somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পে গল্পে জীবন! অথবা জীবনের গল্প

১১ ই অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চোখের কোনে কয়েক টুকরো পুঁই ডাটার সবুজ আর মনে পাটিসাপটা পিঠা'র ঘন ক্ষীরের ঘ্রাণ নিয়ে দুপুর টা পার করলো রমিজা। সেই কোন ভোর বিহানে সূর্যের আদুরে আলোয় ঘুম ভেঙেছে, কিছু শিউলি তখন ও ডালের সখ্যতায় জড়াজড়ি করে ছিল শিশিরে ভিজে। এই কয়েক'টা মাস বেশ মন্দা চলে, যখন বেলি ফুল আর দোলন চাঁপায় অভিমান আসে শ্রাবণ ঢল বিরহে।
এক বকুল ই রিক্ত হাতে ফেরায় না সারা বছর… এভাবে বৈশাখে কৃষ্ণচুড়া , মৌসুমের প্রথম ফুটতে চাওয়া বেলীফুল স্বর্ণচাঁপা আর সোনালু জমিয়ে তিন জন মিলে সংসার টা টিমটিমে আলোয় টিকে আছে। বর্ষার শেষ আর শরতের শুরু সামনে পূজার মাস! এর পর শীতে সমস্ত ক্যাম্পাস উৎসবে মুখর। টি এস সি , কলা ভবনে এ সময়ে আনন্দ হিল্লোলে যতখানি উত্তাপ বিলায় ; ভাঙা চালায় উত্তরে হাওয়া ততটাই হিমেল নিঃশ্বাস ফেলে।


- কিরে রমিজা আজ সকাল সকাল হাত খালি ? সব মালা বেচা শেষ ?

-- হ আপা, আউজকা একাডমি তে ক্যারা জেন আইছিল; লগে লগে কিন্না হালাইছে।

- তো এখন ও ঘুরিস ক্যান ?

-- ঘুরতাছি নাসিমার লিগা, রুপম মামা র লিগা বইয়া রইছে, কান্তাছে ; কয়ডা লজেন দিয়া পাডাইছিলাম লাইবেরির সামনে। কেউ কিনে নাই ।

- রুপম কে ?
সেই যে নাসিমা কে যে মা ডাকে ?

-- হিহিহি , হ
উনার লগে দেখা হইলেই সব লজেন কিন্না হালায়।


- আয় তাহলে বসি, রুপম ভাই আসুক ; ততক্ষণ আমরা গল্প করি। সকালে কি খেয়েছিলি ?

-- কিচ্ছু খাওনের সুময় আঁছিল না আফা, দৌড়াইয়া গিয়া কালীবাড়ির শেফালি কয়ডা টোকাইয়া মা'র কাছে দিয়া আইছি মালা বানানের লিগা
হেরপর আপনেগো হলের রাস্তার ডি। মায় মালা বানাইয়া রাকছে আমি লইয়া আইতে সুময় দেহি বাস নামতাছে একাডোমি তে।
মা'র তো হাঁপানি জুড়ে কতা কইতারে না ; হেরপর ও পিছে পিছে চিল্লাইছে , " পান্তা বাত কয়ডা খাইয়া ল , খাইয়া ল।


- খাইলি না ক্যান ?

-- আমি না খাইলে , ঐ কয়ডা পান্তা তে নাসিমা আর মায় সন্ধ্যা পরজন্ত খাইতে পারব। আর চাউল লাগব না। আমার মনডায় পুঁইশাগ দিয়া ইচা মাছের চচ্চড়ি খাইতে চাইছিল। কিন্তু মাছ পামু কই ? হের লিগা না খাইয়া টেকা জমাইতাছি বিকালে খালু মাছ আইন্না দিবো।


- খালু কে পাইলি কই ?
-- আমার ছোড খালার জামাই , ঐ যে বাইয়া গো হলে দারোয়ান; হেই ই বাজানের মরণের পর আমগো এহেনে আনছে
তয় হেরা ও গরীব আমাগো খাওয়াইব কেমনে ? আমার মায় ও বেশিক্ষুন চলতে পারে না, অহন আমি ই টোকাই ফুল


- স্কুলে গেছিলি কখনো ?

-- আংগো বাজানে দিছিল ইছকুলে বত্তি কইরা , কইছিল আমাগো রমিজা পইড়া বড় অইয়া ইছকুলের আফা হইব। সন্দর সন্দর শাড়ি ফিনবো।


- এই যে এখানে সারদিন ঘুরিস কেউ ঝামেলা করে নাই ?

-- এহেনে তো সবাই বালো, বাই রা আপনেরা ফুল কিনেন , নাসিমা তো দেকতে সুন্দর ওরে সবাই আদর ও করে। আমারে বিকালে পড়ায় ও । খালি ঐ যে কাম করে কতডি ছ্যারা ! হেরা দেক্লেই বকে। কয় সব ফুল কি তুই ই লইবি ?


