somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরান সংকলন কি বিতর্কের উর্দ্ধে? ৩/৬

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পূর্বাপর)
কোন ধর্ম গ্রন্থই স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেস্তা এমনকি নবিগণও নিজ হাতে লিখেননি, লিখেছেন মানুষ; আর মানুষ কোনক্রমেই ভুলের উর্দ্ধে নয়। কোরান আল্লাহময় রাছুলের (৩: ৭৯) মূখ নিসৃত আল্লাহর হাদিছ/বাণী (৬৯: ৪০; ৮১: ১৯)। নিজ বা অন্যেরদ্বারা লিখিত, ভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকদ্বারা সংকলিত।


১৩. স্বর চিহ্নসমূহ প্রথমে বর্ণের বিভিন্ন স্থানে নুক্তারূপে লিখিত হইত। অষ্টম শতাব্দির মধ্যভাগে এই ব্যবস্থা পরিবর্তীত করিয়া ‘আলিফ’, ‘ওয়াও’, এবং ‘য়্যা’ এর অনুকরণে বর্তমানে ব্যবহৃত যবর, পেশ ও যের প্রবর্তিত হয়। কেহ কেহ কোরানের লিপিতে এগুলির ব্যবহার সঙ্গত মনে করেন নাই। [ সং. ই. বিশ্বকোষ, ১ম খ. ৩য় মুদ্রণ, পৃ: ৩৩৬-৩৩৮; ই. ফা.]
১৪. ছুরা তওবা ব্যতীত সকল ছুরার শুরুতে লেখা ‘বিছমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহিম’ আয়াতটি অহি নয়; সুতরাং ১১৩টি আয়াত অযথা ও অতিরিক্ত সংযোগ করা হয়েছে বলে উহা মোট হিসাবেও ধরা হয় না।
১৫.ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সকল অনুদিত কোরানে লেখা আছে: ‘বিছমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহিম’ পক্ষান্তরে ইউছুফ আলীর অনুদিত কোরানে আছে ‘বিছমে আল্লাহ আররহমান আররাহিম।’ আলিফ-লাম-মিম এর উপরে তাসদিদসহ দু’টি বড় মদ আছে পক্ষান্তরে ইউছুফ আলীর লিখিত কোরানে তাসদিদ নেই আছে মাত্র দু’টি বড় মদ; অনুরূপ উলা-ইকা লিখতে আলিফের উপরে শুধু পেশ পক্ষান্তরে ইউছুফ আলীর লিখিত কোরানে আলিফের উপরে হামজা অতঃপর পেশ। অর্থাৎ বিশ্বে দ্বৈত মতের (কুফি ও মাদানী) লেখা ও উচ্চারণ সংবলিত কোরান প্রচলিত! অথচ কথিত হয় যে, হযরত ওসমানের সংরক্ষিত কোরানে এমনকি জের, যবর, পেশ কিছুই নেই।
১৬. আজ সাড়ে ১৪শ বছরের সংকলিত কোরানগ্রন্থ ৮ম বার সংশোধন করার পরেও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুদিত কোরান গ্রন্থে আনকাবুত ছুরার আয়াত সংখ্যা ৬৯ এর স্থলে লেখা আছে ৬৭; ছুরা যুমার এর ২৩ নং আয়াতে ‘মাশানিয়া’র স্থলে ‘মানানিয়া’ শব্দটি ভুল লেখা আছে; অতএব ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভুল/ছাপা ভুল পাওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং তাতে তাজ্যব হলেও অস্বাভাবিক নয়!
