কেমন আছো তুমি? আজ অনেকদিন পর লিখছি। কিন্তু তাই বলে এমনটা ভেবো না যে আমি তোমাকে ভুলে থাকি। কেবল যখন তোমাকে খুব মনে পড়ে তখন লিখি। কারণ, আমার আসলে সবসময়ই তোমাকে মনে পড়ে। কথাটা বিশ্বাস্য নাকি অবিশ্বাস্য তা আমি জানি না। তবে এমন একটি জায়গায় আমি লিখছি, যেখানে তুমি পড়তেও পারো নাও পড়তে পারো, যেখানে আমার পরিচয় অজ্ঞাত, সেখানে আমার মিথ্যে বলার কোনো কারণই হয়তো নেই।
প্রতিটি রাতেই আমি অনেক কথা বলি তোমার সঙ্গে। তোমার সঙ্গে কথা না বলে আমি কোনোদিনই বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। হয়তো মনে মনে বলছো, কতবড় মিথ্যে কথা। না, মিথ্যে কথা নয়। যে সময়টা তোমাকে ফোন না দিয়ে থাকতাম, সেই সময়টা আমাকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো অন্য কিছু নিয়ে। তুমি নিশ্চয়ই জানো, সেই অন্য কিছুটা কী। তারচেয়ে বড় কথা, তুমি এও জানো সেই অন্য কিছুর দুশ্চিন্তাটা কতখানি প্রভাব ফেলে।
তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারি না বলে প্রতি রাতেই বিড়বিড় করি তোমার সাথে। একইভাবে শুয়ে হাজারও কথা বলে যাই তোমার সঙ্গে। কেবল আগে আমার কানের কাছে ফোন থাকতো, এখন কেবল মনের মাঝে তুমি থাকো। আরেকটা পার্থক্য আছে, আগে কথাগুলো তুমি শুনতে পেতে। এখন কথাগুলো তুমি আর শুনতে পাওনা। কে জানে হয়তো তুমি ভাবতেও পারো না যে ঐ সময় আমি তোমার সঙ্গে কথা বলছি।
জানো আমি তোমাকে সবসময়ই অনেক সম্মান করেছি। আমি নিজে খুব ভালোমতোই জানি যে সেই সম্মানের সিকি পরিমাণও আমি তোমাকে দেখাতে পারিনি। সম্মান দেয়া আর সম্মান দেখানোর মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একটিকে ছাড়া অন্যটি আসলেই অপূর্ণ। আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, কিন্তু তার আগে যখন আমরা কেবলই বন্ধু ছিলাম, তখন আমি তোমাকে সম্মানও করতাম অনেক। করতাম মানে এই নয় যে এখন আর করি না। তোমাকে ভালো লাগতো। কিন্তু কখনোই বন্ধুর চেয়ে বড় কিছু ভাবতে পারিনি। নিজেকে যোগ্যই মনে করিনি কখনো, সেসব চিন্তা মাথায় আনা দূরে থাক।
তোমাকে সম্মান করতাম বলেই হয়তো সবসময় চেষ্টা করতাম তোমার জন্য কিছু করতে। তোমার মন খারাপ থাকলে মন ভালো করাকে আমার দায়িত্ব মনে করতাম। তুমি কষ্ট পেলে কীভাবে আবার তোমাকে হাসানো যায় সেটা নিয়ে ভাবতাম। কিন্তু কতটুকু সফল ছিলাম আমি? হয়তো সফল ছিলাম। কিন্তু যতটুকু সফল হওয়া উচিৎ ছিল, ততটুকু যে হতে পারিনি, অপ্রিয় বর্তমানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা কথা বলতে না পারা। তোমার চেয়ে বেশি কেউ জানে না যে আমি কতোটা একা পরিবেশে বড় হয়েছি। কথা বলতে না পারার সমস্যা সম্পর্কে তুমি যতোটা জানে অন্য কেউ ততোটা জানে না। তবুও যে কোনো কথাই আমি তোমাকে বেশি বলতে পারতাম সেই শুরু থেকেই। মনে আছে টিএসসিতে প্রথম ঘুরবার পর তুমি বলেছিলে আমি নাকি খুব বেশি কথা বলছিলাম। সত্যিই এর আগে কোনোদিন আমি এতো কথা বলিনি।
