somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরান সংকলন কি বিতর্কের উর্দ্ধে? ১/৬

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন ধর্ম গ্রন্থই স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেস্তা এমনকি অধিকাংশ নবিগণও নিজ হাতে লিখেন নি; লিখেছেন সাধারণ/অসাধারণ মানুষ, আর মানুষ কোনক্রমেই ভুলের উর্দ্ধে নয়। কোরান আল্লাহময় রাছুলের (৩: ৭৯) মূখ নিসৃত আল্লাহর হাদিছ/বাণী; নিজ বা অন্যেরদ্বারা লিখিত, ভিন্ন সময় এবং বিভিন্ন লোকদ্বারা সংকলিত।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেসনের ‘সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্ব কোষের’ ১ম খন্ডে বিভিন্ন গ্রন্থের বরাতে লেখা আছে:
১. -রাছুল (সা) তাহার জীবদ্দশাতেই আল্লাহর আদেশে কোরানের সমুদয় আয়াতের বিন্যাস-শৃংখল নিরূপিত করিয়া দিয়াছিলেন এবং স্বয়ং রাছুল (সা) ও বহু ছাহাবী এইভাবে সম্পূর্ণ কোরান মুখস্ত করিয়া ছিলেন-। [ সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্ব কোষ, ১ম খ. ৩য় মুদ্রণ পৃ: ৭০,৩৩৬; ই. ফা.]
২. কোরানের বর্তমান রূপ রাছুল (সা) কর্তৃক নির্দিষ্ট হয়ে ছিল। - হাদিছ থেকেও জানা যায় যে, রাছুল (সা) প্রত্যেক বৎসর রামাদান মাসে সমগ্র কোরান অর্থাৎ ঐ সময় পর্যন্ত সমগ্র কোরান জিব্রাইল একবার করে এবং তাঁর জীবনের শেষ রমাদানে সমগ্র কোরান জিব্রাইলকে দুই/তিন বার শুনিয়ে ছিলেন। ইহা হতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, রাছুল (সা) এর ওফাতের পূর্বেই কোরান মজিদের ছুরা ও আয়াতগুলির ক্রম বিন্যাস নির্ধারণ ও নির্দিষ্ট অবস্থায় ছিল এবং যে সকল ছাহাবীর কোরান মুখস্ত ছিল তারাও ঐ ক্রমানুসারে মুখস্ত রেখে ছিলেন। [ স. ই. বিশ্বকোষ, ১ম খ. ৩য় মুদ্রন পৃ: ৭০,৩৩৬; ই. ফা.]
৩. রাছুলের সময়ই আয়াতের সংখ্যা গণনা করা হইয়াছিল-হাদিছ হইতেও প্রমাণিত হয় যে রাছুলের জীবদ্দশায় কোরান মজিদের আয়াতের সংখ্যা নির্ণয় করা হইয়াছিল। [ঐ, পৃ: ৭০,৩৩৬]
৪. মহানবি কর্তৃক লিখিত কোরান বিবি হাফসার মারফত প্রাপ্ত হয়ে হযরত ওসমান উহার আয়াত নম্বরসহ নকল করে আরবের সকল দেশে প্রেরণ করেন যা অদ্যবধি প্রচারিত ও প্রতিষ্ঠিত আছে। [ সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ; ১ম খ.৩য় মুদ্রণ; ‘আয়াত’ ও ‘কোরান’ অধ্যায়; পৃ: ৭০ ও ৩৩৬; ই. ফা. ]
বেশি দিনের কথা নয়, প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বের অনুদিত ও প্রকাশিত যে কোন কোরানের প্রারম্ভে কয়টি সুরা, কয়টি পারা, মনজিল, রুকু, সেজদা ও আয়াত, শব্দ, জের, জবর, পেশ, তাসদিদ সংখ্যার হিসাবসহ একটি স্বতন্ত্র তালিকা থাকতো এবং তাতে আয়াতের সংখ্যা ৬,৬৬৬টি উল্লেখ থাকতো। কিন্তু আধুনিক প্রকাশিত কোরানে প্রধানতঃ সবই থাকে কিন্তু আয়াত সংখ্যা থাকে না। উদাহরণ স্বরূপ বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত কোরান অন্যতম। এর কারণ অজ্ঞাত ও রহস্যজনক বটে! বলাবাহুল্য, মোবারক করীম জওহর অনুদিত কোরানে আজও ৬,৬৬৬টি আয়াত লেখা আছে; লেখা আছে আশরাফ আলী থানভীর অনুদিত কোরানসহ অধিকাংশ কোরানে। কিন্তু কোরানখানির আয়াত সংখ্যা একুন করলে পাওয়া যায় মাত্র ৬,২৩৬টি; অর্থাৎ ৪৩০ টি আয়াত কম! এক্ষণে যে কেউ যে কোন কোরানের আয়াত সংখ্যা গুণে তার সত্যাসত্য পরীক্ষা করতে পারেন। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এই সাধারণ/অসাধারণ ভুলটি আজ দেড় হাজার বৎসর যাবৎ কোরান নীরবে বহন করে আসছে!