- আচ্ছা নে সিঙ্গারা খা আমার সাথে।

-- তয় আমার জাল বেশি পছন্দ না, আমারে আপনে পিডা দিয়া দেহেন কমছে কম ৫ টা খাইয়া দেহামু। আমরা সামনের মাসে নানি'গো বাইত্তে যামু মা' য় কইছে পাটিসাপটা পিডা খাওয়াইব। আমার উপড়ের চামড়া ডা বাল্লাগেনা আঙুল দিয়া বিতরের থন সব ক্ষীর বাইর কইরা আগে খাই। বাজান হের লাইজ্ঞা সব সুময় তুলতুইল্লা ক্ষীরা আমার লেগা থুইয়া দিত।


তের বছরের রমিজা, ছয় এ নাসিমা আর তিরিশ পার করা রুগ্ন মা -
এই নিয়ে কালীবাড়ি সংলগ্ন ঝোপড়া তে ওদের সংসার। লিকলিকে ফড়িঙ আনন্দে যে পা দু' টো সখিদের সাথে পাল্লা দিয়ে তুমুল উৎসাহে ফুল কুড়াতো , আজ সেটা প্রয়োজন। ওর বাজান বেঁচে থাকলে হয়ত এই আশ্বিনেই তালের পিঠের ধুম লাগত।
পাটিসাপটা পিঠের মউমউ মৌতাতে সকাল গুলো হাজির হত আলতা রাঙ্গা পায়। পরের আঘ্রায়ন ই ছিল পরবের , ছিল ঈদ ঈদ আনন্দ ওমের। পদ্মার ভাঙন তাদের এনে ফেলেছে এখানে। যে রমিজা উপচে পরা ফুলের সাজি নিয়ে ঘরে ফিরত, এখন সে দুঃস্বপ্নের সাজি বয়ে বেড়ায়।


-- দ্যাশে আমাগো চালের উপ্রে পুইশাগ অইত, কত খাইবেন আপনে ? মা' য় হ্যাতো ই রান্ত। আর ভিজা পিডা লম্বা পাডিসাপ্টা পিডা এগুলি ও সব .........।


কথা গুলো বলতে বলতে চকচক করে উঠল রমিজার চোখ, পিঠের স্বাদের ঢোক গিলে ফেললো নাসিমা কে দেখে।
তারপর !! হাত ধরাধরি করে নিজেদের ঝুপড়ি'র দিকে চলল। হয়ত সেই পুঁইডাঁটার মাঝে চিংড়ি সবুজ চচ্চড়ি ততক্ষণে চোখের মাঝে বাসা বেঁধেছে।


ছবিঃ https://sayingimages.com/sibling-quotes/


এটাকে আসলে গল্প বলা যাবে না ; আমার ক্যাম্পাস জীবনের ঘটনা। আমার আগের লেখায় রাকু হাসান কে বলেছিলাম পছন্দমত একটা থিম দিতে । তারপর ই এই লেখা। অনেক অনেক ধন্যবাদ রাকু হাসান আমার না বলা কথাগুলো মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫২
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বলো দুর্গা মা কি... 'জয়'

লিখেছেন অর্পিতা সাহা., ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৫:০২



অবশেষে, সেফ ব্লগারের খাতায় আমার নামটাও উঠলো:
ব্লগের সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা। মডুদের থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেয়েছি। মডারেশন স্ট্যাটাস সেফ, মানে আমি নিরাপদ ব্লগার। ভাবতেই কেমন লাগছে!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রিবিউট টু 'এবি'

লিখেছেন কি করি আজ ভেবে না পাই, ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫০



'সেই তুমি' আর গাইবেনা কেউ
সেই দরাজিয়া স্বরে;
'রুপালী গিটার' ঠিকি ফেলে আজ
চলে গেলে চিরতরে।

'শেষ চিঠি' হায় শুনিয়েই গেলে
এই ঘুম ভাঙ্গা শহরে;
পালাতে চাইলে পালানো কি যায়
হৃদে যে দাপটে রহো রে।

কষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায় পড়েছে কার পায়ের চিহ্ন /// অনন্যসাধারণা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও অদিতি মহসিনের রবীন্দ্র সঙ্গীত

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:০৬



১৯৮৯ সালের মার্চ-এপ্রিলে সিলেট শহর থেকে আমি প্রথম ওয়াকম্যান কিনি এবং ঐদিনই ৩টা ক্যাসেট কিনি যার মধ্যে একটা ছিল রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অ্যালবাম (নাম মনে নাই)। ৩টা ক্যাসেটই ঘুরেফিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হেমন্তিকা

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:০০




এই যে অঝোর রাত্রি নিশীথ যাচ্ছে কেটে ভালোবেসে
বাড়ছে নেশা মেহুল সুবাস বাড়ছে তৃষা শব্দে সুহাস;
কি আসে যায়!
আজকে যদি শরত কাশে রোদ্দুরে রূপ তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশাচর

লিখেছেন কথার ফুলঝুরি!, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১:০৩



রাত ১১-৫০ । বেস্ট ফ্রেন্ড কে অনলাইন এ ম্যাসেজ দিলাম

কি করিস ?
এইতো এখন ঘুমুতে যাবো। তুই কি করিস ?
মিস করি, তাকে :#|

ফ্রেন্ড এর রিপ্লাই
দূরে গিয়া মর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×