(পূর্বের পর)
অতএব হিন্দু: হিন্দু নয় ; বৌদ্ধ: বৌদ্ধ নয় ; শিখ: শিখ নয় ; ইহুদি: ইহুদি নয় ; খ্রিষ্ঠান: খ্রিষ্ঠান নয় ; মোসলেম: মোসলেম নয় :
১. যতক্ষণ পর্যন্ত একক উপাস্যে (আল্লাহ, খোদা, ভগবান, ঈশ্বর, গড) বিশ্বাসী না হয়।
২. যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহ প্রেরীত সকল রাছুল-নবি, সকল ঐশী গ্রন্থের উপর সমভাবে বিশ্বাস স্থাপন না করে এবং পুনঃ পুনঃ রাছুল-নবি আগমনে বিশ্বাসী না হয়।
৩. যতক্ষণ পর্যন্ত তারা স্ব-স্ব দলের মনুষ্য রচিত উপ-ধর্ম গ্রন্থ অর্থাৎ দু’নম্বরী গ্রন্থ ত্যাগ করে মূল ঐশী গ্রন্থে ফিরে না আসে।
৪. যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নম্র, ভদ্র, আদর্শ, পরোপকারী, ন্যায়বাদী, পরিশ্রমী, ত্যাগী, নিবেদিত ও শান্তিবাদী তথা মানবতাবাদী না হয়।
৫. যতক্ষণ পর্যন্ত তারা অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, হিংসা অহংকার, যাবতিয় ব্যক্তি ও দলিয় স্বার্থ ত্যাগ না করে।
৬. যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলার এবং করার শক্তি সাহস অর্জন করতে না পারে।
৭. যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিরপেক্ষ ও সাম্যবাদী শক্তি ধারণ করতে না পারে।
৮. যতক্ষণ পর্যন্ত পেট ও পিঠের সমাধিকার বাস্তবায়ণ করতে না পারে ।
৯. যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ মাত্রই একক পরিবারের সদস্য হিসাবে গ্রহণ করতে না পারে।
সর্বকালের মানবগোষ্ঠির একক ধর্মই স্থান, কাল,পাত্র ও ভাষা ভেদে এবং সর্বকালের ধর্মান্ধ, গোড়ামীদের হিংসা বিদ্বেষ ও পেশাদারী স্বার্থের কারণে মূল ধর্মের সঙ্কোচন সংযোজন করে ধর্মীয় সা¤প্রদায়িকতার জন্ম দিয়ে সমগ্র বিশ্বে আজ একে অপরকে খুন ও ধ্বংস লীলার চরম প্রতিযোগিতা আধুনিক বৈজ্ঞানিক যুগের প্রধান বৈশিষ্ট। একশ্রেণীর হিংসুক, চতুর, ধুরন্ধর, ক্ষমতা লিপ্সু, ভেগবাদী রাজনীতিবিদগণ (ব্যতিক্রম আছে) সকল দেশের সকল আলেম-আল্লামাদের (জ্ঞানী-বিজ্ঞানী) কৌশলে অধীনস্থ করে বর্বর ধ্বংসলীলার সাজ সরঞ্জাম তৈরির প্রতিযোগিতা আধুনিক বিশ্বের প্রধান ও শ্রেষ্ঠতম উৎকর্ষের নিদর্শন। এর অন্যতম প্রধান কারণ একই মানবগোষ্ঠির কতিপয় পিশাচ ইমাম-নেতাদের ষড়যন্ত্রে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ভিন্ন ধর্মদর্শন।
