এক মেয়ে ডাক্তারে কথা জানি । করোনারী কেয়ার ইউনিটে ডিউটি করছে । রোগীদের সাথে তার সখ্যতা অন্য ডাক্তারদের তুলনায় একটু বেশী । সব রোগীকে সে নিজের লোক মনে করত । এক বৃদ্ধ রোগী নাম কুদ্দুস , প্রায় ৮০ বছরের মত বয়স । চেহারায় শিশুসুলভ মধুরতা ছিল । সম্ভবত: ৭ বা ৮ জন সন্তানের পিতা । বড় মেয়ের জামাই ছিলেন আইজি । সেই বড় মেয়ের যথেষ্ট বয়স , ভদ্রমহিলা যথার্থই ভদ্র । কুদ্দুস সাহেবের হার্টের অবস্থা ভাল না । একদিন বেশী খারাপ হয়ে গেল । সেই মেয়ে ডাক্তার বুঝে গেল উনি বেঁচে নেই । মনিটরে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে । তাড়াতাড়ি একজন সিনিয়র ডাক্তারকে ডাকতে পাঠিয়ে কার্ডিয়াক ম্যাসেজ চালিয়ে যাচ্ছিল , সঙ্গে এক ব্রাদার যে সব কিছু বুঝে নিচ্ছিল ইশারায় । সিনিয়র ডাক্তার এসে বুঝে গেলেন রোগীর অবস্থা । মেয়ে ডাক্তারকে ইশারায় সরে যেতে বললেন । সে সরে যেতে যেতে শুনল রোগীর উপস্থিত লোকদের বলে দেয়া হচ্ছে সেই দু:সংবাদ , যে সংবাদ অমোঘ জেনেও স্বজনেরা মেনে নিতে পারে না । মেয়ে ডাক্তারটি দ্রুত চলে যাচ্ছিল , তবু শেষ রক্ষা হল না । কুদ্দুস সাহেবের এক ছেলে মেজর , চিৎকার করে সে প্রায় জাম্প করবার মত মেয়েটির সামনে পড়ল আড়াআড়ি । ডাক্তার মেয়েটিকে ব্রাদার এবং সিস্টার মিলে তাড়াতাড়ি পাশের একটা রুমে নিয়ে এল । সেখানে এসে শুনল কুদ্দুস সাহেবের বড় মেয়ে মেয়ে ডাক্তারকে খুঁজছে আর নাম ধরে বলছে ," বিশ্বাস করিনা আব্বা নেই , উনি বললে বিশ্বাস করবো , আপনারা ওই আপাকে জিজ্ঞেস করেন " । এক সময় মহিলাকে নিয়ে আসা হল মেয়েটির কাছে । ডাক্তার মেয়েটি তার পিতৃসম এক রোগীর মৃত্যুতে তখন কষ্ট পাচ্ছিল , চোখে পানি মুছে নিল । সংযত হবার চেষ্টা করে মুখ ফুটে বলল , " হ্যা আপনারা যা শুনেছেন , ঠিক দু:খিত "। মহিলা চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন , মেয়ে ডাক্তারটি কষ্ট চেপে রাখল ; ডাক্তার হবার যন্ত্রনা কতখানি সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেল ।
সেই সাথে এটাও টের পেল মানুষকে ভালবাসলে প্রতিদান পাওয়া যায় । সেই কুদ্দুস সাহেবের পরিবার বুঝে গিয়েছিল মেয়েটি শুধু ডাক্তার ছিল না , একজন মানুষও ছিল ।
দু:সংবাদ দিতে গেলে মানুষ হিসেবে তাই অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ রোবটের মত করে করতে হয় । নিরুপায় ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

