দুর্গা পূজার মধ্যে দিয়ে শুদ্ধ শক্তি অর্জন করে পাপের বিরুদ্ধে জয় লাভ করে বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে।
মানুষ তার ষড় রিপুকে জয় করতে যদি নারীকে মা হিসেবে বিবেচনা করে তবে সে সহজেই সফল হবে। দেবী দুর্গাকে পূজা করার মাধ্যমে মানুষ সেই শক্তি অর্জন করতে পারে।
অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের জয় এর প্রতীক হচ্ছে ‘দুর্গা পূজা’। দুর্গা হচ্ছে সেই সত্যের প্রতীক যে পাপী মহিষাশুরকে বধ করে।
ঐতিহাসিকভাবে, মহিষাশুর সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করে ব্রহ্মের কাছে অমরত্ব চেয়ে বর প্রার্থনা করে। ব্রহ্ম তাকে এ বর দিতে চান না। কিন্তু তিনি তাকে অন্য একটি বর দেন যে, কোন ‘পুরুষ’ তাকে হত্যা করতে পারবে না।
এ বর পেয়ে মহিষাশুর দেবতাদেরকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করতে শুরু করে ।
সব দেবতারা কাত্যায়ন মুনির আশ্রমে একতাবদ্ধ হয়ে ঈশ্বরের আশীর্বাদের উদ্দেশে ধ্যানে বসেন। মহালয়ার প্রাক সন্ধ্যায় অর্থাৎ শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে কাত্যায়ানী মুণীর কন্যা রূপে দেবী দূর্গা জন্মগ্রহণ করেন মহিষাসুরকে বধ করার জন্য।
দেবতাদের সমস্ত শক্তি দুর্গার মধ্যে আশ্রয় নেওয়ায় তাকে ‘দশভূজা’ বলা হয়।
মহিষাশুর মৃত্যুর আগ মূহূর্তে দুর্গার কাছে ক্ষমা চাওয়ায় এবং মা বলে ডাকায় দেবী তাকে অনুগ্রহ করে তার পূজায় মহিষাশুরকেও স্থান দেন।
মহিষাশুর এক সময় দেবীকে বিয়ে করতে চেয়েছিল যা ছিল দেবীকে এক ধরণের অসন্মান করা।
সামাজিকভাবে, দুর্গা পূজার মাধ্যমে পাপ ও অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শুদ্ধ ও সৎ মানুষদের ঐক্যের জয় প্রমাণ হয়।
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘুরা দুর্গা পূজাকে তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালন করে।
দুর্গা পূজা প্রধানত তিনটি ভাগে পালিত হয়। মহালয়া, বোধন ও সন্ধি পূজার মধ্য দিয়ে ১০ দিন ব্যাপী পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলে।
মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয় এ উৎসবের। শুরু হলো দেবী পক্ষের। এ পক্ষে ভক্তরা চন্ডিগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে দেবীকে আবাহন এবং তার লীলা স্মরণ করে থাকেন।
কল্পারম্ভার মধ্য দিয়ে ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় যেখানে পূজার পরবর্তী দিনগুলোর কর্মপরিকল্পনা করা হয়। দিনের অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে থাকে বিকেলে বেলতলায় দেবীর বোধন, সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ এবং অধিবাস।
সপ্তমীতে দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গনেশকে ষোড়শ উপাচারের মাধ্যমে পূজা করা হয়।
এরপর মহাষ্টমীতে দেবীর মহাপ্রয়ান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বাস আছে যে, এর মাধ্যমে ভক্তদের পাপমোচন হয়। তাছাড়া শুদ্ধ নারীর প্রতীক হিসেবে কুমারী পূজা হয়।
নবমীতে আয়ুধ পূজায় ভক্তরা পেশাগত জীবনে উন্নতির আশায় তাদের কিছু আনুষাঙ্গিক ব্যবহার্য জিনিস দেবীর চরণে সমর্পন করে।
পূজার শেষ দিন দশমীতে দেবীর মূর্তি বিসর্জনের মাধ্যমে দশদিনের পূজা অনুষ্ঠানের সমাপন হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




