতারাও দ্বিধায় পড়ে যেতেন কোন গান থেকে কোন গান বেশি সেরা এই নিয়ে আড্ডায় তুমুল তর্ক চলতো। যা মনে পড়লে আজো খুব কষ্ট হয়।

আজ 'জেমস' বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশেরও একটি প্রিয় কণ্ঠের নাম। ভারতের বিখ্যাত ও জনপ্রিয় প্রযোজক, পরিচালক মহেশ ভাট এর 'গ্যাংস্টার' ছবিতে 'ভিগি ভিগি' গান দিয়ে হয়েছেন ভারতের কোটি জনতার প্রিয় শিল্পী। এরপর একই প্রযোজকের 'ওহ লামহে' 'মেট্রো' ছবিতেও কণ্ঠ দিয়ে বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছেন এবং প্রমান করেছেন যে ভারতের শিল্পীরাই শুধু হিন্দি গানের প্লেব্যাক এ সেরা নয় সুযোগ পেলে বাংলার শিল্পীরাও কাঁপিয়ে দিতে পারে। এখানেই ‘জেমস’ অন্য সবার চেয়ে আলাদা ও চিরস্মরণীয় একজন যাকে বাদ দিয়ে কোনদিন বাংলাদেশের পূর্ণ সঙ্গীত ইতিহাস লিখা সম্ভব নয়। কেউ যদি তা করার দুঃসাহস দেখায় আমি নিশ্চিত তাঁর লিখা সেই ইতিহাস কেউ গ্রহন করবে না।
একটি কথা না বললেই নয়, জেমস চট্টগ্রাম থেকে তাঁর সঙ্গীত জীবন শুরু করলেও জেমস এর মূল বাড়ি কিন্তু চট্টগ্রাম নয়। তাঁর মূল বাড়ি হচ্ছে নওগাঁ জেলায়।
জেমস এর অন্যান্য অ্যালবামগুলো-
ঠিক আছে বন্ধু (একক)
দুষ্ট ছেলের দল (নগর বাউল)
আমি তোমাদেরই লোক (একক)
জনতা এক্সপ্রেস( একক)
কাল যমুনা (একক)
তুফান (একক)


ফিডব্যাক ও মাকসুদঃ
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (পরবর্তীতে হোটেল শেরাটন এবং বর্তমানের রুপসী বাংলা) এ লাইভ মিউজিক প্রোগ্রাম হত নিয়মিত। সেখানে মূলত ইংরেজী গানের পরিবেশনা থাকত। একদল মানুষ সেই সব ইংরেজী গানের সাথে তাল মিলিয়ে ড্যান্স করত।। আর মঞ্চ থেকে ভেসে আসতো মেলোডিয়াস পপ, রক ও জ্যাজ ঘরানা'র গান; পরিবেশনায় তরুণ গানের দল "ফিডব্যাক"। ফিডব্যাকের দলনেতা প্রতিভাবান সুরকার, কম্পোজার ও কিবোর্ডিষ্ট ফোয়াদ নাসের বাবু, পিয়ারু খান(Drums & Vocal), সেলিম হায়দার(Guitars), মুরাদ রহমান (Bass) এবং সদ্য জয়েন করা মাকসুদুল হক(Main Vocal)। মাকসুদুল হক ফিডব্যাকে জয়েন করে ১৯৭৬ সালে। পরবর্তীতে তুমুল শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়া ও সারা বাংলাদেশ কাঁপানো ব্যান্ড ফিডব্যাক অবশ্য ১৯৮৫ সালের আগ পর্যন্ত কোন অ্যালবাম রিলিজ করেনি।
১৯৮৫ সাল। মাকসুদুল হক'কে ফিচার না করেই ফিডব্যাক নিয়ে আসে "ফিডব্যাক ভলিউম-১" নামে তাদের ব্যান্ডের প্রথম প্রকাশ।(অনেকের কাছেই শুনেছি ফিডব্যাকের প্রথম অ্যালবামের কথা। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে, অনেক খুজেও এর কোন হসিদ বের করতে পারিনি সেই ক্যাসেটের যুগে। আজও অবধি শোনার ভাগ্য আমার হয়ে উঠেনি। কেউ যদি ইনফো দিয়ে সাহায্য করেন তবে কৃতার্থ হব।)