প্রচলিত হিন্দু ধর্ম প্রধানতঃ বৈদিক ধর্ম বা সনাতন ধর্ম নয় ওটি বরং ব্রহ্মা বা ইব্রাহিম বিরোধী পৌত্তলিক ধর্ম, যার প্রধান ভীত্ হাদিছের মতই অসংখ্য উপনিষদ।
‘আলেকজান্ডার দি গ্রেট’ এর নাম আজও অক্ষয় হয়ে আছে। কিন্তু তার আরবি নাম ‘আল ইসকান্দার’; পশ্চিমাগণ তা উচ্চারণ করতে পারে না বলেই তারা বলেন ‘আলেকজান্ডার’। অনুরূপ: ব্রহ্ম-ব্রহ্মা-অব্রম-আব্রাম- আব্রাহাম-ইব্রাহিম; যিসাস-যিশু-ঈসা; মোসেজ-মুছা; য্যাকোব-ইয়াকুব; যোসেফ-ইউছুফ, মাইকেল মিখায়েল ইত্যাদি ভাষার ব্যবধানে সকল রাছুল-নবিদের নামটি পর্যন্ত আমুল পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। একই ব্যক্তির নামটি মাত্র উচ্চারণের ভিন্নতায় চেনাই সম্ভব হয় না। অতএব তাদের জীবন চরিত ও বাণী ঠিক এভাবেই কালের ব্যবধানে ধীরে ধীরে পরিবর্তন পরিবর্ধিত হয়ে একই মানুষ জ্ঞাতি-গোষ্ঠির মধ্যে ঘোর বৈসাদৃশ্য মতবিরোধ সৃষ্টি করে প্রগতির পরিবর্তে গ্রহণ করেছে অধোগতি, চরম অরাজগতা আর পৈশাচিক ধ্বংস লীলা। আজ জ্ঞান বিজ্ঞান যেভাবে প্রগতির দিকে এগুচ্ছে তাতে কতিপয় ধুরন্ধর রাজনীতিবিদগণ হিংসা, অহঙ্কার, জবর দখল ইত্যাদি ঘৃণ্য অমানবিক উদ্দেশ্য থেকে বিরত থাকলে বিশ্ব নামের একক পরিবারের সম্মিলিত একক চাওয়া-পাওয়া চাঁদ কেন সূর্য পর্যন্ত এতদিনে মানুষের পদানত হ’তে পারতো। যেহেতু কোরানই বলে সৃষ্টি বা বস্তু মানেই মানুষের পদানত, মানুষ তার খলিফা।
উল্লিখিত নবিদের নামের পার্থক্য থাকলেও তারা যে একই ব্যক্তি এবং অতীত নবিদের বাণী, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে পরবর্তী রাছুল-নবির আগমণ তাতে কারো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই; প্রেরণাপ্রাপ্ত মজিবুল হকের বাণী:
আমি ব্রহ্মা আমি শিব
আমি হরি আমি কৃষ্ণ
ইন্দ্র অগাস্থ বিষ্ণু আমি
আমি শোক সন্তাপ পরিত্যক্ত।
অহিংস বুদ্ধ আশোক
সর্বাঙ্গ সুন্দর সুঠাম আমি
আল্ আমিন আহম্মদ শুদ্ধ।
তোমাদের সাথে মিলেমিশে
নাই মোর কোন কর্ম
যেহেতু তারই পাতে
আমি বিক্রিত ধর্ম।
তোমরা মোরে কি দেখাও ভয়?
ও ভয় কম্পিত নয়
মম এ বিক্রীত হৃদয়।
কলঙ্কিনী রায় লো
কালি গঙ্গা পদ্মা গো
সতী সাধ্বী শ্রীমতি
সীতা সাবিত্রী অহল্যা ভাইগো।
ওগো ভগবান! তুমি মোরে
কেন কর না দান
নিত্য নতুন নৈবিদ্যমান?
