somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবং শেষ নবি (অ খাতামান্নাবীন)- ১/২

১৮ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা কানা মোহাম্মাদুন আবা আহদিম ম্মির রিজ্জালিক্বুম অলা কির রাছুলিল্লাহি অ খাতামান্নাবিন। [৩৩: ৪০]

অনুবাদ: মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের/মানুষের পিতা নহেন; বরং তিনি আল্লাহর রাছুল ও নবিদের সিল্/শেষ নবি।

আয়াতটি প্রধানতঃ দুটি ভাগ অতঃপর দুটি উপভাগসহ মতবাদের ভিত্তিতে মোট চার ভাগে বিভক্ত, ভাগগুলি নিম্নরূপ:

মোহাম্মদ:
১. পুরুষের পিতা নহেন। ২. মানুষের পিতা নহেন। ৩. নবিদের সিল্। ৪. শেষ নবি।

উল্লিখিত আয়াতটি মুসলিম বিশ্বে গুরুত্বের দিক থেকে সর্ব প্রধান ও শ্রেষ্ঠতম বিতর্কিত (যদিও বিতর্কের আওতা সীমিত); যেহেতু ইহা মৌলিক ধর্ম বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, আয়াতটির সঠিক তাৎপর্য অনুধাবনে ভূল করলে যাবতিয় ধর্ম-কর্ম, ইহ-পরকাল বর্বাত হওয়ার আশংকা আছে।

এতে উল্লিখিত রিজ্জালুন ও খাতাম শব্দদ্বয় বিতর্কের প্রধান বিষয়বস্তু।রাজুলুন এর বহুবচন রিজ্জালুন অর্থ পুরুষ(গণ) বা মানুষ(গণ); শব্দটির অর্থ কেহ পুরুষ আবার কেহ মানুষ হিসাবে গ্রহণ করলে বিতর্কের সুচনা হয়। মানুষ হিসাবে যারা গ্রহণ করেছেন; তাদের বিশ্বাস যে হযরত মুহাম্মদ প্রকৃতপক্ষে কোন মানুষ নন,বরং মানুষ বেশে স্বয়ং আল্লাহ! তাঁর জন্ম-মৃত্যু একটা অনুষ্ঠান মাত্র।
অবিকল বিশ্বাস বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও হিন্দুদের মধ্যেও প্রচলিত আছে। যেমন: যিশুকে অনেকে সান অব গড আবার কেউ গড বলেও বিশ্বাস করেন। বৌদ্ধগণ বুদ্ধকে ভগবান ভাবেন; হিন্দুগণ তাদের দেবতা-অবতারকে ভগবানও ভাবেন।

মুসলিম বিশ্বের শীয়া, সুন্নী, ওহাবী, হানাফী, শাফেঈ, হাম্বেলী, মালেকী, আহ্‌মদিয়া, ইত্যাদি দল উপ-দলগুলি স্ব-স্ব বৃত্তে থেকেই সম্মিলিতভাবে পুনরায় প্রধান দুটি দলে বিভক্ত: ক) শরিয়ত খ) মারেফত।
কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও জাকাত ইত্যাদি ৫ম স্তম্ভে যারা ইসলামকে বেঁধে রেখেছেন তাদেরকে প্রধানতঃ শরিয়তী বলা হয়; পক্ষান্তরে যারা ঐগুলি প্রত্যাখ্যান করতঃ মাত্র ধ্যান-সাধন, জিকিরে বিশ্বাসী তাদের প্রধানতঃ মারেফাতী বলা হয়।
মারেফাতীগণ এমনকি শরিয়তী অনেক আলেম-আল্লামাদেরও বিশ্বাস যে, মোহাম্মদ আসলেই মানুষ নন। এ দুটি দলের মতবাদ এবং ধ্যান-ধারণা পরস্পর বিরোধী বা বিপরীতমুখী হলেও তাদের বিশ্বাসগুলি ঐ একই ছেহাছেত্তা এবং ঐ একই ছেহা খামছার উপর নির্ভরশীল। তাদের ঐ বিশ্বাসগুলির স্ব-পক্ষের কিছু উল্লেখযোগ্য ধারা নীচে প্রদত্ত্ব হলো:

১. জগত সৃষ্টির অনেক পূর্বে (কত পূর্বে! তার হিসাবও নেই, অনুমানও নেই-লেখক) আল্লাহ মোহাম্মদকে সৃষ্টি করে ৭ম আকাশে ময়ুর করে রাখেন। ময়ুরের মুকুটটি হযরত আলী; ময়ুরের গলার হার বিবি ফাতেমা এবং দুই কানের লতি দুটি হযরত হাসান ও হোসেনের নমুনা ; এনারা পাক-পাঞ্জাতন নামেও প্রসিদ্ধ। [দ্র: শীয়া বা মারেফাতিদের সাহায্য নিন।]
অতঃপর লালন শাহর একটু ব্যতিক্রম দর্শন লক্ষনীয়:

পাক পাঞ্জাতনে নবিজী চার যোগে হইল উদয়
এক সঙ্গেতে পাঁচটি তারা থাকে সেই আকাশের গায়।
হাসান হোসেন কানের বালি,
গলায় হার হয় হযরত আলী
ছেরের মুকুট হযরত রাছুল
মাঝখানেতে ফাতেমা রয়।
[ লালণ শাহের মরমী দর্শন; মো: সোলায়মান আলী সরকার, পৃ: ২০২]

২. হযরত আদম গন্দম ফল খাওয়ার অপরাধে আল্লাহর দরবারে সেজদায় লুটিয়ে পড়েন। অতঃপর মাথা তুলেই দেখলেন আল্লাহর আরশের গায়ে লেখা, “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাছুলাল্লাহ।” আদম ঐ নামের রহস্য জানতে চাইলে, আল্লাহ আশ্চর্য্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আদম! তুমি এ নাম কোথা থেকে শিখলে? আদম বললেন, আপনার আরশের গায়ে লেখা দেখেছি। অতঃপর আল্লাহ বললেন, তুমি ঠিকই দেখেছ এবং ঠিকই বলেছ; মোহাম্মদ আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্দা, সবকিছু সৃষ্টির পূর্বে সর্ব প্রথম আমি মুহাম্মদকে সৃষ্টি করেছি; অতঃপর তারই নূরে বিশ্ব ব্রম্মান্ড সৃষ্টি করেছি। মোহাম্মদকে সৃষ্টি না করলে আমি কিছুই সৃষ্টি করতাম না। তাকে পাঠাবো সর্বশেষে।” অতঃপর মোহাম্মদ নামের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ বলেন, ঠিক আছে আমার হাবিবের (দোস্ত) দোহাই দিয়ে তুমি যখন ক্ষমা চাইলে, তখন আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম-। [ বোখারী, আজিজুল হক; ৫ম খ. ৫ম সংস্করণ, পৃ: ৫-৭; হামিদিয়া লাইব্রেরী]।