১৯৮৭ সালে আবারো ফিরে আসে ফিডব্যাক। সেই সাথে রদবদল ঘটে লাইন-আপে। মাকসুদুল হক ফিরে আসেন পুরোদস্তুর কন্ঠ নিয়ে (মেইন ভোকাল ), মুরাদ রহমান ব্যান্ড ছেড়ে চলে গেলে ফিডব্যাকে বেইজ গিটার নিয়ে জয়েন করেন সেকান্দর আহমেদ খোকা, লীড গিটারিস্ট ও ভোকার হিসেবে আসেন লাবু রহমান , ড্রামসের সেই পুরোনো পিয়ারু খান এবং কিবোর্ডিস্ট ও দলনেতা ফোয়াদ নাসের বাবু। নতুন আঙ্গিকে, নতুন কথা ও সুরে, নতুন সঙ্গীতের নতুন পরিবেশনায় ফিডব্যাক নিয়ে আসে বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের অন্যতম সফল অ্যালবাম ও বাংলা ব্যান্ডে বিকল্পধারার রক মিউজিকের উজ্জল দৃষ্টান্ত "উল্লাস"। সারগাম থেকে থেকে প্রকাশ পাওয়া এই অ্যালবামের কাভার পেইজটাও ছিল দীপ্ত ও বৈচিত্র্যময়। একদল মানুষ, কেউ গিটার বাজাচ্ছে, কেউ গাইছে, কেউ ড্রামস বাজাচ্ছে এরকম একটার উপড় আরেকটার অবয়ব। কভার দেখেই বোঝা গিয়েছিল "উল্লাসে" মেতেছে ফিডব্যাক। অ্যালবামের ফার্স্ট ট্র্যাক " মৌসুমি পর্ব ১"। জনপ্রিয় অনেক অনেক গানের গীতিকার ও বর্তমানের প্রথম আলো'র জ্যোতিশী কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা প্রথম গানটি দিয়েই সব-ঘরানার শ্রোতা হৃদয় কেড়ে নেয় ফিডব্যাক।। অসম্ভব চমৎকার এই গানের কথা, সুর ও সঙ্গীতায়োজনের তুলনা হতে পারেনা। আর মাকসুদুল হক তার তরুণ কোমল কন্ঠে এতটায় আবেগী কন্ঠে গেয়েছেন যে এর আর অন্য কোন বিকল্প থাকতেই পারেনা। এতো গেল শুধু প্রথম গান !!! এরপর একে একে "চিঠি", "চোখ", "মাঝি", "সেই দিনগুলি", "উদাসী", "জানালা", "ঐ দূর থেকে দূরে", "কেমন করে হায়", "আমার নতুন আকাশে", "এই দিন চিরদিন রবে", "ঝাউ বনে", "মহাশূণ্য" ও "দিন যায় দিন চলে যায়" আজও বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের এক একটি হীরাখন্ড। (পরবর্তী কালে ফিডব্যাকের সেরাগান নিয়ে করা অ্যালবাম "জোয়ার" এর সর্বাধিক গান নেওয়া হয় "উল্লাস" থেকেই)। উল্লাসে সর্বাধিক গানে কন্ঠ দিয়েছিলেন মাকসুদুল হক এবং নিজের কন্ঠ গাওয়া গানের লিরিকগুলোর সর্বাধিক-ই মাকসুদুল হকের নিজের লেখা। কোন কোন গানে উঠে এসেছে ভালবাসার উন্মাদনা, হাজারো প্রশ্নে জানতে চাওয়া নির্মম সত্য অথচ জানার কতই না আকুতি !!! "চোখ", "চিঠি", "উদাসী" সহ প্রতিটি গানের কথা এত বৈচিত্রময়, এত বাস্তবধর্মী এর আগে কোন ব্যান্ডের অ্যালবামে এত প্রকট ভাবে উঠে আসেনি। সেই দিক থেকে বলতে গেলে এমন অসম্ভব