(পূর্বাপর)
কোন ধর্ম গ্রন্থই স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেস্তা এমনকি নবিগণও নিজ হাতে লিখেননি, লিখেছেন মানুষ; আর মানুষ কোনক্রমেই ভুলের উর্দ্ধে নয়। কোরান আল্লাহবান রাছুলের (৩: ৭৯) মূখ নিসৃত আল্লাহর হাদিছ/বাণী (৬৯: ৪০; ৮১: ১৯)। নিজ বা অন্যেরদ্বারা লিখিত, ভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকদ্বারা সংকলিত।
২৫.“কোরান” এর নামকরণ ‘আল-কোরান, ,কোরান শরিফ, আল কোরানুল করিম, তফসিরে কোরান, পবিত্র কোরান, মারেফুল কোরান, তাবিজাতে কোরান, গরিয়ান কোরান, ছন্দবদ্ধ কোরান, তাফহিমুল কোরান, ফি-যীলালীল কোরান ইত্যাদি স্ব স্ব মতের সংযোজনগুলি অনধিকার,অপব্যবহার এবং বিভ্রান্তের অতন্ত্র সাক্ষী।সুতরাং চির পরিচিত শিরোনাম বদল করতে পারলে বিষয়বস্তুর রদ-বদল আরো সহজ।
২৬. ছুরা নিছার ১১, ১২ ও ১৭৬ নং আয়াতে সম্পত্তি বন্টনের বিধানগুলি অস্পষ্ট মনে হয়। অবস্থাভেদে অংশীদারদের অংশগুলি যোগ করলে কথনও মূল সম্পত্তি ছাড়িয়ে যায় আবার কখনও মূল সম্পত্তি অবশিষ্ট থেকে যায়।
অতিরিক্ত অংশগুলি আজ ১৪শ বছর যাবৎ কে ভোগ দখল করছে! অথবা সম্পত্তিগুলির অস্তিত্ত্ব কোথায়, তার কোন সমাধান নেই!
ইহা ছাড়াও বিভিন্ন রকমের শরিক থাকতে পারে যেমন: ৪জন স্ত্রী, ৩ জন মাতাসহ অন্যান্য শরিক রেখে গেলে তার স্পষ্ট ফয়শালা নেই হেতু সাধারণ জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হয়। এজন্যই আলেম-আল্লামাগণ বাধ্য হয়ে কোরানের বিরুদ্ধে ‘আল ফারাইদ’ নামক আর এক গোজামিল আইন রচনা করতে হয়েছে।
মহানবির বংশ নিবংশকারী আমাদের পূর্ব পুরুষ উমাইয়া, আব্বাসীয় খারেজী/রাফেজী/ শিয়া/সুন্নীগণ কোরান নিয়ে নিঃসন্দেহে ঘৃন্য রাজনৈতিক ছিনি-মিনি করেছেন। আপন জ্ঞাতি-গোষ্ঠির মধ্যে যে এত রক্তারক্তি করেছেন তা বেদ-গীতা, তোরাহ, গসপেল যুগের চেয়েও ঘৃনীত ছিল। নতুবা খলিফা বনাম খলিফা, মোসলমান বনাম মোসলমানের রক্তের হুলি খেলায় সমগ্র আরবভূমি রঞ্জিত হবে কেন! সদ্য জলজ্যন্ত কোরানীক, বেহেস্তি চরিত্রের (?) মোসলেমদের এত শীঘ্র অধঃপতন হ’তে পারলে চামড়ায় বা কাগজে লেখা একটি গ্রন্থের চরিত্র বদল না করলেও (!) এমনকি পুরোপুরি উল্টে দেয়া আরো সহজ এবং তা তাদের প্রয়োজনও ছিল এবং যতটুকু সম্ভব তা তারা করেছে; বাকিটা পূরণ করেছে দুনম্বরী হাদিছ ও দলিয় তফছির রচনা করে।
বর্তমান কোরান সংযোজিত কি সংকোচিত তা সন্দেহাতীত প্রমানের জন্য প্রয়োজন একজন রাছুল-নবির। অতীতের সকল ঐশী গ্রন্থই অনুরূপ রদ-বদল, সন্দেহ ও বিতর্কিত হয়েছে এবং তার সঠিক মীমাংশার জন্য শেষ পর্যন্ত একজন রাছুল-নবির আগমণ হয়েছে। অর্থাৎ সকল রাছুল-নবিগণই তার পূর্ববর্তি নবির সত্যতার সাক্ষি দিয়ে একক গ্রন্থের সংস্করণ, সংরক্ষণ করেছেন মাত্র; নবি মোহাম্মদও অনুরূপ করেছেন। অতএব কোরানের জন্যও এমন একজন সাক্ষির প্রয়োজন অযৌক্তিক বা হারাম নয়; কিন্তু শরিয়ত কিছুতেই রাজি নয়! নবি-রাছুল আসলেই হত্যা করবে! পক্ষান্তরে আমাদের আল্লাহগণ (মায়োলানাগণ) অহরহ জন্মে-আর মরে।
অনেকে মনে করেন যে, তুরস্কের তোপকাপী মিউজিয়ামে রক্ষিত ওসমানের সংকলিত ও রক্ষিত কোরানই সাক্ষি হিসাবে যথেষ্ট! প্রকাশ থাকে যে, তুর্কিগণ এমনকি মুসলিম বিশ্ব এই পরীক্ষায় আগ্রহশীল না হলেও খ্রিস্টান জনাব মরিস বুকাইলি এই পরীক্ষাটি করে কোরানের নিখুঁত সত্যতার সাক্ষি দিয়েছেন। অতঃপর ডঃ রাশাদ খলিফা পরীক্ষা করে দু’টি আয়াত নকল বলে ঘোষনা দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ হোক প্রচলিত দুই ধরণের লেখা ও উচ্চারণ সংবলিত কোরানের [ দ্র: নাফি ও হাফ্সা / জনাব ইউসুফ আলী বনাম অন্যান্য] কোন্খানির সত্যতার সাক্ষি দিলেন তা কেহই উল্লেখ করেন নি।
তা’ছাড়া সবচেয়ে গুরুতর বিষয় পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে যে, সাত সংকলনের পাঁচটি সংকলনই হযরত ওসমানের কোরান বোর্ড যখন প্রকাশ্যে জ্বালিয়ে দেন, তখন উচ্চাভিলাসী, দুর্ধর্ষ মুয়াবিয়া, আমর এবনুল আস ও ঘরের শত্র“ বিভীষণ ঘর জামাই মারওয়ান বিন হাকাম স্বশরীরে জেন্দাই ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, ঐ বোর্ড হযরত আলীর স্বহস্তে লিখিত কোরান প্রশ্নবোধক কারণে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন; কথিত হয় যা অহি নাজিলের ধারাবাহিক ক্রমিককাল অনুযায়ীই লেখা ছিল।
(চলবে-৬/৬)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



