somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরান বুঝে পড়ার কঠিন তাগিদ

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ ভোর ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরান বুঝা/বুঝে পড়া এবং তদানুযায়ী পালন করার কঠিন নির্দেশ।
না বুঝে সুর/তাল রক্ষা করে পড়া/মুখস্থ করার জন্য কোরান উদয় হয়নি।

১. অতা’মুরূনান্না-ছা-তাক্বি’লুন। [২: ৪৪] অর্থ: তোমরা সৎকাজে মানুষদের নির্দেশ দাও আর নিজেদের ব্যাপারে ভুলে থাক? অথচ তোমরা কেতাব পড়, তবে বুঝে দেখ না কেন?
২. ইউরিদুল্লা-হু- হাকিম। [৪: ২৬] অর্থ: আল্লাহ ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকট পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করতে, অতীত কেতাবের রীতি-নীতি তোমাদিগকে বুঝিয়ে দিতে; যাতে তোমাদের ক্ষমা করা যায়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও বিজ্ঞানময়।
৩. ফা ইন্নামা-কাউমাল্লুদ্দা। [১৯: ৯৭] অর্থ: আমিতো কোরানকে তোমার ভাষায় সহজতর করে দিয়েছি, যাতে তুমি সত্যবাদীদের সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে পার এবং অসৎদের সাবধান করতে পার।
৪. কাজা-লিকা-তা’ক্বুলুন। [২৪: ৬১; ৪৪: ৫৮] অর্থ: এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তার বিধানগুলি বিশদ ব্যাখ্যা সহকারে বিবৃত করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।
৫. অ - ইয়াক্বিলুন [২: ১৭১] অর্থ: কাফেরদের উপমা এমন যেমন কেহ চীৎকার, শব্দ বা সুর ছাড়া আর কিছুই বোঝে না; তারা মুক বধির ও অন্ধ। সুতরাং তারা বুঝবে না।
৬. মাছালুল্লাজীনা-জালেমীন। [৬২: ৫] অর্থ: যাদের তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল; অতঃপর উহা বুঝতে চেষ্টা করেনি, তাদের উপমা পুস্তক বহনকারী গাঁধার মত! কত নিকৃষ্ঠ সে জাতি, যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ জালিম জাতিকে সৎপথ দেখান না।
৭. আ-যুহা। [৪৭: ২৪] অর্থ: তবুও কি এরা কোরান নিয়ে চিন্তা গবেষণা মোটেই করবে না? না তাদের হৃদয়ে তালা মারা রয়েছে!!
৮. লাক্বাদ-তাক্বিলুন। [২১: ১০] অর্থ: আমি তোমাদের প্রতি কেতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের জন্য উপদেশে পরিপূর্ণ। তবুও কি তোমরা বুঝতে চেষ্টা করবে না?
৯. ইন্না-ইয়াক্বিলুন। [৮: ২২] অর্থ: আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ঠতম জীব সেই যে বধির ও মুক যারা কিছুই বুঝে না।
১০. অলাকাদ-গাফেলীন। [৭: ১৭৯] অর্থ: আমি তো বহু জিন্ন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাহাদিগের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্বারা উপলব্ধি করে না; তাদের চক্ষু আছে কিন্তু তদ্বারা দেখে না; তাদের কান আছে কিন্তু তদ্বারা শ্রবণ করে না; ইহারা পশুর ন্যায়, বরং ইহা অপেক্ষাও অধিক বিভ্রান্ত। তারা অত্যন্ত গাফিল।
১১. অইয়াআলু-ইয়াকেলুন। [১০: ১০০] অর্থ: এবং যারা বুঝতে চেষ্টা করে না আল্লাহ তাদের উপর নাপাকী/আবর্জনা নিক্ষেপ করেন।
১২. অল্লাজিনা- খাছিরুন। [ ২: ১২১] অর্থ: যাদেরকে কেতাব দিয়েছি তাদের যারা যথাযথভাবে ইহা আবৃত্তি করে তারাই ইহাতে বিশ্বাস করে, আর যারা ইহা প্রত্যাখ্যান করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
শরিয়ত উল্লিখিত একমাত্র ১২নং আয়াতটির আলোকে অর্থ উপলব্দি ব্যতিরেকে মাত্র সুর-তাল ঠিক রেখে পড়লে বা মুখস্ত করলেই অক্ষর প্রতি ১০টি ছোয়াবে বিশ্বাসী। মূলতঃ উপরোল্লিখিত ১ থেকে ১১ নং আয়াতগুলির আলোকে তাদের হাদিছ সমর্থিত বিশ্বাসগুলি ভ্রান্ত ও কোরান বিরুদ্ধ বলেই প্রমান করে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত ওসমান পর্যন্ত সপ্ত ক্বারীর সপ্ত সংকলনের সপ্ত সুরের কোরান প্রচলিত ছিল; তৃতীয় খলিফার পর থেকে আজ অবধি দ্বিত্ব ক্বারীর দ্বিত্ব সংকলনে দ্বিত্ব সুরের কোরান বলবৎ আছে। [দ্র: সংক্ষিপ্ত ইসলামি বিশ্বকোষ, ১ম খ. ৩য় মুদ্রণ; কোরান অধ্যায়, পৃ: ৩৩৬-৩৩৮]। সুতরাং কোন্ উচ্চারণ বা কোন্ ক্বারীর সুরটি কেন এবং কিসের উপর ভিত্তি করে যথাযথ বলে বিশ্বাস করা যায়! তাছাড়া বিশ্বের জন সংখ্যা যত, পরমাণু পরিমাণ হলেও সুরের হের-ফের তত। এমতাবস্তায় শরিয়তের বিশ্বাসটির পরমাণূ পরিমানও গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে মনে হয় না।
মূলতঃ কোরানে আল্লাহ যা বলছেন বা বুঝাতে চাচ্ছেন, উহাই নিরপেক্ষ জ্ঞানে বিচার বিশ্লেষণে ঠিক ঠিক যেন তাইই পাঠক হৃদঙ্গম করেন; এমন তীব্র তীক্ষ্‌ন সচেতনতা অবলম্বন করে কোরান বুঝতে বলা হয়েছে; যাতে কোন প্রকারের ভুল-ভ্রান্তি বা ব্যতিক্রম না হয়। ইহাই ‘যথাযথভাবে’ পড়ার তাৎপর্য। উচ্চারণ বা সুর তাল রক্ষার জন্য কোরান নাজিল হয়নি।
আজকের শরিয়ত বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলে ইসলামের ব্যক্তিক ও আন্তর্জাতিক অবক্ষয় রোধ হয়ে পুনঃ প্রগতির দিকে ধাবিত হওয়া সম্ভব।
বিনীত।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×