৩. মোহাম্মদ আউয়াল, আখের জাহের, ও বাতেন। অর্থ: আদিতে মোহাম্মদ ও অন্তে মোহাম্মদ; ব্যক্ত মোহাম্মদ ও অব্যক্ত মোহাম্মদ; মধ্যে মোহাম্মদ এবং তাদের সবাই মোহাম্মদ। [দ্র: কোরান দর্শন-১; ১ম প্রকাশ, ২০০০ইং সদর উদ্দিন আহ্মদ চিশতী; পৃ: ২]

৪. একদা বিবি আয়শা খেলাচ্ছলে গামছার দুই প্রান্ত ধরে মহানবিকে মাঝে রেখে নিজের দিকে টেনে আনতে গেলে শুধু গামছাই চলে আসে। মহানবি যেখানে ছিলেন, ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন।[ দ্র: হাদিছে রাছুল, আলী হায়দার; ১ম. প্রকাশ, তাজ কোং]

৫. মহানবির অমানুষিক যৌন শক্তি ছিল। একই রাতে বা দিনে [মধ্যবর্তী ফরজ গোসল ব্যতিরেকে] ৯/১১ জন বিবির সহিত সংগম করতেন, যা পৃথিবীর মানুষের পক্ষে সম্ভব নহে। এমনকি ৩০ জন বিবির সঙ্গে পর পর যৌন মিলন করার ক্ষমতা ছিল। [ বোখারী, ১ম খ. আ. হক; ১২ প্রকাশ, পৃ: নং- ১৪৫; হামিদিয়া লাইব্রেরী]।

৬. চন্দ্র-সূর্যের আলোতে জীবের মত রাছুলের কোন ছায়া পড়তো না। [দ্র: হাদিছে রাছুল:, ১ম প্রকাশ, তাজ কোং; তারিখে বাগদাদ-১০/২৫১, ২৫২; মজমুয়াহ, পৃ: ২৩১]

৭. আয়াতটিতে লেখাই আছে যে তিনি কোন মানুষের পিতা নন।

পুরুষ হিসাবে যারা বিশ্বাস করেন তাদের যুক্তি হলো:
৮. মহানবির ছেলে-সন্তান শৈশব/আতুরেই মারা যান। তাই তাঁর বংশ/ধর্ম রক্ষার জন্য জীবীত পুরুষ সন্তান ছিল না বলে কাফেরগণ রাছুলকে লেজ কাটা বলত; [কোরান, ৯বম মুদ্রণ, ই. ফা.; ফুটনোট নং-৫৭৪]

৯. কথিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন বলতে ততকালীন জীবীত কোন পুরুষের পিতা নন বুঝিয়েছে।

১০. মহানবির পালক পুত্র যায়েদের তালাক দেয়া বিবিকে (জয়নব) মহানবি বিয়ে করায় ততসমাজে বিতর্কের সৃষ্টি হয়; তাই তা খন্ডানোর জন্য আল্লাহ আয়াত নাজিল করেন যে মোহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের (যায়েদের) পিতা নন।” [ ৩৩: ৩৭, ৩৮]

উল্লেখযোগ্য পর্যালোচনা:
ক. আয়াতটির অনুবাদে প্রধান দুটি অংশের একের সঙ্গে অন্যের কোনই সামঞ্জস্য নেই; অর্থাত মোহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের/মানুষের পিতা নন কিন্তু আল্লাহর রাছুল ও শেষ নবি; অনুবাদটি দিয়ে মূলতঃ কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়; কারণ তিনি মানুষ বা পুরুষের পিতা বা তত সমাজের জীবিত পুরুষের পিতা হলে কি রাছুল-নবি বা শেষ নবি হতেন না? পিতৃত্বের সঙ্গে শেষ নবিত্বের কোন সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।

খ. কোরান ঘোষণা করে, “হু অল আউয়ালু, অল আখিরু, অজ্জাহিরু, অল বাতিনু অহুঅ বিকুল্লে শাইয়ীন আলীম"। [৫৭: ৩] অর্থ: তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত এবং তিনিই সর্বময় সর্বজ্ঞ। অতএব ৩ নং ধারাটি কোরানের সম্পূর্ণ বিপরিত তথা শিরকী।

গ. জগত সৃষ্টির পূর্বে মুহাম্মদকে পশু-পক্ষী অর্থাত ময়ুর বানিয়ে রাখা, মনুষ্য জাতি বা একজন নবির জন্য বড়ই অপমানের বিষয় বটে! শুধু তিনিই নন বরং তার পরিবার শুদ্ধ সকলকেই মারেফাতী বা কাল্পনিক পশু থেকে আগত বলে সাব্যস্ত করেছেন! পক্ষান্তরে বিবর্তনবাদের মহা আলেম হযরত ডারউইনকে কাফের বলে ঘোষণা করেন। এমন কিচ্ছা-কাহিনীর সঙ্গে কোরানের কোনই সম্পর্ক নেই।

ঘ. পাক অর্থ পবিত্র, পাঞ্জা অর্থ পাঁচ (৫) তন্ অর্থ দেহ; পাক পাঁঞ্জাতন বলতে ৫ জন পবিত্র দেহধারী এবং তাঁরা হলেন যথাক্রমে: মুহম্মদ, আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসেন। এই পাঁঞ্জাতন কমিটিসহ তাদের আবার ১৪ মাছুমের আর একটি বংশভিত্তিক উপ-কমিটিও আছে। ধারণাটির ধারক ও বাহক প্রধানতঃ শীয়াদের; কিন্তু তাই বলে জন্ম থেকেই ঈসা নবি, ধর্ম তথা সকল নবির ধর্ম পিতা ইব্রাহিমসহ অসংখ্য নবি-রাছুল, যাঁদেরকে এমনকি কথিত পাঁঞ্জাতনের প্রধান মুহাম্মদ স্বয়ং তাদেরই উম্মত, তাদেরই প্রণীত বিধান (সুন্নত) তিনি সংস্কার ও পুর্ণবহাল করেছেন, অথচ তারা পাঞ্জাতন কমিটির সদস্য হওয়ার উপযুক্ত ছিলেন না! এমন দর্শণ বিশ্বাস অযৌক্তিক। তাছাড়া প্রকৃত দরবেশ, গাউছ-কুতুব আমাদের গুরুগণ পাক-তন্ না হলে বা না হতে পারলে! অথবা কোরান অনুসরণ করে যদি সাধারণ মানুষ পাক-পবিত্র না হতে পারে তবে কোরানের মূল্যায়ণ ও ধর্ম-কর্ম এখানেই ফুরিয়ে যায়। সুতরাং ধারণাটি সম্পূর্ণ কোরান বহির্ভূত।

