somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসাগুলো তোমার প্রতীক্ষায়

০৭ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আছো তুমি? আজ অনেকদিন পর তোমাকে লিখতে বসলাম। এই লেখার মাঝে বিশেষ কিছু নেই। কারণ, পরবর্তী ১০-১৫ মিনিটে আমি যা লিখবো, তা গত এক মাস ধরেই আমার মনে ঘুরঘুর করছে। তুমি কেমন আছো, কেবল এতটুকু খবর জানতে মনটা ভীষণ কাঁদছে।

ক'দিন ধরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে তাই না? তোমার কি মনে পড়ে বৃষ্টি নিয়ে আমাদের দু'জনের স্বপ্নীল স্মৃতিগুলো? আমি বৃষ্টিকে অনেক মিস করতাম, কারণ বৃষ্টি আমাকে সবসময় তোমার কথা মনে করাতো। বৃষ্টি হলেই মনে হতো, তুমি এখন আমার পাশে থাকলে তুমি বৃষ্টিতে ভেজার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে দিতে। তোমার কি মনে পড়ে টুপটাপ বৃষ্টির মধ্যে আমরা যখন হাঁটতাম, আমি বারবার তোমার মাথার উপর আমার ব্যাগটা ধরতাম? তুমি তখন মুখটা ঠিক ঐ আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের মতোই কালো করে ফেলতে। তারপর আমি ব্যাগটা সরালেই তুমি হেসে উঠতে। ঠিক যেন মেঘের আড়াল থেকে বের হয়ে সূর্য তার দ্যুতি ছড়াচ্ছে।

আমি কেবল তোমার ঐ হাসিমাখা মুখটুকু দেখার জন্যই তোমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দিতাম না। অবশ্য তোমার আবার ঠাণ্ডা লেগে যায় কি না সেই ভয়ও আমার ছিল।

তোমার মনে আছে, সারাদিন বৃষ্টি হলে আমাদের প্ল্যান ছিল আমরা ভবিষ্যতে কাজ ফাঁকি দিয়ে ঘরে বসে থাকবো দু'জন? আমরা ঠিক করেছিলাম সারাদিন বৃষ্টি হলে সেদিন বারান্দায় বসে চা খাবো, দু'জনে মিলে রান্না করবো, তুমি আমার গায়ে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, আর আমরা দু'জন মন উজাড় করে রাজ্যের যত কথা বলবো।

তেমন দিন সত্যিই আর কখনো আসবে না? আমার খুব কান্না আসে তা ভাবতে।

তোমার কি মনে পড়ে, আমরা যতক্ষণ একসাথে থাকতাম, পুরোটা সময়জুড়ে আমাদের সঙ্গ দিতো আমাদের স্বপ্নগুলো। তোমার আর আমার স্বপ্নগুলো যেন নিজেরাই কথা বলা শুরু করে দিতো। আর তুমি-আমি দু'জনে হাত ধরাধরি করে সেই স্বপ্নগুলো মনে মনে কল্পনা করতাম।

আচ্ছা, তোমার কি মনে আছে প্রথম যেদিন তুমি আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলে? আমি সেইদিনের কথা কোনোদিন ভুলবো না। তুমি প্রায়ই আমার বুকে মাথা রাখতে, কিন্তু সেইদিনই প্রথম তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে। তোমাকে ঘুমুতে দেখে আমার অনেক ভালো লাগছিল। তখন বুঝতে পারছিলাম না এখানে ভালো লাগার কী ছিল। পরে মনে হলো, তুমি আমাকে কতো আপন ভেবে আমার বুকে শান্তিতে ঘুমিয়ে ছিলে, কে দেখলো, কে কী ভাবলো সেসব না ভেবে তোমার ঘুম পাচ্ছিল তুমি ঘুমুচ্ছিলে আমার বুকে। এতো মিষ্টি মূহুর্ত বুঝি সবার জীবনে আসে না।

তুমি কি জানো, তোমার প্রতিটা কথা আমার কাছে কতোটা আপন ছিল? হয়তো আমি আমার নিজের সমস্যার কারণে সবসময় সেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারিনি। কিন্তু তোমার প্রতিটা কথা আমি সবসময় নিয়েছি অনেক গুরুত্বের সাথে। ভালোবাসার মানুষ বলে তোমাকে কোনোদিনই এক মূহুর্তের জন্যও আমি অবহেলা করিনি। কখনোই তোমাকে কম গুরুত্ব দেইনি। ভেবেছি, কেবল তোমাকে হাসিখুশি রাখার জন্য হলেও তোমার সব কথা শুনে চলবো। তুমি তো আর আমার খারাপ চাইবে না যে তোমার কথা শুনলে আমার অনিষ্ট হবে, তাই না?

একটা ঝড় হয়েছিল জানো? সেই ঝড়ের তাণ্ডব লেগেছিল আমার মধ্যে। সে জন্য কিছুদিন তোমাকে সেভাবে গুরুত্ব দিতে পারিনি। বিশ্বাস করবে কি না জানি না, আমি সত্যিই খুব ডিপ্রেসড ছিলাম। তাই হয়তো সেই সময়টা জুড়ে তোমার সঙ্গে খুব ভালোভাবে কথাও বলতে পারিনি।

কিন্তু আমি সত্যিই আশা করেছিলাম যে আমার উপরের প্রতিক্রিয়ার আবরণটা ভেদ করে তুমি আমাকে অন্তর থেকে বুঝবে। আমি ভেবেছিলাম আমার সমস্যাগুলো বুঝবে, বুঝবে যে আমার এমন ব্যবহার মন থেকে আসছিল না, সে সবই সাময়িক সমস্যার ফল ছিল, যা অচিরেই ঠিক হয়ে যেত।

কত আশা ছিল, কত ভালোবাসা আর স্বপ্ন ছিল তোমাকে নিয়ে। আজ আশাগুলো হারিয়ে গেল, স্বপ্নগুলো মিলিয়ে গেল, শুধু পড়ে রইলো তোমার জন্য মনের সবটুকু ভালোবাসা।

ভালোবাসাগুলো আজও রয়েছে তোমার প্রতীক্ষায়। তারা বিশ্বাস করতে চায় না তুমি তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছো। তারা বিশ্বাস করতে চায় না তুমি তাদের আর কাছে টানবে না। তাদের সঙ্গে তাই আমিও থাকবো তোমার প্রতীক্ষায়।

তুমি আসবে বলে..তোমার পাওনা ভালোবাসাগুলো আবারও নিজের করে নিতে, আবারও নিজের অধিকারটুকু আদায় করতে, আবারও আমার বুকে নিজের জায়গা করে নিতে..


আমি আর আমার ভালোবাসাগুলো....তোমার প্রতীক্ষায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:৫৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল: আমার বৈষয়িক ভাবনা

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

এবার এসএসসিতে ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। ২২৬ মাদ্রাসায় একজনও পাশ করতে পারেনি। স্কুল মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি, শতভাগ ফেল!

এ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ মায়া

লিখেছেন সামিয়া, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:২৩


মানুষের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো পরিচয় দেওয়া যায় না। তাদের সঙ্গে ভালোবাসা থাকে, অথচ তাকে ভালোবাসা বলা যায় না। শ্রদ্ধা থাকে, অথচ শুধু শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×