ত্রিলোচন ত্রিলোকায়ত্ব মহাদেব আমি
আমি মহামহিম আ-মহাপরিব্যপ্ত
মম পদে সবে লীণ অহোরাত্র।
[ব্রহ্মা= ইব্রাহিম; শিব= শোয়েব; হরি= হারুন; কৃষ্ণ= মুছা; ইন্দ্র= ছোলায়মান; অগাস্থ= ইলিয়াছ; বিষ্ণু= যিশু, ঈসা; বুদ্ধ= যুলকেপলে; অশোক= ইয়াসা; সাবিত্রী= মরিয়ম; অহেল্যা= মুছার মাতা; মনু= নুহ্; মহাদেব= আদম।] (দ্র: প্রেরণাবাণী; প্রেরণাপ্রাপ্ত মজিবুল হক; পৃ: ৯৩)
কোরান নুতন কিছু নয়:
১. অ আনজাল না- হাক্কা। [৫: ৪৮] অর্থ: তোমার প্রতি সঠিক কেতাব অবতীর্ণ করেছি; ইহার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবের সমার্থক ও সংরক্ষকরূপে-।
২. মা ইউকালা- আলীম। [৪১: ৪৩] অর্থ: তোমার নিকট তো তাই বলা হয়েছে, যা বলা হ’তো পূর্ববর্তী রাছুলগণকে-।
৩. মিল্লাতা- মিন কাবলু। [২২: ৭৮] অর্থ: ইহা তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের ধর্ম। তিনিই তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মোসলেম’ (আদর্শ, বিশ্বস্থ, ভক্ত, ভদ্র, বিনীত, নিবেদিত, শান্তিবাদী) এবং এই কেতাবেও।
৪. নাজ্জালা- ইঞ্জিলা [৩: ৩] অর্থ: তিনি সত্য-সনাতন কিতাব তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, যা পূর্বের তওরাত ও ইঞ্জিলের সমার্থক(সমঅর্থবোধক)।
৫. অলাম্মা - কাফেরীন। [২: ৮৯] অর্থ: তাদের নিকট যা আছে তারই সমার্থক (সম-অর্থবোধক) কেতাব আল্লাহর নিকট থেকে আসলো।- তারা যা জানতো উহাই যখন তাদের নিকট পুনঃ আসলো অথচ তারা উহা প্রত্যাখ্যান করল।
৬. ক্বুল!-মুমেনীন। [২: ৯৭] অর্থ: বল! যে কেহ জিব্রাইলের শত্রু এ জন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কোরান পৌঁছে দিয়েছেন; যা পূর্ববর্তী কেতাবের সমর্থক-।
৭. অলাম্মা- ইয়ালামুন। [২: ১০১] অর্থ: যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের নিকট রাছুল আসলো যে তাদের নিকট যা আছে উহারই সমর্থক রূপে-।
৮. ক্বুলু- মুসলেমুন। [২: ১৩৬] অর্থ:-ইহা তাইই যা ইব্রাহিম থেকে ঈসা ও অন্যান্য নবিগণকে যা দেওয়া হয়েছিল; তাদের মধ্যে কোন রকম পার্থক্য করি না; কারণ আমরা তাঁর ভক্ত (নিবেদিত)।
৯. অ মা - আলামীন। [১০: ৩৭] অর্থ: হ্যাঁ! এর পূর্বে যে সব কেতাব এসেছে সেগুলির সত্যতা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেয়। আর এ কিতাব হচ্ছে সেই সব কেতাবেরই বিস্তারিত ব্যাখ্যা মাত্র-।
১০. লাক্বাদ-ইউমেনুন। [১২: ১১১] অর্থ:-মূলতঃ এর পূর্বে যা নাজিল হয়েছে উহাদেরই সত্যতা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেয় এবং যা প্রত্যেকটি বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা-।
১১. অল্লাজী-বাছিরুন। [৩৫: ৩১] অর্থ: -পূর্ববর্তি কিতাবের সমর্থক হিসাবে এই অমোঘ বাণী অবতীর্ণ করেছি।
১২. ফাত্তাবিউ- মুশরেকিন। [৩: ৯৫] অর্থ: -সুতরাং তোমরা ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর-।
১৩. অত্তাবাতু-য়াসকুরুন। [১২: ৩৮] অর্থ: আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্ম অনুসরণ করি-।
১৪. ছুম্মা - মুশরেকিন। [১৬: ১২৩] অর্থ: আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম, তুমি ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর-।
১৫. শারায়া লাক্বম-মুরিব। [৪২: ১৩, ১৪] অর্থ:তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন ধর্ম যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নুহকে- আর যা অহি করেছি তোমাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুছা ও ঈছাকে; এই বলে যে, তোমরা (একক) ধর্ম প্রতিষ্ঠা কর এবং উহাতে মতভেদ করিও না-। - উহা বোঝার পরেও কেবলমাত্র পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষবশত নিজদের মধ্যে মতভেদ ঘটায়-। ইহাদের পর যারা কেতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে তারা কোরান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে আছে।
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