ঙ. উপরোল্লিখিত ২ নং ধারাটি সাক্ষি দেয় যে, আদম যা জানতেন আল্লাহ তা জানতেন না, আদম যা দেখেছেন আল্লাহ তা দেখেও দেখেন নি ; আদম কিভাবে জানলো! তার মানে আদম অন্য কোন আল্লাহর কাছ থেকে জানলো! এই চিন্তা করে আল্লাহ মানুষের মত তাজ্জব হয়েছেন অথবা আল্লাহ জেনেও না জানার ভান্ করেছেন ইত্যাদি! আল্লাহ সম্বন্ধে এই উদ্ভট, বর্বর ধ্যান-ধারণা প্রকৃত জ্ঞানীদের ধর্ম বিশ্বাসে হতাশ করেছে। আদমকে তার গন্দম ভক্ষণের অপরাধ [নারী সঙ্গম] যদি ক্ষমাই করতেন তবে তিনি বেহেস্তেই থাকতেন; ক্ষমা করেননি বলেই অপরাধের শাস্তিস্বরূপ দুনিয়া নামক দোযখে নিক্ষেপ করেছেন। অতএব সে রূপক আয়াতটি পুনঃ গবেষণার দাবি রাখে।

চ. পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, মহানবি ছোটবেলা থেকেই চূড়ান্ত ভদ্র, সত, আদর্শ, নির্লোভ, পর্দানশীল, কিন্তু নীতিতে ছিলেন অচল, অটল। এমন চূড়ান্ত আদর্শবান, রক্ষণশীল মহাপুরুষ দিনে-রাতে কখন, কতজন বিবির সঙ্গে সঙ্গম করতেন তা ছাহাবাদের স্বচক্ষে দেখা বা শোনার কথাই নয় এবং জিজ্ঞাসা করার ধৃষ্ঠতা কারো থাকার কথা নয়!
কথিত হয় মহানবির ১৩ জন বিবি ছিলেন অথচ ৩০ জন বিবির সঙ্গে পর পর যৌন মিলনে সক্ষম ছিলেন! ইত্যাদি গোপনীয় বিষয় বোখারীগণ কিভাবে নিশ্চিত হলেন!! পুত-পবিত্র নবির নামে প্রকাশ্যে বই পুস্তকে জঘন্য মিথ্যা অপবাদ আর কতকাল কথিত আলেম-আল্লামাগণ প্রচার করবেন! আর কত কালই বা প্রকৃত ধার্মিকগণ সহ্য করবেন!
যৌন বল্ই যদি আল্লাত্বের মাপকাঠি হয় তবে শ্রীকৃষ্ণের, ছোলায়মান, শত/হাজার গোপী ছিল বলে কথিত হয় ; তাদেরকে শরিয়ত-মারেফত কোন আসনে বসালেন! আমেরিকার যৌন সম্রাট মরহুম ভগবান রজনীশকে তারা কি চোখে দেখেন!

ছ. ৯ নং ধারণাটি সম্ভবতঃ রাশাদ খলিফাও শক্তিশালী যুক্তি মনে করেন যে, তোমাদের বলতে উপস্থিত সকলকে বুঝিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইহা নিতান্ত দূর্বলই নয় বরং অবান্তর; কারণ কোরানে অনুরূপ শত শত আয়াত রয়েছে, যেমন: ১. আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্থ রাছুল (২৬: ১৬২)। ২. সৃষ্টির মধ্যে তোমরা তো কেবল সমকামীতায় অভ্যস্ত (২৬: ৬৫)। ৩. তোমরা কতক নবির প্রতি অহংকার করেছ, কতককে অস্বীকার করেছ! আবার কতককে হত্যা করেছ (২: ৮৭)।
আলোচ্য বাক্যগুলিতে তোমরা অর্থে একমাত্র রাছুলের সময়ে উপস্থিত বা জীবীত লোকদের অবশ্য অবশ্যই বুঝানো হয়নি!

জ. ছেলে হোক, মেয়ে হোক, আর আঁতুড়েই মারা যাক কি বেঁচে থাক! এমনকি মৃত ভুমিষ্ঠ হলেও জন্ম দাতা পিতা খেতাবটি রহিত হওয়া বা মুছে ফেলার যুক্তি বা ক্ষমতা বিশ্বের কারো জানা আছে বলে অজানা নেই।

ঝ. পিতা সে পুরুষের হোক কি মেয়েরই হোক পিতা সে পিতাই। পুরুষের পিতা বা মেয়ের পিতা বলে পার্থক্য করার পিছনে কোন আধ্যাত্বিকতা বা গুরু রহস্য নিহিত আছে বলে মনে হয় না।

ঞ. মুহাম্মদ কোন মানুষের বা পুরুষের পিতা সম্বন্ধে ঘোর মতবিরোধ থাকলেও মুহাম্মদ জীবীত বা মৃত নারী-পুরুষের সন্তান এতে কারো সন্দেহ বা বিতর্ক নেই!

ট. মুলতঃ মহানবি নারী-পুরুষ উভয়েরই পিতা। ৫ ছেলে: কাসেম, তৈয়ব, তাহের, ইব্রাহিম, আব্দুল্লাহ; ৪ মেয়ে: জয়নব, কুলসুম, রুকাইয়া ও ফাতেমা মোট ৯ জন ছেলে-মেয়ের পিতা ছিলেন। [দ্র: বেহেশতী জেওর, ৬ষ্ঠ খ. পৃ: ৬৫১ আশরাফ আলী থানভি]

