somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজব সাজা ( লেখক --সুকুমার রায় । সন্দীপ রায়ের পিতামহ )

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিতার লেখাঃ-- Click This Link

"পন্ডিত মশাই , ভোলা আমায় ভ্যাংচাচ্ছে ।" " না , পন্ডিতমশাই , আমি কান চুলকোচ্ছিলাম তাই মুখ বাঁকা দেখাচ্ছিল ।" পন্ডিতমশাই চোখ না খুলিয়াই অত্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলিলেন , "আঃ ! কেবল বাঁদরামি ! দাড়িয়ে থাক।" আধ মিনিট পর্যন্ত সব চুপচাপ । তার পরই আবার শোনা গেল , "দাঁড়াচ্ছিস না যে ?" "আমি দাঁড়াব কেন ? তোকেই তো দাঁড়াতে বলল ।" "যাঃ আমায় বলেছে না আর কিছু ! গনশাকে জিজ্ঞেস কর । কিরে গন।শা , ওকে দাঁড়াতে বলেছে না ?" গনেশের বুদ্ধি কিছুটা মোটা , সে আস্তে আস্তে উঠিয়া গিয়া পন্ডিত মহাশয়কে ডাকিতে লাগিল , " পন্ডিতমশাই , ও পন্ডিতমশাই !" পন্ডিতমশাই বিরক্ত হইয়া বলিলেন , " কি বলছিস , বল-না ।" গনেশচন্দ্র ব্যাকুলভাবে জিজ্ঞেস করিল , " কাকে দাঁড়াতে বলেছেন পন্ডিতমশাই ?" পন্ডিতমশাই একমূহুর্ত কট্ মটে চোখ মেলিয়াই সাংঘাতিক ধমক দিয়া বলিলেন , " তোকে বলেছি , দাঁড়া !" বলিয়াই আবার চোখ বুজিলেন ।

গনেশচন্দ্র দাঁড়াইয়া রহিল । আবার মিনিটখানেক সব চুপচাপ । হঠাৎ ভোলা বলিল , " ওকে এক পায়ে দাঁড়াতে বলেছিল না ভাই ?" গনেশ বলিল , "কক্ষনো না , খালি দাঁড়া বলেছে ।" বিশু বলিল , " এক আঙুল তুলে দেখিয়েছিল , তার মানেই এক পায়ে দাঁড়া ।" পন্ডিতমশাই যে ধমক দেবার সময় তর্জনী তুলিয়াছিলেন একথা গনেশ অস্বীকার করিতে পারিল না । বিশু আর ভোলা জেদ করিতে লাগিল , শিগগীর এক পায়ে দাঁড়া বলছি , তা না হলে এক্ষুনি বলে দিচ্ছি ।"

গনেশ বেচারা ভয়ে ভয়ে তাড়াতাড়ি এক পা তুলিয়া দাঁড়াইয়া রহিল । অমনি ভোলা আর বিশুর মধ্যে তুমুল তর্ক বাধিয়া গেল । এ বলে ডান পায়ে দাড়ানো উচিৎ , ও বলে , না , আগে বাঁ পা । গনেশের মহা মুশকিল । সে আবার পন্ডিতমশাইকে জিজ্ঞাসা করিতে গেল , " পন্ডিতমশাই , কোন্ পা ?"
পন্ডিতমশাই তখন কি যেন একটা স্বপ্ন দেখিয়া অবাক হইয়া নাক ডাকিতেছিলেন । গনেশের ডাকে হঠাৎ তন্দ্রা ছুটিয়া যাওয়ায় সাংঘাতিক রকম বিষম খাইয়া ফেলিলেন । গনেশ বেচারা তাহার প্রশ্নের এরকম জবাব একেবারেই কল্পনা করে নাই , সে অত্যন্ত ভয় পাইয়া বলিল , " ঐ যা , কি হবে ?" ভোলা বলিল , " দৌড়ে জল নিয়ে আয় ।" বিশু বলিল . " শিগগীর মাথায় জল দে ।" গনেশ এক দৌড়ে কোথা হইতে একটা কিঁজা আনিয়া ঢক্ঢক করিয়া পন্ডিতমশাইয়ের টাকের উপর জল ঢালিতে লিগিল । পন্ডিতমশায়ের বিষম খাওয়া খুব চটপট থামিয়া গেল , কিন্তু তাহার মুখ দেখিয়া গনেশের হাতে জলের কুঁজো ঠকঠক করিয়া কাঁপিতে লাগিল ।

