somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বলছি ৯০ দশকের একজন ''টপ রংবাজ '' এর গল্প !!

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই লিখাটি 'শামু' ব্লগের একজন জনপ্রিয় ব্লগার, ''রেডিও বিজি ২৪'' এর একজন বন্ধুরুপী অভিভাবক ,আগাগোড়া এই বাংলা প্রিয় মানুষ এবং বন্ধুবরেষু রাইসুল জুহালা ভাইকে উৎসর্গ করলাম।

কাহিনীঃ- ঢাকা শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত এক সংসারের অল্পশিক্ষিত একটি ছেলের নাম ''নাসির''। সংসারে এক পরিপূর্ণ আদর্শ বাংলার গৃহিণীর মতো এক স্ত্রী শাহানা ছাড়া আপনজন বলতে আর কেউ নেই। তাঁদের অর্থের অভাব ছিল, ছিল দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার যাতনা কিন্তু স্বামী স্ত্রী র মাঝে ভালোবাসার কোন কমতি ছিলনা, ছিলনা সংসারে কোন অসুখ। তাঁদের ৮ বছরের খুব সুখের সংসারে কোন সন্তান ছিলো না। এই নিয়ে নাসির এর মনে কষ্ট থাকলেও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা বেশী ছিল বলে সেই কষ্ট কখনও স্ত্রীর সামনে প্রকাশ করতো না। কিন্তু নারীর মন সব সময় একটি সন্তান এর জন্য ব্যাকুল থাকে শাহানাও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই সে প্রায়ই পীর ফকির এর কাছে যেত দোয়া নেয়ার আশায়।
ওহ ভালো কথা ! নাসির পেশায় বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশন এর একজন 'সিকিউরিটি'। শুটিং এ তাঁর হাতের নিশানা খুব দুর্দান্ত ছিল বলে ফেডারেশন এর চেয়ারম্যান এর বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ফেডারেশন এর অনুশীলন কক্ষে অনুশীলন করার সুযোগ পেতো। সেখানে একদিন তাঁর হাতের নিশানা দেখে ঢাকা শহরের একজন জুয়েলারী ব্যবসায়ী তাঁর দোকান এর নিরাপত্তার জন্য মাসিক ৪০০০ টাকা বেতনে যোগ দেয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। যা ছিল তাঁর বর্তমান বেতনের তিন গুন। এইভাবেই মোটামুটি সুখেই যাচ্ছিল তাঁদের সংসার।
একদিন পীরের দোয়া ও শাহানার আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস করে ধৈর্যের পুরস্কার স্বরূপ এর অবশেষে শাহানা গর্ভধারণ করে। সেই সময় একদিন তাঁর বর্তমান কর্মস্থল জুয়েলারি দোকান এর ম্যানেজার নাসির এর স্ত্রী অসুস্থের মিথ্যে সংবাদ দিয়ে নাসির কে কিছু সময়ের জন্য বাসায় যাওয়ার অনুমতি দেন। কিন্তু নাসির ঘরে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে সুস্থ দেখে বুঝতে পারে যে ম্যানেজার তাঁকে মিথ্যে খবর দিয়ে বাসায় পাঠিয়েছে। নাসির পুনরায় দোকানে ফেরত যায় তবে ইতিমধ্যে তাঁর অনুপস্থিতিতে দোকানে স্বর্ণডাকাতির একটি ঘটনা ঘটে যায় যার জন্য নাসির কে সন্দেহবশত পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায় । কিন্তু নাসির ঠিকই বুঝতে পারে যে এখানে ঐ ম্যানেজার এর হাত আছে যে তাঁকে মিথ্যে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দোকানের মালিক তা বিশ্বাস করেনা। নাসির গ্রেফতার হওয়ার কয়েকঘণ্টারমাঝেশহরের অপরাধ জগতের এক ডন স্বেচ্ছায় নাসির কে জামিনে মুক্ত করে আনে যা নাসির ছাড়া পাওয়ার পর জানতে পারে। সেই ডন একসময় নাসির কে শুটিং ক্লাবে অনুশীলনের সময় নাসির এর দুর্দান্ত নিশানা দেখে তাঁর নজরে পড়ে। সেই ডন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নাসির কে কাজে লাগাতে চায় এই স্বার্থে তাঁকে জামিনে মুক্ত করে আনে। থানা থেকে বের হয়েই ডন নাসির কে তাঁর জেলে যাওয়ার পেছনে যে ম্যানেজার আছে তাঁকে খুন করতে বলে যে ম্যানেজার অপরাধ জগতের শীর্ষ আরেকজনের লোক যার সাথে ডন এর চরম বিরোধ রয়েছে। নাসির ডন এর নির্দেশে প্রতিশোধ নিতে ঐ ম্যানেজার কে খুন করতে যায় কিন্তু নাসির গুলি করার আগেই ডন এর লোকেরাই ম্যানেজার কে গুলি করে হত্যা করে যা ছিল সৎ ও সাহসী নাসির কে কব্জায় আনার একটি কৌশল। খারাপ পথে পা বাড়ানোর জন্য স্ত্রী শাহানার সাথে নাসির এর দূরত্ব তৈরি হয় । একদিন ঘরে ফিরে নাসির দেখে তাঁর ভালোবাসার প্রাণ প্রিয় স্ত্রী তাঁকে ঘৃণা করে চলে গেছে। নাসির স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য ডনের কাছ থেকে মুক্তি পেতে যায় কিন্তু ঐ মুহূর্তেই ডনের বিরোধী পক্ষের লোকেরা ডন কে হত্যার উদ্দেশ্য আক্রমণ করে । প্রথমবার নাসির এর বিচক্ষণতা ও সাহসী কতার ফলে ডন বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি ,ঐ আততায়ীদের সম্মিলিত আক্রমণের ফলে ডন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করে। আর অপরাধ জগতের শীর্ষব্যক্তি ডন এর শূন্যস্থান পূরণ করতে ডন এর আসন গ্রহণ করে সেই সৎ , সাহসী, নির্লোভী ও ভালোবাসার স্ত্রী হারানো যুবক নাসির যাকে সবাই 'টপ রংবাজ '' নামে চিনতে শুরু করে। তারপর...........? না ! আর বলবো না, এরপরের গল্পটি শুধুই এক দুর্ধর্ষ 'টপ রংবাজ'' এর নিষ্ঠুর পরিণতির গল্প যা জানতে হলে দেখতে হবে -


