somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কোনদিন অস্বীকার করতে পারবোনা এই ছবিগুলো বাংলাদেশের না!!!!!!!!

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বন্ধুরা তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে ১৯৫৪ সালে প্রয়াত আব্দুল জব্বার এর ''মুখ ও মুখোশ'' দিয়ে এদেশে প্রথম চলচ্চিত্র বা সিনেমা শিল্পের যাত্রা শুরু। আজ ২০১২ সালে দীর্ঘ ৫৮ টি বছর পর আমাদের এই শিল্প আজ চরম হুমকির মুখে !!!! কেন? তার জবাব কে দিবে? আসুন সেই সুখ দুঃখের কিছু কথা আজ আপনাদের জানাই।
আব্দুল জব্বার এর হাত ধরে যে শিল্পের শুরু সেই শিল্পকে তিলে তিলে যত্ন করে বড় করেন জহির রায়হান, খান আতাউর রহমান, সুভাষ দত্ত, এহতেশাম, নারায়ণ ঘোষ মিতা, শেখ নিয়ামত আলী,আলমগীর কবির, মোস্তাফিজ এর মত কিংবদন্তীরা। তাঁদের হাতে বাংলা চলচ্চিত্র উপমহাদেশের একটি গৌরবময় শিল্পে পরিণত হয়। "আসিয়া" "তিতাস একটি নদীর নাম'' "সূর্যকন্যা" "এ দেশ তোমার আমার'' "ধীরে বহে মেঘনা" "অ আ ক খ গ ঘ ঙ " "হারানো সুর" এর মতো শিল্প সমৃদ্ধ ছবি বাংলা চলচ্চিত্র পেয়েছিল। আর পেয়েছিল রহমান, রাজ্জাক,কবরি,শবনম,শাবানা র মতো অভিনেতা অভিনেত্রীদের । স্বাধীনতার পর আবার পুরো দমে কাজ শুরু হলে খান আতাউর রহমান জহির রায়হান কে ছাড়া নিঃসঙ্গ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে খান আতাউর রহমান তার পুরনো সঙ্গী সুভাস দত্ত, নারায়ণ ঘোষ মিতা, এহতেশাম কে নিয়ে এই শিল্পের হাল ধরেন। এ সময় তাঁদের সাথে যোগ দেন গীতিকার, কাহিনীকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। মাজহারুল আনোয়ার যুদ্ধের আগেও তাঁদের সাথে ছিলেন তবে নিয়মিত পুরোপুরি হোন যুদ্ধের পর। চাশী নজরুল, সিদ্দিক জামান নানটু , আমজাদ হোসেন, জহিরুল হক , আব্দুল্লাহ আল মামুন সেই সময় পুরো পেশাদার মনোভাব নিয়ে চলচ্চিত্রে আসলে শুরু হয় এক নতুন বিপ্লব। যে বিপ্লবের সাক্ষী আবার তোরা মানুষ হো (খান আতাউর), ওরা ১১ জন (চাসী নজরুল), "আলোর মিছিল" (মিতা), "কলমীলতা" (শহিদুল হক খান) , সীমানা পেরিয়ে , সূর্য দিঘল বাড়ী (শেখ নিয়ামত আলী), সারেং বউ (আব্দুল্লাহ আল মামুন) "নয়নমণি" (আমজাদ হোসেন), এর মত সব কালজয়ী ছবি। এসব সামাজিক ছবির মাঝে তখন পুরো শিল্পের জয়গান চলছিল ঠিক তখনই জহিরুল হক '' রংবাজ'' ছবির মাধ্যমে প্রথম অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে আসেন। বাংলা চলচ্চিত্র পরিচিত হয় নতুন এক ধারার সাথে। শুরু হয় সামাজিক গল্পের সাথে অ্যাকশন দিয়ে 'সামাজিক অ্যাকশন" ছবির যুগ শুরু সেখান থেকে। এরপর আজমল হুদা মিঠুর " দোস্ত দুশমন" দেওয়ান নজরুল এর 'দোস্তি' সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে গেছে। তখন সারা দেশে বাংলা ছায়াছবির ব্যবসা মানেই নিশ্চিত মুনাফা। তাই তো ধীরে ধীরে গ্রামে,শহরে,নগরে,গঞ্জে সব জায়গায় সিনেমা হল তৈরির হিড়িক পড়ে যায়।