somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের শক্তি এবং সম্ভাবনা

০১ লা অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসেন আরাফাত ভাইয়ের লিখাটা দেখি .....লোক ইদানিং বেশি আলোচিত কেন ??


বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশ বার বার মুখ থুবড়ে পড়ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগটি নেমে এসেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাত্রিতে, যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে এই দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। এর পরবর্তী ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করে গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সামরিক স্বৈরশাসকরা এই দেশ পরিচালনা করতে থাকে। বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিপরীতে উল্টো দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের ধারায় ফিরতে থাকে। এর পরও আমরা গণতন্ত্রকে হোঁচট খেতে দেখেছি, একবার ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির একদলীয় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে এবং পরবর্তীতে ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অসাংবিধানিকভাবে লম্বা সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার মাধ্যমে। বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের প্রতি আকাক্সক্ষা এতটাই বেশি যে, কোনো দুষ্কৃতকারী গণতন্ত্রকে আবার চুরি করার সাহস করেনি।
১৯৯০ সালের পর থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার বদল হলেও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার কমতি আমরা দেখিনি। ২০০১ সালের নির্বাচন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জ্বলন্ত উদাহরণ আছে। এমনকি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে অত্যাচার হয়েছিল জাতির স্মৃতিতে তা আজও ভাস্বর। অপরদিকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পূর্ণাঙ্গরূপে কবর দেয়ার সব প্রচেষ্টা সম্পন্ন হয় বিগত ২০০১-০৬ সরকারের সময়ে।
আমরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসকে উদ্বুদ্ধ করার নির্লজ্জ নজির দেখেছি। সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিয়ে দেশকে মৌলবাদ এবং জঙ্গিবাদের এক মহাচক্রে ফেলে দেয়া হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রক্রিয়া হিসেবে বেছে নেয়া হয় হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমূলে উপরে ফেলার কৌশল। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ্ মাস্টারসহ অসংখ্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা দেখেছি আমরা। বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান গ্রেনেড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল হত্যাযজ্ঞের এক চারণভূমি।
রাষ্ঠ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শুধু সন্ত্রাস নয়, দুর্নীতিরও এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়। বিদ্যুৎ খাতে যে দুর্নীতি হয়েছে ২০০১-২০০৬ সালে তা আজ সর্বজনবিদিত। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে কোনো অগ্রগতি না হওয়ার ফলশ্র“তিতে বাংলাদেশ অনেক বছর পিছিয়ে গেছে। এমনকি ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের প্রচেষ্টা হিসেবে কোনো উদ্যোগই আমরা দেখিনি। পুরো বাংলাদেশের মোট যানবাহনের ৬০ শতাংশ ঢাকা শহরে চলাচল করে। যানজট আমাদের নগর জীবনে একটি অন্যতম সমস্যা। এ ছাড়াও ঢাকা শহরের পরিবহন চলাচল ব্যবস্থা উন্নত না হলে দেশের অর্থনীতির উপর এর প্রভাব পরে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই এই শহরের যানজট নিরসনে কিছু ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল, যার কিছুই হয়নি। আশার কথা হলো এতকিছুর পরেও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। আমাদের আর্থ-সামাজিক যে অবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারের যে অব্যবস্থাপনা চলে এসেছে তাতে সমস্যার সহসাই সমাধান হয়ে যাবে তা আমি মনে করি না। তবে সমাধানের পথে, পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ একটু একটু করে এগুনো শুরু করেছে। এই এগিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি আমরা বিভিন্ন স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও পাচ্ছি।
সম্প্রতি জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (ঔইওঈ) ১৫তম শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ বান্ধব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ওঋঈ) উড়রহম ইঁংরহবংং জবঢ়ড়ৎঃ ২০১১ এ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৮৩টি দেশের মধ্যে প্রথম ১০-এ অবস্থান করছে। বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে যে উদ্যোগগুলো নেয়া হয়েছে এই জবঢ়ড়ৎঃ তারই স্বীকৃতি।