আরও যা বোনাস পাবেনঃ- ''টপ রংবাজ'' এর কাহিনী দেখতে গেলে উপহার স্বরূপ পাবেন বাংলা ছায়াছবির সুরের যাদুকর ও একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত যাদুকর আলম খান এর মিষ্টি মধুর সুরের কিছু গান । যার মধ্য '' তুমি থাকলে কাছে ,এতো মধুর লাগে, মনে হয় পৃথিবীতে আছি বেঁচে'' ছিল সেই সময় টেলিভিশন ও রেডিও কাঁপানো গান।
আরও পাবেন সোহেল রানা, শাবানার একজনের প্রতি আরেকজনের অগাধ ভালোবাসা ও নীতিগত দ্বন্দ্বমুখর অসাধারণ অভিনয়। হুমায়ূন ফরিদীর মতো একজন অতি ভয়ানক ও কুট কৌশলী মানুষের দেখা পাবেন, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই! ফরিদী আপনাদের কোন ক্ষতি করবেনা বরং দিবে ১০০% আনন্দ । আরও পাবেন রাস্তার গরীব এক পরোপকারী রুবেল নামের এক এতিম তরুণ যে মারামারিতে অনেক দক্ষ আর মারামারি করাই তার অভ্যাস। আরও পাবেন দুষ্ট এক বস্তিবাসী তরুণী চম্পাকে ।
কে। ধুর ররররররররররর যা! সবকিছু বলে দিচ্ছি কেন? না এখানেই শেষ করছি, আপনাদের মন চাইলে দেখবেন! দেখলে পরিপূর্ণ বিনোদন পাবেন এইটুকু বলতে পারি। আর না ইচ্ছে হলে দেখবেন না! আমার কি? নিজেই পরে না দেখার যন্ত্রণায় পুড়বেন !
খোদা হাফেজ!!!!!!!! টা টা... বাই......বাই...। আবার যেন দেখা পাই!!!!!!
ওহ রে ! আসল কথাই তো কইলাম না!!!!! এই '' টপ রংবাজ'' এর কাহিনীটা করছে কিন্তু আমাদের ডাইরেক্টর সাহেব '' শহীদুল ইসলাম খোকন'' ভাই। যারে সবাই চিনেন। না চিনলে আজকে চিনে নেন যে উনি কত বড় একখান '' জটিল পিস''। হেলাফেলা কইরেন না! ''টপ রংবাজ '' কিন্তু আজ থেকে ২০ বছর আগে কাঁপাই দিছিলো পুরো দেশ রে!!!!!!!!!

খবরদার ভুলেও নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে বিপদে পরবেন না!
সব অশিক্ষিত ও খ্যাঁত পাবলিকের আড্ডা !!

কবি ও কাব্য এর একটি নিকৃষ্ট ও জঘন্য নিবেদন !
১৭টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×