(পূর্বাপর)
কোন ধর্ম গ্রন্থই স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেস্তা এমনকি নবিগণও নিজ হাতে লিখেননি, লিখেছেন মানুষ; আর মানুষ কোনক্রমেই ভুলের উর্দ্ধে নয়। কোরান আল্লাহময় রাছুলের (৩: ৭৯) মূখ নিসৃত আল্লাহর হাদিছ/বাণী (৬৯: ৪০; ৮১: ১৯)। নিজ বা অন্যেরদ্বারা লিখিত, ভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকদ্বারা সংকলিত।
১৮. ৩: ১৪৪ নং আয়াতের অর্থ: মোহাম্মদ একজন রাছুল ব্যতীত নহেন। নিশ্চয়ই তার পূর্বে বহু রাছুল গত হয়েছেন। যদি তিনি মরে যান অথবা কতল হন;তোমরা কি পশ্চাদপদ হয়ে ফিরে যাবে?-।
এই বাক্য কোরানের নয় বলে প্রাচীন তফসীরকারগণের লিখিত তফসীর থেকে আজও কোন কোন তফসীরকার মন্তব্য প্রকাশ করে আসছেন। [ ১০,১১,১২: তফসীর দুর্বে মনসুর: ২য় খ.পৃ: ১৪০; তফসীর কাশ্শাফ ১ম খ. পৃ: ৩৯০; তফসীর কবির ৩য় খ. পৃ: ২০০ (মিশরীয় প্রকাশনা)। প্রযতেœ: হাদিছ সাহিত্যের ইতিহাস: সা’দ উল্লাহ্; পৃ: ১০৮-১১৬]
১৯. ডঃ রাশাদ খলিফার নাম জানা আছে। তিনি অলৌকিক ‘১৯’ সংখ্যার সাহায্যে কমপিউটারে কোরানের প্রত্যেকটি ছুরা নির্ভূলতা পরীক্ষা করতে গিয়ে ছুরা তওবার শেষ দু’টি আয়াত ভুল ধরা পড়ে। তিনি নিজকে রাছুল দাবি করত আয়তদ্বয় নকল বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সর্বমোট আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬ ও ৬২৩৬ এর পরিবর্তে ৬২৩৪টি নির্ধারন করেছেন। [ দ্র: কোরান, দি ফাইনাল টেষ্টামেন্ট, অথরাইজ্ড ইংলিশ ভারসান; বাই: ডঃ রাশাদ খলিফা]
অতঃপর:
২০. হেরা পর্বতের গুহায় অবতীর্ণ সর্বজন স্বীকৃত সর্বপ্রথম আয়াত-“ইকরা বিসমে-”, কোরানে স্থান পেয়েছে শেষের দিকে ৯৬ নং ছুরা ‘আলাকে’।
২১.সর্বজন স্বীকৃত শেষ অবতীর্ণ আয়াত- “আল- ইয়াওমা আকমালতু-”, কোরানের এই শেষ আয়াতটি স্থান পেয়েছে কোরানের প্রথম অংশের ৫নং ছুরা মায়েদার ৩ নং আয়াতের শেষের দিকে।
২২. ছুরা ফাতেহা ৫ম সুরা বলে কথিত আছে; অথচ তা বসানো হয়েছে সর্বপ্রথম।
২৩. মক্কা-মদিনার অবতীর্ণ ছুরাগুলি সময়কালের হিসাব মতে ক্রম বিন্যাসিত অবস্থায় নেই। অর্থাৎ মাদানী ছুুরাগুলি কোরানের প্রথম অংশে ও মক্বী ছুরাগুলি কোরানের শেষ অংশে স্থান পেয়েছে। অধিকাংশ মক্কী ছুুরার মধ্যে দু’একটি বিচ্ছিন্ন মাদানী আয়াত, অনুরূপ মাদানী ছুুরার মধ্যেও দু’একটি বিচ্ছিন্ন মক্বী আয়াত সন্নিবেশিত করা আছে। [দ্র: সমালোচনা, মু. পিকথল অনুদিত কোরান]
২৪. (অনুবাদ প্রসঙ্গে) অনেক সুরা আছে, যা ‘অ’ অর্থাৎ ‘এবং’ শব্দ দিয়ে শুরু করা হয়েছে। প্রায় সমগ্র কোরানেই ‘অ’ এর অর্থ ‘এবং’ ‘সুতরাং’ ‘অতএব’ ‘অথবা’ ইত্যাদি করা হয়েছে কিন্তু কোরানের শেষের দিকের বেশ কিছু ছুরায় ‘অ’ এর অর্থ করা হয়েছে ‘শপথ’ বা ‘কসম,’ যদিও প্রকৃত শপথ অর্থে ‘কসম’ শব্দটি কোরানে অন্যত্র উল্লেখ আছে, যেমন: ফালা উক্বছিমু বিমাওয়াক্বি’ইন্নুজ্জুম [৫৬: ৭৫] অর্থ: শপথনামা নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের। অইন্নাহু লাক্বাছামুল্লাউ তা’লামুনা আজীম [৫৬: ৭৬] অর্থ: অবশ্যই ইহা এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে-। বিষয়গুলি রূপক; কারণ স্বয়ং আল্লাহর যদি কোন কিছুর শপথ বা দোহাই দিয়ে অহি নাজিল করতে হয় ! তবে তা আল্লাহর জন্য বড়ই অপমানজনক বটে! কারণ কসম করা হয় তুলনায় নিজের উর্দ্ধের ও অধিক বিশ্বস্থ একটা কিছুর। তাছাড়া স্বয়ং আল্লাহ নিজেই কোরানে ঘোষনা করে যে,“ যারা কথায় কথায় কসম করে তাদের বিশ্বাস করিও না।’ [৬৮: ১০] সুতরাং আল্লার স্বয়ং ঘন ঘন কসম করার সুযোগ কোথায়! কয়েকটি উদাহরণ দেখুন:
বৈকালের শপথ। খ) ছুটন্ত ঘোড়ার শপথ। গ) তীন ফলের শপথ, জাইতুনের (জলপাই) শপথ, সিনাই পর্বতের শপথ। ঘ) নিরাপদ নগরীর শপথ। ঙ) পূর্বাহ্নের শপথ। চ) শপথ রজনীর যখন উহা হয় নিঝুম। ছ) শপথ সূর্যের এবং উহার কিরণের। জ) শপথ চন্দ্রের যখন উহা সূর্যের পরে আবির্ভূত হয়। ঝ) উষার শপথ। ঞ) শপথ আকাশের এবং নক্ষত্রের ইত্যাদি ইত্যাদি। [ কোরানের শেষাংশের কতিপয় ছুরা]
প্রধানতঃ আরবি ‘অ’ বা ‘এবং’ অব্যয়টি দুই বাক্যের যুক্তাক্ষর; উহার পূর্বে এক বা একাধিক শব্দ বা বাক্য অবশ্যই থাকে বা ছিল! ব্যাকরণের সুত্র মতে উহা অনস্বীকার্য! অতএব সে বাক্যগুলি হয়তো হারিয়ে গেছে নতুবা ‘অ’ এর রূপক অর্থ উদ্ধার করতে হবে!
(চলবে-৫/৬)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