গার্টনার (এধৎঃহবৎ) একটি বিশ্ব স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা ওঈঞ উন্নয়নের গতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। গার্টনার এর জবঢ়ড়ৎঃ এ বাংলাদেশকে ওঈঞ ড়ঁঃংড়ঁৎপরহম এর জন্য বিশ্বের প্রথম ৩০টি দেশের মধ্যে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট (ইঙও) এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ রেজিস্ট্রেশন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
গড়ড়ফরবং এবং ঝ ্ চ এর মতে ঈড়ঁহঃৎু ৎরংশ বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে পিছনে ফেলে ঠিক ভারতের পরেই। গড়ড়ফু’ং এর সর্বশেষ মূল্যায়নে যেখানে আমেরিকা এবং স্পেনের মতো দেশগুলো পিছিয়ে পড়েছে এবং ভিয়েতনাম পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশের নিচে নেমে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশ তার আগের জায়গা ধরে রেখেছে। গড়ড়ফু’ং এও বলেছে যে, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও যথেষ্ট স্থিতিশীল। অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন খাতে সরকারের সাহসী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। গোটা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি পাচ্ছে।
যানজট নিরসনেও সরকার বেশকিছু কার্যকর উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। আমরা গত দু’বছরের মধ্যেই দেখেছি বিশ্বরোড-কুড়িল এবং যাত্রাবাড়ী এলাকার বিশাল উড়াল সেতু নির্মাণের কাজ চলছে যা আমরা স্বচক্ষেই দেখতে পাই। এই দুটি প্রকল্পের কাজই ৪৫ শতাংশ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং অতি দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। আমরা জানি, ইতোমধ্যেই অন্যান্য আধুনিক শহরগুলোর মতো ঢাকা শহরে উড়াল সড়ক নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। এই উড়াল সড়ক হযরত শাহ্জালাল বিমানবন্দর থেকে ২৬ কিলোমিটারের একটি উড়াল মহাসড়ক যা সায়দাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত। সরকার মেট্রোরেল প্রকল্প নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছে যার বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
গত কিছুদিন ধরে আমরা সরকারের বিশেষ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্বল্পমেয়াদি কিছু ব্যর্থতার চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি। আন্তঃশহর বেশকিছু মহাসড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর পিছনে গত কিছুদিনের একটানা বৃষ্টিও যেমন দায়ী একইভাবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের স্বল্পমেয়াদি জরুরি অবস্থা সামাল দেয়ার ব্যবস্থাপনাগত অযোগ্যতাও দায়ী। তবে স্বল্পকালীন এই ব্যর্থতাগুলোকে সামনে এনে দীর্ঘমেয়াদি সকল উদ্যোগ এবং অর্জনগুলোকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ খাতে সরকার বিশেষ নজর দিয়ে ইতোমধ্যেই ১৯৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড এ সংযোগ দিয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যার মূল জায়গাটি আমাদের বুঝতে হবে। একটি দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর জোগান নিশ্চিত করতে হলে মোট চাহিদার তুলনায় জোগান ১৫ শতাংশ বেশি থাকতে হয়। কারণ উৎপাদন ক্ষমতার ১৫ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবসময় বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বিরত থাকে। অথচ এই সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন মোট চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ শতাংশ কম ছিল। অর্থাৎ চাহিদা এবং জোগানের পার্থক্য ছিল ৪০ শতাংশ। এই পার্থক্য দূর করার জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক দুই বছরে এই পার্থক্য দূর করা সম্ভব নয়। তথাপিও সরকার যেভাবে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করেছে তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। সরকার তার স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুইক রেন্টাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচেষ্টা নিয়েছে যার সবই গ্যাসের পরিবর্তে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। গ্যাসের জোগান পর্যাপ্ত না থাকায় স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারকে এই প্রক্রিয়ায় যেতে হয়েছে। ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে যা সরকার ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে ব্যবস্থা করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে বিদ্যুৎ এর অনুপস্থিতি দেশের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকারক, কাজেই দাম দিয়ে হলেও জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় তড়িৎ পদ্ধতি অবলম্বনের কোনো বিকল্প ছিল না যা সরকার শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে।