ঠ. মহানবি যায়েদের পিতা ছিলেন না। যায়েদ ছিল তাঁর পালক পুত্র; ইহা ছাহাবা এবং শুধু মোসলেগণই নন, এমনকি অমুসলিমদেরও অজানা ছিল না; আর এ নিয়ে কোন বিতর্কও হয়নি। বিতর্ক হয়েছিল যায়েদের তালাক দেয়া বিবি জয়নবকে নিয়ে। বস্তুতঃপক্ষে পালক পুত্রের তালাক দেয়া বিবিকে পালক বাবার বিয়ে প্রথা অতীত গ্রন্থে স্বীকৃত ছিল এবং তা স্বাভাবিক বলেই কোরান সাক্ষি দেয়। কারণ রক্তের সম্পর্কহীণ পালক সন্তানের তালাক দেয়া নারীকে সাধারনতঃ বিয়ে করতে পারে। কিন্তু বিরোধী পৌত্তলিকগণ ইহাকে একটি ইসু হিসাবে ব্যবহার করেন। বিষয়টি নিয়ে ততসমাজে যখন বিতর্কের সৃষ্টি হয়, তখন তা খন্ডানোর জন্য নিম্ন আয়াতটি নিখুঁত এবং চূড়ান্তভাবে ফয়সালা দেয়:
“স্মরণ কর! যখন তুমি সেই ব্যক্তিকে, যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন এবং তুমিও অনুগ্রহ করেছিলে; বলছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর এবং তুমি নিজ অন্তরে যা গোপন করছিলে আল্লাহ উহা প্রকাশ করে দিলেন এবং তুমি মানুষকে ভয় করছিলে, অথচ আল্লাহকেই তোমার অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন তার (জয়নবের) ইচ্ছা পূর্ণ করলো তখন আমরা তোমার সঙ্গে তার বিয়ে দিলাম, যেন মোমেনদের জন্য তাদের পোষ্যপুত্রগণের স্ত্রীদের ব্যাপারে যখন তারা তাদের সম্বন্ধে (তালাক) ইচ্ছা পূর্ণ করে, তখন (তাদের বিয়ে করতে) কোন সংকোচ না হয় এবং আল্লাহর ফয়সালা পূর্ণ হওয়া অবধারিত ছিল।
আল্লাহর আদেশ কার্যকরী হয়েই থাকে। আল্লাহ নবির জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা পালন করতে তার জন্য কোন বাধা নেই। পূর্বে যে সব নবি গত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও ছিল এই একই বিধান (সুন্নত)। আল্লাহর সুন্নাতে [বিধানে] কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না।” [দ্র: ৩৩: ৩৭,৩৮]

উল্লিখিত আয়াতে বিতর্কীত বিষয়টি সহজ, সরল এবং চূড়ান্তভাবেই সমাধান দিয়েছে; এমনকি যায়েদের নামটি পর্যন্ত উল্লেখ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অতঃপর ঠিক তার দুটি আয়াত পরেই অর্থাত আলোচ্য ৪০ নং আয়াতে আকার-ইঙ্গিতে ঐ একই বিষয়টি পুনরুত্থাপণ যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না।

ড. পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, বিতর্কের বিষয়বস্তু প্রধানতঃ পিতা-পুত্র বা পিতৃত্ব প্রমাণের জন্য নয় বরং পালক পুত্রের তালাক দেয়া বিবিকে বিয়ে করার বৈধতার প্রশ্নে।
অতএব, এক্ষণে `মোহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোন মানুষের পিতা/পুরুষের পিতা নহেন’ দর্শণদ্বয় নিখুঁত সন্দেহজনক এবং তার তফছির ব্যাখ্যাও স্বভাবতঃই সন্দেহজনক বলে মনে হয়।
হযরত মুহাম্মদ অবশ্য অবশ্যই নারী ও পুরুষ উভয়েরই পিতা এবং নারী-পুরুষ উভয়েরই সন্তান। কারো সন্তান, কারো বাপ, কারো বন্ধু-বান্ধব এবং কারো নাতি বা পিতামহ। অর্থাৎ মানুষ হিসাবে সাধারণ; নবি হিসাবে অসাধারণ, অতুলনীয়। । নিু আয়াতগুলি এই ভাবধারারই সমর্থন যোগাচ্ছে:

১. আর আমিতো একজন মানুষ এবং রাছুল ছাড়া অন্য কিছু নই। [১৭: ৯৩]

২. বল! আমিতো তোমাদেরই মত একজন মানুষ। [১৮: ১১০]

৩. মুহাম্মদ একজন রাছুল মাত্র। তার পূর্বে বহু রাছুল মারা গিয়েছেন-। [৩: ১৪৪]

৪. ইসমাইল, ইয়াসা, ইউনুস ও লুত, এদেরকেও সারা জাহানের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী করেছিলাম। তাদের মধ্যে কারুর পিতা, কারুর সন্তান, কারুর ভাইদের মধ্যে থেকে তাদেরকে শ্রেষ্ঠ সম্মানের অধিকারী করেছি; সত্য সনাতন পথে এগিয়ে দিয়েছি। [৬: ৮৬-৮৭]

উল্লিখিত ভাবধারাটাই অর্থাত বাস্তবতাটাই বিতর্কিত আয়াতে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে ঘোষণা করা হয়েছে যে, “মুহাম্মদ কি তোমাদের কারো পিতা নহেন? অর্থাত মুহাম্মদ কি তোমাদের মতই একজন মানুষ নহেন? আরবি মা শব্দের অর্থ ব্যকরণ ও অবস্থাভেদে না, কি? না?; অর্থাত প্রশ্নবোধক না? সুচক হ্যাঁ অর্থবোধক অব্যয়ও বটে। [দেখুন: ক. আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান; মা. মুহিউদ্দিন খান; খ. আরবি-ইংরাজী অভিধান; জে, এম কাউয়ান]। যেমন:

১. আমি কি সদস্য নই? ২. সে কি হজ্জ করে নি? ইত্যাদি।

মূল কোরানে এই ক্ষুদ্র (প্রশ্নবোধক) চি‎হ্নটির ইঙ্গিত থাকা সত্বেও অনুবাদে গ্রহণ না করায় সমগ্র মুসলিম বিশ্ব বিভ্রান্তিত হয়েছে। আর এই বিভ্রান্তের পরিমাণ নিরূপণের জন্য নিম্নের বহুল পরিচিত প্রায় সমান উপমাটি যথেষ্ট:
এখানে প্রস্রাব করবেন, না করলে ৫শ টাকা জরিমানা অর্থাত একটি কমার (,) স্থান চ্যুতিতে বাক্যটির বিপরতি অর্থ ধারণ।

