কোরান/মুসলিমদের আল্লাহ বলে: কোরান সহজ, সরল এবং পূর্ণ তফছির ব্যাখ্যাসহ অবতীর্ণ।
বনাম
হাদিছ/শিয়া/ছুন্নীদের আল্লাহগণ (মায়োলানাগণ) বলে: কোরান সংক্ষিপ্ত, আকার ইশারা মাত্র।
১. আল হামদু-এয়াজান। [১৮: ১] অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তার বান্দার কাছে এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে কোনই জটিলতা নেই (বরং সহজ/সরল/প্রাঞ্জল)।
২. অ -যাদালা। [১৮: ৫৪] অর্থ: আমি মানুষের জন্য এই কোরানে বিভিন্ন উদাহরণ দ্বারা পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেছি। কিন্তু মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই তা অস্বীকার করে এবং ঝগড়া ও মতবিরোধে লিপ্ত হয় !
৩.অ হা- ইয়াজ্জাক্বারূন। [৬: ১২৬] অর্থ: ইহাই তোমার রবের নির্দেশিত সহজ সরল পথ। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, তাদের জন্য আয়াতগুলি পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করেছি।
৪. অ -আলীমুন হাকিম। [২৪: ১৮, ৪৬, ৫৮, ৬১] অর্থ: আল্লাহ তোমাদের জন্য তার বাণীসমূহ পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করেছেন।
৫. মা-কা-না -ইউমীনুন। [১২: ১১১] অর্থ: হাদিছের (কোরানকেই হাদিছ বলে সনাক্ত করা হয়েছে) বাণী মিথ্যা নহে। বিশ্বাসীদের জন্য অতীত কেতাবগুলির সমার্থক এবং উহাদেরই বিশদ ব্যাখ্যা, হেদায়েত ও রহমত। (অবিকল আয়াত কোরানে অসংখ্য)।
৬. উনযুর- ইয়াফকাহুন। [৬: ৬৫] অর্থ: দেখ! আমি আয়াতসমূহ কেমন বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেছি যেন তারা বুঝতে পারে।
৭. কা জালিকা-ইয়াসকুরূন্ [৭: ৫৮] অর্থ: এভাবেই কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য আমার আয়াত বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করি।
৮. অ লাকাদ-নুফুরান। [ ১৭: ৪১] অর্থ: এই কোরানে বহু বিষয় আমি বারবার বিবৃত করেছি যাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে। কিন্তু ইহাতে তাদের বিমূখতাই বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহর ঘোষনা:
কোরান পূর্ণাতিপূর্ণ, সরল-সহজের সহজ, তফসির, মুফাচ্ছির ব্যাখ্যার বিশদ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ অবতীর্ণ।
এসম্বন্ধে অন্তত মুসলিমদের (বুঝুক কি না বুঝুক!) কোন রকমের তিল পরিমাণও অবিশ্বাস, দূর্বলতা বা সন্দেহ ধারণ এবং প্রকাশ করার অবকাশ নেই! এর বিপরীতে শরিয়তের দৃষ্টিতেই কাফের/মুনাফেক সাব্যস্থ হয়! সুতরাং অনারবদের জন্য শুধু মাত্র প্রয়োজন কোরানের আলোকে কোরানের সঠিক স্ব স্ব অনুবাদ মাত্র।
পক্ষান্তরে কোরানিক মৌলিক মুসলিমত্ব ত্যাগ করত শিয়া/ছুন্নী ইত্যাদি নকল যৌগিক নাম ধারণ করত: উল্লিখিত কোরানের অসংখ্য আদেশ/ নির্দেশ/ উপদেশ সরাসরি অস্বীকার করত: গায়গতরে ধার্মিক সেজে স্বয়ং রাছুলের নামেই ঘোষনা করলো:
কোরান ব্যাখ্যাসহ অবতীর্ণ নয়! বরং আকার-ইঙ্গিত ও অতি সংক্ষেপে অবতীর্ণ করা হয়েছে! সুতরাং কোরান বুঝতে হাদিছ, হাদিছ বুঝতে ফেকহা, ফেকহা বুঝতে ইজমা, ইজমা বুঝতে কিয়াস, কিয়াস বুঝতে ফতোয়া! অতপর ফতোয়া বুঝতে আশে-পাশের মসজিদের ইমাম/মুফতির দরকার! শুধু দরকারই নয় বরং ঐগুলি অত্যাবশ্যকীয়; যার আরবী নাম ফরজের ফরজ বা ওয়াজিব। আর ঐ যুক্তির উপর রচিত হয়েছে রাছুলে নামে লক্ষ লক্ষ হাদিছ। তদুপরি রচিত হয়েছে তফসিরুল কোরান, ফতহুলবারী, ফতহুল বয়ান, সামিকেতাব, ইবনে কাছির, বাইহাকি, বায়দবী, তাবারী, যামাখশারী, ফাখরুদ-দ্বীন ইত্যাদি বিশাল বিশাল তফছির গ্রন্থ! তৎপর মারেফুল কোরান, তাবিজাতে কোরান, বেহেস্তী জেওর, মকছেদুল মুমেনীনসহ লক্ষ লক্ষ কেতাব রচনা করে:
* সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলিম বিশ্বকে পথভ্রষ্ট/বিভ্রান্ত করে শিয়া/ছুন্নী/হানাফি/ কাদিয়ানীতে পরিণত করছে।
*কোরানকে সমূলে গিলে ফেলেছে।
আজ কোরানের একটি কথা বললেই উল্লিখিত হাজার/ লক্ষ ব্যক্তি/দল রচিত হারামী কেতাব দিয়ে তা পরাভূত করার চেষ্টা করে। আল্লাহ সাক্ষি দেয় রাছুল দলিল-প্রমানের উপর প্রতিষ্ঠিত (৬:৫৭); তারা বলে রাছুল দলিল-প্রমান ছাড়াও হাজার হাজার কথা কাজ করেছেন।
কোরানে এদের পরিচয়:
১.তোমার জাতিতো ইহাকে (কোরানকে) মিথ্যা সাব্যস্থ করেছে অথচ উহাই সত্য।[৫: ৬৬]
২. ঐ সমস্ত আল্লাহ্র আয়াত, যা সঠিকভাবে তোমার প্রতি আবৃত্তি করা হচ্ছে সুতরাং আল্লাহ ও তার আয়াতের পরিবর্তে উহারা আর কার হাদিছে বিশ্বাস করতে চায়? [দ্র: ৪৫: ৬; ৭৭: ৫০]
৩. - আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, বিচার-মীমাংসা করে না, তারাই কাফের, ফাছেক ও জালেম। [ দ্র: ৫: ৪৪, ৪৫, ৪৭ এর শেষ অংশ]
৪. তোমার প্রতি সঠিক-সনাতন কেতাব অবতীর্ণ করেছি যা অতীত কেতাবের সমার্থক ও ইহারই সংরক্ষক; সুতরাং তদনুসারেই তুমি বিচার নিষ্পত্তি করিও। ইহা ছাড়া অন্যের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করিও না-। [৫: ৪৮]
৫. সে (রাছুল) যদি আমার নামে নিজে কিছু রচনা করতো তবে অবশ্যই তার ডান হাত পাকড়াও করে তার জীবন ধমনী কেটে ফেলতাম; অতঃপর তোমাদের কারো সাধ্য থাকতো না তাকে রক্ষা করার। [৬৯: ৪৪-৪৭]
৬. আল্লাহর নিকট থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা শুধু ইহাই অনুসরণ কর এবং উহা ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করিও না। তোমরা খুব কম সংখ্যকই উপদেশ গ্রহণ কর। [৭: ৩]
অতএব এক্ষণে কোরানের আলোকে প্রচলিত ইসলামী দল/উপদল এবং তাদের কতিপয় নেতা-উপনেতাগণ যুদ্ধাপরাধী হলেও অধিকাংশই যে গুরুতর ধর্মাপরাধী! কোরানই তার জলন্ত দলিল প্রমান। সুতরাং যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আগে প্রকাশ্যে-খোলামাঠে ধর্মাপরাধীদের বিচার করা ওয়াজীব-অত্যাবশ্যকীয়।
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