শক্তিশালী গানের কথায় খুব খুব নিয়মিত অ্যালবাম করেছে এমন কম সংখ্যক ব্যান্ড-ই বাংলাদেশে পাওয়া যাবে যারা তাদের প্রতিটি অ্যালবামেই এর সফল ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে একমাত্র ব্যান্ড ফিডব্যাক ছাড়া। বাংলা ব্যান্ড মিউজিক-এর এক অনবদ্য অ্যালবাম হিসেবে যতদিন বাংলা ব্যান্ড মিউজিক টিকে থাকবে ততদিন এই উল্লাস থাকবে। শুধু উল্লাসই নয় মাকসুদুল হক সহ ফিডব্যাকের প্রতিটি অ্যালবাম বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের এক একটি উজ্জল নক্ষত্র। গতানুগতিক ধারার গান কখনোই ফিডব্যাক শ্রোতাদের উপহার দেয়নি মাকসুদুল হক থাকা অবস্থায়। প্রতিটি অ্যালবামের কথা, সুর ও সঙ্গীতায়োজন ছিল এমনই শক্তিশালী যেঃ যেই ব্যাক্তি প্রথম বারের মত ফিডব্যাকের গান শুনবে, তাকে অবশ্যই অবাক হতে হবে বিষ্ময়ে, সমস্ত দ্বিধা ছুড়ে ফেলে মেনে নিতে হবে তাদের একছত্র সৃষ্টিশীলতাকে, বলতে হবে এক একটি মিউজিক একটি একটি ক্ল্যাসিক। আর প্রতিটি গানের সঙ্গীতায়োজন ও গায়কী যে কাউকেই সহজে বশীভূত করতে বাধ্য।। (এবার আমার প্রসঙ্গে বলিঃ বন্ধু'র কাছ থেকে উপহার পাওয়া বঙ্গাব্দ ১৪০০ শোনার পর ফিডব্যাকের আরো অ্যালবাম খুজতে থাকি। আমি যখন ফিডব্যাক শোনা শুরু করি ততদিনে ফিডব্যাক ভেঙ্গে একাকার। মাকসুদুল হক নামের প্রাণীটি তখন "মাকসুদ ও ঢাকা" ব্যান্ডের ছত্রছায়ার দুটি শ্রোতানন্দিত ও পুরোপুরি ভিন্ন স্বাদের অ্যালবাম ছেড়ে কিছুটা ক্লান্ত। ফিডব্যাক তখন ভাঙ্গা নৌকা নিয়ে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর আমি তখন হারিকেন নিয়ে ফিডব্যাক-কে খুজতে বেরিয়েছি। দোকানে গিয়ে ফিডব্যাক এর কথা বললে শুধু নিষিদ্ধ মাকসুদের কথা শোনায়। তখনও জানতে বাকী, নিষিদ্ধ মাকসুদুল হককে। অনেক অনেক কষ্টে অনেকে অনেক প্রতীক্ষার পর ঢাকা থেকে আনিয়ে নিইঃ ফিডব্যাকের "উল্লাস", "মেলা", "জোয়ার", "দেহঘড়ি" ও "বাউলিয়ানা" এবং মাকসুদ ও ঢাকার "অ(X)প্রাপ্ত বয়স্কের নিষিদ্ধ"। ওগো ভালবাসার কথা যথা সময়েরই বলা হবে।)
মেলা অ্যালবামের গানগুলো হলঃ "মেলা", “মৌসুমী পর্ব -২”, ”জীবন-জ্বালা”, ”গৌধুলী”, ”নীল-নক্সা”, ”পালকী পর্ব -১”, ”স্বদেশ”, ”জন্মেছি-এই যুগে”, ”ময়ূরী আকাশ”, ”ছোট্ট পাখি”, ”মন বুঝিয়া” ও “ফিরে এসো”। অধিকাংশ গানে কন্ঠ দিয়েছেন মাকসুদুল হক ও নিজের কন্ঠে গাওয়া প্রায় এই অ্যালবামের সব গানই উনার নিজের লেখা। জন্মেছি এই যুগে গানটিতে মাকসুদুল