এবারে লক্ষ্যণীয় বিশ্বকোষের দ্বিতীয় তথ্য
৫. “-আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্বারীগণ কোরানের আয়াতের সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন: কুফীদের মতে: ৬,২৩৬টি আয়াত; বসরাবাসীদের মতে: ৬,২১৬টি আয়াত; সিরীয়াবাসীদের মতে: ৬,২৫০টি আয়াত; ইসমাইল ইবনে জাফর মদনীর মতে: ৬,২১৪টি আয়াত; মক্কীদের মতে: ৬,২১৮টি আয়াত; হযরত আয়শার মতে: ৬,৬৬৬টি আয়াত”। [দ্র: সং. ই. বিশ্বকোষ,১ম খ. ৩য় মুদ্রণ ‘আয়াত’ অধ্যায়; পৃ: ৭০; ই. ফা. ]
আলোচ্য তথ্য দু’টি একে অন্যের বিপরীত; অর্থাৎ একটি অপরটিকে মিথ্যা, ভুল তথা কাল্পনিক বলেই সাক্ষ্য দেয়। প্রথমটি যারা বিশ্বাস করবেন, তাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হয় যে, জিব্রাইল কর্তৃক সংশোধিত কোরান আজকের বিশ্বের কেউই অনুসরণ করছেন না, বা নেই অথবা ধারণাটি ভুল; বরং দল উপ-দল কর্তৃক অনুদিত কোরান সকলেই অনুসরণ করছি; যেমন আজকের আমরা সুন্নী স¤প্রদায় উল্লিখিত কুফি মতের কোরান অনুসরণ করছি; যার আয়াতের সংখ্যা ৬,২৩৬ টি। আর দ্বিতীয়টি বিশ্বাস করলে জিব্রাইল কর্তৃক পরীক্ষা ও সংশোধন সম্বন্ধীয় হাদিছগুলির আর কোন অস্থিত্ব রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া বর্ণিত কোন্ মতের কোরানখানি জিব্রাইল কর্তৃক পরীক্ষীত ও সংশোধিত তা কারো জানা আছে বলে মনে হয় না।
বিবি আয়শার মতে আয়াত সংখ্যা ৬,৬৬৬টি। তার স্ব-পক্ষে একটি ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে:
তৎকালে তুরস্কের শাষণকর্তা আরবের খলিফা নামে রাজা-বাদশাদের শুভ দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কোরানের ৬,৬৬৬টি আয়াতের প্রমাণ ও প্রতীক স্বরূপ ৬,৬৬৬টি স্বর্ণের মোমবাতি সংবলিত মহা মূল্যবান একটি বাতিদানী তৈরী করেন কাবা ঘরে উপহার দেয়ার জন্য। কিন্তু বিধি বাম, হঠাৎ মুসলিম বীর কামাল আতাতুর্কের আগমণে তুর্কী মৌলবাদ লন্ড-ভন্ড হওয়ার ফলে সে পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। অতঃপর কামাল পাশা তোপকাপী মিউজিয়ামে ঐ বাতিদানীটি রক্ষণ করেন, যা আজও সেখানে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, হযরত ওসমানের লিখিত কোরানও সেখানে রয়েছে। [ দ্র: সরাসরি তোপকাপী মিউজিয়াম অথবা এ্যাম্বেসীতে খোঁজ নিতে হবে]
(চলবে-২/৬)
১১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×