ঢাকার উচ্চবিত্ত শ্রেণী জড়িত হয় সিনেমা বানানো ও প্রদর্শন এর ব্যবসায়। এদের মধ্য যে নামটি প্রথম উচ্চারিত হবে তিনি 'আলগীর পিকচারস' এর কর্ণধার এ কে এম জাহাঙ্গীর খান (কণ্ঠ শিল্পী ও চিকিৎসক ঝুমু খান এর বাবা) । তাঁকে আজও বাংলা চলচিত্রের 'মোঘল' নামে ডাকা হয়। এতে আরও যে কয়টি প্রযোজনা সংস্থার নাম উল্লেখ যোগ্য সেগুলো হলো 'সোনামণি ফিল্মস' "মেট্রো ফিল্মস" ''আনন্দমেলা চলচ্চিত্র'' 'আশীর্বাদ কথাচিত্র'' ছিল অন্যতম। ৭০ দশকের শেষ দিকে এ যে মিন্টু, কাজী হায়াত,আজিজুল রহমান বুলি, ইবেন মিজান, সাইফুল আজম কাশেম, হাস্মত, আজিজুর রহমান ,বেলাল আহমেদ এর মত মেধাবী ছবি পরিচালনায় আসতে থাকে। যুবকরা শুরু হয় সারাদেশে ছবি দেখার হিড়িক। নিম্নবিত্ত - উচ্চবিত্ত সবার বিনোদনের একটি বড় ও প্রিয় মাধ্যম হয় হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। এমনকি যেসব পরিবারে বিধিনিষেধ কঠোর ছিল সেসব পরিবারের ছেলে মেয়েরাও লুকিয়ে অভিভাবকের চোখ ফাকি দিয়ে দিনের পর দিন সিনেমা হলে যেতো। মেয়েরা বোরকা পড়ে সিনেমা হলে ঢুকত যাতে রাস্তায় পরিচিত কেউ না চিনতে পারে। তখন এমন কোন পরিবার নেই যারা সিনেমা হলে ছবি দেখতো না।
আমার নিজের পরিবার থেকেই আমি বাংলা ছায়াছবির প্রেমে পড়েছিলাম। আমার আব্বু,আম্মমু,মামা,খালা ,চাচা ,চাচী খালু এমনকি পাড়া প্রতিবেশীরা মিলে বিশাল সদলবলে হলে যাওয়ার কথা আমার এখনও মনে আছে। আমি সিনেমা হলে ছবি দেখতে যাওয়া ব্যাপারটা বুঝতে শিখেছিলাম আমার ৫/৬ বছর বয়সে। আমার অভিভাবকদের মুখে অনেকবার শুনেছি আমাকে খুব ছোট (১/৪ বছর)বেলায় দুপুরে ঘুম পাড়িয়ে দাদী ও বাসার বুয়ার কাছে রেখে সবাই ছবি দেখতে যেতো। আমি নাকি সেসময় হলে গেলে ভয়ে শুধু কান্না করতাম । এজন্য আমাকে নেয়া হতো। আমি যখন সিনেমা দেখা বুঝতে ও আন্দদ পেতে শুরু করি তখন আর আমাকে রেখে যাওয়া হয়নি। আমি হলে যাওয়ার নাম শুনলেই সবার আগে কাপড় চোপর পড়ে রেডি হওয়ার জন্য চিৎকার করতাম।
