somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরান সংকলন কি বিতর্কের উর্দ্ধে? ৪/৬

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পূর্বাপর)
কোন ধর্ম গ্রন্থই স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেস্তা এমনকি নবিগণও নিজ হাতে লিখেননি, লিখেছেন মানুষ; আর মানুষ কোনক্রমেই ভুলের উর্দ্ধে নয়। কোরান আল্লাহময় রাছুলের (৩: ৭৯) মূখ নিসৃত আল্লাহর হাদিছ/বাণী (৬৯: ৪০; ৮১: ১৯)। নিজ বা অন্যেরদ্বারা লিখিত, ভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকদ্বারা সংকলিত।
১৮. ৩: ১৪৪ নং আয়াতের অর্থ: মোহাম্মদ একজন রাছুল ব্যতীত নহেন। নিশ্চয়ই তার পূর্বে বহু রাছুল গত হয়েছেন। যদি তিনি মরে যান অথবা কতল হন;তোমরা কি পশ্চাদপদ হয়ে ফিরে যাবে?-।
এই বাক্য কোরানের নয় বলে প্রাচীন তফসীরকারগণের লিখিত তফসীর থেকে আজও কোন কোন তফসীরকার মন্তব্য প্রকাশ করে আসছেন। [ ১০,১১,১২: তফসীর দুর্বে মনসুর: ২য় খ.পৃ: ১৪০; তফসীর কাশ্শাফ ১ম খ. পৃ: ৩৯০; তফসীর কবির ৩য় খ. পৃ: ২০০ (মিশরীয় প্রকাশনা)। প্রযতেœ: হাদিছ সাহিত্যের ইতিহাস: সা’দ উল্লাহ্; পৃ: ১০৮-১১৬]
১৯. ডঃ রাশাদ খলিফার নাম জানা আছে। তিনি অলৌকিক ‘১৯’ সংখ্যার সাহায্যে কমপিউটারে কোরানের প্রত্যেকটি ছুরা নির্ভূলতা পরীক্ষা করতে গিয়ে ছুরা তওবার শেষ দু’টি আয়াত ভুল ধরা পড়ে। তিনি নিজকে রাছুল দাবি করত আয়তদ্বয় নকল বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সর্বমোট আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬ ও ৬২৩৬ এর পরিবর্তে ৬২৩৪টি নির্ধারন করেছেন। [ দ্র: কোরান, দি ফাইনাল টেষ্টামেন্ট, অথরাইজ্ড ইংলিশ ভারসান; বাই: ডঃ রাশাদ খলিফা]
অতঃপর:
২০. হেরা পর্বতের গুহায় অবতীর্ণ সর্বজন স্বীকৃত সর্বপ্রথম আয়াত-“ইকরা বিসমে-”, কোরানে স্থান পেয়েছে শেষের দিকে ৯৬ নং ছুরা ‘আলাকে’।
২১.সর্বজন স্বীকৃত শেষ অবতীর্ণ আয়াত- “আল- ইয়াওমা আকমালতু-”, কোরানের এই শেষ আয়াতটি স্থান পেয়েছে কোরানের প্রথম অংশের ৫নং ছুরা মায়েদার ৩ নং আয়াতের শেষের দিকে।
২২. ছুরা ফাতেহা ৫ম সুরা বলে কথিত আছে; অথচ তা বসানো হয়েছে সর্বপ্রথম।
২৩. মক্কা-মদিনার অবতীর্ণ ছুরাগুলি সময়কালের হিসাব মতে ক্রম বিন্যাসিত অবস্থায় নেই। অর্থাৎ মাদানী ছুুরাগুলি কোরানের প্রথম অংশে ও মক্বী ছুরাগুলি কোরানের শেষ অংশে স্থান পেয়েছে। অধিকাংশ মক্কী ছুুরার মধ্যে দু’একটি বিচ্ছিন্ন মাদানী আয়াত, অনুরূপ মাদানী ছুুরার মধ্যেও দু’একটি বিচ্ছিন্ন মক্বী আয়াত সন্নিবেশিত করা আছে। [দ্র: সমালোচনা, মু. পিকথল অনুদিত কোরান]
২৪. (অনুবাদ প্রসঙ্গে) অনেক সুরা আছে, যা ‘অ’ অর্থাৎ ‘এবং’ শব্দ দিয়ে শুরু করা হয়েছে। প্রায় সমগ্র কোরানেই ‘অ’ এর অর্থ ‘এবং’ ‘সুতরাং’ ‘অতএব’ ‘অথবা’ ইত্যাদি করা হয়েছে কিন্তু কোরানের শেষের দিকের বেশ কিছু ছুরায় ‘অ’ এর অর্থ করা হয়েছে ‘শপথ’ বা ‘কসম,’ যদিও প্রকৃত শপথ অর্থে ‘কসম’ শব্দটি কোরানে অন্যত্র উল্লেখ আছে, যেমন: ফালা উক্বছিমু বিমাওয়াক্বি’ইন্নুজ্জুম [৫৬: ৭৫] অর্থ: শপথনামা নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের। অইন্নাহু লাক্বাছামুল্লাউ তা’লামুনা আজীম [৫৬: ৭৬] অর্থ: অবশ্যই ইহা এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে-। বিষয়গুলি রূপক; কারণ স্বয়ং আল্লাহর যদি কোন কিছুর শপথ বা দোহাই দিয়ে অহি নাজিল করতে হয় ! তবে তা আল্লাহর জন্য বড়ই অপমানজনক বটে! কারণ কসম করা হয় তুলনায় নিজের উর্দ্ধের ও অধিক বিশ্বস্থ একটা কিছুর। তাছাড়া স্বয়ং আল্লাহ নিজেই কোরানে ঘোষনা করে যে,“ যারা কথায় কথায় কসম করে তাদের বিশ্বাস করিও না।’ [৬৮: ১০] সুতরাং আল্লার স্বয়ং ঘন ঘন কসম করার সুযোগ কোথায়! কয়েকটি উদাহরণ দেখুন:
বৈকালের শপথ। খ) ছুটন্ত ঘোড়ার শপথ। গ) তীন ফলের শপথ, জাইতুনের (জলপাই) শপথ, সিনাই পর্বতের শপথ। ঘ) নিরাপদ নগরীর শপথ। ঙ) পূর্বাহ্নের শপথ। চ) শপথ রজনীর যখন উহা হয় নিঝুম। ছ) শপথ সূর্যের এবং উহার কিরণের। জ) শপথ চন্দ্রের যখন উহা সূর্যের পরে আবির্ভূত হয়। ঝ) উষার শপথ। ঞ) শপথ আকাশের এবং নক্ষত্রের ইত্যাদি ইত্যাদি। [ কোরানের শেষাংশের কতিপয় ছুরা]
প্রধানতঃ আরবি ‘অ’ বা ‘এবং’ অব্যয়টি দুই বাক্যের যুক্তাক্ষর; উহার পূর্বে এক বা একাধিক শব্দ বা বাক্য অবশ্যই থাকে বা ছিল! ব্যাকরণের সুত্র মতে উহা অনস্বীকার্য! অতএব সে বাক্যগুলি হয়তো হারিয়ে গেছে নতুবা ‘অ’ এর রূপক অর্থ উদ্ধার করতে হবে!
(চলবে-৫/৬)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩১
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×