আজ নারী দিবস। সারা বিশ্ব বিশেষভাবে পালন করছে এই দিনটি। এদিন নারীদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান , বিশেষ স্বীকৃতি, সব কিছুতেই বিশেষ আয়োজন থাকে। এমনকি টিভির আ্যড গুলিতেও বিশেষভাবে নারীর অবদান সম্পর্কে ভাল ভাল কথা বলা হয়। খুব অবাক লাগে এই বিশেষ ভাবে নারী দিবস পালনের ঘটা দেখে, এর মানে কি ? আমরা যারা নারী তারাও প্রবল উৎসাহ আর উদ্দিপনায় নারী দিবস পালন করি, খুব গর্বিত থাকি আজ আমাদের নারীত্বের স্বীকৃতি দিবস। কিন্ত হে বিশ্বের নারী- আপনারা কি কখনও ভেবেছেন, বিশেষ ভাবে এই দিনটি পালন করার কি বিশেষ কোন দরকার আছে? প্রায় ১০০ বছর ধরে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হচ্ছে। কিন্ত কথা হল নারীর অধিকার কে দেবে- পুরুষ? পুরুষ কেন একজন নারীকে তার অধিকার দেবে? নারীওতো পুরুষের মতই একজন মানুষ, তাহলে পুরুষদের কাছ থেকে কেন স্বীকৃতি বা অধিকার পেতে হবে? কোন পুরুষ কি কখনও তার অধিকার নারীদের কাছে চেয়েছে?
আসলে দোষটা আমাদের- মানে নারীদের । আমরা নিজেরা নিজেরদের মর্যাদা সম্পর্কে যথেষ্ট সজাগ নই। আমারা পুরুষের উপর নির্ভর হতে পছন্দ করি, পুরুষদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে চাই। আমরা আমাদের নিজেদেরকে দূর্বল ভাবি। কিন্ত একটু চিন্তা করে দেখেন -এই যে নির্ভরশীলতা সেটাকি আমাদের মর্যদা বাড়াচ্ছে ? নাকি আমরাই আমাদের মর্যাদা কমাচ্ছি। আমার কাছে বিশেষ ভাবে আমাদের জন্য একটি দিন পালনের মানে হল - আমরা নারী, আমরা অবলা, আমাদেরত অন্তঃপুরে থাকার কথা , হেঁশেলে সারাদিন ঘেমে নেয়ে কাটানোর কথা এবং আমাদের কষ্ট ও আমাদের পরিশ্রমের কোন মুল্য পাবার কথাও নয়, তবুও তোমরা যে আমাদের বাইরে আসার অনুমতি দিয়েছ, আমাদের কাজের স্বীকৃতি দিয়েছ এবং আমাদের জন্য যে একটা বিশেষ দিবস বেধে দিয়েছো, যে দিনে ঘটা করে তোমরা পালন করবে আমার কাজের স্বীকৃতি বা আমার অধিকার আদায়ের কর্মসুচি, তোমারা আমার কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ আমায় সম্বর্ধনা দেবে , ফুলেল শুভেচ্ছাবানীতে আমায় সিক্ত করবে– এজন্য আমরা তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের এই একদিনের স্বীকৃতি স্বরুপ আমি সারা বছর নিজেকে নারী হিসাবে গর্বিত আর আনন্দিত বোধ করব।
ভাবতেও খুব অবাক লাগে আমরা নারীরা এখনো আমাদের নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কে সজাগ নই। আমরা এখনো কারো না কারো উপর নির্ভরশীল। শৈশব থেকে শুরু করে বিয়ের আগ পর্যন্ত বাবা বা ভাইয়ের ঘাড়ে, বিয়ের পরে স্বামীর এবং শেষ বয়সে ছেলের ঘাড়ে। আমরা কখনই ভাবি না আমরাও মানুষ, একজন পুরুষের মত আমাদের ও আছে হাত পা , জ্ঞান, বুদ্ধি, সবই আছে। শুধু হয়ত শারিরিক ভাবে আমরা পুরুষের চেয়ে কিছুটা দূর্বল, এছাড়া সবই সমান। আমরা কেন তাহলে আরেকজনের উপর নির্ভরশীল হব? কেন নিজের আত্নমর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হব না।
বিশ্বের নারী আন্দোলনের প্রায় ১০০ বছর কেটে যাচ্ছে, এখনো কি সেই আন্দোলনের সিকি ভাগ আদায় হয়েছে? তবে আর আন্দোলন কেন? অধিকার চাওয়াই বা কেন? আর কাদের কাছেই বা চাওয়া? আসুন এবার আমরা নিজেরাই জাগি, অনেক বছরতো অবুঝ আর অবলা হয়ে কাটালাম । নারী আর পুরুষের বৈশম্য বাদ দিয়ে নিজেদের মানুষ হিসাবে নিজেরাই স্বীকৃতি দেই। আমারা নারী – বি্ধাতার অনবদ্য সৃষ্টি। আমাদের মাঝে পুরুষের জন্ম, আমাদের ঘিরেই পুরুষের জীবন। তবে আমারা কেন আমাদের স্বীকৃতি চাই পুরুষের কাছে। কিসের স্বীকৃতি চাই? মাতৃত্বের স্বীকৃতি, জীবন সঙ্গীনির স্বীকৃতি, কন্যা সন্তানের স্বীকৃতি ? সমাজে আমাদের যে অবদান সেটা সবাই জানে বা বোঝে। নারী ছাড়া কখনো একটা সুস্হ-সুন্দর-সুখের জীবন হতে পারেনা। যুগে যুগে নারী্ পুরুষের পরিপুরক, নারীর অবদান ছাড়া কখনই সংসার ,সমাজ বা পৃথিবী সামনের দিকে এগিয়ে যেত না । তাই আমি মনে করিনা আলদা ভাবে আমাদের কোন স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে ।
পুরুষতো কখনও তাদের কাজের জন্য আমাদের স্বীকৃতি চায় না বা তার অধিকার চায় না। তবে আমাদের কেন এই চাওয়া ? আমারা কি এভাবে অধিকার চেয়ে চেয়ে আমাদের নিজেদের দুর্বল করে উপস্হাপন করছি না? যদি কখনও পুরুষ তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ একটি বিশেষ দিবস পালন করে, তবেই না হয় আমরা তখন নারী দিবস পালন করব। আসুন আমরা সচেতন হই, নিজের অধিকার নিজেরকে দিতে শিখি। কারও দেওয়া স্বীকৃতি আশায় পিছিয়ে না থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাই পুরুষের পাশাপাশি। আত্মনির্ভরশীল হই। যতদিন না আমরা আত্মনির্ভরশীল হব ততদিন নিজেদের সম্মান, অধিকার বা মানুষ হিসাবে আমার স্বীকৃতি কিছুই আমরা পাব না, তার পরিবর্তে শুধু ঘটা করে নারী দিবস পালন করে – ঘটা করে নিজেদের দূর্বলতা , আত্মমর্যাদা কে ক্ষুন্ন করতে পারব।
যখন পুরুষ দিবস পালন হবে, তখন না হয় আমরাও নারী দিবস পালন করব।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪০টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।