হক সুতীব্র চিৎকারে আর্তনাদ করে বলেছেনঃ “শুনিনা পুরোনো দিনের ঐ গান/আমি বুঝিনা তোমার রাগ-রাগিনীর গান/প্রথম যেদিন হল আর্তনাদ/আর পাগল পাগল বলে দিলে অপবাদ আমাকে/আমি জন্মেছি এই যুগে/আমার অহংকার আমি গান গাই এই যুগে”। ব্যান্ড সঙ্গীতের আধুনিকায়নে ও ব্যান্ড সঙ্গীতকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যার তিনি হলেন অসামান্য প্রতিভাধর বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের অগ্রদূত এই মাকসুদুল হক ও ফিডব্যাক। ব্যাক্তি জীবনে ব্যান্ড সঙ্গীতকেই লালন করেছিলেন দীপ্ত প্রতিভায়। ব্যান্ড সঙ্গীত আন্দোলনের প্রধান ও একমাত্র সংঘঠন বামবা (বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশান) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ব্যান্ড সঙ্গীত আন্দোলনকে ত্বরাণ্বিত করেছিলেন।
বাংলা ব্যান্ড মিউজিকে ফিডব্যাক ও মাকসুদুল হকের করা জোয়ার অ্যালবামটি এক অনন্য সংযোজন। তখনও ফিডব্যাকের লাইন আপে ছিলঃ ফোয়াদ নাসের বাবু (কিবোর্ডিস্ট ও দলনেতা), মাকসুদুল হক (ভোকাল), পিয়ারু খান (ভোকাল ও ড্রামার), লাবু রহমান (ভোকার ও গিটারিস্ট) এবং সেকান্দর আহমেদ খোকা (বেইজ) এবং বাউলিয়ানা পর্যন্ত একই লাইন-আপ ছিল ফিডব্যাকের।। (ব্যাক্তিগত ভাবে আমি ফিডব্যাক ও মাকসুদুল হকের করা প্রতিটি অ্যালবাম শুনে মুগ্ধ হয়েছি অজস্রবার এবং প্রতিবারই নতুন নতুন করে)।
এরপর এল বঙ্গাব্দ ১৪০০ (খ্রিস্টাব্দঃ ১৯৯৪সাল)। ফিডব্যাক নিয়ে এল ফিডব্যাকের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যালবাম বঙ্গাব্দ ১৪০০। গীতিকবিতার শুরু এই অ্যালবাম থেকেই। বঙ্গাব্দ ১৪০০ এর কথা আগেই উল্লেখ করেছি। (তবে কিছু কিছু ব্যাপার নতুন করে তুলে আনার একটা প্রবল আকাংখা আমার।) এই অ্যালবামের চারটি গান সচরাচর ধারাবাহিকতার বাইরে সবচেয়ে বেশী ভাললাগত। আগেই উল্লেখ করেছি মাকসুদুল হক বরাবরই সামাজিক অসংগতি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তার গানে। গানের মাধ্যমে করতে চেয়েছিলেন সামাজিক বিপ্লব। গান করেছেন ব্যান্ড আন্দোনল নিয়ে। বঙ্গাব্দ ১৪০০ তে করা "কোথাও রোমাঞ্চ নেই/খাঁটি করুণ বাস্তবতা/আর এই বাংলাদেশেরই কথা/ . . . দিয়ে শুরু(উচ্চ পদস্থ তদন্ত কমিটি)" ও "সামাজিক কোষ্ঠকাঠিণ্য" সামাজিক আন্দোলনের ব্যান্ড মিউজিকের ভূমিকা অনেক শক্তিশালী ও প্রশংসনীয় করে তোলে। এছাড়া একই অ্যালবামে করা "আপন দেশে চল" শিরোনামের গানটি