somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরান পূর্ণভাবেই পরিপূর্ণ

৩১ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদিও কোরানে স্বয়ং আল্লাহ অসংখ্যবার ঘোষণা করেন যে, কোরান পূর্ণ, কোরান পরিপূর্ণ জীবন-মরণ ব্যবস্থা/বিধান (ছুন্নত)। সমগ্র মুসলিম বিশ্বের এহেন বিশ্বাস চূড়ান্তভাবেই মৌখিক ও শ্লোগান সর্বস্ব; বাস্তবতার সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। কারণ পরক্ষণেই আমাদের পুনঃ পুনঃ পুনঃ বিশ্বাস যে, কোরানে যা নেই, তা হাদিছে ; হাদিছে যা নেই, তা ফেকহায় ; ফেকহায় যা নেই তা এজমায় ; এজমায় যা নেই তা কেয়াছে ; কেয়াছে যা নেই তা ফতোয়ায়, তাতে যা নেই তা আলেম-মুফতীদের মূখে ! অর্থাৎ আল্লাহর কেতাবে যা নেই তা মনুষ্য রচিত উপ-ধর্মগ্রন্থে থাকে! আর সেখানেও যদি না থাকে তবে আলেমদের মুখের ফতোয়া এবং ইহাই চুড়ান্ত! (তাজ্জব বটে!)
এ সকল উপ-ধর্ম গ্রন্থাদির স্বপক্ষে মাত্র গুটি কয়েক অতি সাধারণ এবং অতি গৌণ যুক্তি উত্থাপণ করেন, যেমন: (ক) নামাজ কিভাবে পড়বো (খ) কত রাকাত পড়বো (গ) কি পড়বো (ঘ) জাকাত কত অংশ দিব (ঙ) দাঁড়ি কয় ইঞ্চি বা ফুট রাখবো (চ) ঋতুবতী বিবি থেকে কত হাত দূরে থাকবো ইত্যাদি। এরকম কিছু গৌণ বা ফাল্তু প্রশ্নের অজুহাতে কোরানের পাশাপাশি পর পর ৫ খানি উপ-ধর্মগ্রন্থ, অর্থাৎ দু’নম্বরী থেকে পাঁচ নম্বরী গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যা বহন করতে গাড়ি-ঘোড়ার প্রয়োজন হয়। ৬২৩৬টি আয়াতের বিপরিতে ৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার এমনকি মতান্তরে ৪০ হাজার বা লক্ষ হাদিছ রচিত হয়েছে। অর্থাৎ শরিয়ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এটাই ঘোষনা করে যে, কোরানের একটি বাণীও পূর্ণ নয়! পক্ষান্তরে আল্লাহর মতে এমন কোন প্রশ্ন বা বিষয় নেই; যার সমাধান কোরানে নেই:
১. -মা ফাররাৎনা-মুবিন-ইউহশারুন। [৬ঃ ৩৮] অর্থ: -কিতাবে কোন কিছুই আমি বাদ দেই নি।
২. অ-ইন্দাহু -বিম্মুবীন। [৬: ৫৯] অর্থ:- মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট (বাস্তব) কিতাবে নেই।
৩. অমা-বিম্মুবিন। [১০: ৬১] অর্থ: দৃশ্য-অদৃশ্যে (আকাশ-জমিনে) তিল পরিমাণও তোমার রবের অগোচরে নহে। আর উহা অপেক্ষাও ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ সবকিছুই সুস্পস্ট (বাস্তব) কেতাবে লিখিত আছে।
৪. অ-লীল মুসলেমীন। [১৬: ৮৯] অর্থ: আমি মুসলিমদের জন্য (নিবেদিত) জন্য প্রত্যেকটি বিষয় স্পষ্ট ব্যাখ্যাসহ কল্যাণ, পথ নির্দেশ ও সু-সংবাদরূপে তোমার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করিলাম।
৫. অ লাক্বাদ- ইল্লা কুফু-রা। [১৭: ৮৯] অর্থ: আমি এই কোরানে মানুষের জন্য সকল বিষয় এবং বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি। কিন্তু বেশির ভাগ লোকই তা অস্বীকার করে।
৬.অইন্না রাব্বাকা - ফি কিতা-বিম্মুবিন। [২৭: ৭৪,৭৫] অর্থ: স্ব-স্ব অন্তরে যা কিছু গোপন বা প্রকাশ করে যাচ্ছে, তা আপন পালনকর্তা অবশ্যই জানে। দৃশ্য-অদৃশ্যের এমন কিছু নেই যার উল্লেখ এই কেতাবে নেই।
আয়াতে ব্যবহৃত ‘কেতাবুম্মুবিন’ অর্থাৎ ‘সুস্পষ্ট কেতাব’ বলতে এই কেতাবকেই বুঝায়; কিন্তু শরিয়ত অজ্ঞতা বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই তা সরাসরি অগ্রাহ্য করে কল্পিত ‘লাওহে মাহফুজে’র অস্পষ্ট ও কাল্পনিক
কেতাবকে বুঝাতে চায়। (দ্র: টিকা নং ৪০৭ (৮৫: ২২) ই. ফা. অনুদিত কোরান); কিন্তু ঐ কাল্পনিক কেতাব নবি-রাছুল, গাউস কুতুব, মুসলিম অমুসলিম সকলের কাছেই কালাকালের জন্য অদৃশ্য ও অস্পষ্ট। লাওহুন= শিলা, পাথর, লেখা যায় এমন বস্তু, স্পষ্ট, ফলক,(মরিচিকা); মাহফুজ= হাফেজ থেকে মাহফুজ=সুরক্ষিত, সংরক্ষিত; অর্থাৎ স্পষ্ট লিখিতভাবে রক্ষিত। অতএব ‘লাওহে মাহফুজের কোরান’ বলতে ‘এই
স্পষ্ট কোরানকেই বুঝায়।। তা’ছাড়াও ৫ নং আয়াতে ‘এই কিতাব’ বলে ১৪শ বছরের কাল্পনিক লাওহে মাহফুজের কিতাব সম্বন্ধিয় ধারণাকে ভূল প্রমান করছে। এরপরেও যদি কিছু থেকে থাকে! বরং উহাই অস্পষ্ট
এবং আদি-অনাদিকাল যাবৎ ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
কোরান পূর্ণ, পূর্ণভাবেই পরিপূর্ণ; এতে কোন সন্দেহ বা কোনই ফাঁক-ফোকড় নেই, নেই কোন য়োজর আপত্তি।
পক্ষান্তরে শরিয়ত সাক্ষি দিচ্ছে যে, কোরান আকার, ইঙ্গিত বা সংক্ষেপে লেখা তো বটেই এমনকি আয়াতের দিক থেকেও অপূর্ণ যা স্বয়ং আল্লাহও সংরক্ষণ করতে সক্ষম হননি! যেমন:
“ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে পাথর মেরে হত্যা করার আয়াতটি স্বয়ং রাছুলের সময়ই কোরানে লেখা ছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যু পরে বিবি আয়শার ঘরে একটি ছাগল ঢুকে কাগজে লেখা ঐ আয়াতটি খেয়ে ফেলেছে। [দ্র: ইবনে মাজাহ ২য় খ. হা. নং-১৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেসন]
কোরান সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল এবং বিস্তারিত বিবরণ ও পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ (তফসীর) নাজিল করা আছে; যা উপরোল্লিখিত অসংখ্য দলিল প্রমাণ দ্বারা সুঠামভাবেই প্রতিষ্ঠিত। কোন একটি বা একাধিক বিষয় না বুঝলে তার অর্থ এ নয় যে, তা অসম্পূর্ণ বা সংক্ষেপ। সুতরাং কোরানকে দায়ি না করে বরং আপন আপন জ্ঞানকে দায়ি করে সাধ্যমত কোরান পড়তে হবে, গভীর চিন্তা-গবেষণায় বোঝার চেষ্টা করতে হবে; বুঝে না আসলে কায়মন বাক্যে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে; আর তা প্রধানতঃ আপন আপন ভাষায়ই সম্ভব।
কথিত হয় যে, কোরান বুঝতে হাদিছ, ফেকহা ইত্যাদি অপরিহার্য। এই ‘অপরিহার্য’ অর্থই অত্যাবশ্যকীয়, যাকে আরবিতে ফরজের ফরজ বা ওয়াজিব বলে। অতএব ফরজ কোরান বুঝতে ফরজের ফরজ ‘হাদিছ’ প্রধান ও পূর্বশর্ত হিসাবে শরিয়ত মুসলিম সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
বিনীত।
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×