somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বলছি- আমাদের একজন মিন্টু ও একজন আলম খানের গল্প

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
প্রিয় বন্ধুরা এতদিন এতো মানুষের গল্প আপনাদের শুনালাম। কিন্তু একই ভুবনের ২ জন সেরা মানুষের কথা আপনাদের বলা হয়নি। তাঁরা আমার মতো খ্যাঁত টাইপের মানুষের কাছে অনেক বড় ,অনেক গুণী । অনেক শ্রমজীবী মানুষের খুবই প্রিয়। কিন্তু অতিআধুনিক উচ্চ শিক্ষিত উঁচুশ্রেণীর কারো কারো কাছে তাঁরা অজানা, কারো কাছে খ্যাঁত! কারো কাছে মানহীন মেধাহীন ব্যক্তি। যাদের কাছে ঐ ব্যক্তি উপরেউল্লেখিত বিশেষণে ভূষিত তাঁরা চেনে জোশ চোপড়া, ডেভিড দেওয়ান, রাকেশ রোশন এর মতো সব বিখ্যাত ব্যক্তিদের। কিন্তু নিজের দেশের ঐ ২ জন গুণী মানুষকে চেনার ও জানার কোন সময় তাদের আজও হয়নি ও আগামীতেও হবে না। এই হলো আমাদের দেশের অবস্থা। আমরা নিজেরে যতটুকু চিনি তাঁর চেয়েও বেশী চিনি ও জানি অন্যকে এটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমার দেশের যত খারাপ কিছু আছে সব কিছু সবার চোখে পড়ে আর যত ভালো কিছু আছে তাঁর কিছুই চোখে পড়বে না এটা যেন নিয়তি আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন। আসলে যে চোখে সমস্যা সে দিকে খেয়াল নেই। আমাদের চোখে ও মনে যে ভয়াবহ রোগ বিস্তার করছে তা ঘরের বাহির হলেই ডাক্তার এর চেম্বার চোখে পড়লেই বুঝা যায়। আগে ৮০% ডাক্তার এর সাইনবোর্ডে লিখা থাকতো '' এম বি বি এস, অথবা শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ''। আর এখন দেখা যায় ''চক্ষু বিশেষজ্ঞ,/ মনরোগ বিশেষজ্ঞ/ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ/ যৌন বিশেষজ্ঞ/ নাক,কান গলা বিশেষজ্ঞ'' ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মাঝে চক্ষু, হৃদরোগ,নাক, কান গলা ও যৌন বিশেষজ্ঞ আনাচে কানাচে দেখা যায়। কেন? কারন সহজ, এইসব রোগী এখন বেশী। সারাদিন টিভির খুলেই '' চামকি চামেলি'' '' তেরি মেরি মেরি তেরি'' আর হিন্দি ছবি ও সিরিয়াল এর দিকে তাকালে চোখ তো নষ্ট হবেই, সেইসব সুর ও তাল যদি ভলিউম বাড়িয়ে শুনেন তাহলে তো বুকে ব্যাথা উঠবেই! বাংলাদেশি হয়ে যদি বাংলা শব্দের চেয়ে হিন্দি ,আবার কখনও হিন্দিলিশ (হিন্দি ও ইংলিশ) বলেন দাঁত তো নড়বেই! আর যৌন বিষয়ে নাইবা বললাম, কারন কেউ কেউ আবার আমাকে ১৮+ এর বিখ্যাত রসময় দাশ গুপ্ত এর ভক্ত ভাবতে পারেন, কিংবা বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে মনে করতে পারেন। এই সব অপবাদ নেয়ার সাহস ও ইচ্ছা কোনটাই আমার নেই। আমি শুধু কিছু রোগের কারণের কথা বললাম। যাকগে এসব বেহুদা লেকচার দিয়া কোন লাভ নাই! যা বলতে এসেছি তা বলে ঝটপট বিদায় নিই।