সেই খুব ছোট বেলায় হলে আমার দেখা ছবিগুলোর নাম এখনও মনে আছে "অবুঝ মন" (রাজ্জাক শাবানা), 'নুরী' (ওয়াসিম) ''পুরস্কার '' ''দায়ী কে '' ''বাঁধনহারা'' এই ছবিগুলো ছিল সম্পূর্ণ সাদাকালো। শৈশবে ৮০র দশকেআমার পরিবারের সাথে রঙ্গিন যুগের ছবির মাঝে ছিল 'কুসুমকলি' "স্বর্গ নরক" (রহমান ,শবনম) "ভাত দে'' ''অপেক্ষা '' চ্যালেঞ্জ'' ''দেশ বিদেশ' ''নীতিবান'' ''ধনী গরীব'' ''ফুলশয্যা'' ''হুশিয়ার'' ''বাঞ্জারান' "জারকা" ''লড়াকু'' ''ওস্তাদ সাগরেদ'' ''সারেন্ডার'' ''সবুজ সাথী'' ''আগমন'' ''ঝিনুক মালা'' ''দুই জীবন'' ''বৌমা '' ''সন্ধান'' ''যোগাযোগ'' ''তিন কন্যা'' ''লটারি'' ''বিজয়'' ''অপরাধী' ''বলবান'' ''নিষ্পাপ'' ''চেতনা'' ''বারুদ" ''উসিলা '' ''দূরদেশ'' ''স্বাক্ষর'' ''অশান্তি'' 'চাঁপা ডাঙ্গার বউ', ''জিনের বাদশা'' ''পালকী'' ''ক্ষতিপূরণ'' ''ভাইজান'' ''বিশ্বাসঘাতক'' ''ব্যবধান' ''দুনিয়া '' 'চেতনা' ''সত্য মিথ্যা' ''অন্ধ বিশ্বাস'' ''বীরপুরুষ ''বজ্রমুসঠি, ''শিশমহল '' ''ভেজা চোখ'' ছবিগুলো অন্যতম। সপ্তাহে একদিন হলে ছবি না দেখলে শান্তি পেতাম না।


সেই শৈশব থেকে পরিবার এর মাধ্যমে হলে বাংলা ছায়াছবির সাথে আমার পরিচয় ও প্রেমের শুরু। যা ৯০ দশকের শুরু থেকে আমার দুরন্ত কিশোর বেলায় এসে চরম রূপ ধারণ করে। ৯০ দশকের শুরু থেকে আমার পরিবার হলে যাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেয়। তখন শুরু হলো আমার ও পাড়ার বন্ধুরা মিলে দিনের বেলায় হলে যাওয়া এবং সন্ধ্যার আগে ঘরে ফেরা যাতে বাসার কেউ টের না পায়। বাসায় ফিরলে আম্মা জিজ্ঞেস করতেন '' দুপুরে ভাত খেয়েই কয় গিয়েছিলি "? আমার সাফ উত্তর ''মাঠে খেলতে'' গিয়েছিলাম। আমার কনফিডেনটলি উত্তর দেয়ার ধরন দেখে আম্মু সন্দেহ করতেন না। সেই কিশোর বেলায় শুরু হলো সালমান-অমর সানীর যুগ। পাড়ার বন্ধুদের সাথে দেখতে দেখতে একসময় স্কুলের বন্ধুদেরও ছবি দেখানো শিখিয়ে ফেললাম। আর পায় কে?? শুরু হলো এক চরম আনন্দের সময়। ক্লাসে আমরা একটা গ্রুপ ছিলাম যারা নিরীহ -বোকা শোকা ছেলেদের খুব যন্ত্রণা দিতাম। ওদের কে দায়িত্ব দিলাম আমরা যেদিন ক্লাসে আসবো না সেদিন এর সব ক্লাসের পড়া যেন আমাদের পরেরদিন জানানো হয় এই শর্তে তারা আমাদের সকল অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে এবং তাঁদের কে খেলায় সুযোগ দেয়া হবে। তারাও রাজি হয়ে গেলো/ ব্যস ,শুরু হলো আমাদের সিনেমা গ্রুপের স্কুল পালিয়ে 'মর্নিং শো'' ছবি দেখা। বাসা থেকে বের হতাম একটা শান্ত -ভদ্র স্কুল ছাত্র সেজে যার স্কুলের প্যান্টের ভিতরে অন্য আরেকটা ফুল প্যান্ট!! এভাবে বাসার চোখ ফাকি দিয়ে স্কুল পালিয়ে ছবি দেখা নেশায় পরিণত হলো। এই নেশা চলতে থাকলো পুরো কলেজ জীবন পর্যন্ত যা এই শতকের শুরুতে শেষ হয়। এর কারন ছিল সহপাঠীরা একেকজন একেক জায়গায় ভর্তি হলো, আবার কেউ বিদেশে চলে গেলো।
৯০ দশকেও আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থা আজকের মতো এতো শোচনীয় ছিল না। ৮০র দশকে যে জোয়ার শুরু হয়েছিল ৯০ দশকে তা পরিপূর্ণ লাভ করে। তখনকার ছবিগুলোর মাঝে '' প্রেমের প্রতিদান'' পিতা মাতা সন্তান, "ন্যায় অন্যায়", ''মাস্তান রাজা'' ''লক্ষ্মীর সংসার'' 'বাংলার বধূ'' 'কালিয়া'' 'সন্ত্রাস'' ''বন্ধু আমার'' 'দাঙ্গা' ''লাভ ইন আমেরিকা'' ''মা মাটি দেশ'''' টপ রংবাজ'' ''ত্রাস'' সহ অসংখ্য অসংখ্য ছবি আজও মনে পড়ে যা আমার সোনালি দিনের সোনালি স্মৃতির পুরোটা জুড়েই আছে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার , এ জে মিন্টু ,শিবলি সাদিক, দেওয়ান নজরুল, সাইফুল আজম কাসেম, কবির আনোয়ার, মতিন রহমান, আওকাত হোসেন, দেলোয়ার জাহান ঝনটু, ফজল আহমেদ বেনজির, সুভাষ দত্ত, চাষি নজরুল, ইবনে মিজান, আমজাদ হোসেন, হাসমত, সিদ্দিক জামান নানটু, মতালেব হোসেন ,আজিজুর রহমান , ও জহিরুল হক এরা সামাজিক অ্যাকশন ও প্রেমের ২ ধরনের ছবির কিং পরিচালক ছিলেন। যাদের নাম পোষ্টারে থাকলেই হতো, ছবিতে কে আছে সেইটা কোন বিষয় ছিল না। এদের ছবি মানেই হলে 'হাউসফুল' লিখা থাকতো। আর ফোক ফ্যান্টাসি র জন্য তজাম্মেল হক বকুল একাই একশো , পুরো অ্যাকশন ছবির জন্য শহিদুল ইসলাম খোকন, আবুল খায়ের বুলবুল , দেওয়ান নজরুল, আজমল হুদা মিঠু ছিল চরম, আর রাজনৈতিক ছবির জন্য কাজী হায়াত একাই একশো। যাদের বিকল্প আজ আর বাংলা চলচ্চিত্রে নেই। তারা যেভাবে যত্ন নিয়ে একটা গল্পকে সিনেমায় রূপ দিতেন তা আজ দেখা যায় না বললেই চলে। যখন প্রযুক্তির উন্নয়ন এর ছোঁয়া লাগেনি তখন আমাদের দর্শকরা অনেক অনেক ভালো গল্পের ছবি পেয়েছিলেন। যার শুধু গল্প নয় গান, শিল্পীদের অভিনয় সব কিছু দর্শকের মনে গেঁথে যেতো।


৯০ দশকে মনোয়ার খোকন,জিল্লুর রহমান,শাহ আলম কিরণ ,সহান এরা মোতালেব হোসেন দেওয়ান নজরুল এর অভাব টা একটু হলেও ঘুচিয়েছে। ৯০ দশক তবু পুরানো অনেক পরিচালক কে পেয়েছিল এ জে মিন্টু, সাইফুল আজম কাশেম, বকুল, ঝনটু,কামাল আহমেদ, শিবলি সাদিক,মতিন রহমান,বেনজির সবাইকে পেয়েছিল কিন্তু ২০০০ এসে তাঁদের অনেকেই একেবারেই ছিল না। এদের মধ্য মিন্টু অন্যতম। মিন্টুর অভাব এখনও চলচ্চিত্র কেউ পূরণ করতে পারেনি। কাজী হায়াত এর যন্ত্রণা, দাঙ্গা,ত্রাস , চাঁদাবাজ, সিপাহি,দেশপ্রেমিক এগুলো অসাধারণ সাহসী ছবি। কাজী না থাকলে একটানা এতো সাহসী ছবি বাংলা চলচিত্রে পাওয়া যেতো না। বকুল ফোক ছবি যেভাবে দর্শক কে খাওয়াত তা কেউ পারবেনা। ফোক ছবি কে আলাদা শিল্পে পরিণত করেন বকুল। আর তিনি সেই পরিচালক যিনি নতুন এর মতো জনপ্রিয় ও সিনিয়র নায়িকার সাথে কমেডিয়ান দিলদার কে একক নায়ক করে "আব্দুল্লাহ" বানিয়েছিলেন