আয়াতটির দ্বিতীয় বা শেষ অংশ
অলা কির রাছুলিল্লাহি অ খাতামান্নাবিন। অর্থ: এবং তিনি কিন্তু আল্লাহর রাছুল এবং নবিদের সিল্/ শেষ নবি।
আরবি খাতাম শব্দের অর্থ: মোহর, সিল্, ষ্ট্যাম্প, দাগ, চিহ্ন, মার্কা বা প্রতীক। আদিকাল থেকে অদ্যাবধি আরবি বিশ্বে এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কোরানের যত স্থানে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ঠিক তত স্থানেই প্রধানতঃ ঐ একই সিল্ অর্থই গৃহীত হয়েছে; অতঃপর কেহ ফাইনাল, লাষ্ট, শেষ, সর্বশেষ ইত্যাদি অর্থ গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে সকলেই মন-মগজে, ব্যাখ্যা প্রচারে ‘নবি আর আসবেন না মতবাদেই অটল রয়েছেন, একমাত্র আহমদিয়াগণ ছাড়া, তবে তাদের ধারণাও স্ব দাবির ক্ষেত্রে বিতর্কিত বটে!
দ্বিতীয়তঃ রাশাদ খলিফা খতম শব্দের ফাইনাল অনুবাদ গ্রহণ করে শেষ নবি মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে নিজকে রাছুল দাবি করেছেন (দ্র: স্ব অনুদিত কোরান: দি ফাইনাল টেষ্টামেন্ট)।

কোরানে খতম শব্দের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়:
১. আল্লাহ তাদের হৃদয়, কর্ণ ও চোখে সিল্ করে দিয়েছেন ; সুতরাং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। [২: ৭]

২. উহারা কি বলে যে, সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে! যদি তাই হতো তবে, আল্লাহ তোমার অন্তরে সিল্ করে দিতেন। [ ৪২: ২৪]

৩. আজ তাদের মুখে সিল্ করে দিয়েছে। [৩৬: ৬৫]

৪. এবং তোমাদের অন্তর সিল্ করে দেন-। [৬: ৪৬]

৫. এবং তাদের কান ও হৃদয়ে সিল্ করে দিয়েছেন এবং চোখে দিয়েছেন প্রলেপ। [৪৫: ২৩]

৬. তাহাদিগকে সিল্ করা বিশুদ্ধ পানিয় পান করানো হবে। [৮৩: -২৫]

৭. উহার মোহর মিসকের, এ বিষয় প্রতিযোগিরা প্রতিযোগিতা করুক। [৮৩: ২৬]

উল্লিখিত আয়াতগুলিতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নভাবে আলোচ্য খতমএর অনুবাদ সিল্ বা মার্কা হিসাবেই ব্যবহৃত হয়েছে। এবারে আয়াতগুলিতে যথাস্থানে সিলের পরিবর্তে শেষ শব্দটি বসিয়ে খতমএর মূলার্থ, ভাবার্থ, চরিত্র ও বৈশিষ্ট অতি সহজেই উদ্ধার করে জ্ঞানীগণ নিশ্চিত হতে পারেন।
উল্লেখ্য যে, রাশাদ খলিফা খতম শব্দের অনুবাদ ৩৩: ৪০ আয়াতে ফাইনাল ও ৮৩: ২৫, ২৬ আয়াতে স্পাইস বা মশ্লাদি (?) এই অদ্ভুত অনুবাদ এবং বাকি সকল আয়াতেই সিল্ অনুবাদ করেছেন।
অতীতের কোন নবিকে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল, ডেপুটি, উপ-নবি বা অসমাপ্ত, অপূর্ণ নবি হিসাবে উল্লেখ থাকলে এখানে তার ফাইনাল অনুবাদ গ্রহণ যুক্তিসঙ্গত ছিল; কিন্তু কোরানে এমন কিছু উল্লেখ নেই বরং সকল নবিগণই পূর্ণ নবি হিসাবেই উল্লেখ আছে।
খলিফা সাহেব নিঃসন্দেহে একজন সত্যের সাধক; কিন্তু নবি ও রাছুল শব্দদ্বয়ের মূলার্থ ও পার্থক্যটুকু অনুধাবন করলে অবশ্যই ফাইনাল বা রাছুল শেষ নয় কিন্তু নবি/নবুয়ত শেষ এই ভ্রান্ত দর্শনটি গ্রহণ করতে না! আর একবিংশ শতাব্দিতে ৭ম শতাব্দির সামাজিক ধ্যান ধারণার বশীভূত হয়ে নিজকে রাছুলও দাবি করতেন না। কারণ এরকম অসংখ্য রাছুল-নবি অনুরূপ দাবি-দাওয়া ছাড়াই আসছেন আর গেছেন; কিন্তু প্রচলিত অদূরদর্শি ব্যাখ্যা-অনুবাদের জন্য জনসাধারণ তাদের চেনার সুযোগ পায়নি বা আল্লাহ বলেননি। [তথ্যসুত্র: ১৪: ১১; ৪০: ৭৮; ৪২: ৫১, ৫২; পরবর্তি অসংখ্য নবি-রাছুলদের হদিছ কোথায় প্রতিবেদন আরো ব্যাখ্যা আছে]
রাশাদ খলিফা আজ আর জীবীত নেই; কিন্তু তার অনুসারীদের ভাবা উচিত যে, তার: ‘ - অলা কির রাছুলিল্লাহি অ খাতামান্নাবিন এর অনুবাদ-এবং আল্লার রাছুল এবং ফাইনাল/শেষ নবি অনুরূপ আয়াতটির মতই অলা কির ফারাছুনুল্লাহি অ খাতামাস্সারহুন এর “এবং আল্লাহর ঘোড়া এবং ফাইনাল/শেষ চতুষ্পদ জন্তু” অনুবাদ কি তিনি সঠিক, সঙ্গত বলে গ্রহণ করতেন! বা কোন অর্থ বহন করে? পরিবর্তে এবং ইহা আল্লাহর ঘোড়া এবং সিল্/মার্কামারা চতুষ্পদ জন্তু অনুবাদটি সঠিক ও সঙ্গত অর্থ বহন করে! আশা করি জ্ঞানী পাঠকগণ মূল বিষয়টি উপলব্দি করতে সক্ষম হয়েছেন।
উপরের ৭ নং ধারাটি (৮৩: ২৬) পাঠকদের প্রচলিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরো হতবাক করবে; সেখানে আল্লাহ উপদেশ দিচ্ছেন যে খতম বা মার্কা প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জনের জন্য সাধকগণের প্রতিযোগিতা করা উচিত।
নবুয়ত বা নবিত্ব শেষ এ ঘোষনা যদি স্বয়ং আল্লাহ দিয়েই থাকেন! তবে আল্লাহ ঐ সিল বা খাতাম এর জন্য আগ্রহশীলদের প্রতিযোগিতা করার আহ্বান করতেন না।
আলোচনা এখানেই শেষ করা যায় কিন্তু তবুও অব্যহত রইল:

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদটি লক্ষ্যণীয়:
Muhammad is not the father of any of your men, but the Messenger of Allah. `And the Seal of the Prophets.’ And Allah has full knowledge of all things. [Ahzab: 40]
অনুবাদ: মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যকার কোন মানুষ/পুরুষের পিতা নহেন। তিনি আল্লাহর সংবাদবাহক এবং নবিদের সিল্। আল্লাহ সর্ব বিষয় সর্বজ্ঞাতা।
জনাব ইউসুফ আলীর মত্ ও বিশ্বাস হাদিছ ফেকহা ভিত্তিক সত্বেও খাতাম শব্দের অর্থ শেষ হিসাবে গ্রহণ করতে সাহসী হননি বা যুক্তি খুঁজে পাননি। কিন্তু তার ব্যাখ্যায় শেষ নবি প্রমাণের জন্য চেষ্টার কসুর করেননি। তার নিম্ন ব্যাখ্যাটি লক্ষ্যণীয়:
When a document is sealed, it is Complete. And there can be no further addition. The Holy Prophet Muhammad closed the long line of Messengers. Allah’s teaching is and will always be Continuous, but there has been and will be no Prophet after Muhammad. The later ages will want Thinkers and Reformers, not Prophet- [Ref: Quran: Arabic-English. By: Abdullah Yusuf Ali. Foot note no... 3731]

অনুবাদ: যখন কোন দলিলে সিল্ দেয়া হয় তখনই ইহা পরিপূর্ণতা লাভ করে। অতঃপর উহাতে আর কোন সংযোজন চলে না। পুত পবিত্র নবি মুহাম্মদ সংবাদবাহকের দীর্ঘ সুত্রিতা বন্ধ করে দিয়েছেন। আল্লাহর শিক্ষা অবিরত চলতে থাকবে। কিন্তু মুহাম্মদের পরে আর কোন নবি হবে না। পরবর্তী যুগে চিন্তাবিদ এবং সংস্কারকের দরকার হবে কিন্তু নবি নয়-।

ব্যাখ্যাটির পর্যালোচনা
১. জনাব ইউসুফ আলীর মন্তব্যটি এত শক্তিশালী যে, পড়লে মনে হয় তিনি সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে নিশ্চিত হয়েই মন্তব্যটি করেছেন। কারণ: উহা তার নিজস্ব মত্ বা ধার করা! এমন আকার ইঙ্গিত বা অন্য কারো তথ্যসুত্র দেননি!

২. খাতামান্নাবিন বাক্যটিই বিতর্কের মূল ও প্রধান বিষয়বস্তু। কিন্তু তিনি অজ্ঞাত কারণে তা এড়িয়ে গিয়ে বরং ‘খাতামাদ্দলিল, খাতামাল অহি বা খাতামাল কেতাব ইত্যাদি কাল্পনিক বাক্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন মাত্র; যা উল্লিখিত আয়াতের ধারে কাছেও নেই! কিন্তু এমন অনেক নবি ছিলেন, যাদের কোন কেতাবই ছিল না ; এমনকি তারা যে নবি ছিলেন তা প্রধানতঃ আল্লাহ ছাড়া কেহ জানতেন না! আজও কেহ জানে না। এমন সাক্ষি প্রমাণ কোরানেই রয়েছে।

৩. দলিল বা চিঠি পত্রে সিল্ দেয়ার মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য দলিলটি শেষ হয়ে যাওয়ার প্রতীক নয় বা দলিলটির পূর্ণতারও সাক্ষি বহন করে না; কারণ দলিলের প্রত্যেকটি অসম্পূর্ণ পৃষ্ঠায়ই একই রকম সিল্ থাকে; মূলতঃ দলিলটি নকল নয়, মিথ্যা নয়; উপযুক্ত বা নির্দিষ্ট অফিস কর্তৃক ইস্যুকৃত নির্ভেজাল এবং সত্যাসত্য ও স্বত্ত্বের প্রতীক ঐ সিল; এমন দর্শন ও জ্ঞান-গুণের বিচারে সন্দেহহীন বা নিখুঁত শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. দলিল পূর্ণ কি অপূর্ণ, শেষ কি শুরু, তা দলিলের মধ্যেই বিশদভাবে লেখা থাকে।

৫. মালিক যতদিন থাকবেন, অফিসও ততদিন থাকবে; অতঃপর প্রয়োজনবোধে পূর্ববত একটির পর একটি অনবরত দলিল বা চিঠি ইস্যু হতেই থাকবে এবং নিখুঁত সত্যাসত্যের প্রতীক স্বরূপ তাতে পরিচিতির ঐ সিলটিও থাকবে।

৬. নবি-রাছুল মনোনয়নের চিরসুত্রিতা শুরু-বন্ধ করার ক্ষমতা নবি-রাছুলদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্তর্ভূক্ত নয়।

৭. তিনি লিখেছেন, সংস্কারক আসতে থাকবেন। প্রধানতঃ রাছুল-নবি ছাড়া ধর্ম সংস্কারের ক্ষমতা অন্য কারো নেই। ধর্ম পিতা ইব্রাহিম নির্দিষ্ট নিয়মাতান্ত্রিক বা গঠনতান্ত্রিক ধর্মের প্রবর্তক; এজন্য তাকে কোরানে ধর্ম পিতা বলে উল্লেখ আছে। এবং পরবর্তী সকল রাছুল-নবিগণই তারই প্রবর্তিত ধর্মের সংস্কারক তথা প্রবর্তক নবি-রাছুল; অর্থাৎ পরবর্তি সকল রাছুল-নবিগণই ইব্রাহিমের ধর্ম সন্তান। পরবর্তী কোন নবিই নতুন কিছু নিয়ে আসেন নি; নামাজ, রোজা, হজ্জ ও জাকাত ইব্রাহিম থেকেই আনুষ্ঠানিক ব্যতিক্রম ভেদে সকল জাতির মধ্যে আজও বিদ্বমান এবং যার সাক্ষি প্রমাণ কোরানের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। অতএব বলতে বাঁধা নেই যে,আব্দুল্লাহ ইউছুফ আলী সাহেবের মন্তব্যটি অদূরদর্শিতার স্বাক্ষর বহন করে; শুধু তাইই নয় বরং স্ব বিরোধী বলেই সাব্যস্ত হয়।

৮. কোরানের প্রত্যেকটি বাক্য এক একটি পূর্ণ অর্থবোধক বাক্য; যে কোন বাক্যের বৈশিষ্ট্যও তাই। কিন্তু And the Seal of the Prophets এবং নবিদের সিল কথাটা পূর্ণ অর্থবোধক বাক্য বলে মনে হয় না। কারণ এবং নবিদের সিল্ বলতে কি বুঝায়! আর তাই বলেই ইউসুফ আলী সাহেব তার ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু অসম্পূর্ণ বাক্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ততোধিক অসম্পূর্ণ বা ভুল হওয়াই স্বাভাবিক বটে!

