ক. অলা-তাসতারু-ফাত্তাক্বুন। [২: ৪১] অর্থ: আমার আয়াতের বিনিময়ে সামান্য মূল্যও তোমরা গ্রহণ করিও না। তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।
খ.ফা- অইলুল্লাজীনা-ইয়াকছিরুন। [২:৭৯] অর্থ: সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কেতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মূল্য প্রাপ্তির জন্য বলে, ‘ইহা আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত।’ তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য শান্তি তাদের এবং যা তারা উপার্জন করে, তার জন্য শাস্তি তাদের।
গ. ইন্নাল্লাজীনা-বাঈদ। [২: ১৭৪,১৭৫, ১৭৬] অর্থ: আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন, যারা তা’ গোপন রাখে ও বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজের পেটে আগুন ব্যতীত অন্য কিছুই ভরে না। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথাও বলবেন না এবং পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে বিভতস শাস্তি। তারাই সত পথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে; আগুন সহ্য করতে তারা কতইনা ধৈর্য্যশীল! ইহা এই হেতু যে, আল্লাহ্ সনাতন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং যারা কিতাব সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা দুস্তর মতভেদে রয়েছে।
হযরত নূহের অঙ্গিকার
অইয়া কাউমী- আমানু। [১১: ২৯] অর্থ: হে আমার সম্প্রদায়! ইহার পরিবর্তে আমি তোমাদের নিকট ধন সম্পদ চাই না। আমার পারিশ্রমিক আল্লাহর নিকট।
হযরত হুদের অঙ্গিকার
ইয়া- তা’ক্বিলুন। [১১: ৫১] অর্থ: হে আমার স¤প্রদায়! আমি ইহার পরিবর্তে তোমাদের নিকট কোন মজুরি চাই না। আমার পারিশ্রমিক তারই নিকট যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি তবুও বুঝতে চেষ্টা করবে না?
হযরত ছালেহ’র অঙ্গিকার
অমা-আলামীন। [২৬: শুয়ারা-১৪৫] অর্থ: আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার মজুরি জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।
হযরত লুতের অঙ্গিকার
অমা- আলামীন। [২৬: ১৬৪] অর্থ: ইহার জন্য আমি কোন মজুরী চাই না। আমার মজুরী জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।
হযরত শোয়েবের অঙ্গিকার
অমা-আলামীন। [২৬: ১৮০] অর্থ: আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন মূল্য চাই না। আমার মজুরি জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।
হযরত মুহাম্মদের অঙ্গিকার
ক. অমা- আলামীন। [১২: ১০৪] অর্থ: এবং তুমি তাদের নিকট কোন মজুরি দাবি করিও না। ইহাতো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ মাত্র।
খ. ক্বুল! মা আছআলুকুম - মুতাকাল্লিফিন। [৩৮: ৮৬] অর্থ: বল! আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না। এবং যারা মিথ্যা দাবি করে আমি তাদের দলভূক্ত নই।
গ. উলা-ইকা ল্লাজীনা- লীল আলামীন। [৬: ৯০] অর্থ: তাদেরকেই (নবিদেরকেই) আল্লাহ সত পথে পরিচালিত করেছেন। সুতরাং তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর; বল! ইহার জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন মজুরি চাই না-।
ঘ. ক্বুল!-সাকুরুন। [৪২: ২৩] অর্থ: বল! আমি ইহার বিনিময় তোমাদের কাছ থেকে প্রেম-ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার ব্যতীত অন্য কোন মজুরি চাই না-।
কোরানের আলোকে ধর্ম-কর্মের বিনিময় মজুরি বা হাদিয়া গ্রহণ চূড়ান্ত হারাম। এমনকি ছেহাছেত্তার মধ্যে অর্থ গ্রহণের পক্ষে একটি মাত্রও হাদিছও নেই। পক্ষান্তরে পয়সা ছাড়া যাবতিয় ধর্ম-কর্ম সম্পূর্ণ অচল। তাল-বে-এলেম থেকে শুরু করে পীরে কামেল, গাউস কুতুব, জামানার মোজাদ্দেদ, মুফতী, শায়খ, আল্লামাগণ পয়সা ব্যতীত কেহই ধর্ম-কর্ম করেন না। ধর্ম-কর্ম নেশা হ’তে পারে না, পেশাও হতে পারে না। এদের সম্বন্ধে কোরানে পরিস্কার হুশিয়ারি :