অতি সম্প্রতি ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘ইকোনমিস্ট’ বাংলাদেশ কেন্দ্রিক বেশকিছু কলাম প্রকাশ করেছে। কলামগুলো পড়লে সহজেই অনুমান করা যায় এই কলামগুলো প্রকাশ করার পিছনে কারা অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মৌলবাদী অপশক্তি ঠিক যে ভাষায় প্রগতিশীল ধারাকে আক্রমণ করে এসেছে। এই একই সুরের অনুরণন আমরা দেখেছি এই কলামগুলোর রাজনৈতিক বিশ্লেষণগুলোতে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এই কলামগুলোতেই শিকার করে নেয়া হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে চলেছে।
বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত যে সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে স্বীকৃতি দিচ্ছে তার কিছু আমার এই লেখায়ও উল্লেখ করেছি- কাজেই এর বাইরে এসে ‘ইকোনমিস্ট’ এর অন্যকিছু গল্প বলার সুযোগ ছিল না। কিন্তু রাজনীতি এমনই একটি বিষয় যা অর্থনীতির মতো সূচক (ওহফবী) আকারে প্রকাশ করার সুযোগ কম থাকে। কাজেই রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে ভাষার বিভিন্ন অলঙ্করণে সমৃদ্ধ করে যেদিকে খুশি নিয়ে যাওয়া যায়। ‘ইকোনমিস্ট’ এই কলামগুলোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তার খুশি মতো একটি দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াশ নিয়েছে। ‘ইকোনমিস্ট’ এর রাজনৈতিক বিশ্লেষণও যে সঠিক নয় তা ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
কিছুদিন আগে ব্যর্থ রাষ্ট্রের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। ফান্ড ফর পিস (ঋঁহফ ঋড়ৎ চবধপব) নামের একটি সংস্থা ব্যর্থ রাষ্ট্র সূচক (ঋধরষবফ ঝঃধঃব ওহফবী) এর উপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রস্তুত করে যা ফরেন পলিসি (ঋড়ৎবরমহ চড়ষরপু) নামের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। এই সূচকটি ১ লাখ ৩০ হাজার। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে পৃথিবীর ১৭৭টি দেশের একটি তালিকা তৈরি করে। এই তালিকায় যে দেশটি সবচেয়ে উপরে থাকে তার অবস্থা সবচেয়ে নাজুক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই তালিকায় দেশগুলো ক্রমানুসারে যত নিচের দিকে থাকে আপেক্ষিকভাবে তাদের অবস্থা তত মজবুত হিসেবে ধরা হয়। ব্যর্থ রাষ্ট্র সূচক (ওহফবী) ১২টি নির্দেশক উপাদান ব্যবহার করে। এর মধ্যে চারটি সামাজিক, দুটি অর্থনৈতিক এবং ছয়টি সরাসরি রাজনৈতিক। কাজেই এই সূচকটি একটি দেশের রাজনৈতিক অবস্থা উন্নতি বা অবনতির দিকে যাচ্ছে তার একটি নির্দেশনা দিতে পারে। ২০০৬ সালে যখন চারদলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতা ছেড়ে যায় তখন বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ঐ তালিকায় ১৯তম। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ এই তালিকার উপরে উঠে এসে পৌঁছে ১৬তম। ২০০৮ সালে আরো উপরে উঠে বাংলাদেশ চলে আসে ১২তম অবস্থানে। ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক অবস্থান নাজুক থেকে আরও নাজুকতর হয়েছে। ২০০৯ থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই তালিকায় আমরা আবারো নিচে নামা শুরু করি, যা রাজনৈতিকভাবে আমাদের উন্নতির দিকে যাওয়ার লক্ষণ। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান চলে আসে ১৮তম। ২০১০ এ ২৪তম এবং ২০১১ তে সর্বশেষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। এই সর্বশেষ তালিকায় ১ম স্থানে আছে আফ্রিকার তিনটি দেশ সোমালিয়া, চাদ এবং সুদান। ব্যর্থ রাষ্ট্র সূচকটিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের বাইরেও সমাজে মূল্যবোধের উন্নয়নের নিমিত্তে যে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি নেয়া হয়েছে তার সঠিক বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। নারীনীতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নারী সমাজ তথা এই দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দীর্ঘদিন পর যা শেষ করতে না পারলে এই দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে না। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা মূল্যবোধের উন্নয়নের জন্য জরুরি, যে পথে বাংলাদেশ এখন হাঁটছে। সংবিধানে যে কলঙ্ক সন্নিবেশিত হয়েছিল সামরিক স্বৈরশাসকদের অগণতান্ত্রিক, হঠকারী আচরণের মধ্য দিয়ে তাও আজ পরিচ্ছন্ন হতে চলেছে। আমাদের সংবিধান আজ অনেকখানি কলুষমুক্ত হওয়ার পথে।
বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যে কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল তা আজ অন্তিম শয্যায়। পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে আবারও। বাংলাদেশ তার আপন শক্তিতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত করেছে। আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদকে কড়া গলায় না বলেছি এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প প্রতিফলিত হচ্ছে চারিদিকে। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বলতে চাই, ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না’। এদেশের শক্তি এবং সম্ভাবনা অপরিসীম, এই শক্তি এবং সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ তার আপন মহিমায় আবির্ভূত হবেই। আমাদের জয় নিশ্চিত।
http://www.shaptahik.com/v2/?DetailsId=5902
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×