চিরাচরিত বাংলার গরিমা গানের প্রতিনিধিত্ব করে। সেই সাথে মাকসুদুল হক-ই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাক্তি যিনি বাংলার বাউল ও গরিমা গান গুলো ব্যান্ড সঙ্গীতের ছত্রছায়ায় নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। এছাড়াও "জীবন সুন্দর/আকাশ বাতাস-পাহাড় সমুদ্র সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর/আর সবচেয়ে সুন্দর এই বেঁচে থাকা/তবুও কি আজীবন বেঁচে থাকা যায়/বিদায়ের সানায় বাঁজে/নিয়ে যাবার পালকী এসে দাড়ায় দুয়ারে/সুন্দর প্রকৃতি ছেড়ে এই যে বেঁচে ছিলাম/দীর্ঘশ্বাস নিয়ে যেতে হয় সবাই কে অজানা গন্ত্যবে/হঠাৎ ডেকে উঠে নাম না জানা পাখি/অজান্তেই চমকে উঠি জীবন ফুরালো নাকি" চমৎকার আবৃতি অংশটুকু দিয়ে শুরু হয় পালকী-২। জীবনের সবচেয় নির্মম সত্য কথাটা স্মরণ করিয়ে দেয় এই গানটি। আর এই গানটির সঙ্গীত পরিবেশনাও চমৎকার। ভাল না লাগার কোনই অবকাশই নেই। আর সব কটি গানের চমৎকার পরিবেশনা ফিডব্যাকের। ফিডব্যাকের বাইরে এর কোন অস্তিত্ব নেই। এছাড়া এই অ্যালবামে লাবু রহমানে কন্ঠ গাওয়া "এখন আমি বিদ্রোহী" ও "সুখী মানুষের ভীড়ে" গান দুটি এবং পিয়ারু খানের কন্ঠ গাওয়া হাইলি মেলোডিয়াস "ও আশা" গানটা শুধুই শ্রুতি মধুর নয়, পাশাপাশি গানের সঙ্গীতায়োজন ও উপস্থাপনের ভঙ্গী পুরো ব্যাতিক্রম ও অসাধারণ। (লাবু রহমান ও পিয়ারু খানের কথা আমার এই পোষ্টে অনেক গুলো কারণেই তুলে আনিনি। অন্য কোন পোষ্টে নিয়ে আসব নাহয় ফিডব্যাক এর এই দুই যোদ্ধাকে।) এরপর ফিডব্যাক নিয়ে আসে বাংলাদেশের মিউজিকের ইতিহাসে সিঙ্গেল ট্র্যাকের একটি পুরো অ্যালবাম যার এপিঠ-ওপিঠ দুপিঠ জুড়েই শুধু একই গান বাজতে থাকে এবং সেটি গানটি হল বিখ্যাত বাউল সঙ্গীত "মন আমার দেহঘড়ি" এর ফিউশান ভার্সন। দেহঘড়ি শিরোনামের অ্যালবামটিতে ফিডব্যাকের সাথে প্রথমবারের মত পরিবেশনা করে বিখ্যাত বাউল শিল্পী আবদুর রহমান বয়াতী।
পেইজের জন্য নির্ধারিত শব্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় মাকসুদ এর বিস্তারিত কথা পড়ুন এই লিঙ্কে বাংলা ব্যান্ড মিউজিক --- ফিডব্যাক ও এক মাকসুদুল হক
তিন গডফাদারের সব গান

 

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৮:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


৫৯টি মন্তব্য

 

সকল পোস্ট     উপরে যান

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন