somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরান সংকলন কি বিতর্কের উর্দ্ধে? ৫/৬

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পূর্বাপর)
কোন ধর্ম গ্রন্থই স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেস্তা এমনকি নবিগণও নিজ হাতে লিখেননি, লিখেছেন মানুষ; আর মানুষ কোনক্রমেই ভুলের উর্দ্ধে নয়। কোরান আল্লাহবান রাছুলের (৩: ৭৯) মূখ নিসৃত আল্লাহর হাদিছ/বাণী (৬৯: ৪০; ৮১: ১৯)। নিজ বা অন্যেরদ্বারা লিখিত, ভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকদ্বারা সংকলিত।
২৫.“কোরান” এর নামকরণ ‘আল-কোরান, ,কোরান শরিফ, আল কোরানুল করিম, তফসিরে কোরান, পবিত্র কোরান, মারেফুল কোরান, তাবিজাতে কোরান, গরিয়ান কোরান, ছন্দবদ্ধ কোরান, তাফহিমুল কোরান, ফি-যীলালীল কোরান ইত্যাদি স্ব স্ব মতের সংযোজনগুলি অনধিকার,অপব্যবহার এবং বিভ্রান্তের অতন্ত্র সাক্ষী।সুতরাং চির পরিচিত শিরোনাম বদল করতে পারলে বিষয়বস্তুর রদ-বদল আরো সহজ।
২৬. ছুরা নিছার ১১, ১২ ও ১৭৬ নং আয়াতে সম্পত্তি বন্টনের বিধানগুলি অস্পষ্ট মনে হয়। অবস্থাভেদে অংশীদারদের অংশগুলি যোগ করলে কথনও মূল সম্পত্তি ছাড়িয়ে যায় আবার কখনও মূল সম্পত্তি অবশিষ্ট থেকে যায়।
অতিরিক্ত অংশগুলি আজ ১৪শ বছর যাবৎ কে ভোগ দখল করছে! অথবা সম্পত্তিগুলির অস্তিত্ত্ব কোথায়, তার কোন সমাধান নেই!
ইহা ছাড়াও বিভিন্ন রকমের শরিক থাকতে পারে যেমন: ৪জন স্ত্রী, ৩ জন মাতাসহ অন্যান্য শরিক রেখে গেলে তার স্পষ্ট ফয়শালা নেই হেতু সাধারণ জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হয়। এজন্যই আলেম-আল্লামাগণ বাধ্য হয়ে কোরানের বিরুদ্ধে ‘আল ফারাইদ’ নামক আর এক গোজামিল আইন রচনা করতে হয়েছে।
মহানবির বংশ নিবংশকারী আমাদের পূর্ব পুরুষ উমাইয়া, আব্বাসীয় খারেজী/রাফেজী/ শিয়া/সুন্নীগণ কোরান নিয়ে নিঃসন্দেহে ঘৃন্য রাজনৈতিক ছিনি-মিনি করেছেন। আপন জ্ঞাতি-গোষ্ঠির মধ্যে যে এত রক্তারক্তি করেছেন তা বেদ-গীতা, তোরাহ, গসপেল যুগের চেয়েও ঘৃনীত ছিল। নতুবা খলিফা বনাম খলিফা, মোসলমান বনাম মোসলমানের রক্তের হুলি খেলায় সমগ্র আরবভূমি রঞ্জিত হবে কেন! সদ্য জলজ্যন্ত কোরানীক, বেহেস্তি চরিত্রের (?) মোসলেমদের এত শীঘ্র অধঃপতন হ’তে পারলে চামড়ায় বা কাগজে লেখা একটি গ্রন্থের চরিত্র বদল না করলেও (!) এমনকি পুরোপুরি উল্টে দেয়া আরো সহজ এবং তা তাদের প্রয়োজনও ছিল এবং যতটুকু সম্ভব তা তারা করেছে; বাকিটা পূরণ করেছে দুনম্বরী হাদিছ ও দলিয় তফছির রচনা করে।
বর্তমান কোরান সংযোজিত কি সংকোচিত তা সন্দেহাতীত প্রমানের জন্য প্রয়োজন একজন রাছুল-নবির। অতীতের সকল ঐশী গ্রন্থই অনুরূপ রদ-বদল, সন্দেহ ও বিতর্কিত হয়েছে এবং তার সঠিক মীমাংশার জন্য শেষ পর্যন্ত একজন রাছুল-নবির আগমণ হয়েছে। অর্থাৎ সকল রাছুল-নবিগণই তার পূর্ববর্তি নবির সত্যতার সাক্ষি দিয়ে একক গ্রন্থের সংস্করণ, সংরক্ষণ করেছেন মাত্র; নবি মোহাম্মদও অনুরূপ করেছেন। অতএব কোরানের জন্যও এমন একজন সাক্ষির প্রয়োজন অযৌক্তিক বা হারাম নয়; কিন্তু শরিয়ত কিছুতেই রাজি নয়! নবি-রাছুল আসলেই হত্যা করবে! পক্ষান্তরে আমাদের আল্লাহগণ (মায়োলানাগণ) অহরহ জন্মে-আর মরে।
অনেকে মনে করেন যে, তুরস্কের তোপকাপী মিউজিয়ামে রক্ষিত ওসমানের সংকলিত ও রক্ষিত কোরানই সাক্ষি হিসাবে যথেষ্ট! প্রকাশ থাকে যে, তুর্কিগণ এমনকি মুসলিম বিশ্ব এই পরীক্ষায় আগ্রহশীল না হলেও খ্রিস্টান জনাব মরিস বুকাইলি এই পরীক্ষাটি করে কোরানের নিখুঁত সত্যতার সাক্ষি দিয়েছেন। অতঃপর ডঃ রাশাদ খলিফা পরীক্ষা করে দু’টি আয়াত নকল বলে ঘোষনা দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ হোক প্রচলিত দুই ধরণের লেখা ও উচ্চারণ সংবলিত কোরানের [ দ্র: নাফি ও হাফ্সা / জনাব ইউসুফ আলী বনাম অন্যান্য] কোন্খানির সত্যতার সাক্ষি দিলেন তা কেহই উল্লেখ করেন নি।
তা’ছাড়া সবচেয়ে গুরুতর বিষয় পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে যে, সাত সংকলনের পাঁচটি সংকলনই হযরত ওসমানের কোরান বোর্ড যখন প্রকাশ্যে জ্বালিয়ে দেন, তখন উচ্চাভিলাসী, দুর্ধর্ষ মুয়াবিয়া, আমর এবনুল আস ও ঘরের শত্র“ বিভীষণ ঘর জামাই মারওয়ান বিন হাকাম স্বশরীরে জেন্দাই ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, ঐ বোর্ড হযরত আলীর স্বহস্তে লিখিত কোরান প্রশ্নবোধক কারণে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন; কথিত হয় যা অহি নাজিলের ধারাবাহিক ক্রমিককাল অনুযায়ীই লেখা ছিল।
(চলবে-৬/৬)
১১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×