সেই শুরু থেকে আমাদের বাংলা চলচ্চিত্র গুনিদের কারখানা ছিল। আজ যা নেই বললেই চলে। জহির রায়হান,আলমগির কবির, খান আতাউর রহমান, এফ কবির, শেখ নিয়ামত আলী, নারায়ণ ঘোষ মিতা,সুভাষ দত্ত, এহতেশাম, মুস্তাফিজ, আমজাদ হোসেন, সুবল দাস, সত্য সাহা, গাজী মাজহারুল আনোয়ার এর মতো সব গুণীদের পদচারনায় মুখর ছিল এফডিসি তথা বাংলা চলচ্চিত্রে। এতসব গুণীর ভিড়ে বাংলা চলচ্চিত্রে আসেন একজন প্রযোজক ও পরিচালক যার নাম এ জে মিন্টু এবং অনেক কালজয়ী গানের সুরকার আলম খান যিনি আমাদের পপসম্রাট আজম খানের বড় ভাই। প্রয়োজক ও পরিচালক এ জে মিন্টু বাংলা চলচ্চিত্রে আলাদা ও অনন্য একটি নাম। যাকে সবাই 'মাস্টার মেকার' নামে চিনতো। আমি খুব ছোট বেলা থেকেই বাংলা ছায়াছবির হলে যাওয়া দর্শক এবং সেই সূত্র ধরে কিশোরবেলায় একটা সময় নিয়মিত রেডিও শুনতাম খুব আনন্দ নিয়ে। রেডিও তে মুক্তি প্রতীক্ষিত বিভিন্ন ছায়াছবির উপর ১০ মিনিটের একটি আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান হতো। সেখানে ভরাট কণ্ঠে মাজহারুল ইসলাম কে প্রায়ই খুব উত্তেজনা ও খুব সম্মানের সহিত বলতে শুনতাম '' মাস্টার মেকার খ্যাত সবার প্রিয় পরিচালক এ জে মিন্টুর ছবি ''অশান্তি'' কখনও বা ''সত্য মিথ্যা''। অর্থাৎ যখন যে ছবি মুক্তি পাবে তার নাম। কিন্তু কখনও ঐ ''মাস্টার মেকার'' উপাধিটা বাদ দিতেন না, এমন কি অন্য কোন পরিচালকের নামের আগেও বলতেন না। শুধু এ জে মিন্টুর বেলায় উপাধিটা বলতেন। সেই মাজহারুল ইসলাম এর কথাটা যে সঠিক তা প্রতিবার মিন্টুর ছবি দেখে প্রমান পেয়েছিলাম। তাঁর ছবি ছিল পুরো বাণিজ্যিক কিন্তু সম্পূর্ণ অশ্লীলতা বিবর্জিত। কাহিনী ছিল কাল্পনিক কিন্তু বাস্তবতা সাদৃশ্য। তাঁর ছবির প্রতিটা সংলাপ ও দৃশ্য ছিল বাস্তবের সাথে মিল রেখে। প্রায় সিনেমায় আমরা দেখি গুন্ডারা নায়িকাকে আক্রমণ করেছে আর মুহূর্তেই আকাশ থেকে লাফিয়ে নায়ক এসে তাদের হাত থেকে নায়িকাকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু নায়ক কোথা থেকে সেখানে আসলো সেই প্রশ্নের জবাব সব ছবিতে আগেও পাইনি এখনও পাই না। শুধুমাত্র যার ছবিতে সবসময় উত্তর পেতাম তিনি এ জে মিন্টু। যিনি প্রতিটা দৃশ্যর সাথে দর্শকের মনে জাগা প্রশ্নের উত্তর দিতেন । তিনি কখনও খুব অ্যাকশন ধর্মী ছবি দর্শকদের উপহার দিতেন আবার কখনও রোমান্টিক, কখনও পারিবারিক হাসি কান্নার ছবি উপহার দিতেন। যার পারিবারিক গল্পের ছবি দেখে হল ভর্তি মানুষের চোখে জল আসতো। যারা দেখেছে তাঁরা বলতে পারবে এ জে মিন্টু কে ও কেমন। যার প্রযোজিত ও পরিচালিত সবগুলো ছবি কোন না কোন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। একটিও ছবিও পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়নি। আর বাংলাদেশের যে দুইজন সর্বাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তাদের একজন হলেন এ জে মিন্টু ও অন্যজন হলেন কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৮১ সালে 'বাঁধনহারা' ছবি দিয়ে মিন্টু চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন এরপর একে একে ''চ্যালেঞ্জ '' ''লালু মাস্তান'' ''অশান্তি'' ''সত্য মিথ্যা'' '' ন্যায় অন্যায়'', ''পিতা মাতা সন্তান'' ''বাংলার বধূ'' ''প্রথম প্রেম'' '' বাপের টাকা''র মতো সব দারুণ দারুণ ছবি উপহার দিয়ে গেছেন। এরমধ্যে সত্য মিথ্যা, ন্যায় অন্যায়, পিতা মাতা সন্তান ও বাংলার বধূ, ছবির জন্য মিন্টু একটানা ৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্য সত্য মিথ্যা ও বাংলার বঁধুর জন্য লাভ করেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক এর পুরস্কার। এসব ছবির সবগুলো মিন্টু পরিচালনা করেছেন। আবার এ জে মিন্টু অনেক ছবি প্রযোজনাও করেছেন সেগুলো হয়েছে প্রশংসিত ,হয়েছে পুরস্কারে ভূষিত। যার মধ্য ৯০এর মাঝামাঝিতে '' সংসারের সুখ দুঃখ'' ছবিটি অন্যতম। এ জে মিন্টুর প্রযোজনা সংস্থার নাম ছিল ''সানফ্লাওয়ার মুভিজ''। যেখান থেকে মিন্টুর অধিকাংশ ছবি মুক্তি পেতো। মিন্টুর আরও একটি পরিচয় ছিল চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন এর ছবি ও নাটকের শুটিং এর বহু পরিচিত ও ব্যবহৃত বাংলাদেশের বৃহত্তম ব্যক্তি মালিকানাধীন শুটিং স্পট '' খতিব খামার বাড়ী'' র কর্ণধার। যে শুটিং স্পট আজও মুখরিত হয়ে থাকে প্রতিদিন। ১৯৯৮ সালের পর থেকে কোন এক নীরব অভিমানে এ জে মিন্টু ছবি তৈরি বন্ধ করে দিলেন যা আজও তাঁর ভক্তসহ সকল বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে রহস্যময় হয়ে আছে। অথচ আজকের অস্থির ও শুন্য চলচ্চিত্রের জন্য এ জে মিন্টুর খুব খুব বেশী প্রয়োজন ছিল। তিনি আজ ছবি তৈরি থেকে বিরত আছেন কিন্তু তাঁর সুযোগ্য তিন ছাত্র (সোহানুর রহমান সোহান, শাহ আলম কিরণ ও মনোয়ার খোকন) তাঁর অবর্তমানে বাংলা সিনেমার আলো হয়ে টিকে আছেন। আর এই প্রিয় এ জে মিন্টুর ছবিতে যে কিংবদন্তীকে পাওয়া যেত তিনি বাংলাদেশের বহু কালজয়ী গানের সুরকার আলম খান। যে জুটি বাংলা চলচ্চিত্রে কিছু অন্যরকম ও চমৎকার সুন্দর গান দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন। নিচে তেমনই কিছু ছবি ও গান দিলাম ।










আমাদের প্রয়াত পপসম্রাট গুরু আজম খান এর বড় ভাই , বাংলা গানের বহু কালজয়ী গানের সুরকার প্রিয় আলম খান সম্পর্কে মূল্যায়ন করার মতো যোগ্যতা ও সাহস আমার আজও হয়নি । তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না বলে শুধু তাঁর সুর করা কিছু গান ভিডিও সহ দিলাম। তা দেখেই কল্পনা করে নিন কত উঁচুমানের ও সেরা একজন সুরকার আমরা পেয়েছিলাম।












অন্যরকম একটি বাংলা ব্লগ

শুনুন একটি শিক্ষিত রেডিও
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৫:৫১
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×