কোরান বুঝা/বুঝে পড়া এবং তদানুযায়ী পালন করার কঠিন নির্দেশ।
না বুঝে সুর/তাল রক্ষা করে পড়া/মুখস্থ করার জন্য কোরান উদয় হয়নি।
১. অতা’মুরূনান্না-ছা-তাক্বি’লুন। [২: ৪৪] অর্থ: তোমরা সৎকাজে মানুষদের নির্দেশ দাও আর নিজেদের ব্যাপারে ভুলে থাক? অথচ তোমরা কেতাব পড়, তবে বুঝে দেখ না কেন?
২. ইউরিদুল্লা-হু- হাকিম। [৪: ২৬] অর্থ: আল্লাহ ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকট পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করতে, অতীত কেতাবের রীতি-নীতি তোমাদিগকে বুঝিয়ে দিতে; যাতে তোমাদের ক্ষমা করা যায়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও বিজ্ঞানময়।
৩. ফা ইন্নামা-কাউমাল্লুদ্দা। [১৯: ৯৭] অর্থ: আমিতো কোরানকে তোমার ভাষায় সহজতর করে দিয়েছি, যাতে তুমি সত্যবাদীদের সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে পার এবং অসৎদের সাবধান করতে পার।
৪. কাজা-লিকা-তা’ক্বুলুন। [২৪: ৬১; ৪৪: ৫৮] অর্থ: এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তার বিধানগুলি বিশদ ব্যাখ্যা সহকারে বিবৃত করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।
৫. অ - ইয়াক্বিলুন [২: ১৭১] অর্থ: কাফেরদের উপমা এমন যেমন কেহ চীৎকার, শব্দ বা সুর ছাড়া আর কিছুই বোঝে না; তারা মুক বধির ও অন্ধ। সুতরাং তারা বুঝবে না।
৬. মাছালুল্লাজীনা-জালেমীন। [৬২: ৫] অর্থ: যাদের তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল; অতঃপর উহা বুঝতে চেষ্টা করেনি, তাদের উপমা পুস্তক বহনকারী গাঁধার মত! কত নিকৃষ্ঠ সে জাতি, যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ জালিম জাতিকে সৎপথ দেখান না।
৭. আ-যুহা। [৪৭: ২৪] অর্থ: তবুও কি এরা কোরান নিয়ে চিন্তা গবেষণা মোটেই করবে না? না তাদের হৃদয়ে তালা মারা রয়েছে!!
৮. লাক্বাদ-তাক্বিলুন। [২১: ১০] অর্থ: আমি তোমাদের প্রতি কেতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের জন্য উপদেশে পরিপূর্ণ। তবুও কি তোমরা বুঝতে চেষ্টা করবে না?
৯. ইন্না-ইয়াক্বিলুন। [৮: ২২] অর্থ: আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ঠতম জীব সেই যে বধির ও মুক যারা কিছুই বুঝে না।
১০. অলাকাদ-গাফেলীন। [৭: ১৭৯] অর্থ: আমি তো বহু জিন্ন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাহাদিগের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্বারা উপলব্ধি করে না; তাদের চক্ষু আছে কিন্তু তদ্বারা দেখে না; তাদের কান আছে কিন্তু তদ্বারা শ্রবণ করে না; ইহারা পশুর ন্যায়, বরং ইহা অপেক্ষাও অধিক বিভ্রান্ত। তারা অত্যন্ত গাফিল।
১১. অইয়াআলু-ইয়াকেলুন। [১০: ১০০] অর্থ: এবং যারা বুঝতে চেষ্টা করে না আল্লাহ তাদের উপর নাপাকী/আবর্জনা নিক্ষেপ করেন।
১২. অল্লাজিনা- খাছিরুন। [ ২: ১২১] অর্থ: যাদেরকে কেতাব দিয়েছি তাদের যারা যথাযথভাবে ইহা আবৃত্তি করে তারাই ইহাতে বিশ্বাস করে, আর যারা ইহা প্রত্যাখ্যান করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
শরিয়ত উল্লিখিত একমাত্র ১২নং আয়াতটির আলোকে অর্থ উপলব্দি ব্যতিরেকে মাত্র সুর-তাল ঠিক রেখে পড়লে বা মুখস্ত করলেই অক্ষর প্রতি ১০টি ছোয়াবে বিশ্বাসী। মূলতঃ উপরোল্লিখিত ১ থেকে ১১ নং আয়াতগুলির আলোকে তাদের হাদিছ সমর্থিত বিশ্বাসগুলি ভ্রান্ত ও কোরান বিরুদ্ধ বলেই প্রমান করে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত ওসমান পর্যন্ত সপ্ত ক্বারীর সপ্ত সংকলনের সপ্ত সুরের কোরান প্রচলিত ছিল; তৃতীয় খলিফার পর থেকে আজ অবধি দ্বিত্ব ক্বারীর দ্বিত্ব সংকলনে দ্বিত্ব সুরের কোরান বলবৎ আছে। [দ্র: সংক্ষিপ্ত ইসলামি বিশ্বকোষ, ১ম খ. ৩য় মুদ্রণ; কোরান অধ্যায়, পৃ: ৩৩৬-৩৩৮]। সুতরাং কোন্ উচ্চারণ বা কোন্ ক্বারীর সুরটি কেন এবং কিসের উপর ভিত্তি করে যথাযথ বলে বিশ্বাস করা যায়! তাছাড়া বিশ্বের জন সংখ্যা যত, পরমাণু পরিমাণ হলেও সুরের হের-ফের তত। এমতাবস্তায় শরিয়তের বিশ্বাসটির পরমাণূ পরিমানও গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে মনে হয় না।
মূলতঃ কোরানে আল্লাহ যা বলছেন বা বুঝাতে চাচ্ছেন, উহাই নিরপেক্ষ জ্ঞানে বিচার বিশ্লেষণে ঠিক ঠিক যেন তাইই পাঠক হৃদঙ্গম করেন; এমন তীব্র তীক্ষ্ন সচেতনতা অবলম্বন করে কোরান বুঝতে বলা হয়েছে; যাতে কোন প্রকারের ভুল-ভ্রান্তি বা ব্যতিক্রম না হয়। ইহাই ‘যথাযথভাবে’ পড়ার তাৎপর্য। উচ্চারণ বা সুর তাল রক্ষার জন্য কোরান নাজিল হয়নি।
আজকের শরিয়ত বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলে ইসলামের ব্যক্তিক ও আন্তর্জাতিক অবক্ষয় রোধ হয়ে পুনঃ প্রগতির দিকে ধাবিত হওয়া সম্ভব।
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