১. লা অলা- ইয়াসনা উনা। [৫: ৬৩] অর্থ: আলেম-আল্লামাগণ কেন তাদের পাপ কথা ও হারাম ভক্ষণে নিষেধ করে না ? বরং ইহারাও যা করে (বলে এবং খায়) ইহাও নিকৃষ্ঠ।
২. ইয়া - আলীমিন। [৯: ৩৪] অর্থ: হে ভক্তগণ (সাবধান) আলেম-দরবেশদের মধ্যে অনেকেই মানুষের ধন-সম্পত্তি অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করছে। এবং আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করছে। যারা স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করে রাখে, আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের কঠোর শাস্তির সংবাদ দাও।
উল্লিখিত অসংখ্য আয়াতে বজ্রকঠিন হুশিয়ারী থাকা সত্ত্বেও নামাজে টাকা, মিলাদে টাকা, জানাযায় টাকা, ওয়াজ মাহফিলে টাকা, ফতোয়া প্রদানে টাকা, বিয়ে পড়াতে টাকা, তালাকে টাকা, মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজারে টাকা, পীরের আস্তানায় টাকা! টাকা ছাড়া ধর্মের চাকা একেবারেই স্তব্ধ! বক্তাদের বক্তব্য, বিষয়বস্তু কালাকালভেদী এক ও অভিন্ন থাকা সত্ত্বেও তাদের আকার-আকৃতি এবং সুর-তাল, পরিচিতি এবং স্ব ও দলিয় ঘোষিত খেতাবের তারতম্য হেতু মজুরি বা হাদিয়ারও তারতম্য হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবেও সমাজের কথিত উচ্চপদস্থ অধিকাংশ পীর-আলেমগণ ভাড়া খাটেন। এ সকল আলেম পীরগণ উল্লিখিত আয়াতগুলি জানেন এবং বুঝেন। কিন্তু জেনে শুনেই তা গোপন রেখে বিনিময় মূল্য গ্রহণ করে থাকেন! হারামকে অমৃত মনে করে ভক্ষণ করে থাকেন। যদিও তারা জানেন যে, তারা আগুন খাচ্ছেন এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না, পবিত্রও করবেন না।
অন্যদিকে একশ্রেণীর অর্থ লোভী ব্যবসায়ীগণ কথিত আলেম, মুফতিদের ভাড়া খাটিয়ে আল্লাহ-রাছুলের নামে মনগড়া বই পুস্তক রচনা করে একচেটিয়া ধর্ম ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছেন। মসজিদের কোরান, ঘরের উঁচু তাকের কোরান আজ ফুটপাতে মানুষের পায়ের কাছে স্থান পেয়েছে, দু’টো পয়সার ধান্দায়। নভেল-উপন্যাসের মতই দর দাম কষাকষি করেই তা কিনতে বাধ্য হ’তে হয়। ‘মূল্যে’র স্থলে লেখা থাকে ‘হাদিয়া’ অর্থাৎ বাংলা ‘মূল্য’ শব্দ হারাম, আরবি ‘হাদিয়া’ শব্দ হালাল! কিন্তু মাছ=গোস্ত, নাটক-উপন্যাস মতই দর কষাকষি করেই কিনতে হয়।
সম্ভবত ২০০২ সালের ঘটনা : অধিকাংশ মুসলমানদের জানা আছে যে, নিউইয়র্কের কোন এক মসজিদের ইমাম জ্যাকসনহাইটস এর রাস্তার পাশে ফুটপাতে ধর্মীয় বই বিক্রয় করতে গিয়ে তা’ লাইসেন্স বিহীণ অবৈধ ভেবে পুলিশ লাত্থি মেরে ফেলে দেয়, তার মধ্যে কোরানও ছিল এবং সরাসরি কোরানের উপরও লাত্থি মারে।
কোরান কি অন্য বই তা পুলিশের তো আর জানার কথা নয়! তাছাড়া খ্রিস্টান পুলিশের কাছে কোরান ও সাধারণ পুস্তকের কোন পার্থক্য নেই। সুতরাং তাকে দোষ দেয়া যায় না। কিন্তু ঐ ইমাম সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ‘খৃষ্টান পুলিশ কোরানের উপর লাত্থি মেরেছে’ এই বিশাল চীতকারে বাঙালি ও পাকিস্তানীদের জড়ো করেন এবং সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে, শাস্তি রক্ষার খাতিরে শিক্ষিত পুলিশ ক্ষমা চেয়েছিল বটে! কিন্তু লাত্থি তো আর ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হয় নি. কোরান থেকে জুতোর ধুলোও তিল পরিমাণ খসে পড়ে নি! এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার মূলে ছিল দুটো বাড়তি আয়, ধর্ম নয়। বিশ্বের দেড় বিলিয়ন মুসলমানের পবিত্র কোরানের উপর পদাঘাত পড়ল একজন ইমামের বাড়তি এবং হারামী আয়ের কারণে; মুসলমানগণ এই অস্পৃশ্য ধর্ম ব্যবসায়ী ইমামের পক্ষ হয়ে নির্দোষ পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে! কিন্তু একজন আলেম বা মোসলেম মনের ভুলেও ইমামকে এই বলে ধমক দিল না যে, “হে ইমাম নরাধম! মুসলিম জাতির কলঙ্ক! কেন তুমি পবিত্র কোরানকে খ্রিস্টানদের পদতলে স্থাপন করেছো?”