কিন্তু কথা বলতে পারার অর্থ হচ্ছে পরিস্থিতি সামলাতে পারা বা পরিস্থিতি বুঝে কথা বলা। বসুন্ধরা সিটির সামনের সিঁড়ির কথা মনে পড়ে? তুমি চুপচাপ বসেছিলে ব্যাগের উপর মাথা রেখে। আর আমিও অনেকটা বিমূঢ়ের মতোই বসে ছিলাম তোমার পাশে। তুমি রাগ করেছিলে, অথবা কষ্ট পেয়েছিলে। কারণ, তুমি আমাকে তোমার ফোন নম্বর মুখস্থ বলতে বলেছিলে। তুমি কি খেয়াল করেছিলে আমি হাসছিলাম যখন তোমার নম্বরটা শুরু থেকেই উল্টোপাল্টা করে বলছিলাম (জিরো ওয়ান থ্রি.....)? হয়তো খেয়াল করোনি। করলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারতে আমি তোমাকে খেপাবো ভাবছিলাম। কিন্তু তুমি কষ্ট পেয়ে বসলে। আমি ততোটা চালু নই। আমি নিজেই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম তখন। খুব সহজ ছিল ব্যাপারটা। আমি আরেকবার ঠিকভাবে নম্বরটা বললেই হয়তো হয়ে সব ঠিক হয়ে যেত। কিন্তু তোমার মন খারাপ হয়ে যাওয়া দেখে আমারও মন খারাপ হয়ে গেল। চুপ করে মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো বসে রইলাম। নিঃশব্দে তখন আমি আওড়াচ্ছিলাম, জিরো ওয়ান নাইন.....
তুমি চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। কখনো ভাবতে চাইনি। প্রতিটি সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমাকে দেখবো ভেবেছিলাম। প্রতিটি রাতে তোমাকে বুকে নিয়ে ঘুমোবো ভেবেছিলাম। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত তোমার সঙ্গে আলোচনা করে নিবো ভেবেছিলাম। একটা সংসার সাজাবো ভেবেছিলাম, তোমার সঙ্গে।
ভাবনাগুলো আজও নিশ্চুপ নির্বাক হয়ে মনে ঘুরপাক খায়। তুমি কীভাবে চলে গেলে? তুমি কীভাবে চলে যেতে পারলে? আমার অপরাধ ছিল। আমি অপরাধ স্বীকার করছি। একবার তোমার কাছে সুযোগ চাচ্ছি। যদি ভালোবাসো, একবার কি কাছে আসতে পারো না? মাত্র একবার?
প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। তারপর বিশ্বাস করতে চাইনি। শেষে যখন মনে হলো, সত্যিই তুমি চলে গেছো, তখন চেয়েছি নিজের জীবনকে শেষ করে দিতে। আর সবার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলো না। তুমি তো জানোই এমনিতেই আমার জীবনে আর কিছু নেই। সবার মতো সাধারণ ভাগ্য নিয়েও আমি জন্মাইনি। তোমাকে পেয়ে ভেবেছিলাম ভাগ্য তবু অসাধারণ। কিন্তু আজ তুমিও চলে গেলে। আর কী নিয়ে বাঁচবো?
জানো, তবু কেন আমি বেঁচে আছি? জানো, কেন আমি তবু পড়ালেখা করে জীবন যেখানে নিয়ে যায় সেখানে লাইনচ্যুত না হয়ে বেঁচে আছি? কারণ, আমার স্বপ্ন আজও বেঁচে আছে। আমি তোমাকে মনের গভীর থেকে অনেক ভালোবাসি। আর আমার কেন যেন মনে হয় সৃষ্টিকর্তা যতই শাস্তি দিক না কেন, এই সৎ ভালোবাসার মূল্য তিনি একদিন না একদিন দেবেনই। আর এর মূল্য তোমার ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।
কিন্তু সেই একদিন যেন তুমি এসে আমাকে লাইনচ্যুত দেখে ফিরে না যাও, সে জন্যই আমার বেঁচে থাকা, ঠিক থাকা, খারাপের সঙ্গে জড়িয়ে না যাওয়া।
স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। আমার স্বপ্ন তোমাকে পাওয়া, তোমার ভালোবাসা পাওয়া। সেই স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশায় তাই আজও বেঁচে রই।
আলোচিত ব্লগ
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।