৯. আরবিতে প্রধানতঃ খতম অর্থ: সিল্ আর খালাছ অর্থ শেষ, যা আজও আরবি সাহিত্যে ও সমাজে প্রচলিত; কিন্তু খালাছ উল্লিখিত আয়াতে নেই; পক্ষান্তরে ফারসি, উর্দ্দু, হিন্দী বা বাংলা ভাষার খতম শব্দের অর্থ শেষ হতে পারে এবং হাদিছ লেখকগণ সকলেই আরবি শিক্ষিত ফারসি ভাষাভাষী ছিলেন। অতএব ৩/৪ ভাষার একক শব্দটির সুযোগে ইব্লিস সম্ভবতঃ আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছেন বলেই মনে হয়।

১০. ধর্ম জগতে এই বিষয়টি শ্রেষ্টতম গুরুত্বপূর্ণ সত্বেও নবি শেষ, আর নবি আসবে না, অহি, কেতাব আসবে না, বন্ধ করে দেয়া হলো ইত্যাদি পরিস্কার বাণী কোরানের কোথাও সরাসরি তো দুরের কথা! এমনকি ইঙ্গিত পর্যন্ত নেই।

মূলতঃ মোহাম্মদ যে বাস্তবিক পক্ষেই আল্লাহর মনোনীত, অনুমোদিত, স্বীকৃত, নবিদের তালিকাভূক্ত (অন্যতম), নির্ভেজাল, সত্য সত্যই নবি। তিনি মিথ্যা নন, নকল বা ভন্ড নন বরং নিখুঁত ও পরিপূর্ণতার সত্যাসত্যের প্রতীক এই সিল্ বা মার্কা। অর্থাত:
Authorised, Registered, Recognized, Identified, Affilitiated, Enlisted, Sealed. অতএব, And the seal of the Prophets না হয়ে বরং And (one of) the sealed Prophet(s) হওয়াই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত বটে!

অনুবাদটির সমর্থনে কোরানে অসংখ্য আয়াত রয়েছে; নীচের ২টি আয়াত লক্ষ্যণীয়:
ক. অবশ্যই তুমি রাছুলদের অন্তর্ভূক্ত/অন্যতম রাছুল/রাছুলদের মধ্যে একজন। [৩৬: ২]

খ. অতীতের সতর্ককারীদের মত ইনিও একজন সতর্ককারী মাত্র । [৫৩: ৫৬]।

অতএব এক্ষণে আয়াতটির সহজ ও সরল অর্থ হওয়া উচিত:
“মুহাম্মদ কি তোমাদের কারো পিতা নহেন? কিন্তু তিনি উপাস্যের প্রেরণাপ্রাপ্ত (রাছুল) ও মার্কাযুক্ত (সন্দেহাতীত) নবায়ণকারী (নবি), প্রফেট বা প্রেডিক্টর। এবং উহাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।
প্রকাশ থাকে যে, কোরানে বর্ণিত ছোট কিম্বা বড় এমন একটি বিষয়ও নেই যা সম্বন্ধে একাধিক অর্থাত বার বার বিবৃত হয়নিঃ
[১৭: ৪১] এই কোরানে প্রত্যেকটি বিষয় আমি বারবার বিবৃত করেছি যাতে তারা বুঝতে পারে; কিন্তু তাদের বিমূখতাই বৃদ্ধি পায়। (অতঃপর দেখুনঃ ৩: ১০৫; ১৭: ৮৫)।
কিন্তু উল্লিখিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রচলিত অনুবাদ বা ব্যাখ্যা-বিশ্বাসের স্বপক্ষে সমগ্র কোরান থেকে একটি মাত্র আয়াত উপস্থাপন করতে কষ্মিনকালেও কেহ সক্ষম হবেন না।

প্রত্যেক নবিরই পূর্ণতার ও নবুয়তের সনদ বা প্রতীক খতম বা সিল ছিল; যেমন: হযরত ইব্রাহিমের জুতা; নুহের নৌকা; দাউদের বাঁশী; ছোলায়মানের আংটি; মুছার লাঠি; ঈছার হাত [বরং তার সম্পূর্ণ দেহমোবারক]; কৃষ্ণের লাঠি (বাঁশী নয়); শিবের ত্রিশুল; ব্রহ্মার জুতা; রামের ধনুক; ভরতের ঝাড়–; ছালেহের উট এবং আল-আমীনের আংটি ইত্যাদি। অর্থাত সকল নবিগণই সিল্ড,মার্কাযুক্ত অর্থাত খাতামান্নাবিন।

আয়াতটির শব্দার্থসহ অনুবাদ:
শব্দার্থ: মা= না, কি? না?; কানা= অতীত সুচক, ঘটমান অতীত; মোহাম্মাদ= মহাপুরুষ; আবা= বাবা; আহদেম= কারো; মিন= হতে, মধ্যে, থেকে; রিজ্জাল= মানুষ(গণ), পুরুষ(গণ); ক্বুম=তোমরা, তোমাদের; অ=এবং, সুতরাং, অতএব; লাকিন=কিন্তু, বরং, সুতরাং, পক্ষান্তরে রাছুল= প্রেরণাপ্রাপ্ত, ভাববাদী, চৈতন্যধারী; আল্লাহ= সে, অজানা, উপাস্য, প্রভু, সর্বনামধারী; অ=এবং, সুতরাং, অতএব; খাতাম= সিল্, প্রতীক, দাগ, চিহ্ন, মার্কা, প্রত্যায়িত, সত্যায়িত, অন্তর্ভূক্ত; নাবিন (নবীন) = নতুন, খবর, ভবিষ্যত বক্তা; (প্রচলিত ইসলামী পরিভাষায়: আদিষ্ট, প্রত্যাদিষ্ট)।
প্রকাশ থাকে যে, আরবি ভাষা ও ব্যকরণ জার্মান ভাষার চেয়েও স্পর্ষকাতর এবং চাইনীজ বা জাপানী ভাষার মতই সংক্ষিপ্ত।
ব্যকরণ মতে মা শব্দের পরেই ক্রিয়াবচক শব্দ থাকলে মার অর্থ সাধারণতঃ না বোধক অর্থেই গৃহীত হয় এবং এরকম উদাহরণ কোরানে ভূরি ভূরি বিদ্বমান থাকলেও সকল ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য নয় ! যেমন: এমরানের ১৪৪ নং আয়াতে মার পরেই ক্রিয়াবাচক শব্দ নেই; অথচ বিভিন্ন অনুবাদে মা শব্দটির কোথাও না আবার কোথাও না সুচক হ্যাঁ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন:
অ মা মোহাম্মাদুন ইল্লা রাছুলুন-[ ৩: ১৪৪] অর্থ:
১. মুহাম্মদ একজন রাছুল মাত্র। (ইসলামিক ফাউন্ডেসন)

