আমার প্রিয় পোস্ট

'কাটায়ে উঠেছি ধর্ম আফিম নেশা/ধ্বংস করেছি ধর্ম যাজকী পেশা,/ভাংগি মন্দির ভাংগি মসজিদ/ভাংগি গীর্জা--গাহি সংগীত' - নজরুল

বুদ্ধদেব বসু - আমার প্রিয় লেখক

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৫

শেয়ারঃ
0 0 0

বুদ্ধদেব বসু আমার প্রিয় সাহিত্যিক। তিনি কবি হিসাবে সবার কাছে পরিচিত হলেও সাহিত্যের নানা শাখায় তার বিচরণ। আর আমার কাছে তার লেখক পরিচয়টাই বড়। বুদ্ধদেব বসুর লেখার সাথে আমার পরিচয় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে। যে বইটি তার প্রথম পড়েছিলাম তা ছিল তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ডঃ বিশ্বজিৎ ঘোষের সম্পাদনায় আজকাল প্রকাশনী হতে প্রকাশিত। এরপর শুধুই মুগ্ধতা আর ভাললাগা।

গত ৩০শে নভেম্বর ছিল অসম্ভব প্রতিভাবান এই সাহিত্যিকের জন্মদিন। দেরিতে হলেও তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

বুদ্ধদেব বসু, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধাত্রীদেবতা। তার পরিচয় অনেক - বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক এবং সম্পাদক। বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকের নতুন কাব্যরীতির সূচনাকারী কবি। রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর মতো সব্যসাচী প্রতিভা আর কেউ আসেনি। এ কথা আমি জোর গলায় বলতে পারি।

বুদ্ধদেব বসুর জন্ম ১৯০৮ সালে। জন্মস্থান কুমিল্লা। পৈতৃক আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর গ্রাম। শৈশব কেটেছে কুমিল্লা, নোয়াখালী আর ঢাকায়। ছাত্রজীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ঢাকা বোর্ডে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। এরপর ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে ঢাকা কলেজ) থেকে প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আই. এ. পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ.পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান গ্রহণ করার জন্য পদক পান এবং এরপর এম.এ. পরীক্ষাতেও আবার প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন। ১৯৩১ এর পর তিনি কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। শিক্ষকতাই ছিল তার পেশা। রিপন কলেজে অধ্যাপনা করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। একবছর অধ্যাপনা করেছেন আমেরিকার পিটসবার্গের পেনসিলভেনিয়া কলেজ ফর উইমেন্স - এ। পেয়েছেন জাতীয় সন্মান পদ্মভূষণ পুরস্কার। তিনি মারা যানা ১৯৭৪ সালের ১৮ই মার্চ, কলকাতায়।

তার বইগুলো এখন আমাদের দেশে অত্যন্ত দুর্লভ। কারন তার অধিকাংশ বই পুনঃমুদ্রিত হয়নি। আজকাল প্রকাশনী উদ্যোগ নিয়ে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস আর শ্রেষ্ট গল্প প্রকাশ করেছে। সংগ্রহে রাখার মতো দুটি বই।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:২২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। কবিতা আমি পড়ি না। তবে, বুদ্ধদেব বসুর "আমার যৌবন" বইয়ের কিছু অংশ পড়েছিলাম। অসাধারণ ভাবে তিনি বিশের দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণনা দিয়েছেন।


২. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:২৭
লাইটহাউজ বলেছেন: কবিতা নয়, যে বই দুটির কথা আমি লিখেছি সে দুটি পড়ুন। আমি নিশ্চিত বুদ্ধদেব বসু সম্পর্কে আপনার যাবতীয় ধারনা পরিবর্তিত হবে।
৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৩২
কানা বাবা বলেছেন: তার "কবিতা" বিপ্লবের কথা না কইলে তো মূল অবদানটাই বাদ পইড়া যাইতাছে... তার নিজের কবিতার না হয় বাদই দিলাম...
৫ এবং ধন্যবাদ...
৪. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৬
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: আপনার আলোচনাটি বেশ হয়েছে।ধন্যবাদ।আমি আরো কিছু বিষয় যোগ করতে চাই।