১৭. ‘নাছেক-মনছুক’ নামে শরিয়তি-মারেফাতি এবং শিয়া-সুন্নী অসংখ্য তফছিরকারগণ বেশ কিছু আয়াতের উপর লিখিত প্রমানাদিসহ আদিকাল থেকে সন্দেহ পোষণ করে আসছেন।
ইমাম বাকের বলেন, তিন শতের উপর কোরানের বাক্য ‘তাহরীফ’ অর্থাৎ ‘বদল’ করা হয়েছে যা আহলে বাইতের শানে ছিল। ইহাদের মধ্য থেকে ইমাম নেসাই ১৫০টি স্ব প্রমান করেছেন। সিরাতুন্নবি অর্থাৎ নবির চারিত্রিক গুণরাজি যে সকল বাক্যে উল্লিখিত ছিল তাদের মধ্য থেকে ১১৪টি বাক্য বদল করা হয়েছে। এ সকল বাক্যের অনেকগুলি ইবনে কাসির তার তফসীরে টীকাতে প্রকাশ করেছেন। কি ছিল এবং উহার স্থলে কি আছে তা তিনি প্রমান করেছেন। অসংখ্য উদাহরণের মধ্যে মাত্র ৩টি উদাহরণ লক্ষনীয়:
ক. ছুরা আহযাবের প্রথম বাক্যটি এরূপ ছিল: ইয়া আইয়ুহান নাবি কুল এত্তাকিল্লাহা অলা তুতিইল কাফেরীনা অল মোনাফেকিনা-। অর্থাৎ হে নবি, আপনি (বিশ্বাসীগণকে) বলে দিন আল্লাহকে ভয় করতে এবং কাফের ও মোনাফেকগণকে অনুসরণ না করতে-। বাক্যটিতে ‘কুল’ অর্থাৎ ‘বলে দিন’ কথাটি ফেলে দিয়ে এই ছুরার প্রথম তিনটি বাক্যে উল্লিখিত হেদায়েত নবির উপরেই হয়েছিল বলে চাপিয়ে দেয়া হ’ল। ইহাতে নবির চরিত্র অত্যন্ত হীন এবং সাধারণ মানব চরিত্রে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এরূপ বহু জায়গায় নবির নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের মধ্যে কত যে কলঙ্কের রেখাপাত কোরানে তৈরী করে দেয়া হয়েছে তা চিন্তাশীল পাঠক সহজেই অনুধাবন করতে সক্ষম হয়ে থাকেন যদিও প্রতিকার করতে অক্ষম।
খ. ছুরা আলে এমরানের পাঁচ নম্বর বাক্যটি হলো: ইন্নাল্লাহা লা ইয়াখ্ফা আলাইহে শাইউন ফিল্ আরদে অলা ফিস্ সামায়ে। ইহা নিুরুপে ছিল বলে উল্লিখিত আছে:‘ইন্নাল্লাহ (নফ্সা ইল্লা উসয়াহা) লা ইয়াখ্ফা আলাইহে শাইউন ফিল্ আর্দে অলা ফিস্ সামায়ে।’ বাক্যটি থেকে ‘নফসা ইল্লা উস্য়াহা’ কথাটি বাদ দিয়ে বাক্যটি রাখা হয়েছে।
গ. অ ইন্নাহু লা এলমুন লিস্সায়াত ফালা তাম্তারুন্না বেহা অস্তাবেউনী। হাজা সিরাতুম মোস্তাকীম। [ ৪৩: ৬১] অর্থ: এবং নিশ্চয় তিনি (ঈসা) হলেন ’কিয়ামতের’ নিদর্শন, সুতরাং তোমরা ইহাতে সন্দেহ পোষণ করিও না এবং আমাকে অনুসরণ কর। ইহাই সোরাতুম মোস্তাকীম।
ইবনে মাগাজেনী ফকিয়ে শাফেয়ী মনাক্বেবের মধ্যে জাবের বিন আবদুল্লাহ আনসারী থেকে সনদসহ উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত ৬১ নং বাক্যে আসলে এইভাবে নাজেল হয়েছিল: অ ইন্না আলীয়ান লেএলমু লিস-মোস্তাকীম।
(চলবে-৪/৬)

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×