ভয়ে সকলেই গম্ভীর হইয়া রহিল , খালি শ্যামলাল বেচারার মুখটাই কেমন যেন আহ্লাদীগোছের হাসি-হাসি মতন , সে কিছুতেই গম্ভীর হইতে পারিল না । পন্ডিতমশাইয়ের রাগ হঠাৎ তাহার ইপর ঠিকরাইয়া পড়িল । তিনি বাঘের মতন গুমগুমে গলায় বলিলেন , "উঠে আয় !" শ্যামলাল ভয়ে কাঁদ-কাঁদ হইয়া বলিল , "আমি কি করলাম ? গনশা জল ঢালল , তা আমার দোষ কি ?" পন্ডিতমশাই মানুষ ভাল , তিনি শ্যামলালকে ছাড়িয়া গনশার দিকে তাকাইয়া দেখেন তাহার হাতে তখনো জলের কুঁজো। গনেশ কোন প্রশ্নের অপেক্ষা না করিয়াই বলিয়া ফেলিল , "ভোলা আমাকে বলেছিল ।" ভোলা বলিল , " আমি তো খালি জল আনতে বলেছিলাম । বিশু বলছিল , মাথায় ঢেলে দে ।" বিশু বলিল , " আমি কি পন্ডিতমশায়ের মাথায় দিতে বলেছি ? ওর নিজের মাথায় দেওয়া উচিৎ ছিল , তা হলে বুদ্ধিটা ঠান্ডা হোত ।"
পন্ডিতমশাই খানিকক্ষন কট্ মট্ করিয়া সকলের দিকে তাকাইয়া তারপর বলালেন , " যা! তোরা ছেলেমানুষ, তাই কিছু বললাম না । খবরদার আর অমন করিস নে ।"
সকলে হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিল , কিন্তু পন্ডিতমশাই কেন যে হঠাৎ নরম হইয়া গেলেন কেহই তাহা বুঝিল না । পন্ডিতমশাইয়ের মনে হঠাৎ যে তাঁর নিজের ছেলেবেলার কোন দুষ্টুমির কথা মনে পড়িয়া গেল , তাহা কেবল তিনিই জানেন ।

[ এ গল্প যখন প্রথম পড়েছি অনেক বার পদক্ষেপ নিয়ে শেষে পড়তে পেরেছি ; হাসির দমকে থামতে হয়েছে ঘনঘন ]

(সুকুমার রায় ; ৩০.১০.১৮৮৭ --১০.০৯.১৯২৩ , জন্মস্থান -কোলকাতা ।
উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর পুত্র । সত্যজিত রায়ের পিতা , সন্দীপ রায়ের পিতা মহ । )

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৬
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একে একে নিভিছে দেউটি.......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০০

একে একে নিভিছে দেউটি.......

আমার পিতৃ-মাতৃকূল এর প্রথম-দ্বিতীয় প্রজন্মের অর্থাৎ, দাদা-দাদী, মা-বাবা, চাচা-চাচী, ফুফা ফুফু এবং নানা-নানি, মামা-মামী, খালা-খালু কেউ বেঁচে নেই। মায়ের একজন চাচাতো ভাই খলিলুর রহমান(চান্দু) স্বাধীনতা যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুরের বাঁধনে গড়া মানুষের মন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮

সঙ্গীতের কোন ধারাতেই আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। অনেক ছোটবেলায় আম্মা আমাদেরকে কিছু কিছু কবিতা সুর করে মুখস্থ শোনাতেন। আমরা সেগুলো শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতাম। এখনও সেসব সুর করে গাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধের মাঝেই আম্মানে তিন রাত দুই দিন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এয়ারলাইন্স তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করায় আমাদের জর্ডানের আম্মানে অনেকটা বিনা পরিকল্পনায় তিন রাত অবস্থান করতে হয়। আমরা যখন কুইন আলিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছাই, তখন প্রায় মধ্যরাত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×