অবাক হওয়ার কথা- আল্লাহ-রাছুলের কথা-বাণী বিক্রয় করে ধর্ম ব্যবসায়ীগণ টাকার পাহাড় গড়ছেন। প্রকাশ থাকে যে, ধর্ম শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম; কারণ ধর্ম-কর্ম শিক্ষা আর ধর্ম-কর্ম করা দু’টোর আলাদা প্রকৃতি ও বিষয়বস্তু বটে! তদ্রুপ পেশাদারী ধর্ম-কর্ম আর স্বতঃস্ফূর্ত ধর্ম-কর্ম এক বা সমমানের হ’তে পারে না।
অধিকাংশ মসজিদ, মাদ্রাসা গড়ে ওঠে ব্যবসাভিত্তিক, বিশেষ করে বিদেশের প্রত্যেকটি মসজিদের নামের শেষে ‘ইনক্’ অর্থাৎ ব্যবসা কেন্দ্রের নমুনা আছে। পবিত্র মসজিদের প্রধান ব্যবসা হলো জনধিকৃত অবৈধ আদম ব্যবসা, যার একটি প্রমাণ অন্তত দেয়া দরকার:
মসজিদ ভিত্তিক স্পন্সর কেলেঙ্কারী
মসজিদ ভিত্তিক স্পন্সর ভিসা ফ্রডের জন্য গত ২২ সেপ্টেম্বর বুধবার ম্যানহাটান ফেডারেল কোর্ট নিউইয়র্ক মসজিদের ইমাম ও পরিচালক মাওলানা খলিলকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই পরিচালক অবৈধদের জন্য শত শত ভুয়া ধর্মীয় ভিসা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড-এর বিনিময়ে নগদ অর্থ হাতড়িয়ে নিয়েছে। মুহাম্মদ খলিল নামে এই পরিচালক ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস রিলিজিয়াস ওয়ার্কার প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে ভুয়া প্রায় ২০০ অবৈধদেরকে স্পন্সর করেছেন-। [দ্র: সাপ্তাহিক দেশে বিদেশে; কানাডা, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ০৪]
আর তাই মসজিদ, এমনকি নামাজ রোযা নিয়ে ঝগড়া-ফাছাদ, মারামারি, মামলা-মকর্দমা লেগেই থাকে! দেশ থেকে পলায়ণাগত কতিপয় ব্যক্তি ধর্মের নামে আন্তর্জাতিক ভিক্ষা সংস্থা গড়ে তুলেছেন। দেশ বিদেশ থেকে এতিমদের সেবার নামে ফেদীয়া, জাকাত, কোরবানী পশুর চামড়া ভিক্ষা করে বাড়ি-গাড়ি, বেতন-ভাতা ভোগ-বিলাস করেন। এক শ্রেণীর দালালগণ শবে’ বরাতের মওসুমে গ্রাম-গঞ্জ থেকে নেংড়া, লুলা, আতুর, অন্ধ, বিকট, অলৌকিক আকৃতি-প্রকৃতি বিশিষ্ট ভিক্ষুকদের ভাড়া করে বিভিন্ন মসজিদ, গোরস্থানে জড়ো করে ধনীদের কাছে ছোয়াবের ব্যবসা করেন, ইসলামের ঘোর বিরোধী ভিক্ষাবৃত্তির ইন্দন যোগান।
প্রচলিত শরিয়ত মানেই ধর্মান্ধ, কোরান বিরুদ্ধ; উল্লিখিত আয়াতগুলি আংশিক সাক্ষ্য মাত্র এদের আচার আচরণ, ধর্মের নামে কথা-কর্ম দেশ তথা ইসলামকে বিশ্বের দরবারে পদে পদে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করে চলছে! জনসাধারণকে পথভ্রষ্ট করছে।
নামাজ পড়াতে ও পড়তে ইমাম যা জানেন, মুসল্লীগণও তা জানেন; ইমামের যতটুকু সময় নষ্ট হয়, মুসল্লীদেরও ততটুকু সময় নষ্ট হয়। মুসল্লীদের নামাজ পড়া ফরজ, ইমামেরও তাই। কিন্তু ইমাম তার নামাজ বিক্রয় করেন, মুছল্লীগণ তা করেন না। মুছল্লীদের নামাজের চাওয়া-পাওয়া আল্লাহর কাছে, পক্ষান্তরে ইমামের নামাজের চাওয়া পাওয়া মুছল্লীদের পকেট পর্যন্ত। বেতন বন্ধ তথা ইমামতিও বন্ধ! পয়সার বিনিময়ে তিনি নামাজ পড়ান, কিন্তু নিজেরা নামাজ পড়েন না! অর্থাৎ আল্লাহর দরবারে তিনি বে-নামাজী নয়তো!