বুদ্ধদেব বসু তিরিশের পন্চপান্ডবের একজন যিনি স্বনামে পরিচিত সবখানে।তিনি ছিলেন কল্লোল সাহিত্য আন্দোলনের কর্ণধার।তার সম্পাদিত কল্লোল পত্রিকায় তিনিই প্রথম জীবনানন্দ দাশের কবিতা ছাপান।বুদ্ধদেব বসু একজন নামকরা অনুবাদকও ছিলেন।তিনিই প্রথম শার্ল বোদলেয়রের কবিতা অনুবাদ করে যান।যা ষাটের হাংরি জেনারেশনের কবিদের ব্যপক উতসাহের প্রেরণা যোগায়।

প্রতিভা বসু ছিলেন তার স্ত্রী,যিনি সে সময়ের বিখ্যাত লেখিকা,নাট্যাভিনেত্রী।তার গানের গলাও বর্তমানে কিংবদন্তিতুল্য,কাজী নজরুল ইসলাম তার কাছে প্রায়ই নতুন গান নিয়ে যেতেন।(জীবনের জলছবি,প্রতিভা বসু)।

যা হোক বুদ্ধদেব বসুর মত সব্যসাচী প্রতিভা সত্যই বিরল।
৫. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৪
লাইটহাউজ বলেছেন: ধন্যবাদ কানা বাবা ও মুয়ীয মাহফুজ।
প্রতিভা বসুর লেখা আত্নজীবনী "জীবনের জলছবি"র মাধ্যমে বুদ্ধদেবকে ভালভাবে চেনা যায়।
৬. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৫
নিশাত বলেছেন: পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ।
৭. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৭
কানা বাবা বলেছেন: হু, তার বাড়িতে নজরুলের যাওয়া নিয়ে পুলাপাইন যে নজরুলের মাথা ফাটাইছিলো হেইডাও জীবনের জলছবিতে প্রতিভা কইয়া দিছেন... হাহ হাহ হাহ...
অমিয়-ও তো প্রতিভাদেবীর লিগা পাগল আছিলো...
তয় এইডা কথা সত্য যে জীবনানন্দ দাশের প্রকৃত মূল্যায়ন বুদ্ধদেব ছাড়া তত্কালীন কেউই করতে পারেননি... এমনকি তাঁর চাকরী হারানোর পরও বুদ্ধদেব অনেক করেছেন...
৮. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৬
ঠাকুরদা বলেছেন: তিনিই প্রথম শার্ল বোদলেয়রের কবিতা অনুবাদ করে যান।যা ষাটের হাংরি জেনারেশনের কবিদের ব্যপক উতসাহের প্রেরণা যোগায়।........................বুদ্ধদেবের বেস্ট কাজ মনে হয় এইটাই।
১০. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৩৩
নরাধম বলেছেন: খুব ভাল। ধন্যবাদ।
৫......।
১১. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৯
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: @কানাবাবা,আপনি বোধহয় একটু ভুল করেছেন।প্রতিভা বসু তার বইতে নজরুলকে হিরো বানিয়েছেন।কারণ তিনি বইতে নজরুলের পিছনে একদল এলাকাবাসীর ক্ষিপ্ত হবার কথা বলেন,কারন এলাকাবাসী ভাবতো প্রতিভার নজরুলের সাথে কোনো অবৈধ আছে।এ ভাবনায় জনাবিশেক লোক নজরুলকে সেই এলাকায় একদিন ঘেরাও করে।কিন্ত দরজায় নক শুনে প্রতিভা দরজা খুলে দেখেন নজরুলের পিছনে দশ বারোজন মুশকো জোয়ান আহত হয়ে পড়ে আছে।

তবে সত্য যেটাই হোক বিষয়টি অবশ্যই হাস্যকর বটে!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬৮৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নেই স্বর্গলোভ কিংবা কল্প-নরকের ভয়,/অলীক সাফল্যমুক্ত কর্মময় পৃথিবী আমার৷

চর্মচোখে যা যা দেখি, শারীরিক ইন্দ্রিয় যা ধরে,/তাকেই গ্রহন করি৷ জানি, নিরাকার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই