আল্লাহ বলেন: কোরান সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল
১. আল হামদু- ইঅজ্বা। [১৮: ১] অর্থ: সকল তারিফ আল্লাহর জন্য, যিনি নিজ বান্দার কাছে এই কেতাব নাজিল করেছেন। যাতে কিছু মাত্র জটিলতা নেই।
২.অ লাকাদ- ইয়াত্তাক্বুন। [৩৯: ২৭,২৮] অর্থ: আমি এই কোরানে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত উপস্থিত করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে; আরবি ভাষায় কোরান, যাতে কোন প্রকার জটিলতা নেই-।
৩. ইন্না - আজরান কাবিরা। [১৭: ৯] অর্থ: নিশ্চয়ই এই কোরান সবচেয়ে সহজ ও সরল পথ প্রদর্শন করে।
৪. অলাক্বাদ-ইল্লা নুফুরা। [১৭: ৪১] অর্থ:আমি এই কোরানে বহু বিষয় বার বার বিবৃত করেছি যাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে। কিন্তু উহাতে উহাদের বিমূখতাই বৃদ্ধি পায়।
৫. অ লা ক্বাদ- মিম্মুদ্দাকির। [৫৪: ১৭, ২২, ৩২, ৪০] অর্থ: তোমাদের বোঝার জন্য আমি এই কোরানকে সহজতর করে নাজিল করেছি। কিন্তু উপদেশ গ্রহণ করার মত কেউ আছে কি?
৬. অ ইউবায়্যিনু- ইয়া তাজাক্বারুন। [২: ২২১; ৩: ১১৮] অর্থ: মানব জাতির জন্য আয়াতসমূহ বিশদ ব্যাখ্যাসহ বুঝিয়ে দেয়া হলো; যেন তারা উপদেশ লাভ করতে সক্ষম হয়।
উপরোল্লিখিত অসংখ্য যুক্তি প্রমাণ থাকার পরেও কেউ যদি বলে যে, কোরান আকার, ইঙ্গিত বা সংক্ষেপে বর্ণিত; তবে তার চেয়ে জালিম আর কে হ’তে পারে! তবে এটা ঠিক যে কোরানের পরিপূর্ণ মর্মার্থ কারো পক্ষে জানা, বোঝা কোনদিনও সম্ভব নয়; কারণ তাতে কোরানের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। কোরান ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট একটি কালের জন্যই নয়। উহার মর্মার্থ বিবর্তনশীল কালের উপর নির্ভরশীল; এজন্যই বলা হয়েছে যে আল্লাহর একটি বাণীর ব্যাখ্যা করতে সকল গাছ কলম কর, সকল সমুদ্র শেষ করে হাজার সমুদ্র কালি কর তবুও শেষ হবে না (দ্র: ১৮: ১০৯; ৩১: ২৭)
এমনকি কোন নবিই তার উপর অর্পিত অহির পূর্ণ অর্থ জানতেন না। আল্লাহ বলেন, ‘উহা আয়ত্বের জন্য (বোঝার জন্য) ঘন ঘন ঠোঁট নাড়িও না, উহা সংরক্ষণ ও বোঝাবার দায়িত্ব আমার’ [৭৫: ১৬-১৮।] দ্বিতীয়তঃ কোরানের সংক্ষেপ শব্দগুলি যেমন: আলিফ লাম মিম, ইয়া সিন, ক্বাফ, ছোয়াদ, হা মিম ইত্যাদির অর্থ আজও কেহ জানে না।
এগুলির অর্থ ছাহাবাগণ কখনও কি নবিকে জিজ্ঞাসা করেন নি! স্বভাবতঃ এবং স্বাভাবিকভাবেই করেছেন কিন্তু ইহাদের্ এমনকি অনুবাদো কোথাও নেই। অতএব কোরান পড়তে গিয়ে যখন যা বোধগম্য না হয় তখনই সহজ সরল মনে আপন অজ্ঞতা/দূর্বলতা স্বীকার করতঃ সন্দেহ করতে হবে যে, ঐ আয়াতটির জন্য আল্লাহ আমার হৃদয়ে মোহর করে দিয়েছেন, সুতরাং পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে গভীর গবেষণায় নিমগ্ন থেকে মোহর মুছে ফেলতে পারলেই মর্মার্থটি হৃদঙ্গম হ’তে পারে। এজন্যই বলা হয়েছে যে কোরান সাধক, জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের জন্য।
‘যে বিষয় তোমাদের জ্ঞান নেই তা অনুসরণ করিও না; কর্ণ, চক্ষু, হৃদয় উহাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে। (১৭: ৩৬)
পবিত্র না হয়ে অর্থাৎ ধারিত ভিন্ন/বিভিন্ন, দল-উপদলীয় মনুষ্য রচিত আবর্জনীয় বিশ্বাস ঝেড়ে/ধুয়ে মুছে পবিত্র বা নিরপেক্ষ/নিবেদিত না হওয়া পর্যন্ত কোরানের আয়াতের মর্মার্থ আয়ত্ব/অনুধাবন (স্পর্শ) করা যাবেই না।
বিনীত
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৭:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