ইমামগণ আজান দিতে বেইজ্জতি ও ঘৃণাবোধ করেন। মসজিদ পয়পরিস্কার রাখতে লজ্জাবোধ করেন, তাই মুয়াজ্জিন আছেন। তিনি মসজিদ দেখা-শুনা, পয়-পরিস্কার রাখেন, আজান দিয়ে মুছুল্লী জড়ো করেন; অতঃপর ইমাম সাহেব ৫/১০ মিনিটের জন্য নামাজ পড়ান! মুয়াজ্জীন অজ্ঞাত কারণে ইমামতির অযোগ্য, তাই তিনি ইমামতির সুযোগ পান না; একদিন পান, যে দিন ইমাম সাহেবের বাড়তি রোজগার মিলাদের দাওয়াত থাকে।
রাছুল ও তাঁর ছাহাবাগণ ধর্ম শিক্ষা ও প্রচারে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে নিঃশেষ হয়েছেন। পক্ষান্তরে আজকের শরিয়ত ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে অর্থ-সম্পদের পাহাড় ও রাজকীয় প্রাসাদ গড়ে তুলেছেন। পীর আব্বাজান, ইমাম ওয়ায়েজীনদের ছোয়াব ততনগদ; পক্ষান্তরে মুছল্লীদের, শিষ্যদের ছোয়াব মৃত্যুর পরে! অর্থাত জবাবদিহিতার পথ পূর্বেই বন্ধ করে রেখেছেন।
ভক্তদের ধারণা হুজুর কেবলা খাবেন কি! প্রশ্নটি আল্লাহর নির্দেশের উপরে অনধিকার ও কুফুরি চর্চা বটে! তারা কি খাবেন আর কি খাবেন না তা’ কোরানের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। বর্তমানে তারা কি খাচ্ছেন! এর পরিণতি কি! তা’ও উপরোল্লিখিত আয়াতে সহজ-সরলভাবে বর্ণিত হয়েছে; অর্থাত মদ, শুকরের মাংসের চেয়েও হারাম ভক্ষণ করছেন, আগুন খাচ্ছেন এবং তা জেনে শুনেই। আপদে-বিপদে কোন উপায়ান্তর না থাকলে সাময়িকভাবে হারাম ঘোষিত মদ, শুকরের মাংস খাওয়ার সুযোগ দিয়েছে কোরানে কিন্তু ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের সুযোগ কস্মিনকালেও কোরান দেয় নি; বরং নামাজ শেষে মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে হালাল রুজির সন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে, মুছল্লীগণ যা করে থাকেন। [দ্র: ৬২: ১০]
সন্মানিত আলেম ইমামগণ ব্যক্তিগতভাবে এজন্য দায়ি না হলেও শরিয়তী সমাজ ব্যবস্থা যে তাদের বাধ্য করেছে এই চেতনাবোধ তাদের এক্ষণে উদয় হওয়া উচিত এবং যথাযথ ব্যবস্থার জন্য সোচ্চার হওয়া উচিত।
ধর্মের বিনিময়ে যারা পয়সা খায়, তাদের অনুসরণ করা কোরানে পরিস্কার হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে:
ইত্তাবিউ-- মুহ্তাদুন। [৩৬: ২১] অর্থ: অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের নিকট থেকে কোন মজুরি গ্রহণ করে না এবং সত পথপ্রাপ্ত।
ইমামতি বা সমাজের নেতৃত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য যিনি অভাবহীন ও প্রকৃতপক্ষেই ধর্মভীরু এবং কর্মভীরু; ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে যারা অর্থ গ্রহণ করতে হয় না এবং করেন না। অভাবী, লোভী, নিস্কর্মা পেশাদারী ধার্মীকদের ইমামতি বা নেতৃত্বের অধিকার নেই। সকলেরই স্মরণ রাখা দরকার যে ধর্ম-কর্ম বা ছোয়াব বিক্রয়ের বস্তু নয়, তাই কেনাও সম্ভব নয়।
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