যা দর্শক চরম গিলছে। তার নাম তজাম্মেল হক বকুল । সালমান,অমরসানি,জসীম, রুবেল ,মান্নার সেরা সময়ে দিলদার কে নায়ক বানানোর মত সাহস কয়টা পরিচালকের ছিল? একমাত্র বকুল প্রমান করেছে গল্প ও মেকিং সুন্দর হলে দর্শক সিনেমা দেখতে আসবেই। চিন্তা করতে পারেন যে একজন সিনিয়র নায়িকার সাথে পুরো কমেডিয়ান একজন কে নায়ক বানানোর মত রিস্ক কেমন কলিজা থাকলে একজন পরিচালক করতে পারে? ভারতের পরিচালক রাও তো এই রিস্কে যাবেনা ও যায়নি আজ পর্যন্ত। বলেন তো কোন ছবিতে জনি লিভার নায়ক এর সাথে শ্রীদেবী কে নায়িকা চরিত্রে দেখেছেন?
আজ এই শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে!! যা মনের ভেতর প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ করে যাচ্ছে!! আমাদের দর্শকরা আজ হিন্দি ছবির জোয়ারে ভাসছে। তারা বাংলার চেয়েও বেশী হলো ভারতপ্রেমি যা অনেক ভারতীয়কেও হার মানাবে। আমার শৈশব- কৈশোর বেলায় তো হিন্দি সিনেমা আমরা প্রতিনিয়ত দেখতাম কিন্তু তাই বলে কোনদিন আমার বাংলা সিনেমা কে আমি ভুলে যাইনি। আমার হলে যাওয়া আমি ছেড়ে দেইনি সেই গত শতাব্দীর শেষ দশকের পুরোটা সময় কেটেছিল ছবি বাংলা ও হিন্দি সিনেমা দেখে। কই আমিতো আমার মনের মাঝে আজ যে হিন্দি সিনেমা দেখিনা তার জন্য একবারও দুঃখ লাগেনা। বরং গত ১০ টি বছর হলে গিয়ে দলবেঁধে বাংলা ছবি না দেখার কষ্ট খুব পোড়ায়। আসুন না একবার আমরা সবাই আমাদের দেশের এই শিল্পকে রক্ষার জন্য কাজ করি। এই শিল্পের মাঝেও যে আমার বাংলাদেশের সংস্কৃতি মিশে আছে। এই সংস্কৃতিকে আমরা কি বিলীন হতে দিতে পারি? একবার নিজের মন কে প্রশ্ন করেন যারা বলেন ''আমাদের ছবির মান ভালো না, রুচিহীন তারা কি এই শিল্পকে উন্নত করার জন্য কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন? নেননি? তাহলে আপনার বাংলা সিনেমাকে খারাপ, মানহীন বলে চিৎকার করার কোন অধিকার আপনার নেই। আমি মনে করি ঐসব শিক্ষিত আধুনিক সমাজ এক দেশের শিল্পের পক্ষে দালালি করছে আর আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংস হওয়ার পেছনে ঐসব দর্শকদের অনেক অবদান আছে যারা আমাদের শিল্পকে ধ্বংস করে বিদেশী সংস্কৃতিকে এদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আজ সময় হয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার এবং এই শিল্পের ধ্বংসের পেছনে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করার ।






















আরও অনেক কিছু এই লিঙ্কে
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৭:২০
৩৩টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×