২. মুহাম্মদ রাছুল ছাড়া আর কিছুই নয়। (মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)

উল্লিখিত অনুবাদে ও সাধারণ অর্থে পার্থক্য না থাকলেও ভাবার্থে বেশ পার্থক্য বিদ্বমান। ব্যকরণের আইনে ২ নং ধারাটি গ্রহণযোগ্য বটে! কিন্তু তবুও অনুবাদ হওয়া উচিত ছিল: মুহাম্মাদ কি রাছুল ছাড়া/ব্যতীত আর কিছু? তবুও এখানে মা শব্দের সমালোচনা নিষ্প্রয়োজন; কিন্তু আলোচ্য ৩৩:৪০ আয়াতের মা শব্দের অনুরূপ সাধারণ ভূমিকা নয়।
আরবি ব্যকরণের সাধারণ ব্যবহার প্রধানতঃ স্থান, কাল ও পাত্রের উপরই বেশি নির্ভর করে। তাছাড়া পূর্বেও বলা হয়েছে যে, পদ্য, কবিতা বা ভাববাদী বাক্য-সাহিত্যে ব্যকরণের চুল বিচার বিবেচনার চেয়ে প্রাকৃতিক ও বাস্তব বিবেচনাই গুরুত্বপূর্ণ।
দূর অতীত থেকেই তোমরা দেখতে পাচ্ছো যে, রাছুল-নবি হওয়া নতুন কিছু নয়, অলৌকিক কিছুও নয়। অতএব এই মহাপুরুষের উপর তোমাদের সন্দেহ বা অবিশ্বাস করার কোন কারণ বা যুক্তি থাকতে পারে না। যেহেতু অতীতে ছিল, সেহেতু বর্তমানেও আছে, তেহেতু ভবিষ্যতেও থাকবে এবং ইহাই প্রাকৃতিক ও চিরন্তন।

কোরানের যে কোন একটি আয়াতের সঠিক অর্থ উদ্ধার করতে হলে পূর্ণ কোরানের মৌলিক বিষয়বস্তু মাথায় রাখতে হবে। ভাববাণী কোরান বুঝতে ভাষা জ্ঞানের চেয়ে ভাবজ্ঞান অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আক্বল জ্ঞান খাটানো ১৭: ৩৬ আয়াতে কঠিন নির্দেশ দেয়, অন্যথায় প্রত্যেককে জবাব দিহি করতে হবে! সুতরাং অনুবাদকের দোহাই বা দলিয় সাক্ষি-সাবুদ যথা সর্বস্ব নয়।
দুর্ভেদ্য বা বিতর্কিত শব্দ বা বাক্যের সঠিক ভাবার্থ উদ্ধার করতে হলে কোরানের বিভিন্ন আয়াতে অনুরূপ শব্দ/বাক্যের ব্যবহার অবশ্য অবশ্যই সাক্ষি হিসাবে বিবেচনায় রাখতে হবে, তীখ্ণ লক্ষ্য রাখতে হবে কোরানের মূল বিষয়বস্তুর উপর। এজন্য ১৭:৩৬ আয়াতটি কোরান বোঝার অন্যতম চাবিকাঠি। এতদ বিচারে ৩৩: ৪০ আয়াতের প্রচলিত অনুবাদ ও বিশ্বাসের স্বপক্ষে অনুরূপ সমার্থবোধক এমন একটি ভাব-বাক্যও সমগ্র কোরানে নেই; যা পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে।

সকল নবি-রাছুলই ছিলেন কারো বাপ, ভ্রাতা, ভাই, সন্তান, সহোদর, বন্ধু-বান্ধব; স্বামী, শালা-সন্মন্ধী; অর্থাত আমাদের মতই মানুষ। আমাদের মধ্য থেকেই এবং আমাদের জন্যই; ব্যতিক্রম শুধু তারা প্রেরণাপ্রাপ্ত বা রাছুল-নবি। তাঁরা অসাধারণ, আমরা সাধারণ; অতএব মহাপুরুষগণ কার ভাই! কার সন্তান! কার বাপ! কোন্ বংশের! কোন্ জাতের! কোথায় জন্ম! ইত্যাদি অহেতুক এবং অবান্তর প্রশ্ন তুলে বাক-বিতন্ডা, ঝগড়া-ফাছাদ, অহঙ্কার, হিংসা, বিদ্বেষ না করে বরং আপন আপন স্বার্থেই প্রমান সাপেক্ষে তাঁদের মান্য করে চলা উচিত। উল্লিখিত ভাবধারাটির পক্ষে কোরানের পাতায় পাতায় অতীতের সমস্ত নবির আলোচ্যে সাক্ষি প্রমাণ বহন করে।

রাছুলের জীবনভর প্যাগন ও অন্য ধর্মীদের সবচেয়ে কঠিণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল যে, অমুক পাড়ার, অমুকের ছেলে অনেকের চেয়ে নিম্ন সাধারণ মানুষটি রাছুল-নবি হল কি করে! [দ্র: ৪৩: ৩০,৩১] এমন হিংসাত্বক প্রশ্নের পর প্রশ্নে রাছুলকে জর্জরিত করেছিল। আজও বিশ্বের প্রায় তিন চতুরাংশ লোকের সেই একই প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে। এমন কিছু প্রশ্ন সংখেপে উদ্বৃত হলো:
পূর্বে মুছাকে যেমন প্রশ্ন করেছিল তোমরাও কি তোমাদের রাছুলকে অনুরূপ প্রশ্ন করতে চাও? আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কথা বলে না কেন? আমাদের উপর অহি হয় না কেন? আল্লাহ আমা
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:৩৩
১৩টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×